হোম / আহতদের তালিকা / রাজু আহমেদ
রাজু আহমেদ

রাজু আহমেদ

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: তেঘরিয়া, ইউনিয়ন: তেঘরিয়া, থানা: মাদারগঞ্জ, জেলা: জামালপুর

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

রাজু আহমেদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার তেগড়িয়া গ্রামে। ঐ গ্রামের মরহুম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছেলে। তাঁর মায়ের নাম রুলি বেগম। রাজু আহমেদের এক ভাই প্রবাসী, বোন মোছা. জীবন, গৃহিণী। শৈশবে বাবা মারা যাওয়ায় সংসারের দায়িত্ব আপন কাঁধে নিতে হয় খুব অল্প বয়সে। কর্মজীবনের দায়ে তিনি ঢাকায় বসবাস করেন অনেকদিন যাবৎ। তিনি কুয়েতে ছিলেন ৫ বছর। কোম্পানির জটিলতার কারণে পরবর্তীতে আর থাকতে পারেননি। ঢাকায় এসে নতুন করে পেশা জীবন শুরু করেন। তিনি ইন্টারমেডিয়েট পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন।
আহত হওয়ার আগের বিষয়
৫ আগস্ট দুপুর প্রায় ২.৩০ তিনি গুলিবিদ্ধ হন। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। হাসিনা পালিয়েছে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে। বাংলাদেশের ইতিহাসে হাসিনা বিরোধী এই আন্দোলন জুলাই বিপ্লব হিসেবে সমধিক পরিচিত। বিপ্লবীরা লাল জুলাই বলে চিহ্নিত করে।

লাল জুলাই যেভাবে হলো
জুলাইয়ে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন দমন করতে হাসিনার পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা দেশের তরুণ, মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাখির মতো গুলি করে হত্যা করে। রক্তে রঞ্জিত হয় দেশের মাটি। শত শত ছাত্র জনতাকে হত্যা করে ডাইনি হাসিনা রাষ্ট্রীয় শোক পালনের আয়োজন করে। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় কালো ব্যাজ ধারণ করে পোস্টার করে। প্রোফাইল কালো করে শোকের আবহ তৈরি করে। জুলাই যোদ্ধারা হাসিনার এই নটিপনা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। জুলাইয়ে আমার ভাইয়ের রক্তে লাল হয়েছে এদেশের মাটি। লাল রং দ্রোহের প্রতীক। বিপ্লবীরা তাদের প্রোফাইলে লাল ঢিবি সেট করে। মুহূর্তে সরকারি প্রহসনের শোকের কালো ঢিবিধারীরা আড়ালে পড়ে যায়। ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচার হাসিনার সময় এটিও ছিল সাহসীকতার প্রতীল। লাল রঙ ধারীরা জুলাইয়ের পক্ষের হিসেবে সহজে পৃথক হয়ে গেল। এই চিহ্ন ধরেও গ্রেফতার করা হয় অনেককে।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ
হাসিনার সন্ত্রাসীরা যখন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের হত্যা করতে লাগল, মিছিলে হামলা, মামলা করতে লাগল তখন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি রাজু আহমেদ। ছাত্রদের পাশে দাঁড়াতে মিছিলে অংশ নেন। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্লোগান দেন। পাশে থেকে সাহস যোগান। জুলাই চলতে থাকে। সরকারের হত্যা মিশনও চলতে থাকে। প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষ শহীদ হন। হাজার হাজার লোক আহত হন। জুলাই মাস শেষ হয়। বাংলাদেশের জুলাই শেষ হয় না। বাংলাদেশে ৫ আগস্ট হয়ে যায় ছত্রিশ জুলাই। জুলাইয়ে হাসিনা পালায়, কিন্ত ঢাকার অনেক পয়েন্টে তখনও গুলি ছোঁড়ে পুলিশ। শহীদ হতে থাকেন আন্দোলনকারীরা।
রাজু আহমেদ এদিন ছাত্রদের সাথে অবস্থান নেন বাইপাইল এলাকায়। তুমুল সংঘর্ষ হয় আন্দোলনকারীদের সাথে। পুলিশের সাথে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরাও ছিল। হঠাৎ পুলিশ গুলি ছুড়ে। তিনি ছিলেন মিছিলের সামনের সারিতে। তার চোখের সামনে অনেক লোক আহত ও নিহত হয়। পুলিশ বেপরোয়া গুলি ছুঁড়তে থাকে। এক সময় তিনিও আহত হন। তিনটা ছররা গুলি তার বাম চোখে বিদ্ধ হয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি লুটিয়ে পড়েন।
চিকিৎসা সংক্রান্ত সামগ্রিক বর্ণনা
প্রথমে তাকে সাভার গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চোখের ভালো চিকিৎসা হয়নি। অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাভার এনাম হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তিনটি অপারেশন করা হয়। শেষ পর্যন্ত তার চোখে আর আলো ফিরে আসেনি। চিরতরে বাম চোখ নষ্ট হয়ে যায়। ডান চোখও বিপদমুক্ত নয়। নিয়মিত ডান চোখের চিকিৎসা চলছে। বাম চোখে তিনি আর দেখতে পাবেন না। ডান চোখের চিকিৎসা চলবে, বলে দিয়েছেন চিকিৎসকগণ।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
বাম চোখে দেখবেন না। তবু জটিলতা মুক্ত থাকার জন্য নিয়মিত চেকঅ্যাপে করতে হবে। ডান চোখের সঠিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত চেকআপ। প্রয়োজনে দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া। ঔষধ ও নিয়মিত চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ সরবরাহ করা।
কর্মসংস্থান নিয়ে কথা
পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে, ব্যবসায়ে পুঁজি দেওয়া, এককালীন আর্থিক অনুদান সরবরাহ করা, বাজেট কমপক্ষে ৪/৫ লাখ।


একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : রাজু আহমেদ
জন্ম তারিখ : ২৫-১২-১৯৯৬
জন্মস্থান : মাদারগঞ্জ
নিজ জেলা : জামালপুর
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: তেঘরিয়া, ইউনিয়ন: তেঘরিয়া, থানা: মাদারগঞ্জ, জেলা: জামালপুর
বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: তেঘরিয়া, ইউনিয়ন: তেঘরিয়া, থানা: মাদারগঞ্জ, জেলা: জামালপুর
পিতার নাম : মরহুম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
মায়ের নাম : রুলি বেগম
মায়ের পেশা : গৃহিণী
পারিবারিক অবস্থা
আয়ের পরিমাণ : ৩০,০০০
আয়ের উৎস : বড় ভাই
পরিবারের সদস্য সংখ্যা
জিয়াউল হক, পেশা: প্রবাসী, সম্পর্ক: বড় ভাই
মোছা. জীবন, পেশা: গৃহিণী, সম্পর্ক: বোন
আহত হওয়ার স্থান ও তারিখ: বাইপাইল, আশুলিয়া, ৫ আগস্ট ২০২৪
আক্রমণকারী: পুলিশ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍