← মূল তালিকায় ফিরুন
🕊️ জুলাই ২০২৪ বিপ্লবের বীর শহীদ
মো: আজিজুল মিয়া
শহীদ
Memorial QR Code

📱 স্মার্ট কিউআর কোড

মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে এই প্রোফাইল সংরক্ষণ ও শেয়ার করুন।

🌹 দোয়া

বাটনে ক্লিক করে এই বীর শহীদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও দোয়া জ্ঞাপন করুন

নাম

মো: আজিজুল মিয়া

📅 জন্ম তারিখ

১ জুলাই, ২০০২

🕊️ শাহাদাত বরণের তারিখ

২২ জুলাই, ২০২৪

🗺️ বিভাগ

ঢাকা

📍 জেলা

নরসিংদী

👤 শহীদের সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত

পেশা : ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী
শাহাদাতের স্থান : ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল

📜

শাহাদাতের বিস্তারিত ঘটনা ও ইতিহাস

মোঃ আযিযুল মিয়া নরসিংদী জেলার সদর উপজেলায় ২০০২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আলমাস মিয়া এবং মাতার নাম রাবেয়া। ডানপিটে এই তরুণ পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারনে অল্প বয়সেই পড়ালেখা থেকে ছিটকে পড়ে। পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে ছেলেবেলাতেই বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত হন। সর্বশেষ তিনি রাস্তায় ডাব বিক্রি করতেন। অদম্য সাহসী এই তরুণ দেশের জন্য অল্প বয়সেই নিজের জীবনকে আত্মত্যাগ করেন।
শহীদের পারিবারিক অবস্থা
মো: আযিযুল মিয়ার পিতা আলমাস মিয়া ৫৫ বছরের একজন বৃদ্ধ। পুরো পরিবারের দায়িত্ব ছিলো আযিযুল মিয়ার উপর। তাঁর ভাই প্রবাসী (মালয়েশিয়া) হলেও সে তেমন আর্থিক সাহায্য করতে পারে না। বর্তমানে মেয়ে জামাই পরিবারের দেখাশোনা করছে। আযিযুল মিয়ার ছোট একজন ভাই আছে; যিনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। বাড়িতে বিবাহযোগ্য একজন বোন (২০) রয়েছে। তাদের ৪ শতাংশ জমির উপর একটি টিনের বাড়ি রয়েছে এবং ২০ শতাংশ আবাদি জমি আছে।
আন্দোলনে যোগদান
১৯ জুলাই ২০২৪ শুক্রবার সকালে বিপ্লবী আযিযুল মিয়া বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। তিনি নরসিংদী জেলখানা মোড়ে শান্তি সমাবেশে অংশ নেয়।
শাহাদাতের ঘটনা
আযিযুল মিয়াদের শান্তি সমাবেশ নরসিংদী জেলখানা মোড়ে অবস্থান করছিলো। স্বৈরাচারী নরখেকো শেখ হাসিনার সন্ত্রাসী ঘাতক পুলিশ বাহিনী কোনরকম সতর্কতা ছাড়াই শান্তিপ্রিয় ছাত্র জনতার উপর অনবরত গুলি ছুঁড়তে থাকে। রাষ্ট্রযন্ত্রের লেলিয়ে দেয়া ঘাতক বাহিনীর সশস্ত্র আক্রোমণকে উপেক্ষা করে অকুতোভয় আযিযুল মিয়া ছাত্রদের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করে এবং সবাইকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানায়। এ সময় ছাত্ররা নিজেদের রক্ষার পাশাপাশি দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাৎক্ষনিক আহত ছাত্রদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করাসহ মারাত্মক আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর জন্য একদল ছাত্র বিশেষ ভূমিকা পালন করে। আযিযুল পুলিশের নিক্ষিপ্ত টিয়ারশেল থেকে রক্ষা করতে ছাত্র-জনতাকে উপায় বাতলে দেয়। এছাড়া পুলিশের নিক্ষিপ্ত টিয়ারশেল গুলো দ্রুত পুলিশের অবস্থানের দিকেই ছুড়ে মারতে থাকে। হঠাৎ সন্ত্রাসী পুলিশ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীদের থেকে নিক্ষিপ্ত একটি গুলি তার কোমড়ে লাগে যা অপর পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। মুহুর্তেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। প্রচন্ড গোলাগুলির ভেতর ছাত্র জনতা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে ৩ দিন নিবিড় তত্বাবধানের অভাবে কাতরাতে থাকে প্রতি রাতে। মরণযন্ত্রণা সহ্য করতে করতে ২২ জুলাই আল্লাহর ডাকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে তেজোদ্বীপ্ত আযিযুল।
জানাযা ও দাফন
২২ জুলাই শহীদ আযিযুল মিয়ার মরদেহ নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে বাড়ির পাশে তাঁর নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দরিপাড়া হাজীপুর কবরস্থানে তাঁকে চির নিদ্রায় শায়িত করা হয়।
প্রস্তাবনা
১. শহীদের পরিবারের বাসস্থান প্রয়োজন।
২. বোনের বিয়ের ব্যবস্থা করা।
৩. স্থায়ীভাবে আয়ের ব্যবস্থা করা।
একনজরে শহীদ সম্পর্কে তথ্যাবলি
নাম : মো: আযিযুল মিয়া
পেশা : ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী
জন্ম : ০১-০৭-২০০২
ঠিকানা : গ্রাম: বাদুয়ারচর, ইউনিয়ন: হাজীপুর, থানা: সদর, জেলা: নরসিংদী
পিতা : আলমাস মিয়া, পেশা: কৃষক, বয়স: ৫৫
মাতা : মর্জিনা বেগম, পেশা : গৃহিণী, বয়স: ৪৫
ঘটনার স্থান : জেলখান মোড়, নরসিংদী
আক্রমণকারী : স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সন্ত্রাসী পুলিশ বাহিনী।
আহত হওয়ার সময়কাল : ১৯-০৭-২০২৪ , বিকাল ৫.০০ টা
মৃত্যুর তারিখ ও সময় : ২২-০৭-২০২৪ , দুপুর ১২ টা
শহীদের কবরের অবস্থান : দরিপাড়া, হাজীপুর, কবরস্থান
📖

পবিত্র কুরআনের বাণী

নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের প্রাণ ও ধন-সম্পদ জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে। (সুরা তাওবা ৯:১১১)

🕌

হাদীস শরীফ

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “শহীদদের জন্য জান্নাতে ৭০ জন আত্মীয়ের জন্য সুপারিশ করার অধিকার থাকবে।” (সুনান আবু দাউদ ২৫২০)

🖼️

শহীদের স্মৃতিচিত্র ও ফটো গ্যালারি

Memorial Photo
🔍 বড় করে দেখুন
Memorial Photo
🔍 বড় করে দেখুন
Memorial Photo
🔍 বড় করে দেখুন
Memorial Photo
🔍 বড় করে দেখুন
Memorial Photo
🔍 বড় করে দেখুন

📢 এই আত্মত্যাগের ইতিহাস শেয়ার করুন