নাফিস ইকবাল ফারহান
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : ছাত্র, সিদ্দিক মেমোরিয়াল, একাদশ শ্রেণি
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
তার বাবা মো: সোলেমান আলী একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। কর্মজীবনে দায়িত্বশীলতা আর শৃঙ্খলার নিদর্শন রেখে এখন সংসারকে চালিয়ে যাচ্ছেন শান্তভাবে। বয়স ৪৭ হলেও অভিজ্ঞতায় তিনি একজন পরিপক্ব অভিভাবক। মা রোজিনা বেগম গৃহিণী; বয়স ৩৮ বছর। সংসারের কেন্দ্রবিন্দুতে তিনিই আছেন—তিন সন্তানকে ভালোবাসায়, শাসনে ও যত্নে বড় করে তুলছেন। তিন সন্তানের এই পরিবারে নাফিস মেজো সন্তান।
নাফিস ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। বইয়ের প্রতি আগ্রহ, প্রশ্ন করার অভ্যাস আর শেখার তীব্র আগ্রহ তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। খুবই আদুরে স্বভাবের পরিবারের সবাই তাকে ভালোবাসে, আবার তার ওপর ভরসাও করে।
তার স্বপ্ন খুব স্পষ্ট সে বড় হয়ে দেশের সেবা করতে চায়। সে চায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে, চায় বাংলাদেশকে আরও সুন্দর করে গড়ে তুলতে। শুধু নিজের ভবিষ্যৎ নয়, গোটা সমাজের জন্য কিছু করার চিন্তাই তাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
আজ নাফিস কুড়িগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে, নিজের স্বপ্নকে বুকে লালন করে এক নতুন দিনের প্রত্যাশায় পথ চলছে যে দিন সে দেশের একজন গর্বিত নাগরিক হয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করবে।
আন্দোলনে অংশগ্রহন
দৃশ্য: ১৮ জুলাই, রংপুর মডেল কলেজের সামনে, দুপুর ১টা
যেদিন রোদের তাপে ক্ষীত হয়ে ছাত্র-জনতার মিছিল বের হয় নেতৃত্বে ছিলেন নাফিস ইকবাল, যিনি আগে থেকেই কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিয়মিত সক্রিয় এক চরম সাহসী মুখ। মিছিলে হাজারো শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল ছাত্রী-ছাত্রী, সহ শিক্ষক-অভিভাবক আরও একসঙ্গে ছিলেন সাধারণ মানুষও। মিছিলটি রংপুর জেলা স্কুল মোড় থেকে শুরু হয়ে মডেল কলেজের সীমানায় পৌঁছায়। এই বিক্ষোভ চলছিল শান্তিপূর্ণভাবে, অন্যদিকে পুলিশ ও ছাত্রলীগের একদল আচমকা উপস্থিত হয় হাতে কিল, ছুরি-লাঠি, তৈরি সংঘর্ষে।
আঘাত: গুলির ধ্বনিতে তোলপাড়
হঠাৎ পুলিশ প্রচলিত পথে ছাড়া হয়নি তারা টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে, তারপর অপ্রত্যাশিতভাবে সরাসরি গুলি চালায়। নারীদের কাঁধে গুলি লাগে; এক মুহূর্তে তার রক্তঝরা ব্যথা মিছিল পঙ্গু হয়ে যায়। কোটা আন্দোলনের অন্যতম অগ্রণী যুবক নাফি ইকবাল সেই মুহূর্তে দৌড়ে এগিয়ে আসেন আহতদের কাছে তার সাহসিকতা ছিল আবু সাঈদের মতোই অপরিসীম। সংবাদ মতে, আবু সাঈদ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের কাছে বুকপেতে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে রাবার বুলেট ও শটগানের গুলিতে প্রাণ হারান; শিক্ষার্থীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালেও নেওয়ায়, সেখানে তিনি মৃত ঘোষিত হন
নাফিস তাঁর আহত বন্ধুর পাশে দাঁড়ান, আহত মেয়েদের দু’পাশে পরতে থাকে। যখন পুলিশের গুলির গর্জনে ছাদ ভেঙে পড়ে, তখন তিনি নিজে গায়ে রক্ত নিলেও শান্ত থাকতে থাকেন—তা যেন এক শপথজ্ঞাপক দৃশ্য: “আমরা দাঁড়াবো, আমরা মিথ্যা ন্যায়ের বার্তা থামাবো না।”
তাঁর বক্তব্য জানমাল ক্ষয় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এরকম দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ছিল সাহিত্য নির্মাণের মতো শক্তিশালী। এরই মধ্যে রংপুরে সিন্ধান্ত হয়—বিজিবি মোতায়েন, তবুও আন্দোলন থামেনি
শেষ দৃশ্য: শহীদ চত্বরে দাঁড়ানো
নাফিস আহত হলেও তাঁর সাহস ও দৃঢ়তা মিছিলকে ধারালো করেছে। সভার শেষে তিনি ঘোষণা করেন: “যতদিন আমাদের ভাইয়ের রক্তের বিচার হচ্ছে না, ততদিন আমরা এই আন্দোলন থেকে সরে যাব না।” সেই স্মৃতিই হয়ে ওঠে আন্দোলনের প্রতীক যেখানে একজন নির্ভীক নেতৃত্বের জন্য প্রচারণার ভূমিকা পাল্টে যায়
চিকিৎসার অবস্থা: চিকিৎসায় তিনি সুস্থ আছেন।
নাম : নাফিস ইকবাল ফারহান
জন্ম তারিখ : ০৭/০২/০৮
পেশা : ছাত্র, সিদ্দিক মেমোরিয়াল, একাদশ শ্রেণি
নিজ জেলা : কুড়িগ্রাম
বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: ফুলকুয়ার, ই্উনিয়ন: পাথরডুবি থানা: ভুরুঙ্গামারি, জেলা: কুড়িগ্রাম
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: ফুলকুয়ার, ই্উনিয়ন: পাথরডুবি থানা: ভুরুঙ্গামারি, জেলা: কুড়িগ্রাম
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : মো: সোলেমান আলী
পিতার পেশা ও বয়স : অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসার, ৪৭
মায়ের নাম : রোজিনা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৩৮
পারিবারিক অবস্থা : মধ্যবিত্ত
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
নাফিস ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। বইয়ের প্রতি আগ্রহ, প্রশ্ন করার অভ্যাস আর শেখার তীব্র আগ্রহ তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। খুবই আদুরে স্বভাবের পরিবারের সবাই তাকে ভালোবাসে, আবার তার ওপর ভরসাও করে।
তার স্বপ্ন খুব স্পষ্ট সে বড় হয়ে দেশের সেবা করতে চায়। সে চায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে, চায় বাংলাদেশকে আরও সুন্দর করে গড়ে তুলতে। শুধু নিজের ভবিষ্যৎ নয়, গোটা সমাজের জন্য কিছু করার চিন্তাই তাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
আজ নাফিস কুড়িগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে, নিজের স্বপ্নকে বুকে লালন করে এক নতুন দিনের প্রত্যাশায় পথ চলছে যে দিন সে দেশের একজন গর্বিত নাগরিক হয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করবে।
আন্দোলনে অংশগ্রহন
দৃশ্য: ১৮ জুলাই, রংপুর মডেল কলেজের সামনে, দুপুর ১টা
যেদিন রোদের তাপে ক্ষীত হয়ে ছাত্র-জনতার মিছিল বের হয় নেতৃত্বে ছিলেন নাফিস ইকবাল, যিনি আগে থেকেই কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিয়মিত সক্রিয় এক চরম সাহসী মুখ। মিছিলে হাজারো শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল ছাত্রী-ছাত্রী, সহ শিক্ষক-অভিভাবক আরও একসঙ্গে ছিলেন সাধারণ মানুষও। মিছিলটি রংপুর জেলা স্কুল মোড় থেকে শুরু হয়ে মডেল কলেজের সীমানায় পৌঁছায়। এই বিক্ষোভ চলছিল শান্তিপূর্ণভাবে, অন্যদিকে পুলিশ ও ছাত্রলীগের একদল আচমকা উপস্থিত হয় হাতে কিল, ছুরি-লাঠি, তৈরি সংঘর্ষে।
আঘাত: গুলির ধ্বনিতে তোলপাড়
হঠাৎ পুলিশ প্রচলিত পথে ছাড়া হয়নি তারা টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে, তারপর অপ্রত্যাশিতভাবে সরাসরি গুলি চালায়। নারীদের কাঁধে গুলি লাগে; এক মুহূর্তে তার রক্তঝরা ব্যথা মিছিল পঙ্গু হয়ে যায়। কোটা আন্দোলনের অন্যতম অগ্রণী যুবক নাফি ইকবাল সেই মুহূর্তে দৌড়ে এগিয়ে আসেন আহতদের কাছে তার সাহসিকতা ছিল আবু সাঈদের মতোই অপরিসীম। সংবাদ মতে, আবু সাঈদ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের কাছে বুকপেতে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে রাবার বুলেট ও শটগানের গুলিতে প্রাণ হারান; শিক্ষার্থীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালেও নেওয়ায়, সেখানে তিনি মৃত ঘোষিত হন
নাফিস তাঁর আহত বন্ধুর পাশে দাঁড়ান, আহত মেয়েদের দু’পাশে পরতে থাকে। যখন পুলিশের গুলির গর্জনে ছাদ ভেঙে পড়ে, তখন তিনি নিজে গায়ে রক্ত নিলেও শান্ত থাকতে থাকেন—তা যেন এক শপথজ্ঞাপক দৃশ্য: “আমরা দাঁড়াবো, আমরা মিথ্যা ন্যায়ের বার্তা থামাবো না।”
তাঁর বক্তব্য জানমাল ক্ষয় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এরকম দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ছিল সাহিত্য নির্মাণের মতো শক্তিশালী। এরই মধ্যে রংপুরে সিন্ধান্ত হয়—বিজিবি মোতায়েন, তবুও আন্দোলন থামেনি
শেষ দৃশ্য: শহীদ চত্বরে দাঁড়ানো
নাফিস আহত হলেও তাঁর সাহস ও দৃঢ়তা মিছিলকে ধারালো করেছে। সভার শেষে তিনি ঘোষণা করেন: “যতদিন আমাদের ভাইয়ের রক্তের বিচার হচ্ছে না, ততদিন আমরা এই আন্দোলন থেকে সরে যাব না।” সেই স্মৃতিই হয়ে ওঠে আন্দোলনের প্রতীক যেখানে একজন নির্ভীক নেতৃত্বের জন্য প্রচারণার ভূমিকা পাল্টে যায়
চিকিৎসার অবস্থা: চিকিৎসায় তিনি সুস্থ আছেন।
নাম : নাফিস ইকবাল ফারহান
জন্ম তারিখ : ০৭/০২/০৮
পেশা : ছাত্র, সিদ্দিক মেমোরিয়াল, একাদশ শ্রেণি
নিজ জেলা : কুড়িগ্রাম
বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: ফুলকুয়ার, ই্উনিয়ন: পাথরডুবি থানা: ভুরুঙ্গামারি, জেলা: কুড়িগ্রাম
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: ফুলকুয়ার, ই্উনিয়ন: পাথরডুবি থানা: ভুরুঙ্গামারি, জেলা: কুড়িগ্রাম
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : মো: সোলেমান আলী
পিতার পেশা ও বয়স : অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসার, ৪৭
মায়ের নাম : রোজিনা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৩৮
পারিবারিক অবস্থা : মধ্যবিত্ত
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍