হোম / আহতদের তালিকা / মো: শাকিব হোসেন
মো: শাকিব হোসেন

মো: শাকিব হোসেন

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

বুক পেতে দিয়েছি স্বাধীনতার তরে, ভয় নেই আর মরণে”—এই অদম্য সাহস নিয়ে ১৯ জুলাই ২০২৪-এর উত্তাল দুপুরে রাজপথে নেমেছিলেন শেরপুরের সাহসী যুবক মো. শাকিব হোসেন। রাজধানীর একটি ইলেকট্রনিক্স দোকানের সাধারণ কর্মচারী শাকিব তার সামান্য আয়ে বৃদ্ধ রিকশাচালক বাবা ও গৃহকর্মী মায়ের সংসারে জোগান দিতেন সচ্ছলতার আলো। কিন্তু সেই বিকেলেই এক বুলেটে নিভে যায় তার কর্মচঞ্চল জীবনের ছন্দ।

ঢাকার কাজলা এলাকায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের একটি গুলি শাকিবের ডান কাঁধ দিয়ে ঢুকে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। মুহূর্তেই নিথর হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঢাকা মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শুরু হয় আরেক দুঃসহ অধ্যায়। অসুস্থ শরীরে বাসায় ফেরার পর ডিবি পুলিশের জেরা ও গ্রেপ্তারের আতঙ্কে সঠিক সময়ে হাসপাতালে যাওয়ার সাহসটুকুও হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। এক রক্তাক্ত ক্ষত নিয়ে বাড়িতেই কাটাতে হয় বিভীষিকাময় দিনগুলো।

পরবর্তীতে রাজনৈতিক আশ্রয় ও হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রাণে বেঁচে ফিরলেও শাকিব আজ পঙ্গুপ্রায়। যে হাত দিয়ে তিনি যন্ত্রপাতির কাজ করে পরিবারের অন্ন জোগাতেন, সেই হাত আজ অকেজো। ১৫,০০০ টাকার টানাপোড়েনের সংসারে শাকিব এখন পরিবারের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কাঁধে এখন পাহাড়সম ঋণের বোঝা আর ছেলের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা।

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জুলাই আহত বীরদের চেতনায়
স্বাধীনতার দীপ্ত আলো


জন্ম পরিচয়
মো: শাকিব হোসেন ১৯৯৬ সালের ১লা সেপ্টেম্বর শেরপুর জেলার একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেঘেরা গ্রাম, চরখারচর-এ জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক নিবাস শেরপুর সদর থানার অন্তর্গত চরশেরপুর ইউনিয়নে। শৈশব কাটে মাটির ঘ্রাণে, গ্রামীণ জীবনের সরলতায়। তবে জীবিকার প্রয়োজনে ও জীবনের মানোউন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি শহরমুখী হন। বর্তমানে তিনি রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধীন যাত্রাবাড়ি থানার রশিদবাগ, রায়েরবাগ এলাকার ১০/৫ নম্বর বাড়িতে বসবাস করছেন।

পেশাগতভাবে শাকিব হোসেন একজন কর্মঠ মানুষ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইয়ুব আলী ইলেকট্রনিক্স নামক একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মচারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। যান্ত্রিক শহরের বাস্তবতায় টিকে থাকতে হলে যেভাবে নিরলস পরিশ্রম করতে হয়, ঠিক সেই মানসিকতা নিয়েই তিনি কাজ করে যাচ্ছিলেন। তার নিষ্ঠা, পরিশ্রম আর সংগ্রামী মানসিকতাই ছিল তার পুঁজি। পরিবারে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে এবং ভবিষ্যতকে আরও নিরাপদ করতে তিনি দিনের পর দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।

তবে সব স্বপ্ন মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার হয়ে যায় একটি মর্মান্তিক ঘটনার পর। জীবন যে কতটা অনিশ্চিত, তা তিনি উপলব্ধি করেন এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা শুধু তার শারীরিক সক্ষমতাকেই ব্যাহত করেনি, বরং মানসিকভাবে তাকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একজন সংগ্রামী কর্মচারি থেকে তিনি হঠাৎই পরিণত হন একজন আহত, নিরুপায় মানুষ রূপে, যার সামনে জীবন দাঁড় করিয়ে দেয় অজস্র প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জ।

এই দুর্ঘটনার ফলে তার কর্মক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পরিচালনায় চরম বাধার সম্মুখীন হন। চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য তাকে এখন লড়তে হচ্ছে এক নতুন যুদ্ধে, যেখানে প্রতিটি দিনই তার কাছে এক নতুন সংগ্রাম। শহরের বুকে এক স্বপ্নবাজ কর্মচারি থেকে একজন সহানুভ‚তিশীল মানুষে রূপান্তরিত হওয়া শাকিব হোসেনের গল্প, একটি নিঃশব্দ আর্তনাদ যা সমাজের মনোযোগ ও সহমর্মিতা দাবি করে।

পারিবারিক অবস্থা
মো: শাকিব হোসেন একটি স্বল্প আয়ের, চার সদস্যের পরিবারের সন্তান, যেখানে প্রতিটি দিনই চলে কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। তার পরিবারে রয়েছে বাবা, মা, একমাত্র বোন এবং তিনি নিজে। পিতা মো: হাবিবুর রহমান একজন পরিশ্রমী রিকশাচালক, যিনি সকাল থেকে রাত অবধি শহরের রাস্তায় ঘাম ঝরিয়ে সামান্য আয়
করেন। মা মোছা: কহিনুর বেগম গৃহকর্মীর কাজ করে সংসারের ভার কিছুটা লাঘব করার চেষ্টা করেন। বাবা-মায়ের এই সম্মিলিত শ্রমের ফলেই কোনো রকমে সংসার চলে, তবে তা নিছক বেঁচে থাকার মতোই। তাদের মাসিক আয় মাত্র ১৫,০০০ টাকা, যা দিয়ে বাড়ি ভাড়া, খাবার, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামাল দেয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

শাকিব হোসেন নিজেও পরিবারের এই অর্থনৈতিক ভার লাঘব করতে পেশাগত জীবনে যুক্ত হন। তিনি রাজধানীর একটি ইলেকট্রনিক্স দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন এবং যা আয় করতেন তা দিয়ে পারিবারিক খরচে সহযোগিতা করতেন। তাঁর উপার্জন পরিবারে একটি বড় সহায়তা ছিল। কিন্তু হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয়ে তিনি গুরুতর আহত হন, যার ফলে তার কর্মক্ষমতা হারিয়ে যায়। এই দুর্ঘটনার পর তিনি আর কাজ করতে পারছেন না। ফলে পরিবারের উপার্জন একেবারে সীমিত হয়ে পড়েছে।
শাকিবের একমাত্র বোন মুক্তা, যার বয়স ২০ বছর, তিনি কোনো উপার্জনে যুক্ত নন। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে। গৃহিণী হিসেবে তিনি সংসারে সময় দিচ্ছেন। অর্থাৎ, পুরো পরিবার এখন পুরোপুরি নির্ভরশীল বাবা-মায়ের পরিশ্রমের উপর, যা এই বয়সে আর সম্ভব হচ্ছে না। হাবিবুর রহমানের বয়সের ভারে শারীরিক সামর্থ্য কমে যাচ্ছে, আর কহিনুর বেগমের গৃহকর্মীর কাজও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

শাকিব হোসেনের বর্তমান পরিস্থিতি পরিবারে এক গভীর সংকট তৈরি করেছে। আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া, অসুস্থতার খরচ ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা সবকিছু মিলে এই পরিবার এখন চরম দুঃসময় পার করছে। এই পরিবারটি যেন সমাজের সে সব নিঃশব্দ যোদ্ধাদের প্রতিনিধি, যারা প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। নিরব, নিঃস্ব কিন্তু ভাঙেনি এখনো তারা।

ঘটনার বিবরণ
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই, দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে মো: শাকিব হোসেন ঢাকার কাজলা এলাকা থেকে গণআন্দোলনের একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে উপস্থিত হন। দেশব্যাপী চলমান ছাত্র-জনতার ন্যায্য দাবি ও প্রতিবাদ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় সেদিনও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের লক্ষ্যে জড়ো হয়েছিলেন। শাকিব হোসেন ছিলেন সেই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।
তবে সে দিনের ঘটনাপ্রবাহ হঠাৎ করেই এক ভয়াবহ মোড় নেয়। কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা বা আলোচনার উদ্যোগ না নিয়েই রাষ্ট্রীয় পুলিশ বাহিনী হঠাৎ করে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। শাকিব হোসেনও এই গুলিবর্ষণের সরাসরি শিকার হন। পুলিশের ছোড়া গুলির একটি ডান কাঁধে সামনে থেকে এসে প্রবেশ করে এবং শরীরের পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। গুলির তীব্র আঘাতে তিনি সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে যান।
এই ঘটনা অত্যন্ত নির্মম ও অমানবিক ছিল! রাষ্ট্রীয় বাহিনীর যে অংশ জনসাধারণের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত, তারাই কোনো প্রকার হুঁশিয়ারি বা সহানুভ‚তির তোয়াক্কা না করে সাধারণ মানুষের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালায়। শাকিব হোসেনের মতো একজন নিরস্ত্র নাগরিক, যিনি কেবল গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে অংশ নিচ্ছিলেন, তাকে লক্ষ্য করে এমন নৃশংস আক্রমণ নিঃসন্দেহে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। শাকিবের ওপর চালানো এই সহিংস হামলা কেবল তার ব্যক্তিগত জীবনে এক ভয়াবহ অধ্যায়ের সূচনা করেনি, বরং তা দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও এক গভীর প্রশ্ন উত্থাপন করে। আহত হওয়ার পর শাকিবকে দ্রæত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু গুলির ক্ষতের তীব্রতা ও শারীরিক অবস্থার জটিলতা তাকে দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পথে ঠেলে দেয়। এই ঘটনার পর থেকে শাকিব শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন এবং তাঁর জীবনে এক অনিশ্চয়তার ছায়া নেমে এসেছে।

চিকিৎসা সংক্রান্ত বিবরণ
শাকিব হোসেন গুরুতর আহত অবস্থায় পড়লে তাকে দ্রুত নয়াপল্টন এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত জটিল হয়ে ওঠে। চিকিৎসকেরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। মেডিকেলে তার চিকিৎসা চলাকালীন রাতেই তাকে ছেড়ে দেয়া হয় এবং এক সপ্তাহ পর আবার ফলোআপ দেখানোর পরামর্শ দেয়া হয়।

কিন্তু সে সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ও সহিংসতাপূর্ণ। রাস্তায় বের হওয়া মানে ছিল জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়া। ফলে শাকিব আর হাসপাতালে যেতে সাহস পায়নি। এরই মধ্যে ডিবি পুলিশের একটি দল তার বাসায় উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তারা জানতে চায়, কে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল, কোথায় চিকিৎসা হয়েছে, চিকিৎসার খরচ কে দিয়েছে ইত্যাদি। পুলিশের এ ধরনের আগ্রাসী মনোভাব ও প্রশ্নবাণে শাকিব ও তার পরিবার আরও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

এই অবস্থায় বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নেয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে তিনি বাড়িতেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন। আঘাতের যন্ত্রণা, মানসিক চাপ ও পুলিশের হুমকিমূলক তৎপরতায় তিনি চরম আতঙ্কে দিন কাটাতে থাকেন। আন্দোলনের প্রতি ভালোবাসা ও সচেতন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাকে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে। রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও নিরাপত্তাহীনতা তাকে শারীরিকভাবে যেমন অসুস্থ করে তোলে, মানসিকভাবেও তেমনি বিপর্যস্ত করে তোলে। তাঁর এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা শুধু একজন ব্যক্তির নয় বরং আন্দোলনকামী প্রতিটি নাগরিকের সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছে। পরবর্তীতে এলাকার নেতা নজরুল ইসলাম খানের সহযোগিতায় শাকিবকে মগবাজার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়, যেখানে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এই চিকিৎসা ব্যয়বহুল হলেও তার পক্ষে সেটি বহন করা সম্ভব হয়নি। এখনও তার পুরোপুরি সুস্থতা ফিরে আসেনি এবং কাজেও ফিরতে পারেননি।

প্রস্তাবনা
১. তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
২. একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
পরিশেষে, মো: শাকিব হোসেনের জীবন একদিকে যেমন সংগ্রামী, তেমনি রাষ্ট্রীয় দমন নীতির নির্মম চিত্রও প্রতিফলিত করে। একজন সাধারণ কর্মচারী থেকে তিনি এক মুহূর্তেই শারীরিকভাবে পঙ্গু হওয়ার দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়ান। তার চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং পরিবারের সহায়তার জন্য এখন প্রয়োজন সমাজ ও রাষ্ট্রের মানবিক সহায়তা।

এক নজরে মো: শাকিব হোসেন
নাম : মো: শাকিব হোসেন
পিতা : হাবিবুর রহমান, বৃদ্ধ
মাতা : কোহিনুর বেগম, বৃদ্ধ
বোন : মুক্তা খাতুন
পরিবারে সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
আহত হওয়ার সময় : ১৯ জুলাই ২০২৪
আক্রমণকারী : যৌথবাহিনী
আহত হওয়ার স্থান : কাজলা, ঢাকা
স্থায়ী ঠিকানা : চরখার চর, শেরপুর

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍