← মূল তালিকায় ফিরুন
🕊️ জুলাই ২০২৪ বিপ্লবের বীর শহীদ
মো: রাকিব হাসান
শহীদ
Memorial QR Code

📱 স্মার্ট কিউআর কোড

মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে এই প্রোফাইল সংরক্ষণ ও শেয়ার করুন।

🌹 দোয়া

বাটনে ক্লিক করে এই বীর শহীদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও দোয়া জ্ঞাপন করুন

নাম

মো: রাকিব হাসান

📅 জন্ম তারিখ

১ জানুয়ারি, ২০১২

🕊️ শাহাদাত বরণের তারিখ

১৯ জুলাই, ২০২৪

🗺️ বিভাগ

ঢাকা_সিটি

📍 জেলা

লক্ষ্মীপুর

👤 শহীদের সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত

পেশা: ছাত্র,
শাহাদাতের স্থান : জাকির হোসেন রোড, মোহাম্মদপুর

📜

শাহাদাতের বিস্তারিত ঘটনা ও ইতিহাস

মাত্র ১২ বছরের হাস্যজ্জল কিশোর মো: রাকিব হাসান। তার জন্ম ২০১২ সালে লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার ৪ নং ঈসাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ নারায়ণপুর গ্রামে। রাকিব মোহাম্মদপুর আই টি জেট স্কুল এন্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পিতা মো: আবুল খায়ের (৪৬) ও মাতা পারভিন আক্তারের তৃতীয় সন্তান রাকিব।
শহীদ রাকিব, একজন সপ্তম শ্রেণির ছাত্র, যার ফুটবল খেলার দক্ষতা এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তাকে তার বন্ধু- বান্ধব ও শিক্ষকদের কাছে প্রিয় করে তুলেছিল। ছোটবেলা থেকেই সে ছিল মেধাবী, বিনয়ী এবং ভদ্র আচরণের জন্য সুপরিচিত। গ্রামে তাদের পরিবারিক জমির পরিমাণ প্রায় ১০ কাঠা। কিন্তু পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী তার বাবা। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করেন। ৪৩ বছরের বেশি সময় ধরে শহীদের পরিবার মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
১৯ জুলাই ছিল অন্য সব দিনের মতোই, শহীদ রাকিব বিকেল ৪:৩০টার দিকে খেলার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। তার গন্তব্য ছিল মোহাম্মদপুর ক্লাবের পাশের কাজী নজরুল ইসলাম রোড, যেখানে প্রতিদিনের মতো ফুটবল খেলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু সেদিন ছিল তার জীবনের শেষ দিন। হঠাৎ এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার সম্মুখীন হয় সে। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশ একটি গুলি ছোড়ে যা সরাসরি তার মাথায় আঘাত হানে। গুলি তার মাথার সামনের দিক থেকে প্রবেশ করে পিছন দিয়ে বের হয়ে যায়। গুলির আঘাতে সে সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সেই মুহূর্তে তার প্রাণবন্ত চোখ দুটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
পথচারীরা দ্রুত তাকে সিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে রাত ৯টার দিকে, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শহীদের মৃত্যুতে পরিবার, বন্ধুবান্ধব, এবং প্রতিবেশীরা শোকাহত হয়ে পড়ে। তার এমন আকস্মিক মৃত্যু যেন কেউই মেনে নিতে পারছিল না।
২০ জুলাই, গ্রামের মাটিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাত ১১টায় লক্ষ্মীপুরের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। গ্রামের প্রতিবেশী কালাম হোসেন, যিনি শহীদকে ছোটবেলা থেকেই চেনেন, তিনি বলেন, "শহীদ অনেক ভালো ছেলে ছিল। ছোট থেকেই পড়াশোনায় খুব মনোযোগী ছিল, এবং ফুটবলেও সে ছিল দুর্দান্ত। সে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ হয়ে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমাদের দেখলে সালাম দিতো। সে খুব ভদ্র ছেলে ছিল।"
শহীদের মৃত্যুতে যেন একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। সে ছিল সম্ভাবনাময় এক তরুণ, যার প্রতিভা শুধু ফুটবলে নয়, তার শিক্ষায়ও ফুটে উঠেছিল। তার মৃত্যু শুধু পরিবার নয়, তার স্কুল, খেলার সাথী এবং পুরো সমাজের জন্য এক অমোচনীয় ক্ষতি। শহীদ চিরতরে আমাদের কাছ থেকে চলে গেলেও তার আদর্শ, তার বিনয়, এবং তার সংগ্রাম আমাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।
ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম : মো: রাকিব হাসান
পিতা : মো: আবুল খায়ের
মাতা : পারভীন আক্তার
পেশা : ছাত্র
শ্রেণি : ৭ম, মোহাম্মদপুর আই টি জেড স্কুল এন্ড কলেজ
জন্ম : ২০১২
বর্তমান ঠিকানা : জাকির হোসেন রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
স্থায়ী ঠিকানা : দক্ষিণ নারায়নপুর, ৪৯, ইছাপুর, লক্ষ্মীপুর, রামগঞ্জ
ঘটনার স্থান : কাজী নজরুল ইসলাম রোড, মোহাম্মদপুর
আঘাতকারী : পুলিশ
আহত হওয়ার সময় : ১৯ জুলাই ২০২৪, বিকাল ৪.৩০টা
নিহত হওয়াত সময় : রাত ৯.০০টা নিউরো সায়েন্স হাসপাতাল
কবরের অবস্থান : নিজ এলাকা, লক্ষ্মীপুর
📖

পবিত্র কুরআনের বাণী

আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে কখনোই মৃত মনে করো না; বরং তারা জীবিত এবং তাদের রবের কাছ থেকে তারা জীবিকা-প্রাপ্ত হয়ে থাকে। (সুরা আল-ইমরান ৩:১৬৯)

🕌

হাদীস শরীফ

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “শহীদদের আত্মা সবুজ পাখির পেটে থাকে।” (সহীহ মুসলিম ১৮৮৭)

🖼️

শহীদের স্মৃতিচিত্র ও ফটো গ্যালারি

Memorial Photo
🔍 বড় করে দেখুন
Memorial Photo
🔍 বড় করে দেখুন
Memorial Photo
🔍 বড় করে দেখুন
Memorial Photo
🔍 বড় করে দেখুন
Memorial Photo
🔍 বড় করে দেখুন
Memorial Photo
🔍 বড় করে দেখুন

📢 এই আত্মত্যাগের ইতিহাস শেয়ার করুন