হোম / আহতদের তালিকা / মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম
মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম

মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম একজন স্বপ্নবিলাসী, নীতি-নৈতিকতায় গড়ে ওঠা তরুণ। সাধারণ ও ধর্মীয় শিক্ষায় অগ্রসর এই ছাত্রের জীবন থমকে যায় নির্মম রাষ্ট্রীয় সহিংসতার এক কালো দিনে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার সামনে চলছিল কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন। হাজারো প্রতিবাদী মুখের মাঝেই দাঁড়িয়ে ছিলেন সামিউল মনেপ্রাণে দেশপ্রেম, চোখে অধিকার ও স্বাধীনতার স্বপ্ন।

ঠিক সেই মুহূর্তেই ছাদের উপর থেকে সিভিল পোশাকধারী এক বন্দুকধারী সরাসরি গুলি ছোড়ে। সরে যেতে চেষ্টা করলেও গুলি এসে সামিউলের পেটের বাঁ দিক দিয়ে ঢুকে পিঠের ডান দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়, ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দেয় তার তিলি–কলিজা এবং গুরুতর আঘাত করে মেরুদণ্ডে।

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

একটি জীবন্ত স্বপ্নের দুঃস্বপ্ন হয়ে ওঠা দিন
মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম
ক্রমিক: ০১১
আইডি: ঢাকা সিটি ০১১

পরিচিতি
মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম একজন স্বপ্নবিলাসী তরুণ, ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষায় অগ্রসর ছাত্র, যার জীবনচক্র থেমে গেছে এক নির্মম রাজনৈতিক সহিংসতায়। তার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার সময় শুরু হয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে, যখন ঢাকার যাত্রাবাড়ি থানার সামনে চলছিল এক শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন। হাজারো তরুণের মতো ছামিউলও দাঁড়িয়েছিলেন স্বপ্ন, অধিকার আর গণতন্ত্রের পক্ষে। মনের গভীরে দেশপ্রেম, চোখে আগামীর উজ্জ্বল সম্ভাবনা। কিন্তু বিধিবাম! হঠাৎই ছাদের উপর থেকে গুলি চালানো হয়। হ্যাঁ, পুলিশ বাহিনীর পোশাক ছাড়া সিভিল পোশাকে এক অজ্ঞাত বন্দুকধারী সরাসরি তাক করেন। সামিউল চেষ্টা করেন সরে যাওয়ার, দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছানোর, কিন্তু অভাগা যেদিকে যায় সাগর শুকিয়ে যায়, পৌঁছানোর সময় ছামিউল পান নি। একটি গুলি এসে তার পেটের বাঁ পাশ দিয়ে ঢুকে পিঠের ডান দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। গুলিটি তার যকৃৎ (তিলি কলিজা) সম্পূর্ণ ছিন্ন করে এবং মেরুদণ্ডে প্রচণ্ড আঘাত হানে।
আরও মর্মান্তিক, এই গুলিটি শুধু তার দেহই বিদ্ধ করেনি, বরং তার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজন প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীর মাথায় গিয়ে লাগে, যিনি সঙ্গে সঙ্গেই শহীদ হন।
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ১৯ বছরের তরুণ
প্রথমে সামিউলকে গুরুতর অবস্থায় মিটফোর্ড হাসপাতালে নেয়া হয়। জীবন রক্ষার্থে দ্রুত অস্ত্রোপচার করে তার তিলি কলিজা সম্পূর্ণ কেটে ফেলতে হয়। এক মাস ১৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও অবস্থার উন্নতি হয়নি তার। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি চিকিৎসাধীন থাকেন সিএমএইচ, ঢাকা-তে।
এই সময় তার মেরুদণ্ডে ব্যথা তীব্রতর হতে থাকে। চিকিৎসকরা জানান, হাড়ে চিড় এবং অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ইনফেকশনের আশঙ্কা রয়েছে। একসময় হাঁটা-চলার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
বর্তমানে সামিউল বাসায় অবস্থান করছেন। মাঝে মাঝে হাসপাতালের নিয়মিত চেকআপ, থেরাপি ও ওষুধ চালু রয়েছে। কিন্তু প্রতি মুহূর্তে তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে। হাঁটতে গেলে পড়ে যান, শোয়ার সময় ব্যথায় কাতর হন, বসতেও পারেন না দীর্ঘক্ষণ।
একটি পরিবারের সব স্বপ্ন এখন ঋণের ভারে জর্জরিত
সামিউলের পরিবার একেবারেই মধ্যবিত্ত। বাবা মোঃ হুমায়ুন কবির, বয়স ৫৫, একজন চাকরিজীবী। মা মোসাঃ হালিমা কবির, ৪৬ বছর বয়সী গৃহিণী। তাদের তিন সন্তান। বড় ছেলে মোঃ সাজ্জাদ হোসাইন মোবাইল সেলসম্যান হিসেবে কাজ করেন, মেজো ভাই মোঃ হাসিবুল হোসাইন ছাত্র। এই পরিবারের মাসিক মোট আয় মাত্র ২০,০০০ টাকা। অথচ সামিউলের চিকিৎসা, অপারেশন, থেরাপি, বাসা ভাড়া, যাতায়াত ও ওষুধ বাবদ ইতোমধ্যে ব্যয় হয়েছে ৮ লক্ষাধিক টাকা। এই টাকা এসেছে শুধুই ধার করে। আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধ-বান্ধব, এনজিও যার কাছে যতটা সম্ভব হয়েছে, হাত পেতেছে পরিবার। এখন তারা চরম ঋণগ্রস্ত। একটা সময় যে সংসার ছিল সম্মানিত, পরিশ্রমী, গর্বের আজ তা ভেঙে পড়ছে অর্থনৈতিক চাপে। সামিউলের নিজের কথায়-
"আজ আমি পরিবারের বোঝা হয়ে গেছি। নিজেই খরচ জোগাতে পারি না। মা-বাবা শুধু চোখের পানি ফেলেন।"
একটি যন্ত্রণা, যা থামাতে পারছে না তার স্বপ্ন
তিলি কলিজা কাটা, মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়া, শরীরে রক্ত জমাট, ইনফেকশনের ভয় তবুও সামিউল এখনো আশাবাদী। সে চায় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে। পাশাপাশি ছোটখাটো একটি ব্যবসা শুরু করতে, যাতে নিজের ওষুধের খরচ এবং পরিবারের বোঝা নিজেই বহন করতে পারে। সামিউল বলেছেন-
"আমি চাই না আমাকে বোঝা ভাবুক কেউ। আমি এখনও স্বপ্ন দেখি। আমি এই দেশেই ভালো থাকতে চাই।"
পরিবারের আবেদন
সামিউলের পরিবার এখন সমাজের সকল সচেতন, মানবিক ও সহানুভূতিশীল মানুষদের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন,
এই এক সময়ের উজ্জ্বল ছাত্র, আজ আহত, শয্যাশায়ী। তার পাশে দাঁড়ানো মানে একটি পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, একটি জীবনের পাশে দাঁড়ানো।

এক নজরে হাফেজ সামিউল ইসলাম
নাম: মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম
জন্ম তারিখ: ০১-০২-২০১০
ঠিকানা (বর্তমান ও স্থায়ী): শনির আখড়া, গোবিন্দপুর বাজার, দক্ষিণ শেখদি, পোস্ট। দনিয়া, থানা: যাত্রাবাড়ি, ঢাকা
পরিবারের সদস্য: ৫ জন
মাসিক আয়: ২০,০০০ টাকা
ব্যয়িত চিকিৎসা ব্যয়: ৮ লক্ষাধিক টাকা
চলমান চিকিৎসা: থেরাপি, ওষুধ, রেগুলার চেকআপ
বর্তমান পেশাগত অবস্থা অক্ষম, লেখাপড়া বন্ধ, কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন
প্রস্তাবনা: ব্যবসার মূলধন দেওয়া যেতে পারে

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍