মো: শান্ত
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা/ পদবী : গার্মেন্টস শ্রমিক
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
মুক্তির লড়াই
বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই ছিল প্রতিরোধের এক বিস্ফোরণ। বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা দমন-পীড়ন, রাজনৈতিক স্বেচ্ছাচারিতা, এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নিষ্ঠুর আঘাত মানুষকে নিঃশ্বাস নিতে দেয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনকালজুড়ে গুম, খুন, বিচারহীনতা ও দলীয় সন্ত্রাস একটি ভয়াবহ রূপ নেয়। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হাত ধরে ক্যাম্পাস থেকে রাজপথ - সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে ভয় আর অনিশ্চয়তা। এরই সাথে একের পর এক ভোটার বিহীন নির্বাচন নামক প্রহসনের আয়োজন হতে থাকে। এই দীর্ঘ নিরবতার দেয়াল ভেঙে দেয় দেশের ছাত্র ও তরুণরা। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তারা রাস্তায় নামে অন্যায়ের প্রতিবাদে। তাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় একটি স্পষ্ট আহ্বান: “বৈমম্য মানি না, মানবো না”। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি শহর ও গ্রামে গড়ে ওঠে প্রতিরোধের জোয়ার। শিক্ষার বৈষম্য, চাকরির সংকট, এবং ক্ষমতাসীনদের উদাসীনতায় তারা আর চুপ থাকেনি।
তারা এসেছিল হাতে কোনো অস্ত্র নয়, বরং সত্যের শক্তি নিয়ে। কিন্তু খুনী হাসিনা সরকারের জবাব ছিল ভয়াবহ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে সরকার ছাত্রদের বিরুদ্ধে নামিয়ে দেয় সহিংসতার পুরো রূপ। চালানো হয় গুলি, লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস। রাজপথ রঞ্জিত হয় তরুণদের তাজা রক্তে। কেউ হারায় চোখ, কেউ শরীরের অঙ্গ, কেউ আর কোনোদিন হাঁটতে পারবে না। এই বর্বরতা দিয়েও থামানো যায়নি ছাত্র-জনতার দাবি। জুলাইয়ের শেষে আন্দোলন কিছুটা স্থিমিত হলেও, আগস্টের শুরুতে দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে নতুন উদ্দীপনায় রাজপথ দখলে নেয় জনগণ। প্রতিটি প্ল্যাকার্ড, প্রতিটি কণ্ঠ বলে ওঠে - এটা শুধু কোটা সংস্কারের আন্দোলন নয়, এটা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণের রুখে দাঁড়ানো।
জুলাই ২০২৪-এর এই আন্দোলন আমাদের মনে করিয়ে দেয় ইতিহাসে কখনো কখনো একটি প্রজন্ম জেগে ওঠে, যারা ভয় না পেয়ে প্রশ্ন করে, প্রতিবাদ করে, এবং প্রয়োজন হলে রক্তও দেয়। তারা ফিরে যায় না, যতক্ষণ না অন্যায়ের মুকুট ভেঙে চূর্ণ হয়।
পরিচিতি
মো: শান্ত; নোয়াখালীর এক সাধারণ পরিবারের সংগ্রামী তরুণ। ছোট্ট গ্রাম আমিরাবাদ থেকে জীবিকার তাগিদে এসে ঠাঁই হয়েছে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং এলাকায়। সংসারের হাল ধরেছেন পিতার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। পিতার রিকশা চালানো ও নিজের গার্মেন্টসে কাজের উপার্জনেই চলে পুরো পরিবার। মাসিক আয় স্বল্প, যা দিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চালানোই বড় চ্যালেঞ্জ।
শান্তের শৈশব কেটেছে অর্থকষ্টের মাঝেই, কিন্তু তিনি স্বপ্ন দেখতেন নিজের পরিশ্রম দিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর। ছোট ভাই রিদয় ও বোন সুমাইয়ার পড়াশোনা যাতে না থামে, সেই চিন্তায় তিনি প্রতিদিন সকালে কর্মস্থলে ছুটে যেতেন। পরিবারের স্বপ্নগুলো যেন তার চোখের ভেতরেই বাস করত।
এই শ্রমজীবী তরুণ শুধু নিজের জন্য নয়, সবার জন্য ন্যায়বিচারের স্বপ্ন দেখতেন। জুলাই বিপ্লব যখন রাস্তায় রাস্তায় ধ্বনিত হচ্ছিল, তখন গুলিবিদ্ধ হন এই তরুন। তার জীবনের গল্প তাই কেবল একটি শ্রমিকের গল্প নয়, এটি এক যোদ্ধার গল্প, যিনি দুঃখ-দুর্দশার ভেতর থেকেও মুক্তির স্বপ্ন দেখেছেন।
আনন্দের মাঝে রক্তমাখা বিকেল
২৪ এর কোটা বিরোধী আন্দোলন মূলত জুলাই এর মাঝপথে এসে চরম রুপ ধারন করে। জুলাই শেষে আগস্ট আসে। তবুও আন্দোলনের গতি বেড়েই চলে। অবশেষে ৫ আগস্ট খুনী-স্বৈরাচার শেখ হাসিনা প্রাণভয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। সারা দেশ যখন ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আনন্দে উত্তাল, তখন মো: শান্ত-ও যোগ দিয়েছিলেন সেই আনন্দমিছিলে। চট্টগ্রামের মনসুরাবাদ, কর্ণফুলি ক্লাবের সামনে জনতার ঢল নেমেছিল। কিন্তু হাসিনা পালালেও তখনও মাঠে ছিল তার দলীয় সন্ত্রাসী এবং পোষা পুলিশ বাহিনী। হঠাৎ করেই মিছিলের অপর প্রান্ত থেকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা শুরু করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ। সেই আনন্দ মুহূর্তেই রক্তে ভিজে যায় রাস্তাঘাট। মুহূর্তেই সৃষ্টি হয় ত্রাসের পরিবেশ, চারদিকে শুধু চিৎকার আর মানুষের দৌড়াদৌড়ি।
গুলিবিদ্ধ শান্ত
সেই নরক ঘটনায় অনেকেই গুলিবিদ্ধ হন। শান্তও রক্ষা পাননি সেই নির্মমতা থেকে। তার হাতে, পায়ে এবং পিঠে একাধিক গুলি লাগে। গুলির আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মুহূর্তেই অজ্ঞান হয়ে যান তিনি।
হাসপাতালের বেডে
সহযোদ্ধারা তাকে রাস্তায় ফেলে না রেখে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয় এবং কিছু গুলি বের করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ঔষধ সেবন করতে হয় তাকে। কিন্তু এখনও তার শরীরে বেশ কিছু গুলি রয়ে গেছে।
দীর্ঘ চিকিৎসার লড়াই
আজও শান্ত পুরোপুরি সুস্থ নন। তিনি নিয়মিত থেরাপি নিচ্ছেন। পা ও পিঠের ভেতরে যে গুলিগুলো রয়ে গেছে, সেগুলো বের করা দেশে সম্ভব নয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এছাড়াও তার হাতের রগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে যেতে হবে, কিন্তু দরিদ্র শ্রমজীবী পরিবারের পক্ষে তা বহন করা অসম্ভব।
শান্ত এখনো স্বপ্ন দেখেন আবার আগের মতো দাঁড়িয়ে নিজের পায়ে হাঁটবেন, কাজ করবেন, পরিবারের দায়িত্ব নেবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথে আছে লম্বা চিকিৎসা-সংগ্রাম। তার গল্প তাই কেবল একটি গুলিবিদ্ধ হওয়ার গল্প নয়, এটি একটি অবিচল লড়াইয়ের গল্প, যেখানে এক তরুণ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে এখনো জীবনের জন্য লড়ছে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
বর্তমানে তার শরীরের পা ও পিঠে গুলি রয়ে গিয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার জন্য বিদেশে নিয়ে গিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
তিনি একজন আহত গার্মেন্টস শ্রমিক। তার পারিবারিক খরচ চালানের জন্য নিয়মিত অনুদান দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়াও তিনি সহজে করতে পারেন এমন কোনো পেশায় তাকে প্রতিষ্ঠিত করার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
নাম : মো: শান্ত
জন্ম তারিখ : ০১-০৪-২০০১
পেশা/ পদবী : গার্মেন্টস শ্রমিক
নিজ জেলা : নোয়াখালী
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: আমিরাবাদ, ইউনিয়ন: ১০ নং অশ্বদিয়া, পোস্ট: দিনমনিরহাট থানা: সদর, জেলা: নোয়াখালী
বর্তমান ঠিকানা : মহল্লা: মনসুরাবাদন, এলাকা: মনসুরাবাদ, থানা: ডবলমুরিং, জেলা: চট্টগ্রাম
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : মো: আকরাম
পিতার পেশা ও বয়স : রিক্সাচালক, ৪৫
মায়ের নাম : রৌশন বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী,
পারিবারিক অবস্থা : মাসিক আয় ১৫০০০
আয়ের উৎস : পিতার রিক্সাচালনা ও তার গার্মেন্টেসে কাজ
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
ভাই/বোনদের বিবরণ:
১. রিদয়, বয়স- ১০, পেশা- শিক্ষার্থী, শ্রেণি-৪র্থ, সম্পর্ক- ভাই
২. সুমাইয়া আক্তার, বয়স- ০৮, পেশা- শিক্ষার্থী, শ্রেণি-১ম, সম্পর্ক- বোন
আহতের চিত্র
ঘটনার স্থান: মনসুরাবাদ কর্ণফুলি ক্লাবের সামনে
আক্রমণকারী: আওয়ামী লীগ
আহত হওয়ার সময়কাল: ০৫ আগস্ট ২০২৪, বিকেল ৪.৩০ টা
আঘাতের ধরণ: হাতে, পায়ে ও পিঠে গুলিবিদ্ধ
চিকিৎসা: বুলেট বের করা হয়
বর্তমান অবস্থা: বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন
বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই ছিল প্রতিরোধের এক বিস্ফোরণ। বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা দমন-পীড়ন, রাজনৈতিক স্বেচ্ছাচারিতা, এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নিষ্ঠুর আঘাত মানুষকে নিঃশ্বাস নিতে দেয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনকালজুড়ে গুম, খুন, বিচারহীনতা ও দলীয় সন্ত্রাস একটি ভয়াবহ রূপ নেয়। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হাত ধরে ক্যাম্পাস থেকে রাজপথ - সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে ভয় আর অনিশ্চয়তা। এরই সাথে একের পর এক ভোটার বিহীন নির্বাচন নামক প্রহসনের আয়োজন হতে থাকে। এই দীর্ঘ নিরবতার দেয়াল ভেঙে দেয় দেশের ছাত্র ও তরুণরা। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তারা রাস্তায় নামে অন্যায়ের প্রতিবাদে। তাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় একটি স্পষ্ট আহ্বান: “বৈমম্য মানি না, মানবো না”। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি শহর ও গ্রামে গড়ে ওঠে প্রতিরোধের জোয়ার। শিক্ষার বৈষম্য, চাকরির সংকট, এবং ক্ষমতাসীনদের উদাসীনতায় তারা আর চুপ থাকেনি।
তারা এসেছিল হাতে কোনো অস্ত্র নয়, বরং সত্যের শক্তি নিয়ে। কিন্তু খুনী হাসিনা সরকারের জবাব ছিল ভয়াবহ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে সরকার ছাত্রদের বিরুদ্ধে নামিয়ে দেয় সহিংসতার পুরো রূপ। চালানো হয় গুলি, লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস। রাজপথ রঞ্জিত হয় তরুণদের তাজা রক্তে। কেউ হারায় চোখ, কেউ শরীরের অঙ্গ, কেউ আর কোনোদিন হাঁটতে পারবে না। এই বর্বরতা দিয়েও থামানো যায়নি ছাত্র-জনতার দাবি। জুলাইয়ের শেষে আন্দোলন কিছুটা স্থিমিত হলেও, আগস্টের শুরুতে দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে নতুন উদ্দীপনায় রাজপথ দখলে নেয় জনগণ। প্রতিটি প্ল্যাকার্ড, প্রতিটি কণ্ঠ বলে ওঠে - এটা শুধু কোটা সংস্কারের আন্দোলন নয়, এটা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণের রুখে দাঁড়ানো।
জুলাই ২০২৪-এর এই আন্দোলন আমাদের মনে করিয়ে দেয় ইতিহাসে কখনো কখনো একটি প্রজন্ম জেগে ওঠে, যারা ভয় না পেয়ে প্রশ্ন করে, প্রতিবাদ করে, এবং প্রয়োজন হলে রক্তও দেয়। তারা ফিরে যায় না, যতক্ষণ না অন্যায়ের মুকুট ভেঙে চূর্ণ হয়।
পরিচিতি
মো: শান্ত; নোয়াখালীর এক সাধারণ পরিবারের সংগ্রামী তরুণ। ছোট্ট গ্রাম আমিরাবাদ থেকে জীবিকার তাগিদে এসে ঠাঁই হয়েছে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং এলাকায়। সংসারের হাল ধরেছেন পিতার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। পিতার রিকশা চালানো ও নিজের গার্মেন্টসে কাজের উপার্জনেই চলে পুরো পরিবার। মাসিক আয় স্বল্প, যা দিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চালানোই বড় চ্যালেঞ্জ।
শান্তের শৈশব কেটেছে অর্থকষ্টের মাঝেই, কিন্তু তিনি স্বপ্ন দেখতেন নিজের পরিশ্রম দিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর। ছোট ভাই রিদয় ও বোন সুমাইয়ার পড়াশোনা যাতে না থামে, সেই চিন্তায় তিনি প্রতিদিন সকালে কর্মস্থলে ছুটে যেতেন। পরিবারের স্বপ্নগুলো যেন তার চোখের ভেতরেই বাস করত।
এই শ্রমজীবী তরুণ শুধু নিজের জন্য নয়, সবার জন্য ন্যায়বিচারের স্বপ্ন দেখতেন। জুলাই বিপ্লব যখন রাস্তায় রাস্তায় ধ্বনিত হচ্ছিল, তখন গুলিবিদ্ধ হন এই তরুন। তার জীবনের গল্প তাই কেবল একটি শ্রমিকের গল্প নয়, এটি এক যোদ্ধার গল্প, যিনি দুঃখ-দুর্দশার ভেতর থেকেও মুক্তির স্বপ্ন দেখেছেন।
আনন্দের মাঝে রক্তমাখা বিকেল
২৪ এর কোটা বিরোধী আন্দোলন মূলত জুলাই এর মাঝপথে এসে চরম রুপ ধারন করে। জুলাই শেষে আগস্ট আসে। তবুও আন্দোলনের গতি বেড়েই চলে। অবশেষে ৫ আগস্ট খুনী-স্বৈরাচার শেখ হাসিনা প্রাণভয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। সারা দেশ যখন ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আনন্দে উত্তাল, তখন মো: শান্ত-ও যোগ দিয়েছিলেন সেই আনন্দমিছিলে। চট্টগ্রামের মনসুরাবাদ, কর্ণফুলি ক্লাবের সামনে জনতার ঢল নেমেছিল। কিন্তু হাসিনা পালালেও তখনও মাঠে ছিল তার দলীয় সন্ত্রাসী এবং পোষা পুলিশ বাহিনী। হঠাৎ করেই মিছিলের অপর প্রান্ত থেকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা শুরু করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ। সেই আনন্দ মুহূর্তেই রক্তে ভিজে যায় রাস্তাঘাট। মুহূর্তেই সৃষ্টি হয় ত্রাসের পরিবেশ, চারদিকে শুধু চিৎকার আর মানুষের দৌড়াদৌড়ি।
গুলিবিদ্ধ শান্ত
সেই নরক ঘটনায় অনেকেই গুলিবিদ্ধ হন। শান্তও রক্ষা পাননি সেই নির্মমতা থেকে। তার হাতে, পায়ে এবং পিঠে একাধিক গুলি লাগে। গুলির আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মুহূর্তেই অজ্ঞান হয়ে যান তিনি।
হাসপাতালের বেডে
সহযোদ্ধারা তাকে রাস্তায় ফেলে না রেখে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয় এবং কিছু গুলি বের করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ঔষধ সেবন করতে হয় তাকে। কিন্তু এখনও তার শরীরে বেশ কিছু গুলি রয়ে গেছে।
দীর্ঘ চিকিৎসার লড়াই
আজও শান্ত পুরোপুরি সুস্থ নন। তিনি নিয়মিত থেরাপি নিচ্ছেন। পা ও পিঠের ভেতরে যে গুলিগুলো রয়ে গেছে, সেগুলো বের করা দেশে সম্ভব নয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এছাড়াও তার হাতের রগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে যেতে হবে, কিন্তু দরিদ্র শ্রমজীবী পরিবারের পক্ষে তা বহন করা অসম্ভব।
শান্ত এখনো স্বপ্ন দেখেন আবার আগের মতো দাঁড়িয়ে নিজের পায়ে হাঁটবেন, কাজ করবেন, পরিবারের দায়িত্ব নেবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথে আছে লম্বা চিকিৎসা-সংগ্রাম। তার গল্প তাই কেবল একটি গুলিবিদ্ধ হওয়ার গল্প নয়, এটি একটি অবিচল লড়াইয়ের গল্প, যেখানে এক তরুণ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে এখনো জীবনের জন্য লড়ছে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
বর্তমানে তার শরীরের পা ও পিঠে গুলি রয়ে গিয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার জন্য বিদেশে নিয়ে গিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
তিনি একজন আহত গার্মেন্টস শ্রমিক। তার পারিবারিক খরচ চালানের জন্য নিয়মিত অনুদান দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়াও তিনি সহজে করতে পারেন এমন কোনো পেশায় তাকে প্রতিষ্ঠিত করার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
নাম : মো: শান্ত
জন্ম তারিখ : ০১-০৪-২০০১
পেশা/ পদবী : গার্মেন্টস শ্রমিক
নিজ জেলা : নোয়াখালী
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: আমিরাবাদ, ইউনিয়ন: ১০ নং অশ্বদিয়া, পোস্ট: দিনমনিরহাট থানা: সদর, জেলা: নোয়াখালী
বর্তমান ঠিকানা : মহল্লা: মনসুরাবাদন, এলাকা: মনসুরাবাদ, থানা: ডবলমুরিং, জেলা: চট্টগ্রাম
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : মো: আকরাম
পিতার পেশা ও বয়স : রিক্সাচালক, ৪৫
মায়ের নাম : রৌশন বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী,
পারিবারিক অবস্থা : মাসিক আয় ১৫০০০
আয়ের উৎস : পিতার রিক্সাচালনা ও তার গার্মেন্টেসে কাজ
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
ভাই/বোনদের বিবরণ:
১. রিদয়, বয়স- ১০, পেশা- শিক্ষার্থী, শ্রেণি-৪র্থ, সম্পর্ক- ভাই
২. সুমাইয়া আক্তার, বয়স- ০৮, পেশা- শিক্ষার্থী, শ্রেণি-১ম, সম্পর্ক- বোন
আহতের চিত্র
ঘটনার স্থান: মনসুরাবাদ কর্ণফুলি ক্লাবের সামনে
আক্রমণকারী: আওয়ামী লীগ
আহত হওয়ার সময়কাল: ০৫ আগস্ট ২০২৪, বিকেল ৪.৩০ টা
আঘাতের ধরণ: হাতে, পায়ে ও পিঠে গুলিবিদ্ধ
চিকিৎসা: বুলেট বের করা হয়
বর্তমান অবস্থা: বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍