হোম / আহতদের তালিকা / মো: জাফরুল হাসান (যুবায়ের)
মো: জাফরুল হাসান (যুবায়ের)

মো: জাফরুল হাসান (যুবায়ের)

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

মো: জাফরুল হাসান ১৯৯৬ সালের ২৩ নভেম্বর শরীয়তপুর জেলার এক সাধারণ, মূল্যবোধসম্পন্ন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জালাল শিকদার ও মাতা সেলিনা বেগম ছিলেন পরিশ্রমী, নৈতিকতা-নিষ্ঠ ও সৎ জীবনধারার অনুসারী। পারিবারিক আদর্শ, দায়িত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধ থেকেই জাফরুল ছোটবেলা থেকেই নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন পরিশ্রমী ও আত্মনির্ভরশীল একজন মানুষ হিসেবে।

জীবনের সংগ্রাম পেরিয়ে তিনি যুক্ত হন দেশের একটি স্বনামধন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটি ব্যাংকে, যেখানে তিনি মাসিক মাত্র ১৫,০০০ টাকা আয় করতেন। আয় সামান্য হলেও সততা, দায়িত্ববোধ এবং আত্মমর্যাদাকে তিনি সর্বদা প্রধান্য দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বসবাস করতেন এবং পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো মনুষ্যত্বের প্রতীক হিসেবে যারা জুলাইয়ের রক্তাক্ত রাজপথে আহত হয়েছেন
ইতিহাস তাদের মনে রাখবে
মো: জাফরুল হাসান
ক্রমিক: ০১০
আইডি: ঢাকা সিটি ০১০

জীবনের প্রেক্ষাপট
মো: জাফরুল হাসান ১৯৯৬ সালের ২৩ নভেম্বর শরীয়তপুর জেলার এক সাধারণ, মূল্যবোধসম্পন্ন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জালাল শিকদার ও মাতা সেলিনা বেগম উভয়েই ছিলেন পরিশ্রমী ও সৎ জীবনযাপনে অভ্যন্ত। পরিবার থেকে পাওয়া শিক্ষা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধকে ধারণ করে জোবায়ের ছোটবেলা থেকেই চেষ্টা করেছেন নিজেকে আত্মনির্ভরশীল ও সম্মানজনক একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি পেশাগতভাবে যুক্ত হন দেশের একটি স্বনামধন্য বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটি ব্যাংকে। সেখানে তিনি কর্মরত ছিলেন। মাসিক আয় ছিল মাত্র ১৫,০০০ টাকা, যা একদিকে অপ্রতুল হলেও, অন্যদিকে জোবায়েরের জীবনদর্শনের কাছে যথেষ্ট ছিল। অল্প আয় দিয়েই তিনি পরিবারের প্রয়োজন, দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত চাহিদার মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করতেন নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বসবাস করছেন। পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল এই তরুণ সবসময় বিশ্বাস করেন পরিশ্রম ও ন্যায়ের পথে চললে জীবনে প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তার জীবনের পথচলা একাধারে সংগ্রামের, আবার আশার আলোয় ভরপুর এক বাস্তব উদাহরণ।
পারিবারিক অবস্থা
মো: জাফরুল হাসানের পরিবার একটি সাদামাটা, পরিশ্রমী ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়া পরিবার। তাঁর পিতা জালাল শিকদার বর্তমানে ৭৫ বছর বয়সে অবসর জীবনযাপন করছেন। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি এখন আর কোনো রকম পেশায় যুক্ত নন। মা সেলিনা বেগম, ৫৫ বছর বয়সী একজন গৃহিণী, যিনি সংসারের প্রতিটি কাজে নিঃশব্দে অবদান রেখে চলেছেন।
জোবায়েরের একমাত্র কন্যা হোমাইরা ইসলাম তার জীবনের আনন্দ ও প্রেরণার উৎস। পিতৃত্বের দায়িত্ব তিনি ভালোবাসা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন। ভাই নাজমুল হোসেন পরিবারের আরেক সদস্য, যিনি পরিবারের বিভিন্ন কাজে সহায়তা করে থাকেন। এছাড়া বোন রাবেয়া আক্তার একজন শিক্ষার্থী, যিনি পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পরিবার ও সমাজের জন্য কিছু করার স্বপ্ন বুকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছেন। এই পরিবারটি পারস্পরিক ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং সহানুভূতির এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি। জোবায়ের তাদের মধ্যে ছিলেন প্রধান সহায়ক শক্তি, যিনি নিজের পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে পুরো পরিবারের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতেন।
ঘটনার বিবরণ
২০২৪ সালের জুলাই মাস জুড়ে দেশের শিক্ষার্থীরা কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নেমে আসে। দেশজুড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ, সেমিনার ও বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবিগুলো তুলে ধরে। শিক্ষার্থীরা বারবার শান্তিপূর্ণভাবে রাষ্ট্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে, যাতে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থার অবসান ঘটে এবং একটি ন্যায্য, সাম্যভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা হয়।
কিন্তু এই অহিংস ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জবাবে রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ছিল ভয়ানক দমনমূলক। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের লক্ষ্য করে ছোড়া হতে থাকে রাবার বুলেট, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও কখনো কখনো তাজা গুলিও। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর, আটক এবং এমনকি সরাসরি হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে, আন্দোলনকারীরা আত্মত্মরক্ষায় বাধ্য হয়। ফলে আন্দোলন কিছু কিছু এলাকায় সহিংসতায় রূপ নেয়। জুলাই মাসজুড়ে সারাদেশে চলমান ছাত্র আন্দোলনের পটভূমিতে জোবায়ের একান্ত মানবিকতা, ন্যায়ের পক্ষের অবস্থান এবং ইসলামবিদ্বেষী কার্যকলাপ ও রাষ্ট্রীয় অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
১৮ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত তিনি আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ করে, যখন রাষ্ট্রীয় দমন, পীড়ন এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর আঘাত বাড়তে থাকে, তখন তিনি আর চুপ থাকেননি। ছাত্রদের যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবির পাশে দাঁড়িয়ে নিজেও রাজপথে নামেন। এই মানবিক অবস্থানের চরম মান্ডল তাকে দিতে হয় ২০ জুলাই, কাজলা ছনটেক মোড় এলাকায়। সেখানে আন্দোলনের সময় তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। আহত হওয়ার পর থেকেই তার শারীরিক ও আর্থিক জীবন দুটোই এক ভয়ানক সংকটে পড়ে।
চিকিৎসা সংক্রান্ত বিবরণ
আহত হওয়ার পর মো: জাফরুল হাসানকে তাৎক্ষণিকভাবে মডার্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয় এবং অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত ইউনিক হাসপাতালে রেফার করা হয়। ইউনিক হাসপাতালে তার শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হতে থাকলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে পরবর্তী দিনে ডেলটা হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তিনি ডেলটা হাসপাতালের অভিজ্ঞ চিকিৎসক ডা. এস.এম, মাসুম বিল্লাহ-র সরাসরি তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসা এখনও চলমান, এবং তার শারীরিক অবস্থা খুব ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে।
এ পর্যন্ত তার চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। এই ব্যয় বহন করা তার পক্ষে একেবারেই অসম্ভব ছিল, তাই বিভিন্ন উৎস থেকে সহযোগিতা গ্রহণ করতে হয়েছে।
আর্থিক সহযোগিতা ও সহায়তার বিবরণ
পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতার পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি কিছু আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। সিটি ব্যাংক ৩,০০,০০০ টাকা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৫০,০০০ টাকা, জুলাই ফাউন্ডেশন ৪,০০,০০০ টাকা। এই সহযোগিতাগুলোর মাধ্যমেই তার প্রাথমিক ও চলমান চিকিৎসা সম্ভব হয়েছে, তবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হলে এখনও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।
প্রস্তাবনা
১. ইসলামী ব্যাংকে চাকরির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
২. চিকিৎসার খরচ বহন করতে হবে।
পরিশেষে, মো: জাফরুল হাসান একজন সচেতন নাগরিক, যিনি অন্যায়, নিপীড়ন ও ধর্মীয় অবমাননার বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে রাজপথে দাঁড়িয়েছিলেন। তার ওপর ঘটে যাওয়া সহিংসতা শুধু একটি ব্যক্তিগত বিপর্যয় নয় এটি রাষ্ট্রীয় দমন নীতির এক নিষ্ঠুর চিত্র। আজ তিনি হাসপাতালের বেডে শুয়ে জীবন মৃত্যুর লড়াইয়ে রয়েছেন। এই সময় তার পাশে দাঁড়ানো শুধুমাত্র মানবিকতা নয়, বরং একটি কল্যাণকামী সমাজের প্রতি আমাদের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা। তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সহযোগিতা করা মানেই একটি পরিবারের স্বপ্ন ও আশাকে আবার জাগিয়ে তোলা।

এক নজরে মো: জাফরুল হাসান (যুবায়ের)
নাম: মো: জাফরুল হাসান (যুবায়ের)
জন্ম তারিখ: ২৩-১১-১৯৯৬
পিতার নাম ও বয়স: জালাল শিকদার, ৭৫
মাতার নাম ও বয়স: সেলিনা বেগম, ৫৫
ভাই: নাজমুল হোসেন
পরিবারে সদস্য সংখ্যা: ৫ জন
বর্তমান ঠিকানা: যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
স্থায়ী ঠিকানা: যাত্রাবাড়ী, ঢাকা আহত বিবরণ
আহত হওয়ার সময়: ২০ জুলাই ২০২৪, সকাল ১০:১৫ মিনিট
আক্রমণকারী: পুলিশ ও ছাত্রলীগ বাহিনী
আহত হওয়ার স্থান: কাজলা, ছনটেক মোড়, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍