হোম / আহতদের তালিকা / জহিরুল ইসলাম
জহিরুল ইসলাম

জহিরুল ইসলাম

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

• পেশা: ছাত্র, ফেনী সরকারি কলেজ

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জহিরুল ইসলাম ২০০২ সালের জুন মাসে ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থানার ৬ নম্বর পশ্চিম পাঠানগড় গ্রামের এক সাদামাটা কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি হলেন সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত একজন নিবেদিতপ্রাণ ছাত্র।
তাঁর পিতা ফখরুল ইসলাম একজন কৃষক, যিনি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিবারের জীবনধারণ নিশ্চিত করে চলেছেন। তাঁর মাতা রহিমা বেগম একজন গৃহিণী, যিনি সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করে আসছেন।
পরিবারটি মূলত কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল, আর মাসিক আয় প্রায় বিশ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। পাঁচ সদস্যের এই পরিবারে রয়েছে তাঁর বড় ভাই মোহাম্মদ ফারুক (বয়স ৩০)। কঠিন বাস্তবতার মাঝেও পরিবারটি সৎ ও পরিশ্রমী জীবনের উদাহরণ। অল্প আয়ের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, জহিরুল ইসলাম স্বপ্ন দেখে উচ্চশিক্ষা ও সমাজে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার। সেই স্বপ্ন ও সাধনার পথেই তিনি এগিয়ে চলেছেন প্রতিদিন।
আন্দোলনে অংশগ্রহণঃ
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ছাত্র ও সাধারণ মানুষের ন্যায়সংগত আন্দোলনের অংশ হিসেবে ফেনী জেলার মহিপাল জিরো পয়েন্টে অনুষ্ঠিত এক শান্তিপূর্ণ গণসমাবেশে অংশ নেন জহিরুল ইসলাম। সেই দিনটি ছিল অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক; কিন্তু দেশের তরুণদের মনে ছিল অন্যরকম এক প্রত্যয়—অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার। দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে জহিরুলসহ অন্যান্য ছাত্র ও স্থানীয় জনতা হাতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান করছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল শিক্ষা, ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ। শান্তিপূর্ণভাবে স্লোগান তুলে তাঁরা নিজেদের মত প্রকাশ করছিলেন।
কিন্তু অতি অল্প সময়ের মধ্যেই দৃশ্যপট পাল্টে যায়। হঠাৎ করেই আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী, যারা আগ্নেয়াস্ত্র, রড, লাঠি, ধারালো অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ছিল, সমাবেশ লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। আন্দোলনকারীদের ওপর শুরু হয় নির্বিচার হামলা। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে চরম আতঙ্ক, হুড়োহুড়ি এবং রক্তাক্ত বিশৃঙ্খলা। এই সহিংসতার মধ্যে নিরাপত্তাবাহিনীর কার্যকর কোনো হস্তক্ষেপ না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝেই আওয়ামীলীগের লক্ষ্যবস্তু হন জহিরুল ইসলাম। তাঁর মাথায় একটি গুলি লাগে, এবং একইসঙ্গে একটি ভারী ইট গিয়ে পড়ে তাঁর মাথায়, ফলে মাথার পেছনে গভীরভাবে ফেটে যায়। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এক মুহূর্তেই তিনি নিথর হয়ে মাটিতে পড়ে যান। তাঁর চোখ বন্ধ হয়ে আসে, শরীর শিথিল হয়ে পড়ে, আর আশেপাশে থাকা সহপাঠী ও সহযোদ্ধারা আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে যান।



চিকিৎসার বিবরণঃ
আওয়ামী হামলায় গুরুতর আহত জহিরুল ইসলামকে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত উদ্ধার করে আশেপাশের সহযোদ্ধারা একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগে চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে দেখেন যে, মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ফলে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, সঙ্গে রয়েছে ইটের আঘাতে মারাত্মক কাটা দাগ। রক্তক্ষরণ হচ্ছিল অব্যাহতভাবে, এবং তখনই তাঁর জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
চিকিৎসকরা অবিলম্বে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। দ্রুত অপারেশনের মাধ্যমে মাথায় বিদ্ধ গুলি অপসারণ করা হয় এবং ক্ষতস্থানে প্রয়োজনীয় সেলাই করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি দীর্ঘদিন হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন।
বর্তমানে জহিরুল ইসলাম ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে ফিরছেন। তবে তাঁর শরীরে এখনো আঘাতের প্রভাব রয়েছে এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হতে তাকে নিয়মিত চিকিৎসা, পর্যবেক্ষণ ও পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে এক স্থায়ী ক্ষতচিহ্ন হয়ে রয়ে গেছে।

এক নজরে জহিরুল ইসলাম
• নাম: জহিরুল ইসলাম
• জন্ম: জুলাই ২০০২
• জন্মস্থান: পশ্চিম পাঠানগড়, ছাগলনাইয়া, ফেনী
• পেশা: ছাত্র, ফেনী সরকারি কলেজ
• পিতা: ফখরুল ইসলাম (কৃষক)
• মাতা: রহিমা বেগম (গৃহিণী)
• ভাই: মোহাম্মদ ফারুক (বয়স ৩০)
• পারিবারিক আয়: মাসিক ২০,০০০ টাকা (কৃষিকাজ থেকে)
• পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৫ জন
• আন্দোলনের স্থান: মহিপাল জিরো পয়েন্ট, ফেনী
• আহতের তারিখ ও সময়: ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ২টা
• আহতের ধরন: মাথায় গুলি ও ইটের আঘাতে মারাত্মক জখম
• চিকিৎসা: অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গুলি অপসারণ, বর্তমানে সুস্থ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍