মো মিজানুর রহমান মিলন
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : ড্রাইভার, প্রাইভেট কোম্পানি
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
জন্ম পরিচয়
মো: মিজানুর রহমান মিলন, একজন সাধারণ নাগরিক এবং পেশায় প্রাইভেট কোম্পানির ড্রাইভার, যিনি ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৩ সালে ফেনীর সোনাপুর বাজারে জন্মগ্রহণ করেন। পরিবারে মা-বাবা ও দুই ভাইবোনসহ মোট পাঁচজনের সংসারে তিনিই মূল উপার্জনকারী। তাঁর পিতা এনামুল হক একজন কৃষক এবং মাতা বিবি হাজেরা একজন গৃহিণী। ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম এখনো শিক্ষার্থী এবং বোন তাজলিমা বিবাহিত গৃহিণী। মিলনের আয় সীমিত, মাত্র ১০,০০০ টাকা মাসিক, যা তিনি মুদি দোকান ও চাকরি মিলিয়ে সংগ্রহ করেন। দারিদ্র্য সত্ত্বেও তিনি পরিবারকে সামলে, সমাজ ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে নিজের দায়িত্ববোধ থেকে কখনও পিছপা হননি।
২০২৫ সালের ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার উত্তরায় কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। আওয়ামী লীগ ও পুলিশ বাহিনীর যৌথ হামলার সময় তাঁর গায়ে ও বাম হাতের কব্জিতে গুলি লাগে। একজন হিজড়া সহযোগিতা করে তাঁকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করান, যেখানে তিনি টানা ৩১ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। মিলনের এই ভূমিকা ছিল নিছক কৌতূহল নয়, বরং একজন অধিকার সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি অন্যায় ও দমননীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। একজন দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও সাধারণ ছাত্র-জনতার পাশে দাঁড়িয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে বড় পরিচয় নয়, বড় দরকার একটুকু সাহস ও মনুষ্যত্ব।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও অবদান
মো: মিজানুর রহমান পেশায় একজন ড্রাইভার হলেও দেশের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তিনি সাহসী ভূমিকা পালন করেন। ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় ঢাকার উত্তরায় যখন ছাত্র-জনতা আন্দোলনে নামে, তখন তিনি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনের অংশ হন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের একচ্ছত্র আধিপত্য, সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর দমন-পীড়ন এবং কোটা সংস্কারের প্রতিবাদে যে জনতার ঢেউ সৃষ্টি হয়, তারই অংশ হিসেবে তিনি রাজপথে উপস্থিত ছিলেন। শ্লোগান ছিলো- কোটা না মেধা। জনগণের দাবি ছিল স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার, সমান সুযোগ এবং ন্যায্যতার প্রতিষ্ঠা, আর সেই দাবিকে সামনে রেখেই তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে যোগ দেন।
আন্দোলনের সময় মিজানুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন। তার শরীর ও বাম হাতের কব্জিতে গুলি লাগে। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এক হিজড়া তাকে সাহসিকতার সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে তিনি দীর্ঘ ৩১ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরলেও এখনো তিনি চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্যক্তিগত কষ্ট ও বিপদের মধ্যেও মিজানুর রহমানের এই ত্যাগ সাধারণ মানুষের জন্য এক অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। তিনি প্রমাণ করেছেন, শুধুমাত্র শিক্ষার্থী নয়, সাধারণ শ্রমজীবী মানুষও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে এবং গণআন্দোলনের অংশ হতে পারে।
চিকিৎসা
১৯ জুলাইয়ের সন্ধ্যা, উত্তরা কুয়েত মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় অন্ধকার নামছিল ধীরে ধীরে, আর ঠিক তখনই নেমে আসে এক অশুভ আঁধার। আন্দোলনের উত্তাপে হঠাৎই গর্জে ওঠে অস্ত্রের শব্দ, আর গুলির তপ্ত স্পর্শে লুটিয়ে পড়েন মো: মিজানুর রহমান মিলন। রক্তে ভেসে যাওয়া শরীর নিয়ে তিনি ছুটে যান জীবনের টানে, আর সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেয় এক হিজড়া, যিনি তাঁকে পৌঁছে দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
সেখানে শুরু হয় এক দীর্ঘ লড়াই ৩১ দিন হাসপাতালের বিছানায় কাটে যন্ত্রণায়, ব্যথায় আর অজানা আশঙ্কায়। জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থেকেও হার মানেননি মিলন। হাসপাতাল থেকে ফিরে আসার পরও থামেনি যন্ত্রণা, থামেনি চিকিৎসা। এলাকায় সাওন ফার্মেসিতে চলে তার পরবর্তী চিকিৎসা প্রতিদিন নিয়ম করে ওষুধ, ব্যথা উপশমের চেষ্টা আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে সহবাস। পাঁচ মাস ধরে চলতে থাকা এই চিকিৎসা শুধু এক শরীরের পুনর্গঠনের গল্প নয় এ যেন এক সাহসী হৃদয়ের বেঁচে থাকার অনন্ত প্রতিজ্ঞা।
নাম : মো: মিজানুর রহমান মিলন
জন্মতারিখ : ২৩-০২-১৯৯৩
জন্মস্থান : সোনাপু, ফেনী
পেশা : ড্রাইভার, প্রাইভেট কোম্পানি
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : সোনাপুর বাজার, ৮ নং আমিরাবাদ, সোনাগাজি, ফেনী
পিতার নাম : এনামুল হক
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষি, ৬০
মাতার নাম : বিবি হাজেরা
মাতার পেশা : গৃহিণী
মাসিক আয় : প্রায় ১০,০০০/-
আয়ের উৎস : মুদি দোকান
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫
ভাই-বোনের তথ্যাদি
১. সাইফুল ইসলাম, সম্পর্ক: ভাই, বয়স: ১৬
২. তাজলিমা, সম্পর্ক: বোন, পেশা: গৃহিনী, পেশা: গৃহিণী
আহত হওয়ার স্থান : ঢাকার উত্তরা
আহত হওয়ার সময় : ১৮ জুলাই, সন্ধ্যা ৭ টায়
আক্রমণকারী : আওয়ামীলীগ ও পুলিশ বাহিনী
মো: মিজানুর রহমান মিলন, একজন সাধারণ নাগরিক এবং পেশায় প্রাইভেট কোম্পানির ড্রাইভার, যিনি ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৩ সালে ফেনীর সোনাপুর বাজারে জন্মগ্রহণ করেন। পরিবারে মা-বাবা ও দুই ভাইবোনসহ মোট পাঁচজনের সংসারে তিনিই মূল উপার্জনকারী। তাঁর পিতা এনামুল হক একজন কৃষক এবং মাতা বিবি হাজেরা একজন গৃহিণী। ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম এখনো শিক্ষার্থী এবং বোন তাজলিমা বিবাহিত গৃহিণী। মিলনের আয় সীমিত, মাত্র ১০,০০০ টাকা মাসিক, যা তিনি মুদি দোকান ও চাকরি মিলিয়ে সংগ্রহ করেন। দারিদ্র্য সত্ত্বেও তিনি পরিবারকে সামলে, সমাজ ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে নিজের দায়িত্ববোধ থেকে কখনও পিছপা হননি।
২০২৫ সালের ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার উত্তরায় কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। আওয়ামী লীগ ও পুলিশ বাহিনীর যৌথ হামলার সময় তাঁর গায়ে ও বাম হাতের কব্জিতে গুলি লাগে। একজন হিজড়া সহযোগিতা করে তাঁকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করান, যেখানে তিনি টানা ৩১ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। মিলনের এই ভূমিকা ছিল নিছক কৌতূহল নয়, বরং একজন অধিকার সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি অন্যায় ও দমননীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। একজন দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও সাধারণ ছাত্র-জনতার পাশে দাঁড়িয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে বড় পরিচয় নয়, বড় দরকার একটুকু সাহস ও মনুষ্যত্ব।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও অবদান
মো: মিজানুর রহমান পেশায় একজন ড্রাইভার হলেও দেশের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তিনি সাহসী ভূমিকা পালন করেন। ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় ঢাকার উত্তরায় যখন ছাত্র-জনতা আন্দোলনে নামে, তখন তিনি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনের অংশ হন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের একচ্ছত্র আধিপত্য, সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর দমন-পীড়ন এবং কোটা সংস্কারের প্রতিবাদে যে জনতার ঢেউ সৃষ্টি হয়, তারই অংশ হিসেবে তিনি রাজপথে উপস্থিত ছিলেন। শ্লোগান ছিলো- কোটা না মেধা। জনগণের দাবি ছিল স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার, সমান সুযোগ এবং ন্যায্যতার প্রতিষ্ঠা, আর সেই দাবিকে সামনে রেখেই তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে যোগ দেন।
আন্দোলনের সময় মিজানুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন। তার শরীর ও বাম হাতের কব্জিতে গুলি লাগে। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এক হিজড়া তাকে সাহসিকতার সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে তিনি দীর্ঘ ৩১ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরলেও এখনো তিনি চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্যক্তিগত কষ্ট ও বিপদের মধ্যেও মিজানুর রহমানের এই ত্যাগ সাধারণ মানুষের জন্য এক অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। তিনি প্রমাণ করেছেন, শুধুমাত্র শিক্ষার্থী নয়, সাধারণ শ্রমজীবী মানুষও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে এবং গণআন্দোলনের অংশ হতে পারে।
চিকিৎসা
১৯ জুলাইয়ের সন্ধ্যা, উত্তরা কুয়েত মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় অন্ধকার নামছিল ধীরে ধীরে, আর ঠিক তখনই নেমে আসে এক অশুভ আঁধার। আন্দোলনের উত্তাপে হঠাৎই গর্জে ওঠে অস্ত্রের শব্দ, আর গুলির তপ্ত স্পর্শে লুটিয়ে পড়েন মো: মিজানুর রহমান মিলন। রক্তে ভেসে যাওয়া শরীর নিয়ে তিনি ছুটে যান জীবনের টানে, আর সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেয় এক হিজড়া, যিনি তাঁকে পৌঁছে দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
সেখানে শুরু হয় এক দীর্ঘ লড়াই ৩১ দিন হাসপাতালের বিছানায় কাটে যন্ত্রণায়, ব্যথায় আর অজানা আশঙ্কায়। জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থেকেও হার মানেননি মিলন। হাসপাতাল থেকে ফিরে আসার পরও থামেনি যন্ত্রণা, থামেনি চিকিৎসা। এলাকায় সাওন ফার্মেসিতে চলে তার পরবর্তী চিকিৎসা প্রতিদিন নিয়ম করে ওষুধ, ব্যথা উপশমের চেষ্টা আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে সহবাস। পাঁচ মাস ধরে চলতে থাকা এই চিকিৎসা শুধু এক শরীরের পুনর্গঠনের গল্প নয় এ যেন এক সাহসী হৃদয়ের বেঁচে থাকার অনন্ত প্রতিজ্ঞা।
নাম : মো: মিজানুর রহমান মিলন
জন্মতারিখ : ২৩-০২-১৯৯৩
জন্মস্থান : সোনাপু, ফেনী
পেশা : ড্রাইভার, প্রাইভেট কোম্পানি
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : সোনাপুর বাজার, ৮ নং আমিরাবাদ, সোনাগাজি, ফেনী
পিতার নাম : এনামুল হক
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষি, ৬০
মাতার নাম : বিবি হাজেরা
মাতার পেশা : গৃহিণী
মাসিক আয় : প্রায় ১০,০০০/-
আয়ের উৎস : মুদি দোকান
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫
ভাই-বোনের তথ্যাদি
১. সাইফুল ইসলাম, সম্পর্ক: ভাই, বয়স: ১৬
২. তাজলিমা, সম্পর্ক: বোন, পেশা: গৃহিনী, পেশা: গৃহিণী
আহত হওয়ার স্থান : ঢাকার উত্তরা
আহত হওয়ার সময় : ১৮ জুলাই, সন্ধ্যা ৭ টায়
আক্রমণকারী : আওয়ামীলীগ ও পুলিশ বাহিনী
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍