হোম / আহতদের তালিকা / মো: মোতাব্বির হোসেন
মো: মোতাব্বির হোসেন

মো: মোতাব্বির হোসেন

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : অটো রিক্সা চালক

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্ম
মো: মোতাব্বির হোসেন ২০০৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন চিন্তাশীল, প্রতিবাদী ও সমাজ সচেতন এক কিশোর, যার মনে অন্যায়, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ছিল প্রবল ঘৃণা।
পারিবারিক জীবন মোতাব্বিরের পিতা মো: জালাল (৫৫) একজন দিনমজুর। কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তিনি পরিবার চালান এবং সন্তানদের সৎ ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তাঁর মা শাহানা বেগম (৩৮) একজন নিঃস্বার্থ ও মমতাময়ী নারী, যিনি পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মধ্যে নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও আত্মবিশ্বাসের বীজ বপন করে চলেছেন। মোতাব্বির ২ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে অন্যতম। বড় ভাই সুজন একজন কারখানার শ্রমিক এবং বোন রোজিনা (১৮) একজন গার্মেন্টস কর্মী। ছোট দুই বোনের মধ্যে সুজিনা (১২) পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে এবং ছোট বোন ফাহিমা মাত্র দেড় বছর বয়সী। কর্ম জীবন অল্প বয়সেই মোতাব্বির শ্রমজীবনে প্রবেশ করেন এবং একজন শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তাঁর নিজের জীবনের কষ্ট ও সংগ্রাম থেকেই তিনি সমাজের বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠেন। জীবিকার তাগিদে শ্রম দিলেও তিনি কখনো সমাজ ও রাষ্ট্র নিয়ে ভাবা থেকে বিরত থাকেননি। সংগ্রামী জীবন ছোটবেলা থেকেই মোতাব্বির ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তিনি সবসময় গভীর মননে চিন্তা করতেন সমাজের অসঙ্গতি ও রাষ্ট্রের ফ্যাসিবাদী আচরণের বিরুদ্ধে। তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায় শুরু হয় যখন তিনি সরাসরি রাজপথে ফ্যাসিবাদী দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ভয়, নিপীড়ন কিংবা রক্তাক্ত নিপীড়ন-কোনো কিছুই তাঁকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। এক কিশোর যোদ্ধা হিসেবে তিনি দাঁড়িয়ে যান মুক্তি ও ন্যায়ের পক্ষে। তাঁর সাহস, আত্মত্যাগ ও দৃঢ়চেতা মানসিকতা শুধু এই প্রজন্ম নয়,আগামী বহু প্রজন্মকেও প্রেরণা জোগাবে। মো: মোতাব্বির হোসেনের সংগ্রামী জীবন বাঙালির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, মো: মোতাব্বির হোসেন তার বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। এ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সমাজে চলমান বৈষম্য, নিপীড়ন ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা।তবে আন্দোলনস্থলে পৌঁছানোর পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের উপর বিনা উসকানিতে নির্বিচারে গুলি চালায়। বিকাল আনুমানিক ৪টা নাগাদ যাত্রাবাড়ি পকেট গেট এলাকায় পুলিশের ছোড়া গুলির একটি মোতাব্বিরের ডান চোখে এসে লাগে। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।
তাৎক্ষণিকভাবে আন্দোলনরত সাহসী সহযোদ্ধারা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়।
এই নির্মম ঘটনা শুধুমাত্র মোতাব্বিরের ওপরই নয়, একটি প্রজন্মের ওপর রাষ্ট্রীয় সহিংসতার নগ্ন প্রয়োগের এক মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে আছে। চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা আওয়ামী দমননীতির নির্মম শিকার মো: মোতাব্বির হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়ার পর সহযোদ্ধারা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর শুরু হয় চিকিৎসা ব্যবস্থার আরেক নিষ্ঠুর অধ্যায়।রক্তাক্ত, অচেতন, চোখে গুলিবিদ্ধ এই কিশোর যোদ্ধাকে দীর্ঘসময় বসিয়ে রাখা হয় চিকিৎসা না দিয়ে। রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত তাকে চিকিৎসা না দিয়ে অবহেলার মধ্যে রাখা হয়-যা কোনো মানবিক রাষ্ট্রের পক্ষে কল্পনাও করা যায় না। অবশেষে গভীর রাতে তার প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হয়। এরপর টানা ৭ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকেন তিনি। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তাকে স্থানান্তর করা হয় ঢাকার শ্যামলী এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি হাসপাতালে, যেখানে তিনি চিকিৎসার বাকি অংশ গ্রহণ করেন। এই পুরো চিকিৎসা-প্রক্রিয়া শুধু রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার উদাসীনতা নয়, বরং আওয়ামী শাসনের মানবতা-বিরোধী পাশবিকতার জ্বলš প্রমাণ। একজন কিশোরের প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা একটি দমনমূলক শাসনের চেহারাকে নগ্নভাবে উন্মোচন করে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা পূর্ণ চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তা, দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা, চিকিৎসা ব্যয়ের আর্থিক সহায়তা, নিয়মিত ফলোআপ ও মেডিকেল মনিটরিং। পূর্বে কি ধরণের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন: অটোরিক্সা ভাড়া নিয়ে চালাতেন। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা চাকরি বা ব্যবসার মাধ্যমে চিকিৎসা ও জীবিকা নিশ্চিতকরণ, পারিবারিক দায়িত্ব বিবেচনায় মানবিক সহায়তা।

এক নজরে মো: মোতাব্বির হোসেন
ইাম : মোঃ মোতাব্বির হোসেন
জন্ম তারিখ : ২৪-০২-২০০৭
জন্মস্থান : হবিগঞ্জ
পেশা : অটো রিক্সা চালক
নিজ জেলা : হবিগঞ্জ
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: হোসেনপুর, ইউনিয়ন: মুরাদপুর, থানা: বানিয়াচং, জেলা: হবিগঞ্জ
বর্তমান ঠিকানা : গোবিন্দপুর, শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : জালাল
পিতার পেশা ও বয়স দিনমজুর, ৫৫
মায়ের নাম : শাহানা
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৩৮
মাসিক আয় : ১০০০০
আয়ের উৎস : দিনমজুর
বাড়ির বিবরণ : ভাড়া বাসায়
সম্পদের পরিমাণ : নেই
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৭ জন
ভাইবোনদের নাম
১. রুজিনা, বয়স: ১৮ পেশা: গার্মেন্টস কর্মী, সম্পর্ক: বোন
২. সুজন, বয়স: ১৪ পেশা: কারখানা শ্রমিক, সম্পর্ক: ভাই
৩. সুজিনা, বয়স: ১২ পেশা: ছাত্রী, শ্রেণি: ৫ম, সম্পর্ক: বোন
৪. ফাহিমা, বয়স: ১.৬, সম্পর্ক: বোন
আহতের চিত্র
আহত হওয়ার স্থান
: ঢাকার যাত্রাবাড়ী পকেট গেইট এলাকায়
তারিখ ও সময়
: ১৮ জুলাই, ২০২৪, বিকাল ৪.০০ মিনিটের দিকে
আক্রমণকারী
: পুলিশ ও আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসী কর্তৃক
আঘাতের ধরণ
: ডান চোখে গুলি লাগে
চিকিৎসা
: প্রথমে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল এবং শ্যামলী হাসপাতাল থেকে
বর্তমান অবস্থা
: ডান চোখে ভালো ভাবে দেখতে পারেন না

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍