রবিউল ইসলাম
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : ছাত্র
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
জন্মবৃত্তান্ত
রবিউল ইসলাম হেফজ শেষ করেছেন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান। অটোরিক্সা চালক। শহিদুল ইসলাম ও মা লাইলী বেগমের পুত্র। বাবা-মায়ের স্বপ্ন তাদের ছেলে হাফেজ হবে। বড় আলেম হবে। তারা তাকে হেফজখানায় ভর্তি করেন। রবিউল ইসলাম কঠিন সাধনায় পড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। হাফেজ হয়েছেন। তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন ২২ নভেম্বর ২০০৪ সালে। তার গ্রামের নাম উত্তর গসাইপুর। সদর থানার পৌরসভায় তাদের বসতবাড়ি। জেলা দিনাজপুর। রবিউল ইসলাম বড় আলেম হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে অপেক্ষায় আছেন। তখনই শুরু হল দেশে ফ্যাসিস্ট হাসিনা-বিরোধী বিপ্লব। এই বিপ্লবে হাসিনার পুলিশ তাকে মারাত্মকভাবে আহত করে। রবিউলদের রক্তের স্রোতে ভেসে যায় হাসিনার স্বৈরশাসন, ফ্যাসিস্ট ক্ষমতার দাপট। দেশ মুক্ত হয়। জনতা ফিরে পায় নিজেদের অধিকার।
হাফেজ থেকে সংগ্রামী
হেফজখানার বদ্ধ জীবন। দেশ সমাজের ঘটনা তার জানার তেমন সুযোগ নাই। বাবা অটোরিকশা চালক। দরিদ্র পরিবারের সন্তান। খুব কায়ক্লেশের জীবন। তবু বাবা-মায়ের স্বপ্ন সন্তানকে নিয়ে। স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পুত্রও পিতার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে চালিয়ে যাচ্ছেন সাধনা। দারিদ্র্য, অনটন, সব বাঁধা অতিক্রম করে সমাপ্ত করেছেন হেফজ। এর মধ্যেই শুরু হলো ২০২৪ এর জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলন। আন্দোলনে দেশের পরিবেশ খুবই উত্তেজনাকর অবস্থায় উপনীত হলো।
জুলাইয়ে রবিউলের চোখের সামনে ঘটছে নানারকম ঘটনা। সে আস্তে আস্তে সব জানতে পারে। রাজধানীতে শুরু হয় ছাত্র আন্দোলনের সূচনা। জুলাইয়ের ঘটনা হাফেজ রবিউলের চোখ খুলে দেয়।
পিছনে ফিরে তাকায়। পাঠ করে অতীত ইতিহাস। হাসিনার স্বৈর আচরণ, ফ্যাসিস্ট শাসন সব জানা হয়। আলেমদের উপর নির্যাতন, ভোট ডাকাতি, ভিন্নমত দমন সব কিছুই হাসিনার আমলের কথা। চব্বিশে জুলাইয়ের শুরুতে কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। পুলিশ ও লীগ সন্ত্রাসী দিয়ে আহত করা হয় ছাত্রদের। লাঞ্চিত করে নারী শিক্ষার্থীদের। মধ্য জুলাই থেকে হত্যা করতে থাকে নিরস্ত্র ছাত্রদের। ছাত্রদের আন্দোলন হয়ে পড়ে ছাত্রজনতার আন্দোলন। রবিউল ইসলামও এই আন্দোলনে যোগ দেন। হত্যাকারীর বিরুদ্ধে আন্দোলন করা কর্তব্য মনে করেন রবিউল। নিয়মিত অংশ নিতে থাকেন তিনি।
৪ আগস্ট সরকার পতনের আন্দোলন চাঙ্গা হয়। সারা দেশের মতো উত্তপ্ত পরিবেশ হয় তার নিজের জেলাতেও। ছাত্র-জনতা একাত্ম হয়ে জজকোর্ট প্রাঙ্গণের দিকে যেতে থাকে। আওয়ামী লীগ ও পুলিশ প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। জনসমুদ্রের জোয়ারে প্রতিরোধ ভেঙে যায়। মিছিল মহা-সমুদ্রে রূপ নেয়। সারাদেশই তখন আন্দোলনকারীদের দখলে। পুলিশ মিছিলে অতর্কিতে হামলা করে। টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তারা কিছু লোক কোর্ট চত্বরে অবস্থান নেয়। পুলিশ হামলা না করার আশ্বাসে কাছে ডেকে নেয়। রাইফেলের নলের কাছে ডেকে নিয়ে অমানবিকভাবে হঠাৎ গুলি করে। গুলি তার কোমরে লেগে মাংস ছিঁড়ে বেরিয়ে যায়। আরও অনেকগুলো ছররা গুলি বিদ্ধ হয় কোমরে ও শরীরের অন্যান্য অংশে। বহু লোক আহত হয়। তার শরীরে দুই শতাধিক গুলি বিদ্ধ হয়।
খুনী হাসিনার পুলিশ
ফ্যাসিস্ট হাসিনার পুলিশ সারা-দেশে নির্মম হত্যাকাণ্ড চালায়। নির্বিচারে মানুষকে গুলি করে হত্যা করে। হাসিনার শাসনসমলে পুলিশ একটি সরকারি বাহিনী হয়েও দলীয় পেটুয়া বাহিনীর মতো আচরণ করে। দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে পুলিশ আওয়ামী কর্মী বাহিনীর হয়ে কাজ করে। পুলিশের সহায়তায় আওয়ামী লীগ হিংস্র হয়ে ওঠে। পুলিশ পেশাদারিত্ব বিবর্জিত কাজে লিপ্ত থাকে। রংপুরে লাইভ টিভি ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের উপস্থিতিতে সরাসরি গুলি করে আবু সাঈদকে। মিছিলে আওয়ামী লীগের লাঠিয়াল হিসেবে উপস্থিত থাকে পুলিশ। বিগত দিনগুলোতে পুলিশের ভাবমূর্তি নানা কারণেই ক্ষুন্ন হচ্ছিল। জুলাইয়ে একদম ধ্বংস হয়ে যায়। অতর্কিতে মিছিলে টিয়ারশেল ও গুলি নিক্ষেপ করে। আন্দোলনকারীরা জজকোর্টের ভেতর আশ্রয় নেয়। সেখানে বলা যায় হাতে ধরে নিরস্ত্র লোকেদের গুলি করে। রবিউল ইসলাম জজ-কোর্টের এককোণে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এক পুলিশ সদস্য তাকে কাছে আসতে বললেন। কিছু না করার অভয় দিলেন। রবিউল কাছে আসলে একদম নিকটে থেকে তার কোমরে গুলি করে। মাংস ছিড়ে গুলি বেরিয়ে যায়। তিনি রক্তাক্ত পড়ে থাকেন। সহযোদ্ধারা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
চিকিৎসা সংক্রান্ত সামগ্রিক বর্ণনা
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি লুটিয়ে পড়েন। সহযোদ্ধারা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। প্রথমে দিনাজপুর মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসা করাটাও ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হাসপাতালে গিয়ে হামলা করত। আহতের স্বজনদের হেনস্থা, হামলা করার মতো ঘৃণ্য কাজ করতে দ্বিধা করতো না তারা। পুলিশ হাসপাতালের বেড থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যেত। রবিউলের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তাকে দ্রুত দিনাজপুর মেডিকেলে ভর্তি করা হলো। ৪ আগস্ট তিনি আহত হন। পরদিন রবিউলদের অর্থাৎ জনতার বিজয় হয়। হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। চিকিৎসা আর বাঁধাগ্রস্ত হয়নি।
সেখানে ১১ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। তারপর তাকে ভর্তি করা হয় রংপুর মেডিকেলে। সেখানে চিকিৎসা করার পর ডাক্তার তাকে ঢাকা মেডিকেলের পরামর্শ দেন। তার স্বজন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। টানা ২৫ দিন সেখানে চিকিৎসা নেন। তার দুইটা অপারেশন করা হয়।
প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে তার চিকিৎসা করা হয়। এখন তিনি সুস্থ।
চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা
দীর্ঘদিন চিকিৎসা করে তিনি সুস্থ। তবে প্রায় দুই শতাধিক গুলি তার শরীরে বিদ্ধ। এজন্য শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। এজন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তার উন্নত চিকিৎসা করানো যেতে পারে।
আঘাতের জায়গায় এখনও জটিলতার সৃষ্টি হয়। তাই তার নিরাপদ জীবনের জন্য চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়টি বিবেচনায় রাখা যেতে পারে।
কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সামগ্রিক প্রস্তাবনা
তার বাবা একজন অটো রিকশা চালক। অন্যের গাড়ি ভাড়ায় চালান। নিজে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। চিকিৎসা করতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
প্রথমত তাদের এককালীন অর্থ অনুদান দিয়ে তাদের ঋণমুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তার বাবাকে অটোরিকশা কিনে দিলে ভালো হবে। তার উচ্চশক্ষা সহজ করতে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করতে হবে। তার বাবাকে একটি অটো-রিকশা কিনে দেওয়ার প্রস্তাব।
বাজেট: ৩/৪ লাখ টাকা
আহত হওয়ার স্থান: জেলা জজকোর্টের ভেতর
আক্রমণকারী: জেলা পুলিশ, দিনাজপুর
তারিখ: ০৪-০৮-২৪
নাম : রবিউল ইসলাম
জন্ম তারিখ : ২২-১১-২০০৪
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : ছাত্র
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: উত্তর গসাইপুর, ইউনিয়ন: পৌরসভা, থানা: সদর, জেলা: দিনাজপুর
বর্তমান ঠিকানা : ঐ
পিতার নাম : শহিদুল ইসলাম
পিতার পেশা : অটোচালক
মায়ের নাম : লাইলী বেগম
মায়ের পেশা : গৃহিণী
আয়ের উৎস : বাবা অটো চালক
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : তিন বোন
শাহনাজ বেগম, সুলতানা বেগম ও সীমা পারভিন। তিন জনই বিবাহিত।
রবিউল ইসলাম হেফজ শেষ করেছেন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান। অটোরিক্সা চালক। শহিদুল ইসলাম ও মা লাইলী বেগমের পুত্র। বাবা-মায়ের স্বপ্ন তাদের ছেলে হাফেজ হবে। বড় আলেম হবে। তারা তাকে হেফজখানায় ভর্তি করেন। রবিউল ইসলাম কঠিন সাধনায় পড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। হাফেজ হয়েছেন। তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন ২২ নভেম্বর ২০০৪ সালে। তার গ্রামের নাম উত্তর গসাইপুর। সদর থানার পৌরসভায় তাদের বসতবাড়ি। জেলা দিনাজপুর। রবিউল ইসলাম বড় আলেম হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে অপেক্ষায় আছেন। তখনই শুরু হল দেশে ফ্যাসিস্ট হাসিনা-বিরোধী বিপ্লব। এই বিপ্লবে হাসিনার পুলিশ তাকে মারাত্মকভাবে আহত করে। রবিউলদের রক্তের স্রোতে ভেসে যায় হাসিনার স্বৈরশাসন, ফ্যাসিস্ট ক্ষমতার দাপট। দেশ মুক্ত হয়। জনতা ফিরে পায় নিজেদের অধিকার।
হাফেজ থেকে সংগ্রামী
হেফজখানার বদ্ধ জীবন। দেশ সমাজের ঘটনা তার জানার তেমন সুযোগ নাই। বাবা অটোরিকশা চালক। দরিদ্র পরিবারের সন্তান। খুব কায়ক্লেশের জীবন। তবু বাবা-মায়ের স্বপ্ন সন্তানকে নিয়ে। স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পুত্রও পিতার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে চালিয়ে যাচ্ছেন সাধনা। দারিদ্র্য, অনটন, সব বাঁধা অতিক্রম করে সমাপ্ত করেছেন হেফজ। এর মধ্যেই শুরু হলো ২০২৪ এর জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলন। আন্দোলনে দেশের পরিবেশ খুবই উত্তেজনাকর অবস্থায় উপনীত হলো।
জুলাইয়ে রবিউলের চোখের সামনে ঘটছে নানারকম ঘটনা। সে আস্তে আস্তে সব জানতে পারে। রাজধানীতে শুরু হয় ছাত্র আন্দোলনের সূচনা। জুলাইয়ের ঘটনা হাফেজ রবিউলের চোখ খুলে দেয়।
পিছনে ফিরে তাকায়। পাঠ করে অতীত ইতিহাস। হাসিনার স্বৈর আচরণ, ফ্যাসিস্ট শাসন সব জানা হয়। আলেমদের উপর নির্যাতন, ভোট ডাকাতি, ভিন্নমত দমন সব কিছুই হাসিনার আমলের কথা। চব্বিশে জুলাইয়ের শুরুতে কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। পুলিশ ও লীগ সন্ত্রাসী দিয়ে আহত করা হয় ছাত্রদের। লাঞ্চিত করে নারী শিক্ষার্থীদের। মধ্য জুলাই থেকে হত্যা করতে থাকে নিরস্ত্র ছাত্রদের। ছাত্রদের আন্দোলন হয়ে পড়ে ছাত্রজনতার আন্দোলন। রবিউল ইসলামও এই আন্দোলনে যোগ দেন। হত্যাকারীর বিরুদ্ধে আন্দোলন করা কর্তব্য মনে করেন রবিউল। নিয়মিত অংশ নিতে থাকেন তিনি।
৪ আগস্ট সরকার পতনের আন্দোলন চাঙ্গা হয়। সারা দেশের মতো উত্তপ্ত পরিবেশ হয় তার নিজের জেলাতেও। ছাত্র-জনতা একাত্ম হয়ে জজকোর্ট প্রাঙ্গণের দিকে যেতে থাকে। আওয়ামী লীগ ও পুলিশ প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। জনসমুদ্রের জোয়ারে প্রতিরোধ ভেঙে যায়। মিছিল মহা-সমুদ্রে রূপ নেয়। সারাদেশই তখন আন্দোলনকারীদের দখলে। পুলিশ মিছিলে অতর্কিতে হামলা করে। টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তারা কিছু লোক কোর্ট চত্বরে অবস্থান নেয়। পুলিশ হামলা না করার আশ্বাসে কাছে ডেকে নেয়। রাইফেলের নলের কাছে ডেকে নিয়ে অমানবিকভাবে হঠাৎ গুলি করে। গুলি তার কোমরে লেগে মাংস ছিঁড়ে বেরিয়ে যায়। আরও অনেকগুলো ছররা গুলি বিদ্ধ হয় কোমরে ও শরীরের অন্যান্য অংশে। বহু লোক আহত হয়। তার শরীরে দুই শতাধিক গুলি বিদ্ধ হয়।
খুনী হাসিনার পুলিশ
ফ্যাসিস্ট হাসিনার পুলিশ সারা-দেশে নির্মম হত্যাকাণ্ড চালায়। নির্বিচারে মানুষকে গুলি করে হত্যা করে। হাসিনার শাসনসমলে পুলিশ একটি সরকারি বাহিনী হয়েও দলীয় পেটুয়া বাহিনীর মতো আচরণ করে। দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে পুলিশ আওয়ামী কর্মী বাহিনীর হয়ে কাজ করে। পুলিশের সহায়তায় আওয়ামী লীগ হিংস্র হয়ে ওঠে। পুলিশ পেশাদারিত্ব বিবর্জিত কাজে লিপ্ত থাকে। রংপুরে লাইভ টিভি ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের উপস্থিতিতে সরাসরি গুলি করে আবু সাঈদকে। মিছিলে আওয়ামী লীগের লাঠিয়াল হিসেবে উপস্থিত থাকে পুলিশ। বিগত দিনগুলোতে পুলিশের ভাবমূর্তি নানা কারণেই ক্ষুন্ন হচ্ছিল। জুলাইয়ে একদম ধ্বংস হয়ে যায়। অতর্কিতে মিছিলে টিয়ারশেল ও গুলি নিক্ষেপ করে। আন্দোলনকারীরা জজকোর্টের ভেতর আশ্রয় নেয়। সেখানে বলা যায় হাতে ধরে নিরস্ত্র লোকেদের গুলি করে। রবিউল ইসলাম জজ-কোর্টের এককোণে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এক পুলিশ সদস্য তাকে কাছে আসতে বললেন। কিছু না করার অভয় দিলেন। রবিউল কাছে আসলে একদম নিকটে থেকে তার কোমরে গুলি করে। মাংস ছিড়ে গুলি বেরিয়ে যায়। তিনি রক্তাক্ত পড়ে থাকেন। সহযোদ্ধারা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
চিকিৎসা সংক্রান্ত সামগ্রিক বর্ণনা
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি লুটিয়ে পড়েন। সহযোদ্ধারা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। প্রথমে দিনাজপুর মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসা করাটাও ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হাসপাতালে গিয়ে হামলা করত। আহতের স্বজনদের হেনস্থা, হামলা করার মতো ঘৃণ্য কাজ করতে দ্বিধা করতো না তারা। পুলিশ হাসপাতালের বেড থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যেত। রবিউলের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তাকে দ্রুত দিনাজপুর মেডিকেলে ভর্তি করা হলো। ৪ আগস্ট তিনি আহত হন। পরদিন রবিউলদের অর্থাৎ জনতার বিজয় হয়। হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। চিকিৎসা আর বাঁধাগ্রস্ত হয়নি।
সেখানে ১১ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। তারপর তাকে ভর্তি করা হয় রংপুর মেডিকেলে। সেখানে চিকিৎসা করার পর ডাক্তার তাকে ঢাকা মেডিকেলের পরামর্শ দেন। তার স্বজন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। টানা ২৫ দিন সেখানে চিকিৎসা নেন। তার দুইটা অপারেশন করা হয়।
প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে তার চিকিৎসা করা হয়। এখন তিনি সুস্থ।
চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা
দীর্ঘদিন চিকিৎসা করে তিনি সুস্থ। তবে প্রায় দুই শতাধিক গুলি তার শরীরে বিদ্ধ। এজন্য শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। এজন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তার উন্নত চিকিৎসা করানো যেতে পারে।
আঘাতের জায়গায় এখনও জটিলতার সৃষ্টি হয়। তাই তার নিরাপদ জীবনের জন্য চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়টি বিবেচনায় রাখা যেতে পারে।
কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সামগ্রিক প্রস্তাবনা
তার বাবা একজন অটো রিকশা চালক। অন্যের গাড়ি ভাড়ায় চালান। নিজে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। চিকিৎসা করতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
প্রথমত তাদের এককালীন অর্থ অনুদান দিয়ে তাদের ঋণমুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তার বাবাকে অটোরিকশা কিনে দিলে ভালো হবে। তার উচ্চশক্ষা সহজ করতে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করতে হবে। তার বাবাকে একটি অটো-রিকশা কিনে দেওয়ার প্রস্তাব।
বাজেট: ৩/৪ লাখ টাকা
আহত হওয়ার স্থান: জেলা জজকোর্টের ভেতর
আক্রমণকারী: জেলা পুলিশ, দিনাজপুর
তারিখ: ০৪-০৮-২৪
নাম : রবিউল ইসলাম
জন্ম তারিখ : ২২-১১-২০০৪
জন্মস্থান : দিনাজপুর
পেশা : ছাত্র
নিজ জেলা : দিনাজপুর
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: উত্তর গসাইপুর, ইউনিয়ন: পৌরসভা, থানা: সদর, জেলা: দিনাজপুর
বর্তমান ঠিকানা : ঐ
পিতার নাম : শহিদুল ইসলাম
পিতার পেশা : অটোচালক
মায়ের নাম : লাইলী বেগম
মায়ের পেশা : গৃহিণী
আয়ের উৎস : বাবা অটো চালক
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : তিন বোন
শাহনাজ বেগম, সুলতানা বেগম ও সীমা পারভিন। তিন জনই বিবাহিত।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍