আবেদল ইসলাম
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : ব্যবসা
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
জন্মপরিচয়
আবেদুল ইসলাম শুধু একজন ব্যবসায়ী বা একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য নন, তিনি ইতিহাসের এক সাহসী সাক্ষী। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনুএ তিনি ছিলেন আহতদের একজন, যিনি নিজের জীবন বাজি রেখে জনগণের অধিকার রক্ষায় রাস্তায় নেমেছিলেন। এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন, এবং সেই মুহূর্ত থেকে শুরু হয় তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধ জীবনের জন্য যুদ্ধ।
রংপুর জেলার জুম্মাপাড়া গ্রামের সন্তান আবেদুল ইসলাম একজন শান্ত, নির্লোভ, কিন্তু অসাধারণ সাহসী মানুষ। তাঁর উপর যখন গুলি বর্ষিত হয়, তখন তিনি পিছু হটেননি। দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তিনি ছিলেন দৃঢ়, অটল ও অনড়। এই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা তাঁকে একটি সাধারণ মানুষ থেকে একজন বীর যোদ্ধায় রূপান্তরিত করেছে।
মুল ঘটনা:
২০২৪ সালের জুলাই মাসে যখন গোটা বাংলাদেশে গণবিরোধী সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন রংপুর শহরও তার ব্যতিক্রম ছিল না। গলি থেকে মহল্লা সবখানেই মানুষ মুক্তির আশায় রাস্তায় নেমেছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে আবেদুল ইসলাম কেবল একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন না; তিনি হয়ে উঠেছিলেন রংপুরের আন্দোলনের সম্মুখ সারির এক সাহসী যোদ্ধা।
২৪ জুলাই, ২০২৩, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সামনে শিক্ষার্থী ও জনতার একটি বিশাল মিছিল অবস্থান করছিল। সেদিন গণতন্ত্রের স্বপ্ন, ভোটাধিকারের অধিকার আর রাষ্ট্রের জবাবদিহিতার দাবিতে গলা ফাটাচ্ছিল মানুষ। সেই মিছিলে আবেদুল ইসলাম ছিলেন প্রথম সারিতে। হঠাৎ করেই, কোনো পূর্বসতর্কতা ছাড়াই, আওয়ামী লীগ-লালিত পুলিশ বাহিনী অতর্কিতে হামলা চালায়। শুরু হয় নির্বিচার গুলি।
এক পর্যায়ে চোরাগুলির একটি আবেদুল ইসলামের মুখে এসে লাগে। মুহূর্তেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। থেমে থাকেনি বর্বরতা—তার শরীরের বিভিন্ন অংশে পরপর আরও গুলি লাগে। রাস্তার মাঝে রক্তে ভিজে তিনি যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, তখন কেউ এগিয়ে আসতেও ভয় পাচ্ছিল।
তারপর শুরু হয় আরও এক নিষ্ঠুর অধ্যায়। তাঁকে যখন হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তখন জানা যায় স্বৈরাচারী সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা প্রশাসন থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা আসে: আহত আন্দোলনকারীদের যেন কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা না দেওয়া হয়। একে একে হাসপাতালগুলো ফিরিয়ে দেয় তাকে। এই নিষ্ঠুরতা যেন তার ওপর আরেক দফা গুলির মতোই আঘাত করে।
শেষ পর্যন্ত কিছু সাহসী মানুষ তাকে গোপনে হাসপাতালে ভর্তি করান। শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও বেঁচে থাকার লড়াই। গুলির আঘাতে তাঁর মুখ ও শরীর স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহুবার অপারেশন, রক্তপাত, যন্ত্রণার রাত এইসব সহ্য করে এখনও বেঁচে আছেন তিনি। তাঁর পরিবার প্রায় নিঃস্ব—জমি বিক্রি, ঋণ করে চিকিৎসা চালাতে হয়েছে। তাঁর স্বপ্ন, ব্যবসা, পরিবার সব আজ জীবনের নিচে পিষ্ট হয়ে গেছে।
তবু আবেদুল ইসলাম হার মানেননি। তিনি ছিলেন বীর, এখনো তিনি সেই সাহসিকতার প্রতীক। তাঁর শরীরের গুলির দাগগুলো আজ ইতিহাসের নিরব সাক্ষ্য কীভাবে এক সরকার মানুষের কণ্ঠরোধ করতে চেয়েছিল, আর কীভাবে সাধারণ মানুষ সেই দমননীতি রুখে দাঁড়িয়েছিল।
আবেদুল ইসলামের নাম শুধু আহতদের তালিকায় নয়, ইতিহাসের পাতায় লেখা হওয়া উচিত একজন সত্যিকারের গণআন্দোলনের সম্মুখযোদ্ধা ও বীর সৈনিক হিসেবে।
চিকিৎসার অবস্থা: জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়া আবেদুল ইসলামের জীবন এখন শুধুই চিকিৎসা, সংগ্রাম আর সীমাহীন আর্থিক চাপের আরেক নাম। চোরাগুলি লেগে তাঁর পুরো শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে। শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে যন্ত্রণা, রক্তপাত আর আতঙ্ক। সেদিনের পর থেকে আজও তিনি সেই যন্ত্রণার ভিতরে বন্দি।
প্রথমে তাঁকে ভর্তি করা হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে কয়েকদিন কাটে নানা ধরণের অস্থিরতা ও অবহেলার মাঝে। যদিও তাঁর চোখে তখনই সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিয়েছিল, তবে চিকিৎসকরা বিষয়টিকে পাত্তা দেননি। অবহেলা ও উপেক্ষার মধ্যে ধীরে ধীরে তাঁর চোখের দৃষ্টিশক্তি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে।
এরপর তাঁকে ঢাকা পাঠানো হয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে, যেখানে তিনি ২৭ জুলাই পর্যন্ত ভর্তি ছিলেন। শুরুতে বলার মতো কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। বরং চিকিৎসকের অবহেলার ফলেই যে সমস্যাটি ছিল হালকা, তা হয়ে দাঁড়ায় জটিল ও ভয়াবহ। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে ২৮ জুলাই তাঁর চোখে অপারেশন করা হয়।
এই একবারের অপারেশনেই খরচ হয় প্রায় ৪ লক্ষ টাকা (৪০০,০০০ টাকা)। একজন সাধারণ মানুষ, তাও একটি দরিদ্র মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান, তাঁর পক্ষে এতো বিপুল পরিমাণ খরচ বহন করা প্রায় অসম্ভব। এই চিকিৎসার জন্য তাঁর পরিবারকে বাধ্য হয়ে জমি বিক্রি, বন্ধক, ঋণ সবকিছু করতে হয়েছে।
চিকিৎসার আর্থিক চাপের চেয়ে বেশি বেদনাদায়ক ছিল অবহেলা।
একজন আহত, গুলিবিদ্ধ নাগরিক, যিনি দেশের জন্য লড়েছেন, তাঁর প্রতি চিকিৎসকদের এমন নির্লজ্জ অবহেলা কেবল পেশাগত ব্যর্থতা নয়, এটি এক ধরণের অমানবিক নিষ্ঠুরতাও।
আবেদুল ইসলামের চিকিৎসাজনিত অভিজ্ঞতা আজ প্রশ্ন তোলে—
“একজন আহত বীর যখন চিকিৎসা পায় না, তখন রাষ্ট্রের মানবতা কোথায় থাকে?”
তাঁর চোখে অপারেশন হয়, শরীরজুড়ে যন্ত্রণা আর ঘরজুড়ে ঋণের ভার—এই বাস্তবতাই আজ আবেদুল ইসলামের জীবন। তাঁর চিকিৎসা কেবল একটি ব্যাক্তির আরোগ্য নয় এটি একটি সমাজ, একটি রাষ্ট্র ও একটি আন্দোলনের মূল্য চুকানোর প্রতিচ্ছবি।
প্রয়োজনে এটি আরও সংক্ষিপ্ত বা আবেদন/রিপোর্ট আকারে পরিমার্জন করে দেওয়া যাবে। আপনি কীভাবে ব্যবহার করতে চান জানালে সেই অনুযায়ী সাজিয়ে দেব।
আর্থিক দুরবস্থা: আবেদুল ইসলাম এক সময় ছোট একটি ব্যবসা শুরু করেছিলেন, যেটা ছিল তাঁর জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু সেই ব্যবসা ধরে রাখতে, আবার নতুন করে চালু করতে গেলে প্রায় তিন লক্ষ টাকার মূলধন প্রয়োজন। অথচ বর্তমানে তাঁর কাছে নেই এক টাকাও। চিকিৎসা ও বেঁচে থাকার লড়াই তাঁকে আর্থিকভাবে এমন এক অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে, যেখানে স্বপ্ন তো দূরের কথা—দিন পার করাই বড় চ্যালেঞ্জ।
চিকিৎসার খরচ মেটাতে জমি বন্ধক রাখতে হয়েছে, পরিবারকে ঋণের বোঝায় জর্জরিত হতে হয়েছে। বর্তমানে তাঁর ব্যবসা বন্ধ, আয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস নেই। বাজারে দাম, দোকানের ভাড়া, মালামালের মূল্য—সবকিছুই তাঁর নাগালের বাইরে চলে গেছে। অথচ তিনি চুপচাপ মুখ বুজে সহ্য করছেন, সাহায্য চাওয়ার মতো সাহসটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন।
এমন একজন মানুষ, যিনি দেশের জন্য জীবন হাতে নিয়ে রাস্তায় দাঁড়াতে পারেন, আজ তাঁর নিজের জীবনের জন্য নেই নূন্যতম আর্থিক সহায়তা। সংসারে পাঁচ সদস্য—সবাই তাকিয়ে আছেন তাঁর দিকেই, অথচ তিনি নিজেই দিশাহীন।
তিনি আজ সত্যিকার অর্থেই একটি প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছেন সমাজের কাছে:
“একজন সাহসী মানুষ যখন বিপদে পড়ে, তখন তার পাশে কে দাঁড়ায়?”
আবেদুল ইসলামের অভাব কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং এটি সমাজের দায়িত্ববোধের অভাব, মানবিক সহানুভূতির অভাব এবং রাষ্ট্রের ন্যায্য সহযোগিতার অভাবের প্রতিচ্ছবি।
নাম : আবেদুল ইসলাম
জন্মতারিখ : ২৫/০৫/১৯৮২
জন্মস্থান : রংপুর
পেশা : ব্যবসা
নিজ জেলা : রংপুর
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: জুম্মাপাড়া, ইউনিয়ন: কোতয়ালী, জেলা: রংপুর
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : নুরুল ইসলাম
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৭৫
মায়ের নাম : রবেতন নেছা
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৬০
পারিবারিক অবস্থা : মধ্যবিত্ত
আয়ের উৎস : ব্যবসা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
আবেদুল ইসলাম শুধু একজন ব্যবসায়ী বা একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য নন, তিনি ইতিহাসের এক সাহসী সাক্ষী। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনুএ তিনি ছিলেন আহতদের একজন, যিনি নিজের জীবন বাজি রেখে জনগণের অধিকার রক্ষায় রাস্তায় নেমেছিলেন। এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন, এবং সেই মুহূর্ত থেকে শুরু হয় তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধ জীবনের জন্য যুদ্ধ।
রংপুর জেলার জুম্মাপাড়া গ্রামের সন্তান আবেদুল ইসলাম একজন শান্ত, নির্লোভ, কিন্তু অসাধারণ সাহসী মানুষ। তাঁর উপর যখন গুলি বর্ষিত হয়, তখন তিনি পিছু হটেননি। দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তিনি ছিলেন দৃঢ়, অটল ও অনড়। এই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা তাঁকে একটি সাধারণ মানুষ থেকে একজন বীর যোদ্ধায় রূপান্তরিত করেছে।
মুল ঘটনা:
২০২৪ সালের জুলাই মাসে যখন গোটা বাংলাদেশে গণবিরোধী সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন রংপুর শহরও তার ব্যতিক্রম ছিল না। গলি থেকে মহল্লা সবখানেই মানুষ মুক্তির আশায় রাস্তায় নেমেছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে আবেদুল ইসলাম কেবল একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন না; তিনি হয়ে উঠেছিলেন রংপুরের আন্দোলনের সম্মুখ সারির এক সাহসী যোদ্ধা।
২৪ জুলাই, ২০২৩, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সামনে শিক্ষার্থী ও জনতার একটি বিশাল মিছিল অবস্থান করছিল। সেদিন গণতন্ত্রের স্বপ্ন, ভোটাধিকারের অধিকার আর রাষ্ট্রের জবাবদিহিতার দাবিতে গলা ফাটাচ্ছিল মানুষ। সেই মিছিলে আবেদুল ইসলাম ছিলেন প্রথম সারিতে। হঠাৎ করেই, কোনো পূর্বসতর্কতা ছাড়াই, আওয়ামী লীগ-লালিত পুলিশ বাহিনী অতর্কিতে হামলা চালায়। শুরু হয় নির্বিচার গুলি।
এক পর্যায়ে চোরাগুলির একটি আবেদুল ইসলামের মুখে এসে লাগে। মুহূর্তেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। থেমে থাকেনি বর্বরতা—তার শরীরের বিভিন্ন অংশে পরপর আরও গুলি লাগে। রাস্তার মাঝে রক্তে ভিজে তিনি যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, তখন কেউ এগিয়ে আসতেও ভয় পাচ্ছিল।
তারপর শুরু হয় আরও এক নিষ্ঠুর অধ্যায়। তাঁকে যখন হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তখন জানা যায় স্বৈরাচারী সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা প্রশাসন থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা আসে: আহত আন্দোলনকারীদের যেন কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা না দেওয়া হয়। একে একে হাসপাতালগুলো ফিরিয়ে দেয় তাকে। এই নিষ্ঠুরতা যেন তার ওপর আরেক দফা গুলির মতোই আঘাত করে।
শেষ পর্যন্ত কিছু সাহসী মানুষ তাকে গোপনে হাসপাতালে ভর্তি করান। শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও বেঁচে থাকার লড়াই। গুলির আঘাতে তাঁর মুখ ও শরীর স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহুবার অপারেশন, রক্তপাত, যন্ত্রণার রাত এইসব সহ্য করে এখনও বেঁচে আছেন তিনি। তাঁর পরিবার প্রায় নিঃস্ব—জমি বিক্রি, ঋণ করে চিকিৎসা চালাতে হয়েছে। তাঁর স্বপ্ন, ব্যবসা, পরিবার সব আজ জীবনের নিচে পিষ্ট হয়ে গেছে।
তবু আবেদুল ইসলাম হার মানেননি। তিনি ছিলেন বীর, এখনো তিনি সেই সাহসিকতার প্রতীক। তাঁর শরীরের গুলির দাগগুলো আজ ইতিহাসের নিরব সাক্ষ্য কীভাবে এক সরকার মানুষের কণ্ঠরোধ করতে চেয়েছিল, আর কীভাবে সাধারণ মানুষ সেই দমননীতি রুখে দাঁড়িয়েছিল।
আবেদুল ইসলামের নাম শুধু আহতদের তালিকায় নয়, ইতিহাসের পাতায় লেখা হওয়া উচিত একজন সত্যিকারের গণআন্দোলনের সম্মুখযোদ্ধা ও বীর সৈনিক হিসেবে।
চিকিৎসার অবস্থা: জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়া আবেদুল ইসলামের জীবন এখন শুধুই চিকিৎসা, সংগ্রাম আর সীমাহীন আর্থিক চাপের আরেক নাম। চোরাগুলি লেগে তাঁর পুরো শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে। শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে যন্ত্রণা, রক্তপাত আর আতঙ্ক। সেদিনের পর থেকে আজও তিনি সেই যন্ত্রণার ভিতরে বন্দি।
প্রথমে তাঁকে ভর্তি করা হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে কয়েকদিন কাটে নানা ধরণের অস্থিরতা ও অবহেলার মাঝে। যদিও তাঁর চোখে তখনই সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিয়েছিল, তবে চিকিৎসকরা বিষয়টিকে পাত্তা দেননি। অবহেলা ও উপেক্ষার মধ্যে ধীরে ধীরে তাঁর চোখের দৃষ্টিশক্তি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে।
এরপর তাঁকে ঢাকা পাঠানো হয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে, যেখানে তিনি ২৭ জুলাই পর্যন্ত ভর্তি ছিলেন। শুরুতে বলার মতো কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। বরং চিকিৎসকের অবহেলার ফলেই যে সমস্যাটি ছিল হালকা, তা হয়ে দাঁড়ায় জটিল ও ভয়াবহ। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে ২৮ জুলাই তাঁর চোখে অপারেশন করা হয়।
এই একবারের অপারেশনেই খরচ হয় প্রায় ৪ লক্ষ টাকা (৪০০,০০০ টাকা)। একজন সাধারণ মানুষ, তাও একটি দরিদ্র মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান, তাঁর পক্ষে এতো বিপুল পরিমাণ খরচ বহন করা প্রায় অসম্ভব। এই চিকিৎসার জন্য তাঁর পরিবারকে বাধ্য হয়ে জমি বিক্রি, বন্ধক, ঋণ সবকিছু করতে হয়েছে।
চিকিৎসার আর্থিক চাপের চেয়ে বেশি বেদনাদায়ক ছিল অবহেলা।
একজন আহত, গুলিবিদ্ধ নাগরিক, যিনি দেশের জন্য লড়েছেন, তাঁর প্রতি চিকিৎসকদের এমন নির্লজ্জ অবহেলা কেবল পেশাগত ব্যর্থতা নয়, এটি এক ধরণের অমানবিক নিষ্ঠুরতাও।
আবেদুল ইসলামের চিকিৎসাজনিত অভিজ্ঞতা আজ প্রশ্ন তোলে—
“একজন আহত বীর যখন চিকিৎসা পায় না, তখন রাষ্ট্রের মানবতা কোথায় থাকে?”
তাঁর চোখে অপারেশন হয়, শরীরজুড়ে যন্ত্রণা আর ঘরজুড়ে ঋণের ভার—এই বাস্তবতাই আজ আবেদুল ইসলামের জীবন। তাঁর চিকিৎসা কেবল একটি ব্যাক্তির আরোগ্য নয় এটি একটি সমাজ, একটি রাষ্ট্র ও একটি আন্দোলনের মূল্য চুকানোর প্রতিচ্ছবি।
প্রয়োজনে এটি আরও সংক্ষিপ্ত বা আবেদন/রিপোর্ট আকারে পরিমার্জন করে দেওয়া যাবে। আপনি কীভাবে ব্যবহার করতে চান জানালে সেই অনুযায়ী সাজিয়ে দেব।
আর্থিক দুরবস্থা: আবেদুল ইসলাম এক সময় ছোট একটি ব্যবসা শুরু করেছিলেন, যেটা ছিল তাঁর জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু সেই ব্যবসা ধরে রাখতে, আবার নতুন করে চালু করতে গেলে প্রায় তিন লক্ষ টাকার মূলধন প্রয়োজন। অথচ বর্তমানে তাঁর কাছে নেই এক টাকাও। চিকিৎসা ও বেঁচে থাকার লড়াই তাঁকে আর্থিকভাবে এমন এক অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে, যেখানে স্বপ্ন তো দূরের কথা—দিন পার করাই বড় চ্যালেঞ্জ।
চিকিৎসার খরচ মেটাতে জমি বন্ধক রাখতে হয়েছে, পরিবারকে ঋণের বোঝায় জর্জরিত হতে হয়েছে। বর্তমানে তাঁর ব্যবসা বন্ধ, আয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস নেই। বাজারে দাম, দোকানের ভাড়া, মালামালের মূল্য—সবকিছুই তাঁর নাগালের বাইরে চলে গেছে। অথচ তিনি চুপচাপ মুখ বুজে সহ্য করছেন, সাহায্য চাওয়ার মতো সাহসটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন।
এমন একজন মানুষ, যিনি দেশের জন্য জীবন হাতে নিয়ে রাস্তায় দাঁড়াতে পারেন, আজ তাঁর নিজের জীবনের জন্য নেই নূন্যতম আর্থিক সহায়তা। সংসারে পাঁচ সদস্য—সবাই তাকিয়ে আছেন তাঁর দিকেই, অথচ তিনি নিজেই দিশাহীন।
তিনি আজ সত্যিকার অর্থেই একটি প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছেন সমাজের কাছে:
“একজন সাহসী মানুষ যখন বিপদে পড়ে, তখন তার পাশে কে দাঁড়ায়?”
আবেদুল ইসলামের অভাব কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং এটি সমাজের দায়িত্ববোধের অভাব, মানবিক সহানুভূতির অভাব এবং রাষ্ট্রের ন্যায্য সহযোগিতার অভাবের প্রতিচ্ছবি।
নাম : আবেদুল ইসলাম
জন্মতারিখ : ২৫/০৫/১৯৮২
জন্মস্থান : রংপুর
পেশা : ব্যবসা
নিজ জেলা : রংপুর
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: জুম্মাপাড়া, ইউনিয়ন: কোতয়ালী, জেলা: রংপুর
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : নুরুল ইসলাম
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৭৫
মায়ের নাম : রবেতন নেছা
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৬০
পারিবারিক অবস্থা : মধ্যবিত্ত
আয়ের উৎস : ব্যবসা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍