হোম / আহতদের তালিকা / মো. মাসুদুর রহমান
মো. মাসুদুর রহমান

মো. মাসুদুর রহমান

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ছাত্র
ময়মনসিংহ

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

মাওলানা বাবার পুত্র। বাবা ইমামতি করেন। মো. মাসুদুর রহমান নিজেও একজন কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। তাঁর এক ভাই আলেম ও শিক্ষক। ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুরে তাঁর জন্ম। ময়মনসিংহ সদর থানার রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের চংপলাশিয়া গ্রামে তাদের বসবাস। কওমী শিক্ষাঙ্গনের কঠোর নিয়ম-কানুনেই তার কাটে শিক্ষাজীবন। আশা তাঁর বড় হয়ে একজন দেশখ্যাত আলেম হবেন। দুই বোন বিবাহিত। মা, বাবা, ভাই-বোনের আদরের মাসুদুর রহমান একজন ভালো ছাত্র। জুলাই-২০২৪ এর বিপ্লবে দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন আন্দোলনে। জুলাইয়ের এই আন্দোলনে কওমি ছাত্র-শিক্ষকদের বিশাল অবদান আছে। জুলাইয়ে তিনি আহত যোদ্ধা। একজন কওমি শিক্ষার্থীর জুলাই বিপ্লব সহজ ছিল না। প্রথাগতভাবে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ঘরকুনো হয়। কিন্ত জুলাইয়ের বিপ্লবে তাদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি আন্দোলনে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন।

ময়মনসিংহ শহরের অজপাড়াগাঁ চংপলাশিয়া গ্রামের সন্তান মো. মাসুদুর রহমান। জুলাই তাকে অজপাড়াগাঁ থেকেই আন্দোলিত করে বিপ্লবে অংশগ্রহণ করতে। জুলাইয়ে অংশগ্রহণ বয়সের উত্তেজনার বিষয় নয়। দায়বোধই তাকে তাড়িত করে আন্দোলনে অংশগ্রহণ নিতে।
৫ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হন তিনি
৫ আগস্ট ২০২৪ বিকাল ৪.৩০ মিনিটে এয়ারপোর্ট এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। সকাল থেকেই তারা ঢাকা এয়ারপোর্টে অবস্থান নেন। অবস্থান নেন হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
৫ আগস্ট ছিল ‘লং মার্চ টু ঢাকা : গণভবন ঘেরাও’ কর্মসূচি
সারা ঢাকার প্রবেশ পথসমূহ পুলিশ, আর্মি ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। তবু লক্ষ লক্ষ লোক জমায়েত হতে থাকল। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ঢাকায় বাড়তে থাকে উত্তেজনা। শাহবাগ গণজমায়েতে জনস্রোত বাড়তে থাকে। সেদিন কার্ফিউ ছিল। কার্ফিও ভেঙেই জনতা এক হতে লাগল। বেলা বাড়ার সাথে সাথে লক্ষ জনতা একত্রিত হয় মিরপুর দশ নম্বর গোল চত্বরে। অবিশ্বাস্যভাবে ঘোষণা আসে হাসিনা পদত্যাগ করবে। রাস্তার পয়েন্টে পয়েন্টে আর্মির ব্যারিকেড উঠে যায়। ঢাকা শহরে আর্মি-জনতা এক হয়ে যায়। গণভবন ছেড়ে পালিয়ে যায় হাসিনা। গণভবনে শুরু হয় উৎসব আনন্দ। সারা ঢাকা আনন্দ মিছিলে, বিজয়োল্লাসে নেচে ওঠে।
হাসিনা পালিয়ে যায় দুপুরে। দুপুর পেরিয়ে বিকাল। উত্তরা এয়ারপোর্টে তখনও অবরুদ্ধ ছাত্র-জনতা। খবর ছড়িয়ে পড়েছে দেশ-বিদেশে। হাসিনা পালাইছে। এয়ারপোর্টে জনতাকে ব্যারিকেট দিয়ে রাখে পুলিশ, বিজিবি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে এয়ারপোর্টের আইন- শৃঙ্খলা বাহিনীতে ভারতীয় বাহিনীর লোকজন ছিল। সময় বাড়তে থাকে, জনতাও বাড়তে থাকে। বাড়তে থাকে উত্তেজনা। জনস্রোত থামাতে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। ৪.৩০ এর সময় পুলিশ অতর্কিতে হামলা করে জনতাকে লক্ষ করে। মাসুদুর রহমান ছিলেন সামনের সারিতে। তিনি গুলিবিদ্ধ হন। একটি বুলেট তার তলপেটে লেগে অপর পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। তিনি লুটিয়ে পড়েন মাটিতে। গুলিতে তাঁর মূত্রথলি ফেটে পড়ে। তাকে ছাত্ররা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
চিকিৎসা সংক্রান্ত সামগ্রিক অবস্থা
আহত হওয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজে তাকে ভর্তি করা হয়। একাধিক বুলেট তাঁর গায়ে লাগে। একটি বুলেট তাঁর পেটের এক পাশে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। মূত্রথলি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাসপাতালে তিনি টানা তিন দিন অজ্ঞান ছিলেন। তারপর আইসিইউতে ছিলেন। ৫০ দিন চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয় তাকে। বাম পায়ের হাড়ে বুলেট লেগে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। এখনও তিনি পরিপূর্ণ সুস্থ নন। বর্তমানেও চিকিৎসাধীন আছেন।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
মাসুদুর রহমান মারাত্মকভাবে আহত। এখনও তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। তাকে প্রয়োজনে দেশের বাইরে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উন্নতির চিকিৎসা করা, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তাঁর দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন।

এক নজরে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
নাম : মো. মাসুদুর রহমান
জন্ম তারিখ : ০১-০৯-২০০৫
জন্মস্থান : ফুলপুর
পেশা : ছাত্র
নিজ জেলা : ময়মনসিংহ
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: চংপলাশিয়া, ইউনিয়ন: রহিমগঞ্জ, থানা: ময়মনসিংহ সদর, জেলা: ময়মনসিংহ
পিতার নাম : মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান
পিতার পেশা : ইমামতি, বয়স: ৫৫ বছর
মায়ের নাম : মোছা. সাজেদা বেগম
মায়ের পেশা : গৃহিণী
পারিবারিক অবস্থা
মাসিক আয় : ৮,০০০
আয়ের উৎস : ইমামতি
পরিবারের সদস্য
১. মো. মাহমুদুল হাসান, পেশা: শিক্ষক, সম্পর্ক: ভাই
২. হাবিবা আক্তার, গৃহিণী, পেশা: সম্পর্ক: বোন
৩. মাহফুজুর রহমান, ছাত্র, পেশা: সম্পর্ক: ভাই
আহত হওয়ার স্থান ও সময় : এয়ারপোর্ট, ঢাকা, ৫ আগস্ট ২০২৪
আক্রমণকারী : পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ
পুনর্বাসন প্রস্তাবনা
৩. পড়ালেখা শেষ করার জন্য শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া
৪. কর্মসংস্থান তৈরির জন্য উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে
৫. এককালীন আর্থিক অনুদান দেওয়া

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍