মো. ফারুক
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
মো. ফারুক নারায়ণগঞ্জের দরিদ্র শ্রমজীবী পরিবারে বেড়ে ওঠা এক সংগ্রামী তরুণ, যিনি শৈশব থেকেই অনাথত্ব ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়েছেন। ৫ আগস্ট ২০২৪ বাড্ডায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকাকালে পুলিশি গুলিতে তার মাথা-মুখে শতাধিক ছররা লাগে এবং একটি চোখের দৃষ্টি চিরতরে নষ্ট হয়। গুরুতর আহত হয়ে তিনি কর্মহীন ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত জীবন কাটাচ্ছেন, ছয় বছর বয়সী সন্তানকেও দীর্ঘদিন দেখা হয়নি। পরিবার-সমাজের অবহেলা সত্ত্বেও তিনি ন্যায় ও মর্যাদার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। আজ তিনি রাষ্ট্রীয় পুনর্বাসন ও ন্যায্য সহায়তার প্রত্যাশায় এক জীবন্ত শহীদ হয়ে বেঁচে আছেন।
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
ঐতিহাসিক আন্দোলনের জীবন্ত শহীদ মাথায় শতাধিক ছররা গুলি (আহত ও কর্মহীন)
মো: ফারুক
পেশা: শ্রমিক
ক্রমিক: ০০৩
আইডি: ঢাকা সিটি ০০৩
শৈশব ও পারিবারিক জীবন
মো: ফারুকের জীবন শুরু হয়েছিল দুঃখের সুরে বাঁধা এক কঠিন বাস্তবতায়। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১০ এপ্রিল ১৯৯৮, নারায়ণগঞ্জের এক শ্রমজীবী পরিবারে। কিন্তু জন্মের আগেই জীবনের এক নির্মম সত্য তাকে আঘাত করে বসে। তার পিতা কাজী ইউনুস মৃত্যুবরণ করেন মো: ফারুকের জন্মের মাত্র দুই মাস আগে। জন্মের আলো দেখার আগেই ফারুক পিতৃহীন হয়ে যান। তার মা শাহিদা বেগম একাই পাঁচ সন্তানের ভার বহন করতে বাধ্য হন। দিনমজুরের কাজ করে, কখনো অন্যের বাসায় ঝিয়ের কাজ করে সন্তানদের মানুষ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। মায়ের কষ্ট আর মমতা ছিল ফারুকের ছোটবেলার একমাত্র আশ্রয়। কিন্তু সে আশ্রয়ও বেশিদিন টেকেনি। ফারুক যখন কেবল যৌবনে পদার্পণ করেছেন ঠিক তখন ১৫ বছর আগে মাকেও হারান তিনি।
এরপর ফারুকের জীবনের আকাশ যেন একেবারেই অন্ধকার হয়ে যায়। ফারুক ছিলেন ভাই-বোনদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। তাই তার প্রতি সবার ভালোবাসা যেমন ছিল, তেমনি জীবনের প্রতিটি ঝড় তাকেই প্রথমে আঘাত করত। মা-বাবার মৃত্যু, অর্থনৈতিক অভাব, স্কুলে নিয়মিত যেতে না পারার কষ্ট, অন্যের কাছে অবহেলা এসব মিলিয়ে ফারুকের শৈশব ছিল যেন সংগ্রামের এক বৃহৎ অধ্যায়। তিনি খুব অল্প বয়সেই বুঝে গিয়েছিলেন এ সমাজে গরিবের ছেলে হলে প্রতিটি দিন বেঁচে থাকা একটা যুদ্ধ। শিশুকাল থেকেই খেলাধুলা কিংবা বন্ধুর সঙ্গে স্কুল ফেরার আনন্দ তাঁর জীবনে অনুপস্থিত ছিল। তার শৈশব মানেই ছিল মায়ের চোখের জল মুছে সান্ত্বনা দেয়া এবং খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য প্রার্থনা করা। স্কুলে যাওয়া শুরু করলেও বেশিদূর এগোতে পারেননি। অভাবের তাড়নায় ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে হয়েছে তাকে। পড়াশোনা আর স্বপ্ন তখন হিমঘরে, আর বাস্তব জীবন তাকে হাত ধরে টেনে এনেছে নির্মম পরিণতির মুখে। তাইতো মাত্র দশম শ্রেনি পর্যন্ত পড়াশুনা করতে পেরেছেন। অভাবের তাড়নায় এসএসসি পরীক্ষা দেয়া হয়নি। এই শৈশবই গড়ে তোলে সেই ফারুককে, যে বড় হয়ে দাঁড়াবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, হবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এক সাহসী যোদ্ধা।
শিক্ষা ও জীবন সংগ্রাম
অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে মো: ফারুক উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারেননি। জীবন চালানোর জন্য ঢাকায় এসে কাজ করতে শুরু করেন। পেশায় ছিলেন দিনমজুর। সামান্য বেতনে কাজ করতেন ঢাকার মেরুল বাড্ডার একটি ক্লাবে। দিন-রাত পরিশ্রম করে নিজের ও পরিবারের জীবন চালানোর চেষ্টা করতেন। অবিবাহিত অবস্থায় তিনি সংগ্রামী ও দৃঢ়চেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
আন্দোলনে শামিল হওয়ার কারন
ছোটবেলা থেকেই ফারুক ছিলেন প্রতিবাদী মানসিকতার অধিকারী। সংগ্রাম করেই যার জীবন শুরু সে প্রতিবাদী না হয়ে কি পারে। চাকরি পাওয়ার মতো কোনো আকাঙ্ক্ষা ফারুকের ছিল না। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় বৈষম্যের শিকার হওয়া ছোট ভাই-বোনদের কষ্ট-দুঃখ খুব সহজে উপলব্ধি করতে পারে। তাইতো বিবেকের তাড়নায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শুরু থেকেই একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে ময়দানে উপস্থিত ছিলেন। মো: ফারুকের শহীদ হওয়ার আকাঙক্ষা ছিল তীব্র। তাই তো নিজেকে আন্দোলনের সামনের সারিতে রাখতেন সবসময়।
৫ আগস্ট ২০২৪: এক ভয়াবহ দিনের বর্ণনা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, আন্দোলন যখন চূড়ান্ত অবস্থায় তখন ঢাকার বাড্ডা এলাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সংগঠিত বৈষম্য বিরোধী মিছিলে মো: ফারুক অংশ নেন। আন্দোলনে সবার সামনের সারিতে ছিলেন ফারুক। এই সাহসী যুবক মিছিলের সামনে থেকে পুলিশকে প্রশ্ন করেন, আপনারা কেন গুলি করছেন? সামনে সারিতে থাকা পুলিশ তখন বলছিলেন যে, আমরা গুলি না করলে আমাদেরকে মেরে ফেলা হবে। ফারুক তখন পুলিশকে লক্ষ্য করে বলছিলেন আপনারা গুলি করবেন না, আপনাদের কেউ কিছু বলবে না। পুলিশ ফারুকের কথায় গুলি করা বন্ধ করে। ঠিক তখনই পাশ থেকে এক বয়স্ক পুলিশ ফারুককে লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও ছররা বুলেট ছাড়ে। মুহূর্তে ঝাজড়া হয়ে যায় ফারুকের শরীর। পুলিশ কর্তৃক নির্বিচার গুলিবর্ষণে তার মাথা, মুখ ও চোখ গুরুতর আহত হয়। শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন এবং তার একটি চোখ থেকে চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারায়। অপর চোখটিও দীর্ঘ চিকিৎসার পর ২০% ভালো আছে। দীর্ঘ আড়াই মাস হাসপাতালে অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করার মধ্য দিয়ে তিনি ফিরে আসেন বেঁচে থাকার লড়াইয়ে।
হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেয়ার পরে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের সানারপাড়ে বড় ভাইয়ের বাড়িতে থেকে বাকি চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার গভীর অন্ধকার
মো: ফারুকের শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে আসে। চোখ হারানোর বেদনা ও দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসার যন্ত্রণা তাকে মানসিকভাবে বিপর্যন্ত করে তোলে। দীর্ঘ এক বছর ধরে তার ৬ বছর বয়সী পুত্র সন্তানকে দেখতে বা স্পর্শ করতে পারেননি। চোখ হারানোর যন্ত্রণা তার জীবনের এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। তিনি বলেন- "আমি আমার ছেলেকে প্রায় এক বছর ধরে দেখতে পাইনি, ছুঁতেই পারিনি। তার হাসি আর কন্ঠ আমার কাছে দুরন্ত স্মৃতি। এই দূরত্ব আমার হৃদয় পুড়িয়ে দেয়।" শারীরিক যন্ত্রণা ও মানসিক একাকীত্ব তার প্রতি নিঃশেষ বার্তা দেয়নি। মো: ফারুক এখনও লড়াই করে যাচ্ছেন, চোখ না থাকলেও প্রতিবাদের অগ্নি তার হৃদয়ে জ্বলছে।
ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক সংগ্রাম
মো: ফারুক একসময় বিবাহিত ছিলেন। কিন্তু আন্দোলনের ১১ মাস পর পারিবারিক জটিলতার কারণে- আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তার একমাত্র সন্তান একজন ছেলে, যিনি আজ ৬ বছর বয়সী। পরিবারের দূরত্ব ও বিবাহ বিচ্ছেদের কষ্টের মাঝেও তার লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
এক জীবন্ত শহীদের স্বপ্নভঙ্গ
"যে চোখ দিয়ে তিনি স্বপ্ন দেখতেন সোনার বাংলাদেশের, ঘাতকের বুলেটে সে চোখের আলোয় নিভে গেছে"
স্বাভাবিক অবস্থায় থাকাকালীন একটি ক্লাবে মাসিক বেতনে দিনমজুরের কাজ করতাম, দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলার কারণে সেখানে আর কাজ করা সম্ভব নয়। নিজেকে এখন পরিবারের কাছে বোঝা মনে হয়। আর পাঁচজন স্বাভাবিক মানুষের মত কর্ম করে বেঁচে থাকার ইচ্ছে ছিল। নিজের পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের উন্নতিতে অবদান রাখার আকাঙ্ক্ষা ছিল। কিন্তু আফসোস নিজের চলতেই কষ্ট হচ্ছে। সারাদিন কাটে দুশ্চিন্তায়। সকালে উঠে কাজে যাওয়ার কোন তারা নেই। মানুষ বলে জীবিত শহীদ, কিন্তু কেউ বোঝে না, একজন শহীদ রক্ত দিয়ে শেষ হয়ে যান আর একজন আহত ব্যক্তি প্রতিদিন নতুন করে মরেন। মো: ফারুক কর্ম করে বাকি জীবনটা কাটানোর স্বপ্ন দ্যাখেন। হোক সেটা চাকরি অথবা কোন ব্যবসা। তার এ করুণ পরিণতির জন্য তিনি কাউকে দোষারোপ করেন না, তবে তার দৃষ্টিহীন চোখের ব্যকুলতা যেন কথা বলে। তার হালকা করে দেখতে পাওয়া এক চোখের ভাষা যেন বলে দেয় "আমার কষ্টগুলো যদি কাউকে বোঝাতে পারতাম"।
শরীর জুড়ে যন্ত্রণা, হৃদয়ে এক অবহেলিত বাংলাদেশ
মো: ফারুক এক সীমাহীন যন্ত্রণা নিয়ে প্রায় এক বছর অতিবাহিত করছেন। মো: ফারুক শুধু একটি টগবগে পঙ্গু যুবকের নাম নয়, এই নামটি আমাদের নির্লজ্জ রাষ্ট্রের নির্মম প্রতিচ্ছবি। তার বড় ভাই ও ভাবীর আশ্রয়ে আজও সে অপেক্ষা করে আর পাঁচজনের মতো সাবলীলভাবে বাকি জীবনটা অতিবাহিত করতে। সে হয়তো অপেক্ষা করে কেউ এসে তার পাশে দাঁড়াবে, কেউ হয়তো বলবে "মো: ফারুক ভাই, তুমি একা নও আমরা আছি তোমার পাশে", তুমি লড়েছো, তোমার রক্ত বৃথা যেতে দিবোনা"
আলোর মাঝে ছায়া
আহত তরুণের কান্না ও কণ্ঠ। হাসপাতালের বিছানায় চোখে ব্যান্ডেজ বাঁধা ফারুক কোনো অভিযোগ করেননি। বরং সাংবাদিকদের সামনে কাঁপা কন্ঠে বলেন- "চোখ গেছে ঠিকই, কিন্তু অন্যায়ের চেহারা আমি আগেই চিনে নিয়েছি। এখন তা আরও স্পষ্ট।" এই একটি বাক্য যেন গোটা জাতিকে নাড়া দিয়ে যায়। তাঁর ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে বাম চোখে কালো পট্টি, মুখে যন্ত্রণার ছাপ, কিন্তু ভেতরে এক বিশাল সাহস। কেউ তাঁকে ডাকেন, "আলোকিত অন্ধকার", কেউ বলেন, "আন্দোলনের এক চোখা ঈগল"।
স্মরণীয় বাক্য ও অনুপ্রেরণা
ফারুকের এই ব্যক্তিত্ব, সাহস এবং আত্মত্যাগ দেশের হাজারো তরুণের কাছে হয়ে ওঠে অনুপ্রেরণ্য। প্রতিবাদের নতুন ভাষা খুঁজে পায় এক চোখে তাকানো তাঁর সেই ঝাপসা দৃষ্টি।
একটি কবিতার পঙক্তিতে লেখা হয়-
"যে চোখ দিয়ে দেখত স্বপ্ন, আজ সে চোখ নিভে গেছে
কিন্তু সে স্বপ্ন এখনও জ্বলছে আমার হৃদয়ে।"
ফারুক এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি। চিকিৎসা চলছে। কিন্তু তিনি জানিয়েছেন, "আবার ফিরে আসব দেখতে নয়, দেখাতে। অন্যায়কে, নিপীড়নকে, ভয়কে।" এই অধ্যায় শেষ হয় এক নিঃশব্দ প্রতিজ্ঞায়। এক চোখের আলো নিভে গেলেও ফারুকের আত্মত্যাগের আলো বাংলাদেশকে পথ দেখাবে বহুদিন। "তৎকালীন ফ্যাসিস্ট হাসিনা তাকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল, কিন্তু সে আজও বেঁচে আছে প্রতিরোধ আর সাহসের প্রতীক হয়ে। মো: ফারুককে ওরা মেরে ফেলতে চেয়েছিল। শুধু থামিয়ে দেয়ার জন্য নয় মুছে ফেলতে। যেন সে ছিল কোনো গুরুতর অপরাধী, যেন অধিকার চেয়ে নেয়া বড়ো অপরাধ, যেন রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে হলে তার নিঃশ্বাস বন্ধ করাই ছিল একমাত্র উপায়। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, তাকে নির্মমভাবে আঘাত করেছিল। তার চোখ গুলির আঘাতে শেষ করে দেয়া হয়েছিল, শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল, কিন্তু মন তো ভাঙেনি। সে বেঁচে আছে। গুলি তার দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিতে পেরেছে, কিন্তু তার দৃষ্টিভঙ্গি কেড়ে নিতে পারেনি। যন্ত্রণা তাকে থামাতে পারেনি। এই বেঁচে থাকা কেবল শ্বাস নেয়া নয়। এটি এক অভিশপ্ত সময়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকা। তার শরীর আজও সহ্য করে সেই দিনগুলোর জ্বালা। কিন্তু আত্মা এখনো জেগে আছে। সে ইতিহাসের এক জীবন্ত পৃষ্ঠা যার প্রতিটি ক্ষত স্মরণ করিয়ে দেয়, সত্য বলার খেসারত কী হতে পারে। কিন্তু সেই সত্যের মুখে দাঁড়িয়েই সে আজও জীবিত। পরাজিত নয়।
পুনর্বাসন ভিত্তিক প্রস্তাবনা
১. মাসিক হারে পুনর্বাসন ভাতা প্রদান
২. স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি বা বেসরকারি চাকরির ব্যবস্থা
৩. কোনো ব্যবসার ব্যবস্থা করে দেয়া (কাপড়ের/মুদী দোকান হতে পারে)
৪. ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা প্রকল্পে ঋণ প্রদান
৫. বিশেষ চিকিৎসা সহায়তা কার্ড চালু
৬. সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় অন্তর্ভুক্তি
৭. ঘর নির্মাণ বা সংস্কারে সরকারি সহায়তা
এক নজরে মো: ফারুক
নাম: মো: ফারুক
জন্ম তারিখ: ১০-০৪-১৯৮৮
জন্মন্মস্থান: দক্ষিণ সানারপাড়, নারায়ণগঞ্জ
নিজ জেলা: নারায়ণগঞ্জ
পেশা: শ্রমিক (ঢাকা, পশ্চিম মেরুল বাড্ডার একটি ক্লাবে)
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: ৫৫, রোড নং-এ, ইউনিয়ন: দক্ষিণ সানারপাড়, থানা: নারায়ণগঞ্জ, জেলা: নারায়ণগঞ্জ
পিতা: মৃত মো: কাজী ইউনুস
মাতা: মৃত মোসা: শাহিদা বেগম
মাসিক আয়: ১০,০০০
বাড়ি ও সম্পদ: পৈত্রিক সম্পত্তি নদী ভাঙনে বিলীন
ভাই-বোনের পরিচয়
২ বোন ও ৩ ভাই
১. বড় ভাই: শাহাদাৎ হোসেন, পেশা: কাপড়ের দোকান
২. মেঝ ভাই: শামীম, পেশা: দোকান কর্মচারি
৩. ছোট ভাই: কাজী ফারুক
আক্রমণকারী: পুলিশ
আহত হওয়ার সময় ও তারিখ: ০৫ আগস্ট, ২০২৪
মো: ফারুক
পেশা: শ্রমিক
ক্রমিক: ০০৩
আইডি: ঢাকা সিটি ০০৩
শৈশব ও পারিবারিক জীবন
মো: ফারুকের জীবন শুরু হয়েছিল দুঃখের সুরে বাঁধা এক কঠিন বাস্তবতায়। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১০ এপ্রিল ১৯৯৮, নারায়ণগঞ্জের এক শ্রমজীবী পরিবারে। কিন্তু জন্মের আগেই জীবনের এক নির্মম সত্য তাকে আঘাত করে বসে। তার পিতা কাজী ইউনুস মৃত্যুবরণ করেন মো: ফারুকের জন্মের মাত্র দুই মাস আগে। জন্মের আলো দেখার আগেই ফারুক পিতৃহীন হয়ে যান। তার মা শাহিদা বেগম একাই পাঁচ সন্তানের ভার বহন করতে বাধ্য হন। দিনমজুরের কাজ করে, কখনো অন্যের বাসায় ঝিয়ের কাজ করে সন্তানদের মানুষ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। মায়ের কষ্ট আর মমতা ছিল ফারুকের ছোটবেলার একমাত্র আশ্রয়। কিন্তু সে আশ্রয়ও বেশিদিন টেকেনি। ফারুক যখন কেবল যৌবনে পদার্পণ করেছেন ঠিক তখন ১৫ বছর আগে মাকেও হারান তিনি।
এরপর ফারুকের জীবনের আকাশ যেন একেবারেই অন্ধকার হয়ে যায়। ফারুক ছিলেন ভাই-বোনদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। তাই তার প্রতি সবার ভালোবাসা যেমন ছিল, তেমনি জীবনের প্রতিটি ঝড় তাকেই প্রথমে আঘাত করত। মা-বাবার মৃত্যু, অর্থনৈতিক অভাব, স্কুলে নিয়মিত যেতে না পারার কষ্ট, অন্যের কাছে অবহেলা এসব মিলিয়ে ফারুকের শৈশব ছিল যেন সংগ্রামের এক বৃহৎ অধ্যায়। তিনি খুব অল্প বয়সেই বুঝে গিয়েছিলেন এ সমাজে গরিবের ছেলে হলে প্রতিটি দিন বেঁচে থাকা একটা যুদ্ধ। শিশুকাল থেকেই খেলাধুলা কিংবা বন্ধুর সঙ্গে স্কুল ফেরার আনন্দ তাঁর জীবনে অনুপস্থিত ছিল। তার শৈশব মানেই ছিল মায়ের চোখের জল মুছে সান্ত্বনা দেয়া এবং খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য প্রার্থনা করা। স্কুলে যাওয়া শুরু করলেও বেশিদূর এগোতে পারেননি। অভাবের তাড়নায় ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে হয়েছে তাকে। পড়াশোনা আর স্বপ্ন তখন হিমঘরে, আর বাস্তব জীবন তাকে হাত ধরে টেনে এনেছে নির্মম পরিণতির মুখে। তাইতো মাত্র দশম শ্রেনি পর্যন্ত পড়াশুনা করতে পেরেছেন। অভাবের তাড়নায় এসএসসি পরীক্ষা দেয়া হয়নি। এই শৈশবই গড়ে তোলে সেই ফারুককে, যে বড় হয়ে দাঁড়াবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, হবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এক সাহসী যোদ্ধা।
শিক্ষা ও জীবন সংগ্রাম
অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে মো: ফারুক উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারেননি। জীবন চালানোর জন্য ঢাকায় এসে কাজ করতে শুরু করেন। পেশায় ছিলেন দিনমজুর। সামান্য বেতনে কাজ করতেন ঢাকার মেরুল বাড্ডার একটি ক্লাবে। দিন-রাত পরিশ্রম করে নিজের ও পরিবারের জীবন চালানোর চেষ্টা করতেন। অবিবাহিত অবস্থায় তিনি সংগ্রামী ও দৃঢ়চেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
আন্দোলনে শামিল হওয়ার কারন
ছোটবেলা থেকেই ফারুক ছিলেন প্রতিবাদী মানসিকতার অধিকারী। সংগ্রাম করেই যার জীবন শুরু সে প্রতিবাদী না হয়ে কি পারে। চাকরি পাওয়ার মতো কোনো আকাঙ্ক্ষা ফারুকের ছিল না। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় বৈষম্যের শিকার হওয়া ছোট ভাই-বোনদের কষ্ট-দুঃখ খুব সহজে উপলব্ধি করতে পারে। তাইতো বিবেকের তাড়নায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শুরু থেকেই একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে ময়দানে উপস্থিত ছিলেন। মো: ফারুকের শহীদ হওয়ার আকাঙক্ষা ছিল তীব্র। তাই তো নিজেকে আন্দোলনের সামনের সারিতে রাখতেন সবসময়।
৫ আগস্ট ২০২৪: এক ভয়াবহ দিনের বর্ণনা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, আন্দোলন যখন চূড়ান্ত অবস্থায় তখন ঢাকার বাড্ডা এলাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সংগঠিত বৈষম্য বিরোধী মিছিলে মো: ফারুক অংশ নেন। আন্দোলনে সবার সামনের সারিতে ছিলেন ফারুক। এই সাহসী যুবক মিছিলের সামনে থেকে পুলিশকে প্রশ্ন করেন, আপনারা কেন গুলি করছেন? সামনে সারিতে থাকা পুলিশ তখন বলছিলেন যে, আমরা গুলি না করলে আমাদেরকে মেরে ফেলা হবে। ফারুক তখন পুলিশকে লক্ষ্য করে বলছিলেন আপনারা গুলি করবেন না, আপনাদের কেউ কিছু বলবে না। পুলিশ ফারুকের কথায় গুলি করা বন্ধ করে। ঠিক তখনই পাশ থেকে এক বয়স্ক পুলিশ ফারুককে লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও ছররা বুলেট ছাড়ে। মুহূর্তে ঝাজড়া হয়ে যায় ফারুকের শরীর। পুলিশ কর্তৃক নির্বিচার গুলিবর্ষণে তার মাথা, মুখ ও চোখ গুরুতর আহত হয়। শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন এবং তার একটি চোখ থেকে চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারায়। অপর চোখটিও দীর্ঘ চিকিৎসার পর ২০% ভালো আছে। দীর্ঘ আড়াই মাস হাসপাতালে অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করার মধ্য দিয়ে তিনি ফিরে আসেন বেঁচে থাকার লড়াইয়ে।
হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেয়ার পরে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের সানারপাড়ে বড় ভাইয়ের বাড়িতে থেকে বাকি চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার গভীর অন্ধকার
মো: ফারুকের শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে আসে। চোখ হারানোর বেদনা ও দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসার যন্ত্রণা তাকে মানসিকভাবে বিপর্যন্ত করে তোলে। দীর্ঘ এক বছর ধরে তার ৬ বছর বয়সী পুত্র সন্তানকে দেখতে বা স্পর্শ করতে পারেননি। চোখ হারানোর যন্ত্রণা তার জীবনের এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। তিনি বলেন- "আমি আমার ছেলেকে প্রায় এক বছর ধরে দেখতে পাইনি, ছুঁতেই পারিনি। তার হাসি আর কন্ঠ আমার কাছে দুরন্ত স্মৃতি। এই দূরত্ব আমার হৃদয় পুড়িয়ে দেয়।" শারীরিক যন্ত্রণা ও মানসিক একাকীত্ব তার প্রতি নিঃশেষ বার্তা দেয়নি। মো: ফারুক এখনও লড়াই করে যাচ্ছেন, চোখ না থাকলেও প্রতিবাদের অগ্নি তার হৃদয়ে জ্বলছে।
ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক সংগ্রাম
মো: ফারুক একসময় বিবাহিত ছিলেন। কিন্তু আন্দোলনের ১১ মাস পর পারিবারিক জটিলতার কারণে- আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তার একমাত্র সন্তান একজন ছেলে, যিনি আজ ৬ বছর বয়সী। পরিবারের দূরত্ব ও বিবাহ বিচ্ছেদের কষ্টের মাঝেও তার লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
এক জীবন্ত শহীদের স্বপ্নভঙ্গ
"যে চোখ দিয়ে তিনি স্বপ্ন দেখতেন সোনার বাংলাদেশের, ঘাতকের বুলেটে সে চোখের আলোয় নিভে গেছে"
স্বাভাবিক অবস্থায় থাকাকালীন একটি ক্লাবে মাসিক বেতনে দিনমজুরের কাজ করতাম, দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলার কারণে সেখানে আর কাজ করা সম্ভব নয়। নিজেকে এখন পরিবারের কাছে বোঝা মনে হয়। আর পাঁচজন স্বাভাবিক মানুষের মত কর্ম করে বেঁচে থাকার ইচ্ছে ছিল। নিজের পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের উন্নতিতে অবদান রাখার আকাঙ্ক্ষা ছিল। কিন্তু আফসোস নিজের চলতেই কষ্ট হচ্ছে। সারাদিন কাটে দুশ্চিন্তায়। সকালে উঠে কাজে যাওয়ার কোন তারা নেই। মানুষ বলে জীবিত শহীদ, কিন্তু কেউ বোঝে না, একজন শহীদ রক্ত দিয়ে শেষ হয়ে যান আর একজন আহত ব্যক্তি প্রতিদিন নতুন করে মরেন। মো: ফারুক কর্ম করে বাকি জীবনটা কাটানোর স্বপ্ন দ্যাখেন। হোক সেটা চাকরি অথবা কোন ব্যবসা। তার এ করুণ পরিণতির জন্য তিনি কাউকে দোষারোপ করেন না, তবে তার দৃষ্টিহীন চোখের ব্যকুলতা যেন কথা বলে। তার হালকা করে দেখতে পাওয়া এক চোখের ভাষা যেন বলে দেয় "আমার কষ্টগুলো যদি কাউকে বোঝাতে পারতাম"।
শরীর জুড়ে যন্ত্রণা, হৃদয়ে এক অবহেলিত বাংলাদেশ
মো: ফারুক এক সীমাহীন যন্ত্রণা নিয়ে প্রায় এক বছর অতিবাহিত করছেন। মো: ফারুক শুধু একটি টগবগে পঙ্গু যুবকের নাম নয়, এই নামটি আমাদের নির্লজ্জ রাষ্ট্রের নির্মম প্রতিচ্ছবি। তার বড় ভাই ও ভাবীর আশ্রয়ে আজও সে অপেক্ষা করে আর পাঁচজনের মতো সাবলীলভাবে বাকি জীবনটা অতিবাহিত করতে। সে হয়তো অপেক্ষা করে কেউ এসে তার পাশে দাঁড়াবে, কেউ হয়তো বলবে "মো: ফারুক ভাই, তুমি একা নও আমরা আছি তোমার পাশে", তুমি লড়েছো, তোমার রক্ত বৃথা যেতে দিবোনা"
আলোর মাঝে ছায়া
আহত তরুণের কান্না ও কণ্ঠ। হাসপাতালের বিছানায় চোখে ব্যান্ডেজ বাঁধা ফারুক কোনো অভিযোগ করেননি। বরং সাংবাদিকদের সামনে কাঁপা কন্ঠে বলেন- "চোখ গেছে ঠিকই, কিন্তু অন্যায়ের চেহারা আমি আগেই চিনে নিয়েছি। এখন তা আরও স্পষ্ট।" এই একটি বাক্য যেন গোটা জাতিকে নাড়া দিয়ে যায়। তাঁর ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে বাম চোখে কালো পট্টি, মুখে যন্ত্রণার ছাপ, কিন্তু ভেতরে এক বিশাল সাহস। কেউ তাঁকে ডাকেন, "আলোকিত অন্ধকার", কেউ বলেন, "আন্দোলনের এক চোখা ঈগল"।
স্মরণীয় বাক্য ও অনুপ্রেরণা
ফারুকের এই ব্যক্তিত্ব, সাহস এবং আত্মত্যাগ দেশের হাজারো তরুণের কাছে হয়ে ওঠে অনুপ্রেরণ্য। প্রতিবাদের নতুন ভাষা খুঁজে পায় এক চোখে তাকানো তাঁর সেই ঝাপসা দৃষ্টি।
একটি কবিতার পঙক্তিতে লেখা হয়-
"যে চোখ দিয়ে দেখত স্বপ্ন, আজ সে চোখ নিভে গেছে
কিন্তু সে স্বপ্ন এখনও জ্বলছে আমার হৃদয়ে।"
ফারুক এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি। চিকিৎসা চলছে। কিন্তু তিনি জানিয়েছেন, "আবার ফিরে আসব দেখতে নয়, দেখাতে। অন্যায়কে, নিপীড়নকে, ভয়কে।" এই অধ্যায় শেষ হয় এক নিঃশব্দ প্রতিজ্ঞায়। এক চোখের আলো নিভে গেলেও ফারুকের আত্মত্যাগের আলো বাংলাদেশকে পথ দেখাবে বহুদিন। "তৎকালীন ফ্যাসিস্ট হাসিনা তাকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল, কিন্তু সে আজও বেঁচে আছে প্রতিরোধ আর সাহসের প্রতীক হয়ে। মো: ফারুককে ওরা মেরে ফেলতে চেয়েছিল। শুধু থামিয়ে দেয়ার জন্য নয় মুছে ফেলতে। যেন সে ছিল কোনো গুরুতর অপরাধী, যেন অধিকার চেয়ে নেয়া বড়ো অপরাধ, যেন রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে হলে তার নিঃশ্বাস বন্ধ করাই ছিল একমাত্র উপায়। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, তাকে নির্মমভাবে আঘাত করেছিল। তার চোখ গুলির আঘাতে শেষ করে দেয়া হয়েছিল, শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল, কিন্তু মন তো ভাঙেনি। সে বেঁচে আছে। গুলি তার দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিতে পেরেছে, কিন্তু তার দৃষ্টিভঙ্গি কেড়ে নিতে পারেনি। যন্ত্রণা তাকে থামাতে পারেনি। এই বেঁচে থাকা কেবল শ্বাস নেয়া নয়। এটি এক অভিশপ্ত সময়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকা। তার শরীর আজও সহ্য করে সেই দিনগুলোর জ্বালা। কিন্তু আত্মা এখনো জেগে আছে। সে ইতিহাসের এক জীবন্ত পৃষ্ঠা যার প্রতিটি ক্ষত স্মরণ করিয়ে দেয়, সত্য বলার খেসারত কী হতে পারে। কিন্তু সেই সত্যের মুখে দাঁড়িয়েই সে আজও জীবিত। পরাজিত নয়।
পুনর্বাসন ভিত্তিক প্রস্তাবনা
১. মাসিক হারে পুনর্বাসন ভাতা প্রদান
২. স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি বা বেসরকারি চাকরির ব্যবস্থা
৩. কোনো ব্যবসার ব্যবস্থা করে দেয়া (কাপড়ের/মুদী দোকান হতে পারে)
৪. ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা প্রকল্পে ঋণ প্রদান
৫. বিশেষ চিকিৎসা সহায়তা কার্ড চালু
৬. সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় অন্তর্ভুক্তি
৭. ঘর নির্মাণ বা সংস্কারে সরকারি সহায়তা
এক নজরে মো: ফারুক
নাম: মো: ফারুক
জন্ম তারিখ: ১০-০৪-১৯৮৮
জন্মন্মস্থান: দক্ষিণ সানারপাড়, নারায়ণগঞ্জ
নিজ জেলা: নারায়ণগঞ্জ
পেশা: শ্রমিক (ঢাকা, পশ্চিম মেরুল বাড্ডার একটি ক্লাবে)
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: ৫৫, রোড নং-এ, ইউনিয়ন: দক্ষিণ সানারপাড়, থানা: নারায়ণগঞ্জ, জেলা: নারায়ণগঞ্জ
পিতা: মৃত মো: কাজী ইউনুস
মাতা: মৃত মোসা: শাহিদা বেগম
মাসিক আয়: ১০,০০০
বাড়ি ও সম্পদ: পৈত্রিক সম্পত্তি নদী ভাঙনে বিলীন
ভাই-বোনের পরিচয়
২ বোন ও ৩ ভাই
১. বড় ভাই: শাহাদাৎ হোসেন, পেশা: কাপড়ের দোকান
২. মেঝ ভাই: শামীম, পেশা: দোকান কর্মচারি
৩. ছোট ভাই: কাজী ফারুক
আক্রমণকারী: পুলিশ
আহত হওয়ার সময় ও তারিখ: ০৫ আগস্ট, ২০২৪
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍