হোম / আহতদের তালিকা / মো: রমজান আলী
 মো: রমজান আলী

মো: রমজান আলী

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা: ছাত্র, রংপুর সরকারী কলেজ, বিবিএ শেষ বর্ষ

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

মো: রমজান আলী সাহসী সূর্যসন্তান উত্তরবঙ্গের শান্ত নগরী রংপুরের বুকে এক সকাল উঁকি দিয়েছিল, যার আলো হয়ে উঠেছিল মো: রমজান আলী। পিতা আব্দুল মজিদ আর মাতা রোজিনা বেগম-এর স্নেহের বন্ধনে বেড়ে ওঠা এই তরুণ ছিল একাধারে মেধাবী, সাহসী ও স্বাধীনচেতা।
রমজানের শৈশবের দিনগুলো কেটেছে বাবার আদরে, মায়ের ভালোবাসায়। সে শুধু পরিবারের নয়, ছিল শিক্ষক ও সহপাঠীদের গর্ব।
রংপুর সরকারি কলেজের ছাত্র হিসেবে রমজান সবসময় এগিয়ে থেকেছে পড়াশোনায় শ্রেণিকক্ষে, লাইব্রেরিতে, এমনকি বন্ধুবান্ধবের মধ্যে এক আলাদা ছাপ রেখে যেত সে।
কিন্তু রমজানের স্বপ্ন কেবল নিজের ভবিষ্যৎ গড়া নয় ছিল একটি সুন্দর, ন্যায়ের সমাজ গড়ে তোলার।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব যখন তরুণদের চেতনাকে আলোড়িত করেছিল, রমজান তখন ছিলেন সামনে, সবার আগে।
প্রতিবাদে, মিছিলে, শ্লোগানে তার কণ্ঠ ছিল বজ্রসম। তার চোখে ছিল স্বপ্ন— একটি স্বাধীন, শোষণমুক্ত বাংলাদেশ। তার হৃদয়ে ছিল সাহস— অন্যায়ের মুখোমুখি দাঁড়ানোর। রমজান আলী ছিলেন সেই যুবা, যে নিজের জীবন নয়, বেছে নিয়েছিল দায়িত্ব।
স্মৃতি হয়ে রইল তার সাহস, তার সংগ্রাম, তার নির্ভীকতা।
আন্দোলনে অংশগ্রহন: ১৯ জুলাই ২০২৪, রমজান আলীর জীবনে এক বেদনাদায়ক কিন্তু বীরত্বগাথায় ভরা দিন। সে দিন সকাল থেকেই তিনি রংপুরের সিটি বাজারের সামনে অবস্থান করছিলেন। বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এক প্রতিবাদ মিছিলে তিনি অগ্রভাগে ছিলেন। মিছিলটি ছিল শান্তিপূর্ণ, কিন্তু স্বৈরশাসনের রক্ষাকর্তা হিসেবে পরিচিত আওয়ামী ঘরানার পুলিশ হঠাৎ গুলি চালায় তা ছিল ছররা গুলি, যার সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫০টিরও বেশি।
এই ভয়াবহ আক্রমণে রমজান আলীর ডান হাতের উপরের অংশে গুলি লাগে, আর অসংখ্য গুলি তার শরীর বিদীর্ণ করে দেয়। কিন্তু সাহসিকতার অবিচল নিদর্শন হিসেবে তিনি ভয় পাননি। গুলিবিদ্ধ হয়েও তিনি পড়েননি একদমই; লড়াই করেছেন যতক্ষণ না শরীর আর সায় দেয়। অবশেষে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, এই গুরুতর আঘাত পাওয়ার পরও রমজান আলী আন্দোলন থেকে মনোবল হারাননি। হাসপাতালে থেকেও তিনি আন্দোলনের খোঁজ নিতেন, এবং পরবর্তীতে আবার রাস্তায় ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি ছিলেন সাহসিকতা, আত্মত্যাগ ও দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতীক। তার এই আত্মোৎসর্গ প্রমাণ করে স্বাধীনতার জন্য একজন সত্যিকারের সৈনিক কতদূর যেতে পারেন।
গাজী মোহাম্মদ রমজান আলীর সাহসিকতা ইতিহাসে লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে। তার রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল সিটি বাজারের রাজপথ, এবং সেই রক্ত আজও সাক্ষ্য দেয় কোনো স্বৈরাচার চিরকাল টিকে থাকতে পারে না, যদি রমজান আলীর মতো সাহসী সন্তানরা ভূমিতে থাকে।


গাজী মোহাম্মদ রমজান আলী সেই জাগরণের আগুন হয়ে উঠেছিলেন।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই, রংপুরের সিটি বাজারে শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশগ্রহণকালে গাজী মোহাম্মদ রমজান আলী আওয়ামী ঘরানার পুলিশের ছররা গুলিতে গুরুতর আহত হন। ডান হাতের উপরের দিকে খুব কাছ থেকে ছোড়া ছররা গুলিগুলো তার শরীর ছিন্নভিন্ন করে দেয়। এই আঘাত ছিল এতটাই ভয়াবহ যে তাৎক্ষণিক মৃত্যুও হতে পারত। কিন্তু আল্লাহর কৃপায় এবং রমজানের অসীম প্রাণশক্তির ফলে তিনি মৃত্যুর কবল থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান।
আহত অবস্থায় তাঁকে রংপুরের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করা হয়, প্রথম অপারেশনে ১৭০টির অধিক ছররা গুলি বের হয়। এখনো আরো ১৫০টির বেশি গুলি হাতে রয়েছে। একটি গুলি ডান হাতের হাই রেডিয়াল নার্ভ ও সেন্সর নার্ভ ছিড়ে যায়। রংপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলেও সেখানে তৎকালীন স্বৈরাচার দোসরদের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে থাকে, অবস্থা বেগতিক দেখে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে প্রথম অপারেশন হয়, গুলি বের করে নার্ভ রিপেয়ার করা হয়। এরপর অবস্থার পরিবর্তন না হলে জিপিতে রেফার করে, সেখানে টেন্ডন ট্রান্সফার ও প্যালেট রিপেয়ার করা হয়।
কিন্তু এখানেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় রাষ্ট্রীয় দমননীতি। পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়, ফলে তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে যায়। মামলা এড়াতে এবং চিকিৎসা চালিয়ে যেতে রমজান আলী বাধ্য হন প্রাইভেটভাবে চিকিৎসা নিতে, যা অনেক ব্যয়বহুল ছিল।
তাঁর শরীরের ক্ষত বিশেষ করে ডান হাতের উপরের অংশে এতটাই গভীর ছিল যে চিকিৎসকদের একাধিক অস্ত্রোপচার করতে হয়। অনেক গুলি তার শিরা, মাংসপেশি ও স্নায়ু ভেদ করে দেয়, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা এবং রিহ্যাব প্রয়োজন পড়ে।
এই চিকিৎসার পেছনে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে সাহায্য করা হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করতে হয়েছে তার পরিবারকে, যারা নিজেরাই সীমিত আয়ের মানুষ।
কর্মসংস্থান ও বাজেট প্রস্তাবনা: পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসা রতে চায়। তার জন্য প্রায় ৩০০০০০/- টাকার প্রয়োজন।

নাম : মো: রমজান আলী
জন্ম তারিখ : ০৭/০৬/১৯৯৬
পেশা : ছাত্র, রংপুর সরকারী কলেজ, বিবিএ শেষ বর্ষ
নিজ জেলা : রংপুর
বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: থানা রোড়, রংপুর সদর, রংপুর
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: থানা রোড়, রংপুর সদর, রংপুর

পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : আব্দুল মজিদ
পিতার পেশা ও বয়স : দিনমজুর, ৬৪
মায়ের নাম : রোজিনা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫৫
পারিবারিক অবস্থা : মধ্যবিত্ত
আয়ের উৎস : কায়িক শ্রম
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৭ জন

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍