হোম / আহতদের তালিকা / মোঃ জোনাইদ
মোঃ জোনাইদ

মোঃ জোনাইদ

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ছাত্র, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

মো. জোনাইদ
পেশা: ছাত্র, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট
ক্রমিক: ৪৫৪
আইডি: চট্টগ্রাম বিভাগ ৪৪

জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী পাশবিকতা
২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটে যায় এক গুরুত্বপূর্ণ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান, যা ছিল বৈষম্য, নিপীড়ন ও ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা ন্যায্য প্রতিরোধ। কিন্তু এই ন্যায্য আন্দোলন দমন করতে সরকার যেভাবে বর্বর ও পাশবিক শক্তি প্রয়োগ করে, তা ছিল ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়।
আওয়ামী লীগ ও তার ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের সহায়তায় রাস্তায় নামা সাধারণ ছাত্র ও জনতার ওপর শুরু করে হামলা-ইট-পাটকেল, লাঠি, দা, রড, এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। পুলিশ বাহিনীও এ বর্বরতায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হন অসংখ্য তরুণ; কেউ কেউ শহীদ হন, কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েন। আহতদের অনেককে চিকিৎসা নিতে দেয়া হয়নি, ধাওয়া করে গ্রেফতার কিংবা নির্যাতন চালানো হয় হাসপাতাল পর্যন্ত। এই পাশবিক দমন-পীড়ন ছিল একটি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রযন্ত্রের নগ্ন রূপ, যা শুধু আন্দোলন নয়, একটি প্রজন্মের সাহস ও সম্ভাবনাকেও রক্তাক্ত করে দেয়।

মোহাম্মদ জুনাইদের সংগ্রামী ইতিহাস
জন্ম ও শৈশব
মোঃ জোনাইদ একজন সাহসী ও সংগ্রামী তরুণ, যিনি ২০০৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি চরম দারিদ্র্য ও নানা সামাজিক প্রতিকূলতার মধ্যে বেড়ে উঠেন। তার বাবা শামসুল আলম (৫৫) পেশায় একজন কৃষক, যিনি কঠোর পরিশ্রম করে পরিবার চালিয়েছেন এবং সন্তানদের মানুষ করতে নিরলস চেষ্টা করেছেন। তার মা আরেফা বেগম (৪৭) একজন গৃহিণী, যিনি অসীম মমতা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে সন্তানদের যত্ন সহকারে লালন-পালন করেছেন।
পারিবারিক জীবন
জোনাইদ ছয় ভাই-বোনের একটি সংসারে বেড়ে উঠেছেন। তাদের মধ্যে তিনজন ভাই এবং তিনজন বোন। বড় ভাই মোঃ দেলোয়ার (৩৪) একজন প্রবাসী, ছোট ভাই মোহাম্মদ আনোয়ার (২১) এখনো শিক্ষার্থী। তিন বোনই বিবাহিত এবং নিজ নিজ পরিবারে প্রতিষ্ঠিত। তাদের পরিবার ছিল স্বপ্ন, সংগ্রাম আর সহানুভূতির এক বাস্তব উদাহরণ। বর্তমানে জুনাইদ কর্ম ও অধ্যয়নের প্রয়োজনে চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকায় একটি মেসে বসবাস করছেন।
শিক্ষা ও কর্মজীবন
শিক্ষাজীবনে মোঃ জোনাইদ চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা শেষ করেন। ছাত্রজীবনে তিনি শুধু পড়াশোনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং অন্যায় ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে সোচ্চার থেকেছেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তিনি সাহসিকতার সাথে অংশগ্রহণ করেন, যা তাকে একজন নির্ভীক ও দৃঢ়চেতা সৈনিক হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
জুলাই যোদ্ধা মোঃ জোনাইদের জবানীতে: ফ্যাসিস্ট হাসিনার বর্বরতা
আমি মোঃ জোনাইদ। একজন সাধারণ ছাত্র, একজন প্রতিবাদী নাগরিক। কিন্তু ৪ঠা আগস্ট ২০২৪ তারিখে আমি পরিণত হয়েছিলাম ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনের এক জীবন্ত সাক্ষ্যে। সেদিন আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটা মিছিল বের করার সিদ্ধান্ত নেই- দাবি ছিল শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং শহীদ ও আহত ভাই- বোনদের ন্যায্যবিচার। আমি মিছিলের শুরু থেকে ছিলাম- শেখেরখীল রাস্তার মাথা থেকে চাম্বল বাজার পর্যন্ত। মিছিল ছিল শান্তিপূর্ণ, উদ্দীপ্ত স্লেøাগানে মুখরিত। কিন্তু চাম্বল বাজারে পৌঁছাতেই পরিকল্পিতভাবে উৎপেতে থাকা আওয়ামী লীগের উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবের গুন্ডাবাহিনী ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আমাদের উপর হামলা চালায়। শুরু হয় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ বাহিনী তাদের সাথে মিলে দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মিছিলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
হঠাৎ করেই আমার পায়ের রানে ও তালুতে গুলির ব্যথা অনুভব করি। চারদিকে রক্ত আর চিৎকার। তবুও কিছু আমার সহযোদ্ধা ভাইয়েরা আমাকে ধরে দ্রুত মিছিল থেকে বের করে নিয়ে যায়। পরে গ্রামে এক স্থানীয় ডাক্তারের কাছ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেই। আজও আমি সে দিনটার কথা ভুলতে পারি না। কারণ সেদিন আমি দেখেছি, শুধু আওয়াজ তোলার কারণে কীভাবে রাষ্ট্র নিজেই নিজের নাগরিকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তোলে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই রাষ্ট্র পরিণত হয়েছে এক দানবীয় ব্যবস্থায়, যেখানে মানুষ নয়, টিকে আছে ভয়, দমন আর নিপীড়নের সংস্কৃতি।
আমার শরীরে গুলির ক্ষত বহন করছে এই ফ্যাসিস্ট বর্বরতার প্রমাণ। আর আমি, মোঃ জোনাইদ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো প্রতিটি মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে বলতে চাই, আমরা থামবো না। একদিন এই দেশকে ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবোই ইনশাআল্লাহ।
চিকিৎসাসম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
গুলিবিদ্ধ শরীরে জীবনযুদ্ধ-এক জুলাই যোদ্ধার চিকিৎসার করুণ চিত্র। ০৪ আগস্ট ২০২৪, বিকাল ৪টা-চাম্বল বাজারে শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশগ্রহণের সময় গুলিবিদ্ধ হই আমি, মোহাম্মদ জুনাইদ। আন্দোলনের সাহসী ভাইয়েরা আমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে স্থানীয় গ্রাম্য ডাক্তার আশেক আমার গুলিবিদ্ধ স্থানসমূহ পরীক্ষা করেন এবং তৎক্ষণাৎ প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ লিখে দেন। তবে সেদিনের ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে আমাকে বড় কোনো হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে আমাকে বাড়িতেই রিলিজ করে দেয়া হয়। পরবর্তী কয়েকদিন বিশ্রামে থাকার পর, অবস্থার সামান্য উন্নতি হলে এবং ফ্যাসিস্ট দানব রাক্ষসী খুনী হাসিনা পালানোর পরে ৬ আগস্ট আমি চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করি। সেখানে অপারেশনের মাধ্যমে এক পায়ের রানের গুলিটি বের করা হয়। তবে চিকিৎসকরা জানান, পায়ের তালুতে থাকা আরেকটি গুলি এখনও রয়ে গেছে-যা অপসারণের জন্য আরও একটি সার্জারি প্রয়োজন। এই গুলির ক্ষত শুধু আমার শরীরে নয়, রাষ্ট্রীয় বর্বরতার এক স্থায়ী দাগ হয়ে রয়ে গেছে আমার জীবনে। আমি আজও সেই ব্যথা বয়ে চলেছি-যার দায় এক ফ্যাসিস্ট শাসকের।
চিকিৎসারক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
পায়ের তালুতে বুলেট থেকে গেছে বের করার জন্য সার্জারি প্রয়োজন।
পুনর্বাসন সংক্রান্ত তথ্য
পূর্বে কী ধরনের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন
ছাত্র, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
স্থায়ী ও নিরাপদ চাকরির ব্যবস্থা
চাকরির মাধ্যমে চিকিৎসা ও জীবিকা নিশ্চিতকরণ
পারিবারিক দায়িত্ব বিবেচনায় মানবিক সহায়তা।

একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মোঃ জোনাইদ
জন্ম তারিখ : ৩০-১২-২০০৩
জন্মস্থান : বাশখালী, চট্টগ্রাম
পেশা : ছাত্র, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: পশ্চিম বড় ঘোনা, ইউনিয়ন: গণ্ডামার, থানা: বাঁশখালী, জেলা: চট্টগ্রাম
বর্তমান ঠিকানা : চকবাজার, চট্টগ্রাম
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : শামসুল আলম
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষি, ৫৫
মায়ের নাম : আরেফা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৭
পারিবারিক অবস্থা : মধ্যবিত্ত
মাসিক আয় : ১৫,০০০/=
আয়ের উৎস : কৃষি
বাড়ি : পাকা বাড়ি
সম্পদ : ৩ শতক পরিমাণ জায়গা আছে
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৮ জন
আহত হওয়ার স্থান : বাঁশখালীর চাম্বল বাজার এলাকায়
আক্রমণকারী : আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মদদপুষ্ট পুলিশ ও ছাত্রলীগ, যুবলীগের সন্ত্রাসীরা,
বিশেষ করে সিআইপি মুজিবের গুন্ডাবাহিনীর নেতৃত্বে ছিল কাদের পিতা-কালু মিস্ত্রী
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট, ২০২৪, বিকাল ৪টার দিকে

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍