মোঃ সাকিবুল ইসলাম
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
কৃষক
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
রক্তে লেখা অধ্যায়
চট্টলার বীর সাকিবুল যে মাটিতে বেড়ে ওঠা
২০০৬ সালের ০১ নভেম্বর, চট্টগ্রামের অন্তর্গত বাঁশখালী উপজেলাধীন চাম্বল ইউনিয়নের পশ্চিম চাম্বল গ্রামের বাসিন্দা। সেখানেই জন্ম নেন এক সাহসী সন্তান মোঃ সাকিবুল ইসলাম। তার পিতা দিল মোহাম্মদ, একজন কৃষক। দিনের পর দিন কৃষিজমিতে নিজের ঘাম ঝরিয়ে, মাটির সাথে মিশে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি পরিবার। মাত্র ২২ হাজার টাকার আয় দিয়েই ছয়জনের পরিবারের দায়িত্ব তিনি কাঁধে তুলে নিয়েছেন।
সাকিবুলের মা, লায়লা বেগম একজন মমতাময়ী গৃহিণী। তার কোমল হাতে সন্তানদের শৈশবের পথ চলা মসৃণ হয়েছিল। বড় বোন পারভিন আক্তার বিবাহিত, বড় ভাই মোজাম্মেল হকসহ পাঁচ সদস্যের এক স্বপ্নে জড়ানো পরিবার। পরিবারটি কৃষির মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য বদলাতে চেয়েছে। আর সেই স্বপ্নে সবচেয়ে বড় আশার নাম ছিল মোঃ সাকিবুল ইসলাম।
জুলাইয়ের আগুন
২০২৪ সালের জুলাই মাস ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক রক্তিম অধ্যায়। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন ক্রমেই রূপ নেয় এক গণবিপ্লবে। স্বাধীনতার স্বপ্ন ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসে।
চট্টগ্রামের বাতাসও আন্দোলনের উত্তাপে ঝলসে উঠেছিল। সেই আগুনে জ্বলন্ত তরুণদের মধ্যে ছিলেন সাকিবুল। এ সময় ছাত্রলীগের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় হামলা চলে আন্দোলনকারীদের ওপর। একদিকে ফ্যাসিবাদী সরকার, অন্যদিকে তাদের লাঠিয়াল বাহিনী ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী ক্যাডাররা অস্ত্র হাতে নামে রাজপথে। রাজপথে তার গর্জন ছিল শ্লোগানে শ্লোগানে। “আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না”, “এক দফা এক দাবি শেখ হাসিনা কবে যাবি?”
পুরো ঘটনার বিবরণ : জুলাই যোদ্ধার জবানিতে শুনুন
আমি মোঃ সাকিবুল ইসলাম। জন্ম এক কৃষক পরিবারে। মাটির গন্ধ, ধানের পাতার ছায়া, আর মা-বাবার হাতের ঘামে আমার শৈশব গড়া। ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা নয়, প্রতিবাদই একমাত্র পথ। হয়তো সে কারণেই জুলাইয়ের আন্দোলনের ঢেউ যখন গায়ে এসে লাগল, আমি চুপ থাকতে পারিনি।
৪ আগস্ট, ২০২৪ বিকেল। চাম্বল রোডের মোড়ে আমরা দাঁড়িয়ে। শ্লোগান চলছে, চোখে আগুন, বুকভরা সাহস। হঠাৎ করেই গর্জে ওঠে গুলি। কিছু বোঝার আগেই একটি গরম কিছু মাথায় এসে বিঁধে গেল। সময় থেমে গেল আমার জন্য। রাস্তায় পড়ে যাই। রক্তে ভিজে যাচ্ছে গাল, জামা, আর মাটি। এক বন্ধু চিৎকার করে বলল, “গুলিটা মাথায় লেগেছে!” চারপাশটা ঝাপসা হয়ে আসে। ব্যথা নয়, তখন অনুভূতিটা ছিল শূন্য। শুধু জানতাম এভাবেই কেউ কেউ ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখে।
আমি বেঁচে আছি এটাই আজ সবচেয়ে বড় কথা। কৃষকের ছেলে হয়ে আমি প্রতিবাদ করেছি, গুলি খেয়েছি, কিন্তু ভয় পাইনি। আমার মাথার এই ব্যথা যেন প্রতিবাদের মূল্য, যে মূল্য আমি নিজ হাতে জমা দিয়েছি। এই ব্যথা আমার অহংকার।
চিকিৎসা সম্পর্কিত বিস্তারিত বিবরণ
আমাকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখান থেকে অবস্থা গুরুতর দেখে রেফার করা হয় বাঁশখালী আধুনিক হাসপাতালে। অস্ত্রোপচার হয়। মাথা থেকে গুলি বের করে আনে ডাক্তাররা। আমি আবার চোখ মেলি। ধীরে ধীরে ফিরে আসি জীবনের কাছে।
কিন্তু এখনও মাথার ভেতরে রয়ে গেছে সেই যন্ত্রণার ছায়া। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়, মাথা ভার হয়ে ওঠে। ডাক্তারের ভাষায়, ‘গুলির দাগ শুকালেও ভেতরের ব্যথা থেকে যাবে অনেক দিন।’
চিকিৎসা সম্পর্কিত প্রস্তাবনা
আলহামদুল্লিলাহ, এখন আমি সুস্থ আছি।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা: ব্যবসা
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মোঃ সাকিবুল ইসলাম
জন্ম তারিখ : ০১-১১-২০০৬
জন্মস্থান : বাঁশখালী, চট্টগ্রাম
পেশা/ পদবি : কৃষক
নিজ জেলা : চট্টগ্রাম
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: পশ্চিম চাম্বল, ইউনিয়ন: চাম্বল, থানা: বাঁশখালী, জেলা: চট্টগ্রাম
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : দিল মোহাম্মদ
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক (৬৮)
মায়ের নাম : শামসুজ্জাহান
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, (৫৫)
পারিবারিক অবস্থা : নিম্ন মধ্যবিত্ত
মাসিক আয় : ২২,০০০/=
আয়ের উৎস : কৃষি
বাড়ি : টিনের ও বাঁশের বেড়ার বাড়ি
সম্পদ : ৪ শতক পরিমাণ জায়গা আছে
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
ভাইয়ের নাম : মোজাম্মেল হক (২৮)
বোনের নাম : পারভিন আক্তর (২৫)
চট্টলার বীর সাকিবুল যে মাটিতে বেড়ে ওঠা
২০০৬ সালের ০১ নভেম্বর, চট্টগ্রামের অন্তর্গত বাঁশখালী উপজেলাধীন চাম্বল ইউনিয়নের পশ্চিম চাম্বল গ্রামের বাসিন্দা। সেখানেই জন্ম নেন এক সাহসী সন্তান মোঃ সাকিবুল ইসলাম। তার পিতা দিল মোহাম্মদ, একজন কৃষক। দিনের পর দিন কৃষিজমিতে নিজের ঘাম ঝরিয়ে, মাটির সাথে মিশে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি পরিবার। মাত্র ২২ হাজার টাকার আয় দিয়েই ছয়জনের পরিবারের দায়িত্ব তিনি কাঁধে তুলে নিয়েছেন।
সাকিবুলের মা, লায়লা বেগম একজন মমতাময়ী গৃহিণী। তার কোমল হাতে সন্তানদের শৈশবের পথ চলা মসৃণ হয়েছিল। বড় বোন পারভিন আক্তার বিবাহিত, বড় ভাই মোজাম্মেল হকসহ পাঁচ সদস্যের এক স্বপ্নে জড়ানো পরিবার। পরিবারটি কৃষির মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য বদলাতে চেয়েছে। আর সেই স্বপ্নে সবচেয়ে বড় আশার নাম ছিল মোঃ সাকিবুল ইসলাম।
জুলাইয়ের আগুন
২০২৪ সালের জুলাই মাস ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক রক্তিম অধ্যায়। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন ক্রমেই রূপ নেয় এক গণবিপ্লবে। স্বাধীনতার স্বপ্ন ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসে।
চট্টগ্রামের বাতাসও আন্দোলনের উত্তাপে ঝলসে উঠেছিল। সেই আগুনে জ্বলন্ত তরুণদের মধ্যে ছিলেন সাকিবুল। এ সময় ছাত্রলীগের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় হামলা চলে আন্দোলনকারীদের ওপর। একদিকে ফ্যাসিবাদী সরকার, অন্যদিকে তাদের লাঠিয়াল বাহিনী ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী ক্যাডাররা অস্ত্র হাতে নামে রাজপথে। রাজপথে তার গর্জন ছিল শ্লোগানে শ্লোগানে। “আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না”, “এক দফা এক দাবি শেখ হাসিনা কবে যাবি?”
পুরো ঘটনার বিবরণ : জুলাই যোদ্ধার জবানিতে শুনুন
আমি মোঃ সাকিবুল ইসলাম। জন্ম এক কৃষক পরিবারে। মাটির গন্ধ, ধানের পাতার ছায়া, আর মা-বাবার হাতের ঘামে আমার শৈশব গড়া। ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা নয়, প্রতিবাদই একমাত্র পথ। হয়তো সে কারণেই জুলাইয়ের আন্দোলনের ঢেউ যখন গায়ে এসে লাগল, আমি চুপ থাকতে পারিনি।
৪ আগস্ট, ২০২৪ বিকেল। চাম্বল রোডের মোড়ে আমরা দাঁড়িয়ে। শ্লোগান চলছে, চোখে আগুন, বুকভরা সাহস। হঠাৎ করেই গর্জে ওঠে গুলি। কিছু বোঝার আগেই একটি গরম কিছু মাথায় এসে বিঁধে গেল। সময় থেমে গেল আমার জন্য। রাস্তায় পড়ে যাই। রক্তে ভিজে যাচ্ছে গাল, জামা, আর মাটি। এক বন্ধু চিৎকার করে বলল, “গুলিটা মাথায় লেগেছে!” চারপাশটা ঝাপসা হয়ে আসে। ব্যথা নয়, তখন অনুভূতিটা ছিল শূন্য। শুধু জানতাম এভাবেই কেউ কেউ ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখে।
আমি বেঁচে আছি এটাই আজ সবচেয়ে বড় কথা। কৃষকের ছেলে হয়ে আমি প্রতিবাদ করেছি, গুলি খেয়েছি, কিন্তু ভয় পাইনি। আমার মাথার এই ব্যথা যেন প্রতিবাদের মূল্য, যে মূল্য আমি নিজ হাতে জমা দিয়েছি। এই ব্যথা আমার অহংকার।
চিকিৎসা সম্পর্কিত বিস্তারিত বিবরণ
আমাকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখান থেকে অবস্থা গুরুতর দেখে রেফার করা হয় বাঁশখালী আধুনিক হাসপাতালে। অস্ত্রোপচার হয়। মাথা থেকে গুলি বের করে আনে ডাক্তাররা। আমি আবার চোখ মেলি। ধীরে ধীরে ফিরে আসি জীবনের কাছে।
কিন্তু এখনও মাথার ভেতরে রয়ে গেছে সেই যন্ত্রণার ছায়া। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়, মাথা ভার হয়ে ওঠে। ডাক্তারের ভাষায়, ‘গুলির দাগ শুকালেও ভেতরের ব্যথা থেকে যাবে অনেক দিন।’
চিকিৎসা সম্পর্কিত প্রস্তাবনা
আলহামদুল্লিলাহ, এখন আমি সুস্থ আছি।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা: ব্যবসা
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মোঃ সাকিবুল ইসলাম
জন্ম তারিখ : ০১-১১-২০০৬
জন্মস্থান : বাঁশখালী, চট্টগ্রাম
পেশা/ পদবি : কৃষক
নিজ জেলা : চট্টগ্রাম
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: পশ্চিম চাম্বল, ইউনিয়ন: চাম্বল, থানা: বাঁশখালী, জেলা: চট্টগ্রাম
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : দিল মোহাম্মদ
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক (৬৮)
মায়ের নাম : শামসুজ্জাহান
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, (৫৫)
পারিবারিক অবস্থা : নিম্ন মধ্যবিত্ত
মাসিক আয় : ২২,০০০/=
আয়ের উৎস : কৃষি
বাড়ি : টিনের ও বাঁশের বেড়ার বাড়ি
সম্পদ : ৪ শতক পরিমাণ জায়গা আছে
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
ভাইয়ের নাম : মোজাম্মেল হক (২৮)
বোনের নাম : পারভিন আক্তর (২৫)
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍