হোম / আহতদের তালিকা / মো: আল মামুন মোল্লা
মো: আল মামুন মোল্লা

মো: আল মামুন মোল্লা

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা: সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ (SR)
প্রতিষ্ঠান: প্রাণ-PRAN

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্মপরিচয়ঃ
মো: আল মামুন মোল্লা খাগড়াছড়ি জেলার মহালদড়ি থানার মাইসদড়ি গ্রামে ২০০১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব ও বেড়ে ওঠা মাইসদড়িতেই। তিনি বর্তমানে প্রাণ কোম্পানির একজন সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ (SR) হিসেবে কর্মরত আছেন এবং এখান থেকেই তাঁর পরিবারের মূল আয়ের উৎস গড়ে ওঠে। প্রতি মাসে তাঁর আয় প্রায় ৮-১০ হাজার টাকা, যা দিয়ে তিনি পরিবারকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
তাঁর পারিবারিক জীবনে ছয় সদস্যের একটি ঘনিষ্ঠ পরিবার রয়েছে। পিতা মোঃ শাহজাহান (৬৫) বর্তমানে অসুস্থ থাকায় কাজ করতে অক্ষম। মাতা মিস রিনা বেগম (৫৫) একজন গৃহিণী হিসেবে সংসার সামলাচ্ছেন। বড় ভাই মোঃ ইমরান হোসেন (২৮) চাকরিজীবী, আর দুই বোন শারমিন আক্তার (৩০) ও সাদিয়া আক্তার (২৫) বিবাহিত হয়ে স্বামী-সন্তান নিয়ে সংসার পরিচালনা করছেন।
নিজ জেলা ও জন্মস্থান খাগড়াছড়ির মাইসদড়ি হলেও কর্মসূত্রে এবং ব্যক্তিগত কারণে তিনি একই এলাকাতেই বর্তমান ঠিকানায় বসবাস করছেন। গ্রামের সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে আসা আল মামুন মোল্লা পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল এবং পরিবারের প্রধান সহায়ক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন।৪ আগস্ট কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এক দফা আন্দোলনে বিক্ষোভকারীরা নেমে আসলে সেই সময় তিনি খাগড়াছড়ি ব্রিজ এর আশেপাশে অবস্থানকালে আহত হন। কর্মজীবন ও পারিবারিক দায়িত্বের পাশাপাশি এমন পরিস্থিতি তাঁর জীবনে নতুন অভিজ্ঞতা বয়ে আনে।
আন্দলনে অংশগ্রহণঃ
মাইসদড়ির ছোট্ট ঘরের বারান্দায় রোজকার মতো সেই দিনও মা, বাবার দিকে তাকিয়ে বের হন; মাথায় ছিল একটাই কথা , পড়াশোনা আর কষ্ট করে জমানো ছোট্ট আয় দিয়ে পরিবারের সম্মান আর ভবিষ্যৎ বাঁচাবে কীভাবে। প্রাণে কাজ করে থাকা এবং গ্রামের দিকে তাকিয়ে থাকা আল মামুন জানতেন, দেশে যদি ন্যায় না থাকে, তাদের মত দরিদ্র মানুষের জীবন আর অধিকার কি কখনো ঠিকঠাক হবে?
২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ছাত্রদের কোটা সংস্কারের দাবি ধীরে ধীরে রূপ নেয়া অসহযোগ আন্দোলনে। সেই আন্দোলন শুধু কোটা নিয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না; হাজার হাজার তরুণ-কিশোরের কণ্ঠে উঠে আসে সমান অধিকার, ন্যায়বিচার এবং ক্ষমতায় থাকা কর্তৃপক্ষের প্রতি জবাবদিহির দাবি। আল মামুনও সেই আহ্বান শুনে অংশ নেন, না যে তিনি কোনো রাজনীতির পণ্ডিত, বরং যখন নিজের ভবিষ্যৎ ছিনে নেওয়ার ছায়া ছড়ায়, তখন আর চুপ থাকা যায় না। গ্রামের লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে, বাসে করে বন্ধুদের সঙ্গে খাগড়াছড়ি ভাঙ্গা ব্রিজে পৌঁছান, ঢাকার শাহবাগ শহর-গ্রাম অনেক দূর, কিন্তু সেই দুপুরটা যেন একসাথে জড়িয়ে দিলো সকল কষ্টকে।
দুপুর ১২টা বেজে যখন ভাঙ্গা ব্রিজে মানুষের ঢেউ এসে ঠেকে, স্লোগান, পতাকা, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলছিল, আর সে আলোচনায় মাথায় ছিল শুধু ‘ন্যায়’ তখনই আচমকালীন পরিস্থিতি বদলে গেল। পুলিশের লাঠি, গ্যাস কাঁদানে বিস্ফোরক, আর প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে, কেউ কেউ লাঠি-রড হাতে করে আঘাত করতে শুরু করল; বলা হয়েছে কিছু ব্যক্তি অস্ত্রের হুমকি দেখিয়েছিল। হঠাৎ পাশ থেকে চেঁচানো, হুড়োহুড়ি; কেউ লাফিয়ে পড়ে, কেউ উঠতে পারে না। আল মামুনের সামনে দেখা যায়, একজন প্রতিবেশী কাঁদতে কাঁদতে পড়ে আছে, আর তার সঙ্গে দৌড়ে আসা পুলিশ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে সংঘাত। এক মুহূর্তের মধ্যে ঘাতক লাঠির আঘাতে তার কাঁধে শক্তি চলে যায়, মাথায় আঘাত লাগল, রক্ত মিশল গায়ের সঙ্গে।
ওই মুহূর্তে আল মামুন মনে করছিল, তার মা যখন ভোরে মেষ জোগাড় করে রান্না করতেন, বাবার অসুস্থতা, ভাইয়ের আল্টু-পাতু বেতন, সেসব মুখগুলোই তার ভেতর দাগ কেটে বলেছিল, “তোমার ক্ষত যেন অকথা হয়ে বলে যে অন্যায় আর ক্ষমতার অপব্যবহার সইবে না।” রক্ত ঝরার মাঝেই তাঁর মনে এসেছিল, এই ক্ষত শুধুই ব্যক্তিগত নয়; এটি গ্রামের, শহরের, দেশের মানুষের ক্ষত।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বিবরণঃ
৪ আগস্ট ২০২৪ খাগড়াছড়ি ভাঙা ব্রিজে আন্দোলনের সময় পুলিশের ও আওয়ামী অঙ্গসংগঠনের ঘাতক আঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পরপরই স্থানীয়রা তাঁকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং আঘাতের স্থানগুলোতে দ্রুত সেলাই ও ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে রাখার পর চিকিৎসকরা জানান যে আপাতত শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো হলেও ভবিষ্যতে জটিলতার সম্ভাবনা এড়াতে নিয়মিত ফলো-আপ চিকিৎসা প্রয়োজন। বর্তমানে তিনি আঘাতের কারণে শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছেন এবং কাজের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারছেন না।
পেশাগত জীবনে তিনি পূর্বে প্রাণ কোম্পানির সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ (SR) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের একমাত্র আয়ের প্রধান উৎস হওয়ায় তাঁর কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়া পরিবারটির জন্য বড় ধরণের সংকট সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসকরা সুস্থতার পর পুনরায় চাকরিতে ফিরতে উৎসাহিত করেছেন এবং কর্মসংস্থানের জন্য একটি স্থায়ী ও নিরাপদ পরিবেশের সুপারিশ করেছেন। আল মামুনের সুস্থ হয়ে ওঠা ও পুনরায় কর্মজীবনে ফিরে যাওয়া শুধুমাত্র তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের জন্য নয়, বরং তাঁর অসুস্থ পিতা-মাতাসহ পুরো পরিবারের জীবনধারণের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
একনজরেঃ
নাম: মো: আল মামুন মোল্লা
জন্মতারিখ: ২২-০২-২০০১
জন্মস্থান: মাইসদড়ি, খাগড়াছড়ি
পেশা: সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ (SR)
প্রতিষ্ঠান: প্রাণ-PRAN

স্থায়ী ঠিকানা ওঁ বর্তমান ঠিকানা:
গ্রাম: মাইসদড়ি
ইউনিয়ন: মাইসদড়ি
থানা: মহালদড়ি
জেলা: খাগড়াছড়ি
পারিবারিক তথ্য:
• পিতার নাম: মোঃ শাহজাহান (পেশা: বর্তমানে অসুস্থ, বয়স: ৬৫ বছর)
• মাতার নাম: মিস রিনা বেগম (পেশা: গৃহিণী, বয়স: ৫৫ বছর)
• পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৬ জন
• ভাই: মোঃ ইমরান হোসেন (বয়স: ২৮, পেশা: চাকরিজীবী)
• বোন: শারমিন আক্তার (বয়স: ৩০, পেশা: গৃহিণী)
• বোন: সাদিয়া আক্তার (বয়স: ২৫, পেশা: গৃহিণী)
যোগাযোগ: ০১৬২৭৬৩৭৪৩১, ০১৮২১৮৭৮৮০০
মাসিক আয়: ৮,০০০–১০,০০০ টাকা (উৎস: প্রাণ কোম্পানিতে SR চাকরি)
ঘটনার স্থান: খাগড়াছড়ি ভাঙা ব্রিজ
ঘটনার তারিখ ও সময়: ০৪-০৮-২০২৪, দুপুর আনুমানিক ১২:০০ টা
আহত হওয়ার কারণ: অসহযোগ আন্দোলনের সময় পুলিশ ও যুবলীগ কর্তৃক আক্রমণ
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা: পুনরায় চাকরির সুযোগ ও কর্মজীবনে স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍