হোম / আহতদের তালিকা / সাইয়্যেদ মোদাব্বিরুল হক মোয়াজ
সাইয়্যেদ মোদাব্বিরুল হক মোয়াজ

সাইয়্যেদ মোদাব্বিরুল হক মোয়াজ

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : ছাত্র

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জুলাই আন্দোলনের এক সাহসী যোদ্ধা
পরিচিতি সাইয়্যেদ মোদাব্বিরুল হক মোয়াজ একটি নাম, যা আগামী দিনের সংগ্রামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার দীপশিখা হয়ে থাকবে। ২০০৪ সালের ২৭ মার্চ, ঢাকার সবুজবাগ থানার কদমতলা বাসাবো এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতা মৃত এডভোকেট মুজিবুল হক ছিলেন একজন আদর্শ আইনজীবী, যিনি তার সন্তানদের নৈতিকতা ও আদর্শের পাঠ দিয়ে গড়ে তুলেছিলেন আত্মমর্যাদাশীল মানুষ হিসেবে। মা হালিমা সাদিয়া, একজন হৃদয়বান ও সংগ্রামী নারী, যিনি পরিবারে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং আত্মবিশ্বাসের বীজ বপন করে গেছেন অদম্য ভালোবাসা ও ত্যাগের মাধ্যমে।
তন ভাইয়ের মধ্যে সাইয়্যেদ মোদাব্বিরুল হক মোয়াজ ছিলেন কনিষ্ঠ। বড় ভাই সাইয়্যেদ মুবস্সিরুল হক মুবিন ও মেঝ ভাই সাইয়েদ মুজতাহিদুল হক মুনিম উভয়েই পেশাগত জীবনে প্রতিষ্ঠিত, কিন্তু মোয়াজের জীবন বয়ে এনেছিল এক ভিন্ন প্রবাহ। ছোটবেলা থেকেই সমাজের বৈষম্য, অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তার হৃদয়ে ছিল প্রবল প্রতিবাদী সুর। রাজনৈতিক অন্যায় ও সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে গড়ে উঠেছিল তার এক সচেতন বিবেক। তিনি চিন্তাশীল ছিলেন, কিন্তু কেবল চিন্তায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না, ছিলেন কর্মে বিশ্বাসী। জীবনের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায় শুরু হয় তখন, যখন ফ্যাসিবাদী দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে দেশের রাজপথে নিজের অবস্থান জানান দেন তিনি। মৃত্যুর ভয়, কারারুদ্ধ হওয়ার শঙ্কা, নিপীড়নের নির্মমতা-কিছুই তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। অপ্রতিরোধ্য সাহসী, আপসহীন মননে, তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে এক অনড় সৈনিক হিসেবে। সাইয়্যেদ মোদাব্বিরুল হক মোয়াজের সংগ্রাম কেবল একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ নয় তা ছিল এক আদর্শিক শপথ, এক নৈতিক অভ্যুত্থান। তার জীবন আমাদের শেখায়,সাহস কেবল শব্দ নয়, তা একটি জীবন্ত অবস্থান। আত্মত্যাগ কেবল স্মরণীয় নয়, তা ভবিষ্যতের পথনির্দেশ। আজ যখন আমরা পেছন ফিরে তাকাই, দেখি এই তরুণ যোদ্ধার পদচিহ্ন ছড়িয়ে আছে বাংলাদেশের রাজপথে, বিদ্রোহী চেতনার প্রতিটি বাঁকে। তার সাহসিকতা ও দৃঢ়তার গল্প বাঙালি জাতির সংগ্রামী ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে-একটি দীপ্ত, গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে। সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ: জুলাই আন্দোলনের এক বীরের জবানিতে ১৮ই জুলাই, ২০২৪-এক রক্তাক্ত বিকেল। দিনটি সপ্তাহের একটি সাধারণ দিন হলেও ইতিহাসের পাতায় তা এক বীরত্বগাথা হয়ে থাকবে। সেদিন বিকাল চারটার দিকে আমরা, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকামী বহু সহযোদ্ধা, একত্র হয়েছিলাম ঢাকার বুদ্ধ মন্দির মোড়ে। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, শান্তিপূর্ণভাবে ফ্যাসিবাদী দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আওয়াজ তোলা। কিন্তু শান্তিপূর্ণ সেই সমাবেশ যেন ছিল আওয়ামী সন্ত্রাসীদের জন্য কাঁটা। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের গাড়ি এসে আমাদের ঘিরে ফেলে। আমরা প্রতিবাদ জানাই, বলি, ”এই দেশ কোনো একক গোষ্ঠীর নয়, এ দেশের মালিক জনগণ।” কিন্তু তাদের কানে তখন গণতন্ত্র নয় বরং সন্ত্রাসের সুর বেজে উঠছিল। হঠাৎ করেই শুরু হয় এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ। চারপাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যায়, বাতাসে মিশে যায় বারুদের গন্ধ আর রক্তের আঁচ। আমি পালানোর সুযোগ পাইনি-গুলি এসে লাগে আমার নাক ও হাতে, একাধিকবার। ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলেও আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি নি। আশপাশে দেখি আরও অনেক ভাই রক্তাক্ত, কেউ কেউ নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে। সেই চরম মুহূর্তে আমাদের জন্য কোনো সরকারি চিকিৎসার দ্বার খোলা ছিল না। হাসপাতালগুলোতে ছিল নজরদারি ও গ্রেফতারের আশঙ্কা। তাই বাধ্য হয়ে একটি ছোট প্রাইভেট চেম্বারে গিয়ে চিকিৎসা নেই, যেখানে একজন সাহসী চিকিৎসক (নূরুন্নবী) জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমার জরুরি চিকিৎসা দেন। এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায়,আওয়ামী সন্ত্রাসীরা কেবল রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করেনি, তারা মানুষের মৌলিক অধিকার-প্রাণ, স্বাস্থ্য ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপরও বর্বরভাবে হামলা চালিয়েছে। সরকার নিয়ন্ত্রিত বাহিনীর হাতে সেদিন যে সন্ত্রাস চালানো হয়েছিল,তা ছিল কোনো আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নয় তা ছিল এক ফ্যাসিবাদী শাসকের নগ্ন ও পৈশাচিক রূপ।
আমার মতো অসংখ্য তরুণ সেদিন গুলিবিদ্ধ হয়েছিল, নিপীড়নের শিকার হয়েছিল, তবুও কেউ মাথা নত করেনি। কারণ আমরা জানি, রক্ত কখনো বৃথা যায় না। সেই রক্তই ইতিহাসের অমোচনীয় সাক্ষ্য হয়ে থাকবে- একদিন, গণতন্ত্র যখন ফিরে আসবে, এই রক্তই হবে তার ভিত্তি। চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা ১৮ই জুলাইয়ের সেই বিভীষিকাময় বিকেলে, পুলিশের গুলিতে আমার নাক ও হাতে একাধিক গুলি লাগে। মুহূর্তেই শরীর ভরে যায় রক্তে, প্রচণ্ড যন্ত্রণায় দিশেহারা হয়ে পড়ি। কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, কোনো সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার সুযোগ ছিল না; চারদিকে ঘিরে ছিল গ্রেফতার ও হয়রানির শঙ্কা। বাধ্য হয়ে আশপাশে নিরাপদ কোনো চিকিৎসার খোঁজ করতে হয়। তখন সহযোদ্ধাদের সহায়তায় আমাকে দ্রুত কদমতলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে অবস্থিত একটি প্রাইভেট চেম্বারে নেয়া হয়, যেখানে একজন সাহসী চিকিৎসক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমার জরুরি চিকিৎসা দেন। সেই রাতটা যেন মৃত্যুর সাথে লড়াইয়ের এক নির্মম অধ্যায়। আজও আমার শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছি সেই গুলির চিহ্ন, যা শুধু একটি আন্দোলনের ক্ষত নয়; তা হলো একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের নির্মমতা ও নির্যাতনের জ্বলন্ত প্রমাণ।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা স্থায়ী ও নিরাপদ চাকরির ব্যবস্থা, চাকরির মাধ্যমে চিকিৎসা ও জীবিকা নিশ্চিতকরণ, পারিবারিক দায়িত্ব বিবেচনায় মানবিক সহায়তা।
এক নজরে সাইয়্যেদ মোদাব্বিরুল হক মোয়াজ
নাম : সাইয়্যেদ মোদাব্বিরুল হক মোয়াজ
জন্ম তারিখ : ২৭/০৩/২০০৪
জন্মস্থান : ঢাকা
পেশা : ছাত্র
নিজ জেলা : ঢাকা
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : কদমতলা বাসাবো, সবুজবাগ, ঢাকা পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : মৃত এডভোকেট মুজিবুল হক
পিতার পেশা ও বয়স : মৃত
মায়ের নাম : হালিমা সাদিয়া
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫৩
পারিবারিক অবস্থা : নিম্ন মধ্যবিত্ত
মাসিক আয় : ১৪০০০
আয়ের উৎস : বাসা ভাড়া
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
পারিবারিক তথ্য
১. সাইয়্যেদ মুবাসসিরুল হক মুবিন, বয়স : ৩০, পেশা: চাকরি, শ্রেণি: ১০ম, সম্পর্ক: ভাই
২. সাইয়্যেদ মুজতাহিদুল হক মুনিম, বয়স: ২৬, পেশা: চাকরি, সম্পর্ক: ভাই
আহতের হওয়ার বিবরণ
আহত হওয়ার স্থান : বৌদ্ধ মন্দির রোড, ঢাকা
তারিখ ও সময় : ১৮ জুলাই, ২০২৪, বিকাল ৪.৩০ মিনিটের দিকে আক্রমণকারী : পুলিশ ও আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা আঘাতের ধরণ : নাকে এবং হাতে গুলিবিদ্ধ আঘাতের কারণ : আন্দোলনে অবস্থান করার কারণে চিকিৎসা : প্রাইভেট হাসপাতাল (ডা. নূরুন্নবী), কদমতলা স্কুল এন্ড কলেজের পাশে

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍