হোম / আহতদের তালিকা / মো. মেরাজ উদ্দিন শ্রাবণ
মো. মেরাজ উদ্দিন শ্রাবণ

মো. মেরাজ উদ্দিন শ্রাবণ

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : ছাত্র

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

মো. মেরাজ উদ্দিন শ্রাবণ
ক্রমিক: ১৫৯
আইডি: ময়মনসিংহ বিভাগ ০৩৬

জন্ম পরিচয়
মো. মিরাজ উদ্দিন শ্রাবণ ২৫ জানুয়ারি ২০০৩ সালে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কাশর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মো. মিনহাজ উদ্দিন বৃদ্ধ এবং তাঁর মাতা শাওনা বেগম গৃহিণী। দুই ভাই-বোনের মধ্যে মিরাজ উদ্দিন সবার বড়। ছোট বোন ইশরাত জাহান হাফসা ইকরা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। পরিবারের পাঁচজন সদস্য নিয়ে ময়মনসিংহ সদরে বসবাস করতেন। সংসারের হাল ধরতে পড়ালেখার পাশাপাশি তিনি একটি কোম্পানিতে জব করতেন। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হয় তাঁর রাজপথের সংগ্রাম। সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান জানাতে কখনো পিছপা হননি। ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে যখন ছাত্ররা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে জড়ায়, তখন মেরাজ উদ্দিন শ্রাবণ ছিলেন আন্দোলনের অন্যতম সাহসী মুখ।
অন্ধকারের মধ্যে আশার আলো
ঘটনার স্থান : মৌচাক, কোনাবাড়ি
আহত হওয়ার সময় : ৫ আগস্ট, সকাল ১০ টা
আক্রমণকারী : পুলিশএক নজরে মো. মেরাজ উদ্দিন শ্রাবণ সেই রক্তাক্ত সকাল
মিরাজ উদ্দিন শ্রাবণ শুরু থেকেই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তিনি সামনে থেকে আন্দোলনের নেতৃত্বে দিচ্ছিলেন। ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ছাত্রদের দাবি-দাওয়া সংক্রান্ত সকল আন্দোলনেই তিনি সামনে থেকে ভূমিকা রেখেছেন। ৫ আগস্ট আন্দোলনরত ছাত্রদের সাথে সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তিনি গাজীপুর চৌরাস্তা আন্দোলনের দায়িত্বরত ছিলেন। চৌরাস্তায় এসে দেখেন পুলিশ রাস্তায় বেরিগেট দিয়ে অবস্থান করছেন। ছাত্র-জনতা সকল বাধা অতিক্রম করে বেরিকেড ভেঙে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ছাত্র-জনতা সামনের দিকে এগোতেই পুলিশ ছাত্র- জনতাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেন। স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ বাহিনীর সাথে তাদের দোসর আওয়ামী যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ বাহিনীও ছিল। আওয়ামী গুণ্ডাবাহিনীরা দেশি-বিদেশী অস্ত্র নিয়ে বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে অবস্থান করছিল।
সকল বাধা অতিক্রম করেই ছাত্রদেরকে যে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে সেজন্য সবাই যার যার জায়গা থেকে প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পুলিশ যখন বেরিকেড দিয়ে গুলি করা শুরু করে তখন যার যার মত ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। প্রায় ২০-২৫ জনের মত সেই বেরিকেডের মধ্যে আটকে যায়। পুলিশ বাহিনীর অনবরত গুলিবর্ষণে সেখানে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। মিরাজ উদ্দিন শ্রাবণের পায়ে একটি গুলি লাগে। তিনি সাথে সাথে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান। পুলিশ তাকে দেখে সামনে এসে তাকে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে। পুলিশের বুটের আঘাতে তাঁর ডান চোখ নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে আটক করে একটি আবদ্ধ রুমে নিয়ে যায়। সেখানে পুলিশ তাঁর বুকে বন্দুকের নল ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে। এক পর্যায়ে তাঁর বাম চোখেও পুলিশ বুট জুতা দিয়ে আঘাত করে। আঘাতের ফলে তাঁর বাম চোখেও বর্তমানে ঝাপসা দেখতে পান। যখন তার জ্ঞান ফিরে তখন তিনি দেখেন যে, পুলিশ তাকে একটি আবদ্ধ রুমে ধরে রেখেছে। তাকে যেই ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল সে ঘরে ৫-৬টা লাশও ছিল। তিনি লাশের মধ্যে শুয়ে পড়েন। মিরাজ উদ্দিন শ্রাবণ বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন হয়তো তাকে এখনই মেরে ফেলা হবে। এভাবেই প্রায় সন্ধ্যা গড়িয়ে এলো। যখন শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালালো তখন পুলিশরা তাকে শালবন বিহারের এক কোনায় ফেলে রেখে চলে যায়। তিনি সেখানে অজ্ঞান অবস্থায় ছিলেন। পথচারীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নিয়ে যান।
চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্ণনা
সেদিন ময়মনসিংহ মেডিকেল ছিল আহতদের

নাম : মো. মেরাজ উদ্দিন শ্রাবণ
জন্ম তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০০৩
জন্মস্থান : ময়মনসিংহ
পেশা : ছাত্র
নিজ জেলা : ময়মনসিংহ
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: কাশর, ইউনিয়ন: ময়মনসিংহ সদর, থানা: ময়মনসিংহ সদর, জেলা: ময়মনসিংহ
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো. মিনহাজ উদ্দিন
মায়ের নাম : মোছা. শাওনা বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : কর্মহীন, ৪৮
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৩৫
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
ভাই-বোনের বিবরণ
১. ইসরাত জাহান হাফসা, বয়স: ১৬, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ইকরা

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍