হোম / আহতদের তালিকা / মো: সাইদুজ্জামান
মো: সাইদুজ্জামান

মো: সাইদুজ্জামান

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা


মো: সাইদুজ্জামান পেশা: ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ক্রমিক: ১০৯ আইডি: ঢাকা সিটি ১০৯
জন্ম পরিচয় মো সাইদুজ্জামান ১২ আগস্ট ১৯৯৭ সালে নিজ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস লক্ষীপুর জেলার সদর থানার অন্তর্গত হামসাদী ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে। তার পিতার নাম আব্দুল মান্নান এবং মাতার নাম মোতাহেরা বেগম। তিনি ৫৯ বছর বয়সী কৃষক পিতা ও ৪৭ বছর বয়সী গৃহিণী মাতার দ্বিতীয় সন্তান। সাইদুজ্জামানের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে তার নিজ গ্রামে।পরে পড়াশোনা ও চাকুরির সুবাদে তিনি অন্যান্য জেলায় বসবাস করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।
শিক্ষা জীবন মো সাইদুজ্জামান মির্জাপুরে নূরানী মাদ্রাসা থেকে প্রাইমারি পাশ করেন এবং পার্শ্ববর্তী থানার একটি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করেন। তারপর ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে চান্স পান। তিনি রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনার বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেন। ২০১৮ সালে ডিপ্লোমা পাশের পর তিনি চাকুরির সন্ধানে ঢাকায় আসেন। জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ সাইদুজ্জামান পটুয়াখালী পলিটেকনিকে অধ্যনরত অবস্থায় কোটা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। ২৪ এর আন্দোলনেও তিনি অংশ নিয়েছেন। তিনি ১৮ জুলাই থেকে মহাখালী, মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচীতে যুক্ত ছিলেন। ভাড়া বাসার মালিকের বাঁধা সত্ত্বেও তিনি প্রায় প্রতিদিন বের হতেন। মালিক তার পরিবারের উপরেও এ ব্যাপারে চাপ সৃষ্টি করেন এবং বাসা থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেন। আন্দোলনের প্রভাবে তাদের সাইট অফিস গুলো বন্ধ থাকায় তার জন্য কিছুটা সুবিধা হয়। ৪ঠা আগষ্ট প্রতিদিনের ন্যায় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে মিরপুর-১০ গোলচত্বরের দিকে রওয়ানা হন। সেখানে যাওয়ার পথে মিরপুর-১ এ আওয়ামী সন্ত্রাসীরা রাস্তা বন্ধ করে রাখে, তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে অন্যান্য ছাত্রসহ তারা মিরপুর-১০ গোলচত্বর পৌঁছান। কিন্তু সেখানে আগে থেকেই যুবলীগ নেতা মাইনুল হোসেন খান নিখিল গোলচত্বর দখল করে রাখে । মিছিলের সবাই সামনে অগ্রসর হতে থাকলে সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। সন্ত্রাসীদের সাথে মোকাবেলা করতে না পেরে তারা ইনডোর স্টেডিয়ামের পাশের গলিতে অবস্থান নেন। সেখানেও সন্ত্রাসীরা তাদের উপর শটগান, রাবার বুলেট, রামদা ও চাপাতি সহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে, আর তারা তাদের হাতে থাকা ইটের টুকরো দিয়ে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন । একপর্যায়ে সেনাবাহিনী এসে ফাঁকা বুলেট ছুড়ে দুইপক্ষকে আলাদা করে দেয়, এভাবে আনুমানিক বিকাল ৩.৩০মি. পর্যন্ত চলতে থাকে। এর কিছুক্ষণ পর তাদের সাথে থাকস কয়েকজনকে শহীদ করে ফেলে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। তখনি তারা সেনাবাহিনীর ব্যারিকেড ভেঙ্গে সামনে অগ্রসর হন এবং সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করেন। কিন্তু অনবরত তারা গুলি ছুড়তে থাকে, হটাৎ একটি গুলি এসে সাইদুজ্জামানের মাথায় বিদ্ধ হয় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে আরও দুটি গুলি তার বুকে বিদ্ধ হয়। সাথে থাকা আন্দোলনকারীদের কয়েকজন তাকে কোলে নিয়ে হাসপাতালের দিকে দৌড়াতে থাকে। তখন পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা তাদের ধাওয়া করে। তাই তাড়াহুড়ো করে হাসপাতালের দিকে প্রবেশ করতে গিয়ে সাইদুজ্জামান তাদের কোল থেকে পড়ে যান এবং মেরুদণ্ডে মারাত্মক আঘাত পান। চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে ডা: আজমল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় । সেখানে অনেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় থাকায় কোনো বিছানা ফাঁকা ছিলো না। তাই তাকে ফ্লোরে রেখে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। কিছুক্ষণ পর অন্য একজনকে নামিয়ে তাকে বেডে রাখা হয়। আহতদের তুলনায় চিকিৎসা সরঞ্জাম অনেক কম থাকায় একই ব্লেড দিয়ে একাধিক পেশেন্টের ছড়া গুলির স্প্লিন্টার বের করা হয় চেষ্টা করা হয় তাদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। কিছু প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাসিনার পালিত পুলিশের চাপে পড়ে তাদের বের করে দেয়। তখনও তার শরীর থেকে অবিরাম রক্ত ঝরছিল এবং তিনি সম্পূর্ণ খালি গায়ে ছিলেন। পরে এক আন্দোলনকারী ভাই তার শার্ট খুলে তাকে দেন। আরেকজন ভাই তাকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন গলি দিয়ে লুকিয়ে রিকশা করে তাকে অন্য আরেকজনের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তারা গোপনে রাতের বেলায় তার বাসায়, মিরপুর-১ এ দিয়ে আসেন। চিকিৎসা সরঞ্জাম অপরিষ্কার থাকায় তার ক্ষতস্থানগুলো একদিনের মাথায় পচন ধরে। তারপর কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে নেয়া হয় এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অর্থাৎ ৬ই আগস্ট বিএসএমএমইউ তে একাধিক অপারেশন হয়। তার শরীরে এখনো তিনটি স্প্লিন্টার আছে। যার দুটি মাথায় এবং একটি বুকে। তাছাড়া মেরুদন্ডে আঘাতের ব্যথা এখনো অনেক তীব্র যা তাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে।
বর্তমান আর্থিক অবস্থান যেহেতু তিনি এখন বেকার তাই তার চিকিৎসার খরচ বড় ভাই বহন করছে। আঘাতের ভয়াবহতার কারণে চিকিৎসায় প্রচুর টাকা খরচ হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। পরিবারের খরচ ও চিকিৎসার খরচ একসাথে চালাতে বড় ভাই হিমশিম খাচ্ছেন। তাই তাদের উপযুক্ত আর্থিক সহযোগীতা প্রয়োজন। পুনর্বাসনভিত্তিক প্রস্তাবনা ১. যোগ্যাতা অনুযায়ী সরকারী বা বেসরকারি চাকুরির ব্যবস্থা করা ২. ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান করে দেয়া।
এক নজরে মোঃ সাইদুজ্জামান
নাম : মো: সাইদুজ্জামান
জন্ম তারিখ : ১২-০৮-১৯৯৭
জন্মস্থান : লক্ষীপুর
নিজ জেলা : লক্ষীপুর
পেশা : ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার
কর্মরত প্রতিষ্ঠান : টেক্সট বিডি (ঞবীঃ নফ)
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: মির্জাপুর, ইউনিয়ন: ১ নং উত্তর হামসাদী, থানা: লক্ষীপুর সদর, জেলা: লক্ষীপুর
বর্তমান ঠিকানা : এলাকা: মিরপুর-১, থানা: শাহ আলী, জেলা: ঢাকা সিটি উত্তর
পিতা : আব্দুল মান্নান
, পেশা: কৃষি, বয়স: ৫৯
মাতা : মোতাহেরা বেগম
, পেশা: গৃহিণী, বয়স: ৪৭
মাসিক আয় : ২০,০০০
ভাই বোনদের পরিচয়
১. আসাদুজ্জামান, বয়স: ৩২, পেশা: চাকুরি শিক্ষাগত যোগ্যতা: মাস্টার্স (হিসাববিজ্ঞান)
২. শামসুজ্জামান, বয়স: ২৫, পেশা: ছাত্র, প্রতিষ্ঠান: এম.আই.ইউ, শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিএসসি
৩. নুসরাতুল জান্নাত, বয়স: ২১, পেশা: ছাত্রী, প্রতিষ্ঠান: বি ও ইউ, শিক্ষাগত যোগ্যতা: অনার্স
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৬ জন
আহত হওয়ার স্থান : মিরপুর-১০, ঢাকা
আক্রমণকারী : সন্ত্রাসী যুবলীগ ও পুলিশ
আহত হওয়ার তারিখ ও সময়: ৪ আগস্ট ২০২৪, বিকাল ৩:৪০ মিনিট

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍