← মূল তালিকায় ফিরুন
🕊️ জুলাই ২০২৪ বিপ্লবের বীর শহীদ
 মোঃ রফিকুল ইসলাম
শহীদ
Memorial QR Code

📱 স্মার্ট কিউআর কোড

মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে এই প্রোফাইল সংরক্ষণ ও শেয়ার করুন।

🌹 দোয়া

বাটনে ক্লিক করে এই বীর শহীদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও দোয়া জ্ঞাপন করুন

নাম

মোঃ রফিকুল ইসলাম

📅 জন্ম তারিখ

১৩ মার্চ, ১৯৯৩

🕊️ শাহাদাত বরণের তারিখ

৫ আগস্ট, ২০২৪

🗺️ বিভাগ

ময়মনসিংহ

📍 জেলা

কুড়িগ্রাম

👤 শহীদের সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত

পেশা: রিকশা চালক,
শাহাদাতের স্থান : সাভার

📜

শাহাদাতের বিস্তারিত ঘটনা ও ইতিহাস

শহীদ মোঃ রফিকুল ইসলাম ১৯৯৩ সালের ১৩ মার্চ কুড়িগ্রামের হিংরন রায়ের ডাকবাংলা পাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বাবা মৃত আমির হোসেন এবং মা রওশন আরা গার্মেন্টস কর্মী। শহীদ রফিকুল ইসলাম ছিলেন দুই ভাইয়ের মধ্যে বড়। তার বয়স যখন সাত বছর তখনই তার বাবা মৃত্যুবরণ করেন। সাভারের গেন্ডিতে রিকশা চালিয়ে তিনি সংসারের ব্যয়ভার বহন করতেন। ছোট ভাই রমজান আলী রিকশাচালক।
৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে শহীদ মো: রফিকুল ইসলাম বের হয়েছিলেন বিজয় মিছিল দেখতে। বিকেল চারটার সময় বিজয় মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে একটি গুলি তার গায়ে এসে লাগে। ঘটনাস্থলে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। আহত রফিকুল ইসলামকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার সময় তিনি ইন্তেকাল করেন।
শাহাদাতের প্রেক্ষাপট
শহীদ রফিকুল ইসলাম ছিলেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি। তাদের জীবন যেন সংগ্রাম আমার ত্যাগের। ছোটবেলা থেকেই বড় হয়েছেন অভাব আর কষ্টের মধ্যে। সাত বছর বয়সে বাবা মারা গিয়েছিলেন। ছিল আরো একটি ছোট ভাই। টিকে থাকার লড়াইয়ে নামতে হয়েছিল গৃহিণী মাকে। গার্মেন্টস শ্রমিক হিসাবে কঠোর পরিশ্রম করে বড় করে তোলেন দুই ছেলেকে। তবুও যেন জীবন চলে না। ছোট ভাই বেছে নেন রিকশা চালকের জীবন। ভাগ্যের পরিবর্তনের আশায় রফিকুল ইসলাম সাভারের গেন্ডাতে মাকে নিয়ে আসেন এবং অটোরিকশা চালাতে শুরু করেন। মাঝে সেরে ফেলেন বিবাহের কাজটিও।
৫ আগস্ট খুনী হাসিনা পালিয়ে গেলে সাভারের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করে। পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আন্দোলনকারীরা রাস্তা অবরোধ করে এবং স্বৈরাচারী হাসিনার ঘাতক পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। পুলিশও আন্দোলনকারীদের ছত্র ভঙ্গ করতে গুলি চালায়। রফিকুল ইসলাম আন্দোলনের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। তিনি ওই সময় বিজয় মিছিল দেখতে বের হয়েছিলেন। বিকাল চারটার দিকে পুলিশের ছোঁড়া একটা গুলি তার গায়ে লাগে। তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসারত অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার পরিবার মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে ২২ হাজার টাকা খরচ দিয়ে গ্রহণ করেন শহীদ রফিকুল ইসলাম এর লাশ। পরে গ্রামের বানারের পাড়া সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শহীদ পরিবারের বিশেষ তথ্য
শহীদের মা রওশন আরা একজন গার্মেন্টস শ্রমিক। ছোট ভাই মোঃ রমজান (২৫) রিকশাচালক। শহীদের স্ত্রী আয়েশা মনি এখন বিধবা, তিনি হিফজ করেছেন ১১ পারা পর্যন্ত। বর্তমানে তিনি বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। পরিবারটি আর্থিক ভাবে দুরাবস্থায় পতিত হয়ে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে এসেছে। বাবার থেকে প্রাপ্ত জমির উপর একটি ছোট্ট ঘর তৈরি করে তারা কুড়িগ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেছেন।
এক নজরে শহীদের ব্যক্তিগত তথ্যাবলি
নাম : মোঃ রফিকুল ইসলাম
পিতা : মৃত আমির হোসেন
মাতা : রওশন আরা
জন্ম তারিখ : ১৩ মার্চ ১৯৯৩
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: ডাকবাংলাপাড়া, ইউনিয়ন: হিংরন রায়, কুড়িগ্রাম সদর, জেলা: কুড়িগ্রাম
বর্তমান ঠিকানা : ছাপরা মসজিদ, গেন্ডা, সাভার, ঢাকা
আহত হওয়ার স্থান : গেন্ডা, সাভার, ঢাকা
আহত হওয়ার সময়কাল : বিকাল: ৪টা
শহীদ হওয়ার সময় ও স্থান : ৫ আগস্ট ২০২৪, সন্ধ্যা: ৭:৩০টা, এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সাভার, ঢাকা
যাদের আঘাতে শহীদ : ঘাতক পুলিশ বাহিনী
শহীদের কবরস্থান : নিজ গ্রাম, বানারের পাড়া সামাজিক কবরস্থান
শহীদ পরিবারের জন্য করণীয়
১. শহীদের মাকে বাড়ি তৈরি করে দেয়া দরকার
২. মায়ের জন্য মাসিক আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন করা দরকার
৩. শহীদের বিধবা স্ত্রীকে সহায়তা করা প্রয়োজন
📖

পবিত্র কুরআনের বাণী

আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে মৃত বলো না; বরং তারা জীবিত; কিন্তু তোমরা উপলব্ধি করতে পার না। (সুরা আল-বাকারা ২:১৫৪)

🕌

হাদীস শরীফ

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “শহীদদের আত্মা সবুজ পাখির পেটে থাকে।” (সহীহ মুসলিম ১৮৮৭)

🖼️

শহীদের স্মৃতিচিত্র ও ফটো গ্যালারি

Memorial Photo
🔍 বড় করে দেখুন
Memorial Photo
🔍 বড় করে দেখুন
Memorial Photo
🔍 বড় করে দেখুন

📢 এই আত্মত্যাগের ইতিহাস শেয়ার করুন