আবু নাইম
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : শিক্ষার্থী
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
আবু নাইম
ক্রমিক: ১৫১
আইডি: ময়মনসিংহ বিভাগ ০২৮
নাইম ইসলামজন্ম পরিচয়
মাদ্রাসার ছাত্র আবু নাইম ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া থানার সিঙ্গুরা গ্রামে একজন সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১০ অক্টোবর ২০০২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা কাশেম আলী একজন কৃষক এবং তার মাতা মোসাম্মৎ বেগম একজন গৃহিণী। দুই ভাই বোনের মধ্যে আবু নাঈম সবার ছোট। তার বড় বোন হাফসা আক্তার গৃহিণী। তাদের একটা ভাঙা ঘর ছাড়া ফসলি জমি বলতে আর কিছু নেই। তার বাবা প্রতিদিন কৃষি কাজ করে যা আয় করতেন তাতে তাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েতো। আবু নাইম ছোটবেলা থেকেই তার মা-বাবার অত্যন্ত স্নেহভাজন ছিলেন। মেধাবী ও অত্যন্ত ভদ্র ছেলে। আবু নাঈম সবেমাত্র রামপুরার একটা কওমি মাদ্রাসা থেকে দাওরা পরীক্ষা দিয়েছেন। চলমান জুলাই-আগস্ট অভুত্থানে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করে গুলিবিদ্ধ হন।
দেশের জন্য রক্ত ঝরালো যে কওমী ছাত্রেরপুরো ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দেলনে যুক্ত হতে বাসা থেকে বের হন তিনি। সেদিন ১৯ জুলাই শুক্রবার আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। আবু নাইম এর মতো আরও বহু লোক ততদিনে যুক্ত হয়ে গেছেন আন্দোলনে। আন্দোলন তখন কাঁপিয়ে দিয়েছে স্বৈরশাসকের ভীত। বিগত পনের বছর যাবত ক্ষমতায় আওয়ামীলীগ। ক্ষমতার দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে হাসিনা সরকার ততদিনে এক দৈত্যে পরিণত হয়েছে। লক্ষ্য তাদের ৪১ সাল। কেউ কথা বলতে পারে না। হাসিনা সরকারের পনের বছরে বাঘা বাঘা মুখ নিখোঁজ হয়ে গেছে। তারা গুম হয়ে হারিয়ে গেছে। ৫ আগস্টের পর জাতি জানতে পারল হাসিনার একটি আয়নাঘর ছিল।
সভ্যতার ইতিহাসে আয়নাঘর অসভ্য কলংক। বিরোধী দলীয় বলিষ্ঠ কণ্ঠ ইলিয়াস আলী। কেউ জানে না কোথায় তিনি। আগস্টে হাসিনা পলায়নের পর জাতি জানলো তাকে মুখে পলিথিন পেঁচিয়ে গুলি করে খুন করা হয়েছে। তার লাশ পেট ফেড়ে বুকে পাথর বেঁধে তলিয়ে দেয়া হয়েছে চিরতরে। স্ত্রী-পুত্র কন্যারা আর কোনোদিন জানতেও পারবে না তার খবর। এমনকি পিতা, স্বামীর কবরের পাশে দাঁড়ানোর মতো স্মৃতিটুকুও নিঃশেষ করে দিয়েছে ফ্যাসিস্ট হাসিনা। বাংলাদেশের ইতিহাসে আওয়ামী দুঃশাসন একটি কালো অধ্যায়।
এরকমই অনিয়ম, নিপীড়ন, নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়েছিল পুরো জাতি। পনেরো বছরে হাসিনার সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে বহুবার আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু নিপীড়নের মাধ্যমে থামিয়ে দেয়া হয়েছে আন্দোলনের গতিপথ।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শুরু হয় কোটা ইস্যুকে কেন্দ্র করে। একটি যৌক্তিক দাবিকে হাসিনা সরকার তার স্বভাবসুলভ আচরণে অগ্রাহ্য করে। আন্দোলনকারীদের ক্ষেত্রেও তারা তথাকথিত ট্যাগের রাজনীতির কুঅভ্যাস অবলম্বন করে। আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, জঙ্গী, রাজাকার বলে উড়িয়ে দেয়ার ঘৃণ্য কৌশল অবলম্বন করে। কিন্তু এবার এতে কাজ হয়নি; উল্টো আন্দোলন আরও চাঙ্গা হয়।
প্রাথমিকভাবে আন্দোলন ছিল হলকেন্দ্রিক। ক্রমশ তা ছড়িয়ে পড়ে টিএসসি, রাজু ভাস্কর্যসহ পুরো ক্যাম্পাসে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যোগ দেয় আন্দোলনে। আন্দোলনে যোগ দিতে থাকে জনতা। ছাত্রদের সাথে যোগ দেয় অধিকার বঞ্চিত সাধারণ সব মানুষেরও।
১৯ জুলাই সকাল থেকেই আবু নাইম আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। রামপুরা টিভি সেন্টারের পাশে তখন তীব্র আন্দোলন চলছিল। এক দিকে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ অন্যদিকে স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ বাহিনী, আওয়ামী ও গুণ্ডাবাহিনীরা দেশি ও বিদেশি অস্ত্র দিয়ে ছাত্রদের উপর আক্রমণ চালাচ্ছিল। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি তাদের সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল। বিভিন্ন বাসার ছাদে ও টাওয়ার থেকে স্নাইপার ছাত্র-জনতাকে টার্গেট করেছিল। যখন চতুর্দিক থেকে পুলিশ এবং বিজিবি অক-৪৭ নিয়ে ফায়ার করা শুরু করে তখন আবু নাইম একটি কারেন্টের পিলারের পিছনে দাঁড়িয়ে যায়। বিজিবি তাকে টার্গেট করে গুলি করলে একটা গুলি তার পেটের ভিতর দিয়ে ঢুকে অপর পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। তবুও তিনি সাহস নিয়ে পিছনে দৌড়াতে থাকে। তার শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়। আহত হয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। লোকজন তাকে ধরাধরি করে নিকটস্থ হসপিটালে নিয়ে যায়।
চিকিৎসা
ছাত্র জনতা আবু নাইমকে উদ্ধার করে নিকটস্থ ক্লিনিকে নিয়ে যায়। তখনও তার জ্ঞান ছিল। তিনি দেখতে পেলেন যে, তার সামনেই ক্লিনিকে মানুষ মারা যাচ্ছে। তার অবস্থাও খুবই শোচনীয় ছিল। সেদিন আহতদের পরিমাণ এতই বেশি ছিল যে, কোনো হসপিটালেই জায়গা পাওয়া যাচ্ছিল না। তার অবস্থা সিরিয়াস দেখে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। পরবর্তীতে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকা মেডিকেল হসপিটালে নেওয়া হয়। সেখানেও রোগীর অনেক চাপ ছিল যার কারণে সেদিন তার অপারেশন করা সম্ভব হয়নি। পরের দিন তার অপারেশন করা হয়। ডাক্তাররা বলেছিল যে, তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক কারণ তার শরীর থেকে অনেক রক্ত বের হয়েছে। অতিরিক্ত ব্লাড বের হওয়ার কারণে তিনি দশ দিন কথাই বলতে পারেননি। এরই মধ্যে ঢাকা মেডিকেল হসপিটালে পুলিশ এসে আহতদের নামে মামলা দেয়ার জন্য হয়রানি শুরু করে। তার প্রথম অপারেশনে ৩৪টা সেলাই দেওয়া হয়। ৩ মাস পর তার দ্বিতীয় অপারেশন করানো হয়। যেখানেও শিলি লাগে ২০ এর অধিক। বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থ থাকলেও তার ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
তার ক্ষতস্থানে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা আছে, যার কারণে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা: কাপড়ের দোকান দিয়ে দেওয়া
এক নজরে আবু নাইম
নাম : আবু নাইম
জন্ম তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০০২
জন্মস্থান : ময়মনসিংহ
পেশা : শিক্ষার্থী
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: সিঙ্গুরা, ইউনিয়ন: ধোবাউরা, থানা: ধোবাউরা, জেলা: ময়মনসিংহ
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
মায়ের নাম : মোছা: বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৭০ বছর
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫০ বছর
মাসিক আয় : ১০ হাজার
আয়ের উৎস : কৃষি কাজ
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৩ জন
ভাই-বোনের বিবরণ
১. হাফসা আক্তার, বয়স : ২৫, পেশা: গৃহিণী, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : রামপুরা টিভি সেন্টার, রামপুরা, ঢাকা
আহত হওয়ার সময় : ১৯ জুলাই, বিকাল ৩ টা
আক্রমণকারী : বিজিবি
ক্রমিক: ১৫১
আইডি: ময়মনসিংহ বিভাগ ০২৮
নাইম ইসলামজন্ম পরিচয়
মাদ্রাসার ছাত্র আবু নাইম ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া থানার সিঙ্গুরা গ্রামে একজন সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১০ অক্টোবর ২০০২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা কাশেম আলী একজন কৃষক এবং তার মাতা মোসাম্মৎ বেগম একজন গৃহিণী। দুই ভাই বোনের মধ্যে আবু নাঈম সবার ছোট। তার বড় বোন হাফসা আক্তার গৃহিণী। তাদের একটা ভাঙা ঘর ছাড়া ফসলি জমি বলতে আর কিছু নেই। তার বাবা প্রতিদিন কৃষি কাজ করে যা আয় করতেন তাতে তাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েতো। আবু নাইম ছোটবেলা থেকেই তার মা-বাবার অত্যন্ত স্নেহভাজন ছিলেন। মেধাবী ও অত্যন্ত ভদ্র ছেলে। আবু নাঈম সবেমাত্র রামপুরার একটা কওমি মাদ্রাসা থেকে দাওরা পরীক্ষা দিয়েছেন। চলমান জুলাই-আগস্ট অভুত্থানে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করে গুলিবিদ্ধ হন।
দেশের জন্য রক্ত ঝরালো যে কওমী ছাত্রেরপুরো ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দেলনে যুক্ত হতে বাসা থেকে বের হন তিনি। সেদিন ১৯ জুলাই শুক্রবার আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। আবু নাইম এর মতো আরও বহু লোক ততদিনে যুক্ত হয়ে গেছেন আন্দোলনে। আন্দোলন তখন কাঁপিয়ে দিয়েছে স্বৈরশাসকের ভীত। বিগত পনের বছর যাবত ক্ষমতায় আওয়ামীলীগ। ক্ষমতার দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে হাসিনা সরকার ততদিনে এক দৈত্যে পরিণত হয়েছে। লক্ষ্য তাদের ৪১ সাল। কেউ কথা বলতে পারে না। হাসিনা সরকারের পনের বছরে বাঘা বাঘা মুখ নিখোঁজ হয়ে গেছে। তারা গুম হয়ে হারিয়ে গেছে। ৫ আগস্টের পর জাতি জানতে পারল হাসিনার একটি আয়নাঘর ছিল।
সভ্যতার ইতিহাসে আয়নাঘর অসভ্য কলংক। বিরোধী দলীয় বলিষ্ঠ কণ্ঠ ইলিয়াস আলী। কেউ জানে না কোথায় তিনি। আগস্টে হাসিনা পলায়নের পর জাতি জানলো তাকে মুখে পলিথিন পেঁচিয়ে গুলি করে খুন করা হয়েছে। তার লাশ পেট ফেড়ে বুকে পাথর বেঁধে তলিয়ে দেয়া হয়েছে চিরতরে। স্ত্রী-পুত্র কন্যারা আর কোনোদিন জানতেও পারবে না তার খবর। এমনকি পিতা, স্বামীর কবরের পাশে দাঁড়ানোর মতো স্মৃতিটুকুও নিঃশেষ করে দিয়েছে ফ্যাসিস্ট হাসিনা। বাংলাদেশের ইতিহাসে আওয়ামী দুঃশাসন একটি কালো অধ্যায়।
এরকমই অনিয়ম, নিপীড়ন, নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়েছিল পুরো জাতি। পনেরো বছরে হাসিনার সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে বহুবার আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু নিপীড়নের মাধ্যমে থামিয়ে দেয়া হয়েছে আন্দোলনের গতিপথ।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শুরু হয় কোটা ইস্যুকে কেন্দ্র করে। একটি যৌক্তিক দাবিকে হাসিনা সরকার তার স্বভাবসুলভ আচরণে অগ্রাহ্য করে। আন্দোলনকারীদের ক্ষেত্রেও তারা তথাকথিত ট্যাগের রাজনীতির কুঅভ্যাস অবলম্বন করে। আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, জঙ্গী, রাজাকার বলে উড়িয়ে দেয়ার ঘৃণ্য কৌশল অবলম্বন করে। কিন্তু এবার এতে কাজ হয়নি; উল্টো আন্দোলন আরও চাঙ্গা হয়।
প্রাথমিকভাবে আন্দোলন ছিল হলকেন্দ্রিক। ক্রমশ তা ছড়িয়ে পড়ে টিএসসি, রাজু ভাস্কর্যসহ পুরো ক্যাম্পাসে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যোগ দেয় আন্দোলনে। আন্দোলনে যোগ দিতে থাকে জনতা। ছাত্রদের সাথে যোগ দেয় অধিকার বঞ্চিত সাধারণ সব মানুষেরও।
১৯ জুলাই সকাল থেকেই আবু নাইম আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। রামপুরা টিভি সেন্টারের পাশে তখন তীব্র আন্দোলন চলছিল। এক দিকে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ অন্যদিকে স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ বাহিনী, আওয়ামী ও গুণ্ডাবাহিনীরা দেশি ও বিদেশি অস্ত্র দিয়ে ছাত্রদের উপর আক্রমণ চালাচ্ছিল। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি তাদের সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল। বিভিন্ন বাসার ছাদে ও টাওয়ার থেকে স্নাইপার ছাত্র-জনতাকে টার্গেট করেছিল। যখন চতুর্দিক থেকে পুলিশ এবং বিজিবি অক-৪৭ নিয়ে ফায়ার করা শুরু করে তখন আবু নাইম একটি কারেন্টের পিলারের পিছনে দাঁড়িয়ে যায়। বিজিবি তাকে টার্গেট করে গুলি করলে একটা গুলি তার পেটের ভিতর দিয়ে ঢুকে অপর পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। তবুও তিনি সাহস নিয়ে পিছনে দৌড়াতে থাকে। তার শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়। আহত হয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। লোকজন তাকে ধরাধরি করে নিকটস্থ হসপিটালে নিয়ে যায়।
চিকিৎসা
ছাত্র জনতা আবু নাইমকে উদ্ধার করে নিকটস্থ ক্লিনিকে নিয়ে যায়। তখনও তার জ্ঞান ছিল। তিনি দেখতে পেলেন যে, তার সামনেই ক্লিনিকে মানুষ মারা যাচ্ছে। তার অবস্থাও খুবই শোচনীয় ছিল। সেদিন আহতদের পরিমাণ এতই বেশি ছিল যে, কোনো হসপিটালেই জায়গা পাওয়া যাচ্ছিল না। তার অবস্থা সিরিয়াস দেখে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। পরবর্তীতে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকা মেডিকেল হসপিটালে নেওয়া হয়। সেখানেও রোগীর অনেক চাপ ছিল যার কারণে সেদিন তার অপারেশন করা সম্ভব হয়নি। পরের দিন তার অপারেশন করা হয়। ডাক্তাররা বলেছিল যে, তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক কারণ তার শরীর থেকে অনেক রক্ত বের হয়েছে। অতিরিক্ত ব্লাড বের হওয়ার কারণে তিনি দশ দিন কথাই বলতে পারেননি। এরই মধ্যে ঢাকা মেডিকেল হসপিটালে পুলিশ এসে আহতদের নামে মামলা দেয়ার জন্য হয়রানি শুরু করে। তার প্রথম অপারেশনে ৩৪টা সেলাই দেওয়া হয়। ৩ মাস পর তার দ্বিতীয় অপারেশন করানো হয়। যেখানেও শিলি লাগে ২০ এর অধিক। বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থ থাকলেও তার ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
তার ক্ষতস্থানে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা আছে, যার কারণে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা: কাপড়ের দোকান দিয়ে দেওয়া
এক নজরে আবু নাইম
নাম : আবু নাইম
জন্ম তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০০২
জন্মস্থান : ময়মনসিংহ
পেশা : শিক্ষার্থী
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: সিঙ্গুরা, ইউনিয়ন: ধোবাউরা, থানা: ধোবাউরা, জেলা: ময়মনসিংহ
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
মায়ের নাম : মোছা: বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৭০ বছর
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫০ বছর
মাসিক আয় : ১০ হাজার
আয়ের উৎস : কৃষি কাজ
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৩ জন
ভাই-বোনের বিবরণ
১. হাফসা আক্তার, বয়স : ২৫, পেশা: গৃহিণী, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : রামপুরা টিভি সেন্টার, রামপুরা, ঢাকা
আহত হওয়ার সময় : ১৯ জুলাই, বিকাল ৩ টা
আক্রমণকারী : বিজিবি
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍