মো: সাজ্জাদ হোসেন
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা: ফুটবলার
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
সাজ্জাদ হোসেনের জীবন কাহিনী নিছক একটি পরিবারের গল্প নয়, এটি বাংলাদেশের হাজারো প্রান্তিক মানুষের প্রতিচ্ছবি, যারা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে, লড়াই করে, প্রতিকূলতাকে প্রতিনিয়ত পরাজিত করে। তিনি ১৯৯৮ সালের ১১ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও সদর পৌরসভার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র এক বছর বয়সে পিতাকে হারিয়ে বেড়ে ওঠেন নানা বাড়িতে। এসএসসি পর্যন্ত লেখাপড়ার পর নানা অবসর নেয়ায় আর বিদ্যালয়ের পথে পা রাখা হয়নি তার।
ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ছিল দারুণ ভালোবাসা। মাঠে ছুটে বেড়ানো ছেলেটি হয়ে ওঠেন স্থানীয় পর্যায়ের পরিচিত ফুটবলার। কিন্তু খেলাধুলার আয় দিয়ে জীবন চালানো সম্ভব হয়নি। পিতার শূন্যতা, পরিবারের অনটন আর বাস্তবতার কঠিন থাবা বারবার পেছন থেকে টেনে ধরেছে তাকে। তার মা মমতাজ বেগম, বয়স ৫৫, একজন গৃহিণী। ভাই রাজু (বয়স ২৯) একজন ইলেকট্রিশিয়ান হলেও কাজ অনিয়মিত। ছয়জনের পরিবারের দায়িত্ব অনেকটা তার কাঁধেই। আয়ের কোনো নির্দিষ্ট উৎস নেই। দিনমজুরী করে চলে সংসার।
এই দুর্বিষহ বাস্তবতা নিয়েও সাজ্জাদ কখনো হাল ছাড়েননি। তিনি শুধু পরিবারের খরচ মেটাতেই মাঠে নামেননি, বরং জাতির জন্য, মুক্তির জন্যও লড়েছেন। দেশবরেণ্য আলেম মাওলানা সাঈদীর মুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমে মামলা—হামলার শিকার হয়েছেন। এরপরও থেমে থাকেননি। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও তিনি ছিলেন প্রথম সারিতে। সেই আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে চোখ হারিয়েছেন তিনি। তার চোখে রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়, যা এখনও শরীরে রয়ে গেছে। নিজের অস্তিত্ব যখন হুমকির মুখে, তখনও তিনি পিছু হটেননি। সাজ্জাদ হোসেন আজ একজন আহত সৈনিক, যিনি আত্মত্যাগ আর সাহসিকতার প্রতীক। তার জীবনের লড়াই আমাদের মনে করিয়ে দেয় আদর্শের পথ কখনো মসৃণ হয় না, কিন্তু সে পথেই ইতিহাস লেখা হয়।
স্বাধীনতার স্বপ্ন
সাজ্জাদ হোসেন যখন উপলব্ধি করেন এ দেশ আর দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের কাছে আর নিরাপদ নয়, তখন থেকেই তার ভেতরে জন্ম নেয় প্রতিরোধের আগুন। তিনি দেখেছেন, কীভাবে আলেম—ওলামাদের বিনা অপরাধে জেলে পাঠানো হচ্ছে, কীভাবে বিরোধী মতের রাজনৈতিক নেতা—কর্মীদের ওপর চলছে জেল—জুলুম আর নির্যাতনের খেলা। তাকে সবচেয়ে বেশি পীড়া দিয়েছিল গুম হওয়া মানুষের খবর। পরিবারগুলো হাহাকার করছে, আর রাষ্ট্র নিশ্চুপ। সে সময় বরেণ্য আলেম দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় তার হৃদয়কে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়। সে রায়ের প্রতিবাদে রাজপথে নামেন তিনি। সত্য উচ্চারণের দুঃসাহস দেখানোর ফলস্বরূপ তার নামে মামলা হয় এবং দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে হয়রানির শিকার হতে হয় তাঁকে।
এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। তার চোখে দেশ মানে শুধুই ভৌগোলিক সীমানা নয় এটি একটি আদর্শ, একটি বিশ্বাস, একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন। তাই যখন ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন, তখন তিনি আর দূরে থাকতে পারেননি। ৪ আগস্ট ঠাকুরগাঁওয়ের চৌরাস্তা মোড়ে তিনি ছিলেন প্রথম সারিতে। পুলিশ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে তখন চলছে ধাওয়া—পাল্টা ধাওয়া। ঠিক সে মুহূর্তে নেমে আসে জীবনের ভয়াবহ অন্ধকার। পুলিশের ছেঁাড়া অসংখ্য রাবার বুলেট তার চোখে সরাসরি আঘাত হানে। চার চারটি ছররা গুলি চোখে ঢুকে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে রক্তে ভেসে যায় তার মুখ। সহযোদ্ধারা তড়িঘড়ি করে তাকে ঠাকুরগাঁও মেডিকেলে নিয়ে যায়।
একটি চোখের বিনিময়ে লড়াইয়ের আলোকছায়া
৪ আগস্ট ২০২৪, ঠাকুরগাঁওয়ের চৌরাস্তা মোড়ে আন্দোলনের প্রথম সারিতে থাকা সাজ্জাদ হোসেন যখন পুলিশের ছররা গুলিতে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, তখন সহযোদ্ধারা প্রাণপণ চেষ্টায় তাকে ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেদিন শুধু গুলিই ছিল না তার জন্য, ছিল আরও এক ভয়ংকর বাস্তবতা। হাসপাতালজুড়ে ছড়ানো ছিল আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী ক্যাডারদের নজরদারি। পুলিশ যেকোনো সময় তাকে গ্রেফতার করতে পারে এ আশঙ্কা নিয়ে অস্থির পরিবেশে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়।
কিন্তু সেখানে কোনো মতে তার চোখে প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। রক্ত বন্ধ করার জন্য ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় চোখ। কিন্তু ততক্ষণে তার বাম চোখের আলো নিভে গেছে চিরতরে। তার সেই চোখে চারটি ছররা গুলি ঢুকে পড়ে, যেগুলোর মধ্যে পরবর্তীতে শুধু একটি বের করা সম্ভব হয়। বাকি তিনটি আজও তার চোখের ভেতরে রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি খানিকটা স্বাভাবিক হলে হাফিজুর উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পান। ঠাকুরগাঁও থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজে গেলে সেখানকার চিকিৎসকেরা তাকে পাঠান ঢাকার শাহবাগের পিজি (চএ) হাসপাতালে (বর্তমান নাম বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়)। সেখানে অপারেশন করে তার চোখের পর্দা সেলাই করা হয় এবং পুনরায় আরেকটি অপারেশনে চোখে ওয়েল দেয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, বাকি তিনটি গুলি বের করলে চোখের আরও বড় ক্ষতি হতে পারে, এমনকি তার অপর চোখও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই অপারেশন ও ওষুধের মাধ্যমে যতদূর সম্ভব তার দৃষ্টি রক্ষা করার চেষ্টা চলছে।
কিন্তু হাফিজুর দমে যাননি। বলেন, “আমার চোখ গেছে ঠিকই, কিন্তু আমি চাই এ দেশ যেন আমাদের ত্যাগের বিনিময়ে ইনসাফভিত্তিক ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।”
হাফিজুরের চোখে আলো না থাকলেও, তার সাহসিকতা ও বিশ্বাস আজও আমাদের মনে আলোর দীপ্তি জাগিয়ে তোলে। তাঁর যন্ত্রণাপূর্ণ চিকিৎসা—কাহিনী যেন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, সত্যের পথে চলতে হলে অনেক সময় দৃষ্টিশক্তিও উৎসর্গ করতে হয়। সাজ্জাদ হোসেনের চোখে এখন হয়তো আলো নেই, কিন্তু তার হৃদয়ের আলো আজও প্রতিবাদের মশাল হয়ে জ্বলছে আমাদের সকলের জন্য। তার একমাত্র চাওয়া অপরাধীদের বিচার যেন বেঁচে থাকতে দেখে যেতে পারেন।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: সাজ্জাদ হোসেন
জন্ম তারিখ : ১১ অক্টোবর ১৯৯৮
জন্মস্থান : ঠাকুরগাঁও
পেশা : ফুটবলার
নিজ জেলা : ঠাকুরগাঁও
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: নিশ্চিন্তপুর, ইউনিয়ন: সদর পৌরসভা, উপজেলা: ঠাকুরগাঁও, জেলা: ঠাকুরগাঁও
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মরহুম মো: বাবুল হোসেন
মায়ের নাম : মো: মমতাজ বেগম, বয়স: ৫৫, পেশা: গৃহিণী
মাসিক আয় : নেই
আয়ের উৎস : দিনমজুরি (অনিয়মিত)
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ০৬ জন
ভাই—বোনদের বিবরণ
১. রাজু, বয়স: ২৯, পেশা: ইলেকট্রিশিয়ান, সম্পর্ক: ভাই
ঘটনার স্থান : চৌরাস্তা, ঠাকুরগাঁও
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪; দুপুর ২টা ৩০ মিনিট
আক্রমণকারী : পুলিশ
পুনর্বাসনভিত্তিক প্রস্তাবনা
১. মাসিক হারে পুনর্বাসন ভাতা প্রদান।
২. কাপড় ব্যবসার অভিজ্ঞতা আছে, মূলধন পাওয়া গেলে ব্যবসা করতে পারবে।
৩. ঘর নির্মাণ ও সংস্কারে সহায়তা।
৪. মুরগির খামারের ব্যবস্থা করতে পারলে ভালো হয়।
ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ছিল দারুণ ভালোবাসা। মাঠে ছুটে বেড়ানো ছেলেটি হয়ে ওঠেন স্থানীয় পর্যায়ের পরিচিত ফুটবলার। কিন্তু খেলাধুলার আয় দিয়ে জীবন চালানো সম্ভব হয়নি। পিতার শূন্যতা, পরিবারের অনটন আর বাস্তবতার কঠিন থাবা বারবার পেছন থেকে টেনে ধরেছে তাকে। তার মা মমতাজ বেগম, বয়স ৫৫, একজন গৃহিণী। ভাই রাজু (বয়স ২৯) একজন ইলেকট্রিশিয়ান হলেও কাজ অনিয়মিত। ছয়জনের পরিবারের দায়িত্ব অনেকটা তার কাঁধেই। আয়ের কোনো নির্দিষ্ট উৎস নেই। দিনমজুরী করে চলে সংসার।
এই দুর্বিষহ বাস্তবতা নিয়েও সাজ্জাদ কখনো হাল ছাড়েননি। তিনি শুধু পরিবারের খরচ মেটাতেই মাঠে নামেননি, বরং জাতির জন্য, মুক্তির জন্যও লড়েছেন। দেশবরেণ্য আলেম মাওলানা সাঈদীর মুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমে মামলা—হামলার শিকার হয়েছেন। এরপরও থেমে থাকেননি। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও তিনি ছিলেন প্রথম সারিতে। সেই আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে চোখ হারিয়েছেন তিনি। তার চোখে রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়, যা এখনও শরীরে রয়ে গেছে। নিজের অস্তিত্ব যখন হুমকির মুখে, তখনও তিনি পিছু হটেননি। সাজ্জাদ হোসেন আজ একজন আহত সৈনিক, যিনি আত্মত্যাগ আর সাহসিকতার প্রতীক। তার জীবনের লড়াই আমাদের মনে করিয়ে দেয় আদর্শের পথ কখনো মসৃণ হয় না, কিন্তু সে পথেই ইতিহাস লেখা হয়।
স্বাধীনতার স্বপ্ন
সাজ্জাদ হোসেন যখন উপলব্ধি করেন এ দেশ আর দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের কাছে আর নিরাপদ নয়, তখন থেকেই তার ভেতরে জন্ম নেয় প্রতিরোধের আগুন। তিনি দেখেছেন, কীভাবে আলেম—ওলামাদের বিনা অপরাধে জেলে পাঠানো হচ্ছে, কীভাবে বিরোধী মতের রাজনৈতিক নেতা—কর্মীদের ওপর চলছে জেল—জুলুম আর নির্যাতনের খেলা। তাকে সবচেয়ে বেশি পীড়া দিয়েছিল গুম হওয়া মানুষের খবর। পরিবারগুলো হাহাকার করছে, আর রাষ্ট্র নিশ্চুপ। সে সময় বরেণ্য আলেম দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় তার হৃদয়কে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়। সে রায়ের প্রতিবাদে রাজপথে নামেন তিনি। সত্য উচ্চারণের দুঃসাহস দেখানোর ফলস্বরূপ তার নামে মামলা হয় এবং দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে হয়রানির শিকার হতে হয় তাঁকে।
এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। তার চোখে দেশ মানে শুধুই ভৌগোলিক সীমানা নয় এটি একটি আদর্শ, একটি বিশ্বাস, একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন। তাই যখন ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন, তখন তিনি আর দূরে থাকতে পারেননি। ৪ আগস্ট ঠাকুরগাঁওয়ের চৌরাস্তা মোড়ে তিনি ছিলেন প্রথম সারিতে। পুলিশ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে তখন চলছে ধাওয়া—পাল্টা ধাওয়া। ঠিক সে মুহূর্তে নেমে আসে জীবনের ভয়াবহ অন্ধকার। পুলিশের ছেঁাড়া অসংখ্য রাবার বুলেট তার চোখে সরাসরি আঘাত হানে। চার চারটি ছররা গুলি চোখে ঢুকে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে রক্তে ভেসে যায় তার মুখ। সহযোদ্ধারা তড়িঘড়ি করে তাকে ঠাকুরগাঁও মেডিকেলে নিয়ে যায়।
একটি চোখের বিনিময়ে লড়াইয়ের আলোকছায়া
৪ আগস্ট ২০২৪, ঠাকুরগাঁওয়ের চৌরাস্তা মোড়ে আন্দোলনের প্রথম সারিতে থাকা সাজ্জাদ হোসেন যখন পুলিশের ছররা গুলিতে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, তখন সহযোদ্ধারা প্রাণপণ চেষ্টায় তাকে ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেদিন শুধু গুলিই ছিল না তার জন্য, ছিল আরও এক ভয়ংকর বাস্তবতা। হাসপাতালজুড়ে ছড়ানো ছিল আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী ক্যাডারদের নজরদারি। পুলিশ যেকোনো সময় তাকে গ্রেফতার করতে পারে এ আশঙ্কা নিয়ে অস্থির পরিবেশে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়।
কিন্তু সেখানে কোনো মতে তার চোখে প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। রক্ত বন্ধ করার জন্য ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় চোখ। কিন্তু ততক্ষণে তার বাম চোখের আলো নিভে গেছে চিরতরে। তার সেই চোখে চারটি ছররা গুলি ঢুকে পড়ে, যেগুলোর মধ্যে পরবর্তীতে শুধু একটি বের করা সম্ভব হয়। বাকি তিনটি আজও তার চোখের ভেতরে রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি খানিকটা স্বাভাবিক হলে হাফিজুর উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পান। ঠাকুরগাঁও থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজে গেলে সেখানকার চিকিৎসকেরা তাকে পাঠান ঢাকার শাহবাগের পিজি (চএ) হাসপাতালে (বর্তমান নাম বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়)। সেখানে অপারেশন করে তার চোখের পর্দা সেলাই করা হয় এবং পুনরায় আরেকটি অপারেশনে চোখে ওয়েল দেয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, বাকি তিনটি গুলি বের করলে চোখের আরও বড় ক্ষতি হতে পারে, এমনকি তার অপর চোখও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই অপারেশন ও ওষুধের মাধ্যমে যতদূর সম্ভব তার দৃষ্টি রক্ষা করার চেষ্টা চলছে।
কিন্তু হাফিজুর দমে যাননি। বলেন, “আমার চোখ গেছে ঠিকই, কিন্তু আমি চাই এ দেশ যেন আমাদের ত্যাগের বিনিময়ে ইনসাফভিত্তিক ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।”
হাফিজুরের চোখে আলো না থাকলেও, তার সাহসিকতা ও বিশ্বাস আজও আমাদের মনে আলোর দীপ্তি জাগিয়ে তোলে। তাঁর যন্ত্রণাপূর্ণ চিকিৎসা—কাহিনী যেন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, সত্যের পথে চলতে হলে অনেক সময় দৃষ্টিশক্তিও উৎসর্গ করতে হয়। সাজ্জাদ হোসেনের চোখে এখন হয়তো আলো নেই, কিন্তু তার হৃদয়ের আলো আজও প্রতিবাদের মশাল হয়ে জ্বলছে আমাদের সকলের জন্য। তার একমাত্র চাওয়া অপরাধীদের বিচার যেন বেঁচে থাকতে দেখে যেতে পারেন।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: সাজ্জাদ হোসেন
জন্ম তারিখ : ১১ অক্টোবর ১৯৯৮
জন্মস্থান : ঠাকুরগাঁও
পেশা : ফুটবলার
নিজ জেলা : ঠাকুরগাঁও
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: নিশ্চিন্তপুর, ইউনিয়ন: সদর পৌরসভা, উপজেলা: ঠাকুরগাঁও, জেলা: ঠাকুরগাঁও
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মরহুম মো: বাবুল হোসেন
মায়ের নাম : মো: মমতাজ বেগম, বয়স: ৫৫, পেশা: গৃহিণী
মাসিক আয় : নেই
আয়ের উৎস : দিনমজুরি (অনিয়মিত)
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ০৬ জন
ভাই—বোনদের বিবরণ
১. রাজু, বয়স: ২৯, পেশা: ইলেকট্রিশিয়ান, সম্পর্ক: ভাই
ঘটনার স্থান : চৌরাস্তা, ঠাকুরগাঁও
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪; দুপুর ২টা ৩০ মিনিট
আক্রমণকারী : পুলিশ
পুনর্বাসনভিত্তিক প্রস্তাবনা
১. মাসিক হারে পুনর্বাসন ভাতা প্রদান।
২. কাপড় ব্যবসার অভিজ্ঞতা আছে, মূলধন পাওয়া গেলে ব্যবসা করতে পারবে।
৩. ঘর নির্মাণ ও সংস্কারে সহায়তা।
৪. মুরগির খামারের ব্যবস্থা করতে পারলে ভালো হয়।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍