হোম / আহতদের তালিকা / আরমান হোসেন
আরমান হোসেন

আরমান হোসেন

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা: শ্রমিক, সাইমুন ফেব্রিক্স, কক্সবাজার

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

স্বৈরাচারের পনেরোটি বছর মেনে নেয়া যায়নি বলে…..

আওয়ামীলীগ ২০০৯-এ ক্ষমতায় এসে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার ঘৃণ্য পায়তারা করতে থাকে,তারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে। দেশকে একটি নতজানু করদরাজ্যে পরিণত করার সকল আয়োজন করতে থাকে।দেশকে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তিতে পরিণত করেছিল নানা কায়দায়। ২০২৪ জুলাই মাসে ভার্সিটির সচেতন ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কোটার বিরুদ্ধে। তারা চাকরিতে কোটার বদলে মেধা ভিত্তিক নিয়োগের দাবীতে আন্দোলন শুরু করে। ক্রমশঃ আন্দোলন চাঙ্গা হতে থাকে। বরাবরের মতো হাসিনা আন্দোলন দমন করতে রাজাকার কার্ড খেলে। ছাত্র-ছাত্রীদের রাজাকার বলে ট্যাগ করে। মূহুর্তে আন্দোলন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ১৪, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। সারাদেশে ইতোমধ্যে অনেক ছাত্র পুলিশ ও আওয়ামীলীগের গুলিতে শহীদ হয়। মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ছেপে থাকা ক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে সরকারী বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। আর স্বৈরাচারের পনেরোটি বছর মেনে নেয়া যায়নি বলে ছাত্র-জনতার বাঁধ ভাঙ্গা আন্দোলন আজ সফল।

প্রেরণায় আবু সাঈদ
১৬ জুলাই২৪ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। সারাদেশে ইতোমধ্যে অনেক ছাত্র পুলিশ ও আওয়ামীলীগের গুলিতে আহত।কিন্তু এর চেয়েও মর্মাহত ঘটনা ঘটে রংপুরে,সেখানে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন জুলাই বীর আবু সাঈদ।মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে,চেপে থাকা ক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।এইদিন চট্রগ্রাম বিভাগও আন্দোলনের দ্রোহে কেঁপে ওঠে।আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর মোবাইলে তা দেখে স্থির থাকতে পারিনি আমি।

পুরো ঘটনার বিবরণ (জবানিতে শুনুন)
১৬ জুলাই, মোবাইলের মাধ্যমে দেখি বাংলার এক সাহসী সন্তান আবু সাঈদ রংপুরে শহীদের মর্যাদা নিয়ে আমাদের মাঝে বিদায় নেন। খবরটা শুনে বুকটা হাহাকার করে উঠেছিল। যেন আমার নিজের ভাই হারিয়ে গেছে। এমন সময় কেউ কি আর ঘরে বসে থাকতে পারে? আমিও পারিনি।

১৮ জুলাই, সেই শোক আর ক্ষোভ নিয়ে আমি নেমে পড়ি রাজপথে। অসংখ্য মানুষ, চোখে আগুন, বুক ভরা মনোবল সকলেই এক কণ্ঠে স্বাধীনতার দাবিতে গর্জে উঠছিল। আমি মিছিলের একদম মাঝখানে। চিৎকার করছি, “বৈষ্যমের নিরসন চাই,শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না”
আমরা যখন মিছিল নিয়ে পেট্রোল পাম্পের সামনে পৌঁছালাম, হঠাৎ করেই চারদিক থমকে গেল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ গুলির শব্দ একটার পর একটা। মুহূর্তেই চিৎকার আর আতঙ্কে আকাশ ভেঙে পড়ল। তারপর... আমি শুধু টের পেলাম, আমার শরীরটা ভেঙে পড়ছে। চারপাশ অন্ধকার,জ্ঞান ফিরল হাসপাতালে,আমাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ধীরে ধীরে চোখ খুলে দেখি, আমার পা থেকে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ছে সারা শরীরে। পাশে কেউ একজন ফিসফিস করে বলল,ভাই, তুমি গুলিবিদ্ধ হয়েছিলে। মুখে হাত দিয়ে দেখি—তিনটি দাঁত পড়ে গেছে।

চিকিৎসা সর্ম্পকিত সামগ্রিক বর্ণনা
আমি গুরুতর আহত হলে আমার সহযোদ্ধারা আমাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।আমার পায়ে ৩টা সেলাই করা হয়,চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনেক গোপনীয়তা রক্ষা করতে হয়।একজন দোকান কর্মচারী হওয়া সত্বেও পর্যাপ্ত চিকিৎসার সুযোগ পেলেও তা নিতে পারিনি।এরপর বাড়িতে এসে চিকিৎসা নিচ্ছি এবং আমার দাঁতের কোনো চিকিৎসা করতে পারিনি।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা:
ক্ষতস্থান শুকিয়ে গেলেও এখনো মাঝে মাঝে ব্যথা অনুভব করি,এখন বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছি কিন্তু আমার দাঁতের কোনো চিকিৎসা করতে পারিনি। আমার দাঁতের চিকিৎসা করা প্রয়োজন।

একনজর বিবরণী
ব্যক্তিগত বিবরণ-
নাম : আরমান হোসেন
জন্ম তারিখ : ১২-০২-২০০৩
জন্মস্থান : বড়হাতিয়া,লোহাগাড়া,চট্টগ্রাম
পেশা : শ্রমিক
নিজ জেলা : চট্টগ্রাম
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: চাককিরানী, ইউনিয়ন: বড়হাতিয়া, থানা: লোহাগাড়া, জেলা: চট্টগ্রাম
বর্তমান ঠিকানা : দেওয়ান পাড়া, এলাকা: হাটখোলামুড়া, থানা: লোহাগাড়া, জেলা: চট্টগ্রাম
পরিবারের তথ্য:
পিতার নাম : হুমায়ুন কবির
পিতার পেশা ও বয়স : দিনমজুর, ৫৫ বছর
মায়ের নাম : রোকেয়া বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী
পারিবারিক অবস্থা : নিম্ন মধ্যবিত্ত
আয়ের উৎস : দিনমজুরী
বাড়ী : টিনের বাড়ি
সম্পদ : ২ গন্ডা পরিমাণ জায়গা আছে
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫জন
ভাই নাম : আক্তার হোসেন(২৫), অনার্স ৪র্থ বর্ষ-র ছাত্র (গাছবাড়িয়া কলেজ)
বোন নাম : নাহিদা আক্তার(১৭), দশম শ্রেণির ছাত্রী(রশিদের ঘোনা উচ্চ বিদ্যালয়)
ঘটনার স্থান : পেট্রোল পাম্প রোড,কক্সবাজার সদর
আক্রমণকারী: স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মী ও পুলিশ বাহিনী
আহত হওয়ার সময়কাল: বিকাল ৩টা, ১৮/০৭/২৪

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍