হোম / আহতদের তালিকা / ইখলাস মিয়া নয়ন
ইখলাস মিয়া নয়ন

ইখলাস মিয়া নয়ন

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

কর্মজীবী, বর্তমানে বেকার

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

মাথায় গুলিবিদ্ধ
গুলি লাগে হাতে-পায়ে

ইখলাস মিয়া নয়ন
পেশা: কর্মজীবী, বর্তমানে বেকার
ক্রমিক: ৪২৬
আইডি: চট্টগ্রাম বিভাগ ১৬

ইখলাস মিয়া নয়ন সেইসব জনতার একজন
ইখলাস মিয়া নয়ন পিতার একমাত্র পুত্র। তার আরেক বোন আছে, তিনি বিবাহিত। পিতা অবসর প্রাপ্ত। পেনশনের স্বল্প টাকায় সংসার চালানো কষ্টকর। ইখলাস মিয়া তাই কাজ করেন। শ্রমজীবী মানুষ। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী এলাকায় তার আবাস। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামে নিউমার্কেট এলাকায় অংশগ্রহণ করেন। ওখানেই ৪ আগস্ট তিনি গুলিবিদ্ধ হন। মাথা, হাত-পায়ে তার গুলি লাগে। বর্তমানে তিনি বেকার।

আন্দোলনের প্রাক-কথন
জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেন ইখলাস মিয়া নয়ন। জুলাইয়ে সমগ্র দেশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়। একভাগে আওয়ামী লীগ অপর ভাগে সমগ্র বাংলাদেশ। এই সমগ্র বাংলাদেশের প্রতিনিধি লক্ষ লক্ষ ইখলাস মিয়ারা। ইখলাস একজন শ্রমজীবী মানুষ। জুলাইয়ে সকল পেশার মানুষেরা দেশ মুক্তির এই সংগ্রামে অংশ নেন। পনেরো বছরে আওয়ামী লীগ তাদের অত্যাচারে, ভোট ডাকাতি করে, ভারতীয় অনুগত হয়ে গণমানুষের শত্রুতে পরিণত হয়েছিল।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে পিলখানায় দেশের বীর সন্তান কৃতি অফিসারদের হত্যা করে ভারতের ইশারায়। সাতান্ন জন মেধাবী অফিসার হত্যা করে নিজের ক্ষমতার রাস্তা পরিষ্কার করে।
দেশের সাহসী সন্তানদের হত্যা করে ভারতের প্রতি অনুগত থাকার পথ প্রশস্ত হয়। আওয়ামীলীগ শাপলা ম্যাসাকার করে।
শাপলা চত্বরে লাখ লাখ আলেম-ওলামা জড়ো হয়েছিলো ঈমানী দাবি-দাওয়া নিয়ে। রাতের আঁধারে এসব নিরীহ, নিরপরাধ মুসল্লি ও তালেবে ইলেমকে বন্দুকের তাজা বুলেট ছুড়ে তাড়িয়ে দেয়। তাড়িয়ে দিতে গিয়েই হত্যা করে নিষ্পাপ নাগরিকদের।
সেদিন ঢাকার রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। শত শত নিরীহ, নির্দোষ মানুষের লাশের উপর দাঁড়িয়ে রইল আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগ তার শাসনকালে জনগণের জবান কেড়ে নিয়েছিল। দমবন্ধ করা পরিবেশ। কেউ কথা বললেই বুলেটের বিনিময়ে তাকে থামিয়ে দেওয়া হতো। মানুষ তাই ফোঁসছিল।
২০১৮ সালে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে ছাত্ররা একবার তুমুলভাবে ফুঁসে উঠেছিল। সারা দেশের স্কুল-কলেজের ছাত্ররা রাস্তায় নেমে এসেছিল। সরকার তাদেরকেও দমন করল কঠোর হস্তে। কত প্রাণ ঝরে গেল আওয়ামী দুঃশাসনে। আওয়ামী লীগের ক্ষমতাকালের ইতিহাসই জনগণের রক্ত ঝরানোর ইতিহাস। শেখ মুজিবের শাসনকালে হাজার হাজার বিরোধী দলীয় নেতা কর্মীদের হত্যা করা হয়েছে।
তখন বিরোধী রাজনীতি ছিল বাম দল। বাম রাজনীতির হাজার হাজার তরুণকে হত্যা করে শেখ মুজিব। শেষ পর্যন্ত সিরাজ সিকদারকে হত্যা করে সদম্ভে সংসদে দাঁড়িয়ে মুজিব বলেছিল, ‘কোথায় আজ সিরাজ সিকদার’। হাসিনাও তার সময়ে বিরোধী দল-মতকে নির্মমভাবে দমন করত। কাউকে মামলায়, কাউকে হত্যা করে। এসব জুলুম, অত্যাচারে জনগণ ক্ষিপ্ত হচ্ছিল। ২০২৪ জুলাইয়ে আগ্নেয়গিরির উদগীরণের মতো জনবিক্ষোভ স্পষ্ট হয়। আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে সর্বস্তরের জনতা।
যেভাবে আন্দোলনে গেলেন
ইখলাস মিয়া নয়ন সেসব জনতার একজন। ইখলাস মিয়া নয়ন একজন শ্রমজীবী মানুষ, কিন্ত সচেতন নাগরিক। জুলাইয়ে ছাত্ররা রাজপথে নামলেন। সরকার তাদের দমন করতে বল প্রয়োগ করল। নিজের দলীয় লাঠিয়ালদের লেলিয়ে দিল নিরস্ত্র, নিরীহ ছাত্রদের দমনে। ঢাকা ভার্সিটি রণক্ষেত্র হলো। ছাত্রীদের কী বীভৎস কায়দায় আঘাত করা হলো! তা মিডিয়ার কল্যাণে জেনে গেল দেশ-বিদেশের জনগণ।
দাবি আদায়ে ছাত্ররা আরও জোরালো হয়ে রাজপথে নামল। আওয়ামী বর্বরতার বিপক্ষে পাবলিক ভার্সিটি, মাদরাসা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হলো। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ল সারাদেশে। ছাত্রদের আন্দোলন ছাত্র জনতার আন্দোলনে রূপ নিল।
জনতার কাতার দীর্ঘ হতে হতে জুলাইও বৃদ্ধি পেল। ৩০ একত্রিশ জুলাই গড়াল ছত্রিশে জুলাইয়ে। দলে দলে জনগণ ফ্যাসিবাদের পতনে সোচ্চার হলেন। ইখলাস মিয়া নয়নও তার অবস্থান থেকে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা জরুরি মনে করলেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে তিনি প্রতিদিনই অংশ নিতেন। ৪ আগস্ট অন্যান্য দিনের মতো তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা মিছিল নিয়ে নিউমার্কেট মোড়ে পৌছেন। এখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। মিছিল নিউমার্কেট মোড়ে পৌছতেই সশস্ত্র হামলা চালায়। সাথে যোগ দেয় পুলিশ। মিছিলে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। জনতা দিগি¦দিক দৌড়তে থাকে। ইখলাস মিয়া নয়ন গুলিবিদ্ধ হয়। তার মাথা, হাতে, পায়ে গুলি লাগে। গুলিতে আহত হয়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। রক্তাক্ত দেহে জমিনে পড়ে থাকেন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান সহযোদ্ধারা।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক তথ্য
আন্দোলনকারীদের আক্রমণ করে ফ্যাসিস্ট সরকার যন্ত্রণাকে তীব্র করার আয়োজন পাকাপোক্ত করতো। হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা নিতে দিত না। আহতকে নিয়ে হাসপাতালে যাত্রাপথে আবার সংঘবদ্ধ আক্রমণ করতো। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হুকুম জারি করে রাখতো চিকিৎসা না করার জন্য। বেসরকারি হাসপাতালেও হুমকি ধমকি জারি ছিল। কাজেই কেউ আহত হলে চিকিৎসা করা ছিল রিস্কি। আবার গ্রেফতার আতঙ্ক তো ছিলই। জ্ঞান হারানো ইখলাসকে তার বন্ধুরা চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা চিকিৎসা দিতে গড়িমসি করে। বহুক্ষণ পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে রিলিজ করে দেয়া হয়। পরে ভর্তি করেন চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালে। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরিক্ষার পর অপারেশন করে গুলি অপসারণ করা হয়। দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি থেকে তিনি সুস্থ হন। তবে গুলির প্রতিক্রিয়ায় শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাব: ধাতব গুলিতে তার শরীরে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন আছে।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাব: বর্তমানে তিনি বেকার। তার কোনো ক্ষুদ্র ব্যবসা বা উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ করে দিলে জীবন সহজ হবে।
প্রস্তাবিত বাজেট: ৪/৫ লাখ টাকা হলে ভালো হবে।

একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : ইখলাস মিয়া নয়ন
জন্ম তারিখ : ১৮-০৪-২০০২
জন্মস্থান : বোয়ালখালী
পেশা/ পদবি : কর্মজীবী, বর্তমানে বেকার
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: সওদাগরপাড়া, ইউনিয়ন: শাকপুর, থানা: বোয়ালখালী, জেলা: চট্টগ্রাম
বর্তমান ঠিকানা : বাসা: কালা মিয়া বাজার, মহল্লা: কালামিয়া বাজার, থানা: বাকলিয়া, জেলা: চট্টগ্রাম
পিতার নাম : রমজান মিয়া
পেশা ও বয়স : অবসর, ৬০
মায়ের নাম : আলমাছ বেগম
পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫৬
পারিবারিক অবস্থা
আয় : ৫,০০০ টাকা
আয়ের উৎস : পেনশন
বাড়ি : মাটির ঘর
সম্পদ : দুই গণ্ডা জমি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
ভাই-বোনের তথ্যাদি
আরজু বেগম, সম্পর্ক: বোন, পেশা: গৃহিণী
আহত হওয়ার স্থান : নিউমার্কেট রিয়াজউদ্দীন বাজার চট্টগ্রাম
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, বেলা ১২.৩০
আক্রমণকারী : আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও পুলিশের সম্মিলিত আক্রমণে গুলিবিদ্ধ হন
গুলি তার হাত, পা ও মাথায় লাগে

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍