মোঃ ফাহিম গাজী
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা: ইলেকট্রিশিয়ান
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
জন্মপরিচয়
মোঃ ফাহিম গাজী ২০০২ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার তরপুরচন্ডী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা, মোঃ বাবুল গাজী, একজন কৃষক। মায়ের নাম ফরিদা বেগম, যিনি একজন গৃহিণী। কৃষিজীবী পরিবারে বেড়ে ওঠা ফাহিম তার পরিবারের মূল্যবোধ এবং কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন।জন্মস্থান তরপুরচন্ডীতেই তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। একই স্থানে তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা। গ্রামের সহজ জীবনযাত্রা এবং প্রকৃতির সান্নিধ্য তার বেড়ে ওঠায় প্রভাব ফেলেছে। পারিবারিক পরিবেশে, যেখানে কৃষিই প্রধান জীবিকা, ফাহিম ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রমের গুরুত্ব শিখেছেন।বর্তমানে তিনি পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান। এটি তার পারিবারিক পেশা থেকে ভিন্ন হলেও তার স্বাধীনভাবে কাজ করার মানসিকতা এবং কারিগরি দক্ষতার পরিচায়ক। এই পেশার মাধ্যমে তিনি নিজের এবং পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য কাজ করছেন।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, গণঅভ্যুত্থান ক্যালেন্ডারে ৩৫ জুলাই হিসেবে চিহ্নিত, ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি রক্তাক্ত ও প্রতিরোধের দিন। সেদিন সারাদেশে অসহযোগ আন্দোলন ও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে। দোকানপাট, যান চলাচল বন্ধ ছিল। রাজপথে নেমে আসে ছাত্র-জনতা, শ্রমজীবী মানুষ, সাধারণ নাগরিক—সবাই এক কণ্ঠে উচ্চারণ করে, “দফা এক, দাবি এক—শেখ হাসিনার পদত্যাগ। সুদীর্ঘ হাসিনা রাজত্বের অবসান। খুন, গুম, ধর্ষণ, দুর্নীতি অপরাদের স্বর্গরাজ্য ছিলো হাসিনার পুরো শাসন” এই দিনটি ছিল দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের একটি মোড় ঘোরানো মুহূর্ত, যেখানে জনগণের ক্ষোভ, হতাশা, এবং সাহস একত্রিত হয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধে রূপ নেয়।
সকাল ১০টা নাগাদ আমি ফয়সাল মার্কেটের সামনে অবস্থান করছিলাম, ছাত্রদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করছিলাম। আমাদের লক্ষ্য ছিল ন্যায্য দাবির পক্ষে অবস্থান নেওয়া। কিন্তু হঠাৎ ক্যাফে ঝিলের পাশ থেকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর প্রথম হামলা চালায়। তারা লাঠি, রড, এবং ইটপাটকেল নিয়ে আমাদের ওপর চড়াও হয়। আমরা প্রতিরোধ করি, কিন্তু শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করি। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও, ১১টা নাগাদ চাঁদপুর সড়ক ভবনের সামনে ছাত্রলীগ আবারো হামলা চালায়।
এবার তাদের সঙ্গে পুলিশও যুক্ত ছিল। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, যেখানে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, এবং গুলি চালানো হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আমি গুরুতরভাবে আহত হই—মাথায় আঘাত পাই এবং রাস্তায় পড়ে যাই। আশপাশের সহযোদ্ধারা আমাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান।সেদিনের রক্তপাত, কারফিউ আর নিহত পরিবারগুলোর আহাজারি যেন কাঁপিয়ে দিয়েছিল ক্ষমতার মসনদ। আওয়ামী বাহিনীর সন্ত্রাসী তৎপরতা ও পুলিশের সহিংসতা আন্দোলনকারীদের ক্ষোভকে আরও তীব্র করে তোলে। রাজধানী থেকে মফস্বল—সবখানে প্রতিধ্বনিত হয় একটাই স্লোগান: “দফা এক, দাবি এক—শেখ হাসিনার পদত্যাগ।” শহরের অলিগলি, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, বাজার, এবং মোড়ে মোড়ে মানুষ জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানায়। কেউ ব্যানার হাতে, কেউ রক্তাক্ত শরীরে, কেউবা শুধু কণ্ঠে প্রতিবাদের আগুন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এই দিনটি ছিল একদিকে শোকের, অন্যদিকে সাহসের প্রতীক।
৪ আগস্টের এই ঘটনা শুধু একটি দিনের প্রতিবাদ নয়, এটি ছিল একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত, যা প্রমাণ করে দেয় যে জনগণ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন কোনো স্বৈরাচারই চিরস্থায়ী হতে পারে না। আহত হয়েছি, কষ্ট পেয়েছি, কিন্তু ভয় পাইনি। কারণ আমি জানি, এই আন্দোলন শুধু আমার নয়—এটি আমাদের সবার, একটি মুক্ত ভবিষ্যতের জন্য।
চিকিৎসা
আন্দোলনের দিন গুরুতর আহত অবস্থায় আমি রাস্তায় পড়ে ছিলাম, তখন একদল সহানুভূতিশীল মানুষ এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করেন এবং দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করান। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকরা আমার শরীরে বিদ্ধ বুলেট ও টিয়ারশেলের টুকরাগুলো অপসারণ করেন। ক্ষতস্থানে জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা হয়, এবং পর্যায়ক্রমে আমার শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে ডাক্তার দেখানো থেকে শুরু করে ওষুধ, অপারেশন, এবং অন্যান্য যাবতীয় খরচ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বহন করে। তাদের এই মানবিক সহায়তা ও সহযোগিতার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছি।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
২০২৪ সালের ৪ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে গুরুতরভাবে আহত হয়েছি। আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ ও পুলিশের যৌথ হামলায় আমি রাস্তায় পড়ে যাই এবং একদল সহানুভূতিশীল মানুষ আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাকালীন আমার শরীর থেকে বুলেট ও টিয়ারশেলের টুকরাগুলো অপসারণ করা হয় এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমার চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করে। আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে আমি সুস্থ আছি, তবে শারীরিক ও মানসিকভাবে এখনও পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছি।
এই পরিস্থিতিতে, আমার শিক্ষা ও আন্দোলনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য একটি ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করেছি। আমি চাই একটি ছোট পরিসরের মুদি দোকান, বই বিক্রির স্টল, অথবা মোবাইল সার্ভিসিং ও আনুষঙ্গিক পণ্যের দোকান চালু করতে, যা আমার এলাকার মানুষের চাহিদা পূরণ করবে এবং আমার জীবিকা নির্বাহের পথ সুগম করবে।
আমার এই উদ্যোগের জন্য প্রাথমিক পুঁজি, ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ, এবং পরামর্শ সহায়তা প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি, এই ব্যবসা শুধু আমার ব্যক্তিগত পুনর্বাসনের পথ নয়, বরং এটি একটি সামাজিক বার্তা—যেখানে একজন আহত আন্দোলনকারী পুনরায় সমাজে অবদান রাখতে প্রস্তুত। আমি চাই, আমার এই প্রয়াসের মাধ্যমে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হোক এবং আত্মনির্ভরশীলতার পথে এগিয়ে আসুক।
একনজরে:
নাম: মোঃ ফাহিম গাজী
জন্মতারিখ: ২২/০৯/২০০২
জন্মস্থান: তরপুরচন্ডী, চাঁদপুর
পেশা: ইলেকট্রিশিয়ান
স্থায়ী ঠিকানা: তরপুরচন্ডী,চাঁদপুর
বর্তমান ঠিকানাঃ একই
পিতাঃ মোঃ বাবুল গাজী (কৃষক)
মাতা:ফরিদা বেগম (গৃহিণী)
যোগাযোগঃ ০১৬৩৯২৬৯০৮৩
আয়: ৯,০০০ টাকা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা:৬
ভাই: মোঃ ফয়েজ গাজী (টেইলার্স)
মোঃ ফনির গাজী (টেইলার্স)
মোঃ ফরহাদ গাজী(ছাত্র)
ঘটনার স্থানঃ হাজিগঞ্জ পৌরসভার সামনে,চাঁদপুর
আক্রমণকারীঃ পুলিশ ও সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ
আহত হওয়ার সময়ঃ ৪আগষ্ট ২৪ইং
মোঃ ফাহিম গাজী ২০০২ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার তরপুরচন্ডী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা, মোঃ বাবুল গাজী, একজন কৃষক। মায়ের নাম ফরিদা বেগম, যিনি একজন গৃহিণী। কৃষিজীবী পরিবারে বেড়ে ওঠা ফাহিম তার পরিবারের মূল্যবোধ এবং কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন।জন্মস্থান তরপুরচন্ডীতেই তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। একই স্থানে তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা। গ্রামের সহজ জীবনযাত্রা এবং প্রকৃতির সান্নিধ্য তার বেড়ে ওঠায় প্রভাব ফেলেছে। পারিবারিক পরিবেশে, যেখানে কৃষিই প্রধান জীবিকা, ফাহিম ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রমের গুরুত্ব শিখেছেন।বর্তমানে তিনি পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান। এটি তার পারিবারিক পেশা থেকে ভিন্ন হলেও তার স্বাধীনভাবে কাজ করার মানসিকতা এবং কারিগরি দক্ষতার পরিচায়ক। এই পেশার মাধ্যমে তিনি নিজের এবং পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য কাজ করছেন।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, গণঅভ্যুত্থান ক্যালেন্ডারে ৩৫ জুলাই হিসেবে চিহ্নিত, ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি রক্তাক্ত ও প্রতিরোধের দিন। সেদিন সারাদেশে অসহযোগ আন্দোলন ও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে। দোকানপাট, যান চলাচল বন্ধ ছিল। রাজপথে নেমে আসে ছাত্র-জনতা, শ্রমজীবী মানুষ, সাধারণ নাগরিক—সবাই এক কণ্ঠে উচ্চারণ করে, “দফা এক, দাবি এক—শেখ হাসিনার পদত্যাগ। সুদীর্ঘ হাসিনা রাজত্বের অবসান। খুন, গুম, ধর্ষণ, দুর্নীতি অপরাদের স্বর্গরাজ্য ছিলো হাসিনার পুরো শাসন” এই দিনটি ছিল দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের একটি মোড় ঘোরানো মুহূর্ত, যেখানে জনগণের ক্ষোভ, হতাশা, এবং সাহস একত্রিত হয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধে রূপ নেয়।
সকাল ১০টা নাগাদ আমি ফয়সাল মার্কেটের সামনে অবস্থান করছিলাম, ছাত্রদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করছিলাম। আমাদের লক্ষ্য ছিল ন্যায্য দাবির পক্ষে অবস্থান নেওয়া। কিন্তু হঠাৎ ক্যাফে ঝিলের পাশ থেকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর প্রথম হামলা চালায়। তারা লাঠি, রড, এবং ইটপাটকেল নিয়ে আমাদের ওপর চড়াও হয়। আমরা প্রতিরোধ করি, কিন্তু শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করি। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও, ১১টা নাগাদ চাঁদপুর সড়ক ভবনের সামনে ছাত্রলীগ আবারো হামলা চালায়।
এবার তাদের সঙ্গে পুলিশও যুক্ত ছিল। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, যেখানে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, এবং গুলি চালানো হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আমি গুরুতরভাবে আহত হই—মাথায় আঘাত পাই এবং রাস্তায় পড়ে যাই। আশপাশের সহযোদ্ধারা আমাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান।সেদিনের রক্তপাত, কারফিউ আর নিহত পরিবারগুলোর আহাজারি যেন কাঁপিয়ে দিয়েছিল ক্ষমতার মসনদ। আওয়ামী বাহিনীর সন্ত্রাসী তৎপরতা ও পুলিশের সহিংসতা আন্দোলনকারীদের ক্ষোভকে আরও তীব্র করে তোলে। রাজধানী থেকে মফস্বল—সবখানে প্রতিধ্বনিত হয় একটাই স্লোগান: “দফা এক, দাবি এক—শেখ হাসিনার পদত্যাগ।” শহরের অলিগলি, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, বাজার, এবং মোড়ে মোড়ে মানুষ জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানায়। কেউ ব্যানার হাতে, কেউ রক্তাক্ত শরীরে, কেউবা শুধু কণ্ঠে প্রতিবাদের আগুন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এই দিনটি ছিল একদিকে শোকের, অন্যদিকে সাহসের প্রতীক।
৪ আগস্টের এই ঘটনা শুধু একটি দিনের প্রতিবাদ নয়, এটি ছিল একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত, যা প্রমাণ করে দেয় যে জনগণ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন কোনো স্বৈরাচারই চিরস্থায়ী হতে পারে না। আহত হয়েছি, কষ্ট পেয়েছি, কিন্তু ভয় পাইনি। কারণ আমি জানি, এই আন্দোলন শুধু আমার নয়—এটি আমাদের সবার, একটি মুক্ত ভবিষ্যতের জন্য।
চিকিৎসা
আন্দোলনের দিন গুরুতর আহত অবস্থায় আমি রাস্তায় পড়ে ছিলাম, তখন একদল সহানুভূতিশীল মানুষ এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করেন এবং দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করান। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকরা আমার শরীরে বিদ্ধ বুলেট ও টিয়ারশেলের টুকরাগুলো অপসারণ করেন। ক্ষতস্থানে জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা হয়, এবং পর্যায়ক্রমে আমার শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে ডাক্তার দেখানো থেকে শুরু করে ওষুধ, অপারেশন, এবং অন্যান্য যাবতীয় খরচ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বহন করে। তাদের এই মানবিক সহায়তা ও সহযোগিতার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছি।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
২০২৪ সালের ৪ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে গুরুতরভাবে আহত হয়েছি। আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ ও পুলিশের যৌথ হামলায় আমি রাস্তায় পড়ে যাই এবং একদল সহানুভূতিশীল মানুষ আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাকালীন আমার শরীর থেকে বুলেট ও টিয়ারশেলের টুকরাগুলো অপসারণ করা হয় এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমার চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করে। আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে আমি সুস্থ আছি, তবে শারীরিক ও মানসিকভাবে এখনও পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছি।
এই পরিস্থিতিতে, আমার শিক্ষা ও আন্দোলনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য একটি ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করেছি। আমি চাই একটি ছোট পরিসরের মুদি দোকান, বই বিক্রির স্টল, অথবা মোবাইল সার্ভিসিং ও আনুষঙ্গিক পণ্যের দোকান চালু করতে, যা আমার এলাকার মানুষের চাহিদা পূরণ করবে এবং আমার জীবিকা নির্বাহের পথ সুগম করবে।
আমার এই উদ্যোগের জন্য প্রাথমিক পুঁজি, ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ, এবং পরামর্শ সহায়তা প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি, এই ব্যবসা শুধু আমার ব্যক্তিগত পুনর্বাসনের পথ নয়, বরং এটি একটি সামাজিক বার্তা—যেখানে একজন আহত আন্দোলনকারী পুনরায় সমাজে অবদান রাখতে প্রস্তুত। আমি চাই, আমার এই প্রয়াসের মাধ্যমে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হোক এবং আত্মনির্ভরশীলতার পথে এগিয়ে আসুক।
একনজরে:
নাম: মোঃ ফাহিম গাজী
জন্মতারিখ: ২২/০৯/২০০২
জন্মস্থান: তরপুরচন্ডী, চাঁদপুর
পেশা: ইলেকট্রিশিয়ান
স্থায়ী ঠিকানা: তরপুরচন্ডী,চাঁদপুর
বর্তমান ঠিকানাঃ একই
পিতাঃ মোঃ বাবুল গাজী (কৃষক)
মাতা:ফরিদা বেগম (গৃহিণী)
যোগাযোগঃ ০১৬৩৯২৬৯০৮৩
আয়: ৯,০০০ টাকা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা:৬
ভাই: মোঃ ফয়েজ গাজী (টেইলার্স)
মোঃ ফনির গাজী (টেইলার্স)
মোঃ ফরহাদ গাজী(ছাত্র)
ঘটনার স্থানঃ হাজিগঞ্জ পৌরসভার সামনে,চাঁদপুর
আক্রমণকারীঃ পুলিশ ও সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ
আহত হওয়ার সময়ঃ ৪আগষ্ট ২৪ইং
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍