সিফায়েত হোসেন
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : ছাত্র
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
আওয়ামী ফ্যাসিবাদের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা লাঠিসোটা ইট-পাথর নিয়ে আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে
সিফায়েত হোসেন পেশা: ছাত্র, কানেডিয়ান ইউনিভার্সিটি অভ বাংলাদেশ ক্রমিক: ১২২ আইডি: ঢাকা বিভাগ ১২২
জন্ম সাহস ও প্রতিজ্ঞার প্রতীক সিফায়েত হোসেন জন্মগ্রহণ করেন ২০০১ সালের ১৭ এপ্রিল,লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের হাসন্দী নামক এক নিভৃত পল্লিতে। জন্মের ক্ষণ থেকেই যেন তাঁর ভেতর গড়ে উঠছিল এক অপরাজেয় চেতনা-যা পরবর্তীতে তাঁকে রাজপথের নির্ভীক যোদ্ধায় রূপান্তরিত করবে।
পারিবারিক জীবন সিফায়েত বেড়ে ওঠেন একটি শ্রমজীবী অথচ আদর্শনিষ্ঠ পরিবারে। তাঁর পিতা আহসান হাবীব, একজন পরিশ্রমী ব্যবসায়ী ছিলেন; যাঁর ঘামে ভেজা রুটিতেই চলেছিল পরিবারের চাকা, তিনি একে একে ছেলে মেয়েদের মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলেছেন। আর মা ফরিদা ইয়াছমিন, এক মমতাময়ী নারীর প্রতিচ্ছবি, যিনি ভালোবাসা, নৈতিকতা ও আত্মবিশ্বাসের মাটিতে সন্তানদের চরিত্র গড়েছেন অবিচল নিষ্ঠায়। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সিফায়েত হচ্ছেন কনিষ্ঠ। বড় ভাই কেফায়েত হোসেন,বয়স ৩৮, পেশায় একজন সফল ব্যবসায়ী। বোন ফৌজিয়া, বয়স ৩৩, একজন মানবসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক। এমন এক পরিবারে বড় হয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে সিফায়েতের অন্তরে গড়ে উঠেছে দায়িত্ববোধ, প্রতিবাদী মন এবং সাহসিকতার বীজ। কর্মজীবন সিফায়েত হোসেন উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (ঈঝঊ) বিভাগে। প্রযুক্তির পাঠ নিতে নিতে তিনি খুঁজে পেয়েছেন বাস্তবতার নির্যাস-বৈষম্য, নিপীড়ন, এবং সমাজের নানা অসঙ্গতি। আর তাই ক্লাসরুমের গণ্ডি পেরিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার গভীরে প্রবেশ করেছেন চিন্তার দীপ্ত আলো নিয়ে। সংগ্রামী জীবন শৈশব থেকেই সিফায়েত অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। চারপাশের বৈষম্য, নিপীড়ন ও সমাজের অনাচার তাঁর অন্তরকে ক্ষুব্ধ করত এবং সেই ক্ষোভ ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছিল এক দুর্বার প্রতিবাদে। জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায় শুরু হয় যখন তিনি দেশের রাজপথে ফ্যাসিবাদ ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ান নির্ভীক কণ্ঠে। ভয়, নির্যাতন, কিংবা রক্তপাত; কোনো কিছুই তাঁর অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারেনি। তিনি জানতেন, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো মানে শুধু নিজের দায়িত্ব নয়,বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠা। সিফায়েত হোসেন শুধু একজন তরুণ নয়,তিনি এক আদর্শ; একটি সাহসী প্রজন্মের প্রতীক। তাঁর আত্মত্যাগ, সাহস এবং অবিচল মানসিকতা একদিন বাঙালির ইতিহাসে লেখা থাকবে গৌরবোজ্জ্বল অক্ষরে।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ আমি সিফায়েত হোসেন। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই থেকে আমি সক্রিয়ভাবে নেমে পড়ি রাজপথের ন্যায্য আন্দোলনে-একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে। প্রতিটি মুহূর্ত ছিল যেন অগ্নিপরীক্ষা, আর প্রতিটি শ্বাস ছিল প্রতিরোধের শপথ। ১৯ জুলাই ২০২৪; বাংলার ইতিহাসে আরেকটি রক্তাক্ত দিন। সেদিন রাজপথে চলছিল ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ। হঠাৎ শুরু হয় পুলিশ ও ছাত্রলীগের যৌথ হামলা; ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া, আর তারই এক ভয়ংকর মুহূর্তে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা লাঠিসোটা, ইট-পাথর নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে আমার উপর। দিগ্বিদিক জ্ঞান হারানোর আগ মুহূর্তে আমি বুঝতে পারি, তারা শুধু আমার শরীর নয়, ভেঙে দিতে চাইছে আমার প্রতিবাদী চেতনাকেও। এরপর আসে ভয়াবহতম পর্বটি; পুলিশ এসে আমাকে ধরে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসীদের আঘাতে রক্তাক্ত আমি তখনও দাঁড়িয়ে ছিলাম প্রতিরোধের দৃঢ়তায়, কিন্তু সেই দৃঢ়তাকেই চিরতরে থামিয়ে দিতে আমার হাঁটুতে সরাসরি গুলি করা হয়। গুলির আঘাতে আমার হাঁটুর হাড় খুলে বাইরে পড়ে যায়; শরীর নিস্তেজ হয়ে যায়,আর আমি অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। আমার সহযোদ্ধারা ছুটে আসে। রক্তাক্ত দেহটা কাঁধে তুলে নিয়ে তারা দ্রুত পৌঁছে দেয় আমাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানান,হাঁটুর হাড় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। একটুও দেরি হলে পুরো পা-ই নষ্ট হয়ে যেতে পারতো। এই হামলা ছিল শুধু একটি তরুণের ওপর নয়,এটি ছিল গোটা প্রজন্মের উপর আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বর্বর চড়াও। আমার শরীর আজো বয়ে বেড়াচ্ছে সেই পাশবিক নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন, কিন্তু আমার মনোবল আজও অটুট; কারণ আমি জানি, ইতিহাস কখনও নীরব থাকেনা। আমি শুধু একজন আহত যোদ্ধা নই; আমি জুলাই বিদ্রোহের এক জীবন্ত দলিল। আমার রক্ত, আমার হাড়, আমার কষ্ট; সবই একদিন সাক্ষ্য দেবে, কীভাবে একটি প্রজন্ম রুখে দাঁড়িয়েছিল একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে। চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা আহত হওয়ার পর আমার অচেতন দেহ সহযোদ্ধারা রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত নিয়ে যান ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে। সেখানে শুরু হয় এক দীর্ঘ ও বেদনাময় চিকিৎসা-যাত্রা। শারীরিক অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক; হাঁটুর হাড় ছিন্নভিন্ন, মাথায় প্রচণ্ড জখম,শরীর রক্তশূন্য। চিকিৎসকরা অবিলম্বে আমার শারীরিক পরীক্ষা করে জানান, অবস্থা অত্যন্ত জটিল। আমাকে বাঁচাতে এবং হাঁটু ও মাথার মারাত্মক জখম সামাল দিতে পরপর ৯ বার অপারেশন করতে হয়; কখনও হাঁটুতে, কখনও মাথায়। প্রতিটি অস্ত্রোপচার যেন ছিল একেকটি মৃত্যুকে ঠেলে ফেরানোর যুদ্ধ। দীর্ঘদিন হাসপাতালের বিছানায় কাটে অচল, অবশ এক শরীর নিয়ে। অপারেশনের পরও আজও আমি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারিনি। হাঁটু এখনো ভাঁজ হয় না, পায়ে লেগে আছে প্যারালাইসিসের ছাপ,যা আমাকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করেছে। চিকিৎসা চলেছে শুধু শরীরের জন্য নয়, মনেও গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। এই শারীরিক যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে প্রতিদিন। তবে আমার বিশ্বাস, এই যন্ত্রণা একদিন হয়ে উঠবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সত্যের সাক্ষ্য। অর্থনৈতিক বর্ণনা বাবা বেকার,বড় ভাই পুরা পরিবার চালায়, ধার দেনা আর আত্মীয়স্বজন এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে হেল্প পেয়েছি। চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা পূর্ণ চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তা,দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা, চিকিৎসা ব্যয়ের আর্থিক সহায়তা,নিয়মিত ফলোআপ ও মেডিকেল মনিটরিং। পূর্বে কি ধরণের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন ছাত্র, কানেডিয়ান ইউনিভার্সিটি অভ বাংলাদেশ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা স্থায়ী ও নিরাপদ চাকরির ব্যবস্থা, চাকরির মাধ্যমে চিকিৎসা ও জীবিকা নিশ্চিতকরণ, পারিবারিক দায়িত্ব বিবেচনায় মানবিক সহায়তা।
এক নজরে সিফায়েত হোসেন
নাম : সিফায়েত হোসেন
জন্ম তারিখ : ১৭-০৪-২০০১
জন্মস্থান : লক্ষীপুর
পেশা : ছাত্র
নিজ জেলা : লক্ষীপুর
পেশাগত পরিচয় : ছাত্র,কানেডিয়ান ইউনিভার্সিটি অভ বাংলাদেশ স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: হাসন্দী, ইউনিয়ন: উত্তর হামছাদী, থানা: সদর, জেলা: লক্ষীপুর
বর্তমান ঠিকানা : নিউটাউন, মাতুয়াইল, ডেমরা, ঢাকা
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : আহসান হাবীব
পিতার পেশা ও বয়স : ৬৪
মায়ের নাম : নুর জাহান
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৫
মাসিক আয় : ১০০০০
আয়ের উৎস : বড় ভাইয়ের ব্যবসা
বাড়ির বিবরণ : সেমিপাকা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৭ জন
ভাই বোনদের নাম
১. কেফায়েত হোসেন, বয়স: ৩৮ পেশা: ব্যবসা, সম্পর্ক: ভাই
২. ফৌজিয়া, বয়স: ৩৩ পেশা: ডাক্তার, সম্পর্ক: বোন
৩. রুহান খান, বয়স: ১০ পেশা: ছাত্র, শ্রেণি: ৫ম, সম্পর্ক: ছেলে আহতের চিত্র
আহত হওয়ার স্থান : ঢাকার কদমতলী থানার সামনে
তারিখ ও সময় : ১৯ জুলাই ২০২৪ রাত ৮:৪৫ টায়
আক্রমণকারী : ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ, পুলিশের যৌথ হামলা আঘাতের ধরণ : হাটুতে গুলি লেগে হাড়ের রগ ছিড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে চিকিৎসা : পঙ্গু হাসপাতাল, ঢাকা বর্তমান অবস্থা : পা এখন ভাজ করতে পারেন না। তিনি ভারি কোন কাজ করতে পারেন না সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে যেতে হলে নিয়মিত ওষুধ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত জরুরি
সিফায়েত হোসেন পেশা: ছাত্র, কানেডিয়ান ইউনিভার্সিটি অভ বাংলাদেশ ক্রমিক: ১২২ আইডি: ঢাকা বিভাগ ১২২
জন্ম সাহস ও প্রতিজ্ঞার প্রতীক সিফায়েত হোসেন জন্মগ্রহণ করেন ২০০১ সালের ১৭ এপ্রিল,লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের হাসন্দী নামক এক নিভৃত পল্লিতে। জন্মের ক্ষণ থেকেই যেন তাঁর ভেতর গড়ে উঠছিল এক অপরাজেয় চেতনা-যা পরবর্তীতে তাঁকে রাজপথের নির্ভীক যোদ্ধায় রূপান্তরিত করবে।
পারিবারিক জীবন সিফায়েত বেড়ে ওঠেন একটি শ্রমজীবী অথচ আদর্শনিষ্ঠ পরিবারে। তাঁর পিতা আহসান হাবীব, একজন পরিশ্রমী ব্যবসায়ী ছিলেন; যাঁর ঘামে ভেজা রুটিতেই চলেছিল পরিবারের চাকা, তিনি একে একে ছেলে মেয়েদের মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলেছেন। আর মা ফরিদা ইয়াছমিন, এক মমতাময়ী নারীর প্রতিচ্ছবি, যিনি ভালোবাসা, নৈতিকতা ও আত্মবিশ্বাসের মাটিতে সন্তানদের চরিত্র গড়েছেন অবিচল নিষ্ঠায়। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সিফায়েত হচ্ছেন কনিষ্ঠ। বড় ভাই কেফায়েত হোসেন,বয়স ৩৮, পেশায় একজন সফল ব্যবসায়ী। বোন ফৌজিয়া, বয়স ৩৩, একজন মানবসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক। এমন এক পরিবারে বড় হয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে সিফায়েতের অন্তরে গড়ে উঠেছে দায়িত্ববোধ, প্রতিবাদী মন এবং সাহসিকতার বীজ। কর্মজীবন সিফায়েত হোসেন উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (ঈঝঊ) বিভাগে। প্রযুক্তির পাঠ নিতে নিতে তিনি খুঁজে পেয়েছেন বাস্তবতার নির্যাস-বৈষম্য, নিপীড়ন, এবং সমাজের নানা অসঙ্গতি। আর তাই ক্লাসরুমের গণ্ডি পেরিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার গভীরে প্রবেশ করেছেন চিন্তার দীপ্ত আলো নিয়ে। সংগ্রামী জীবন শৈশব থেকেই সিফায়েত অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। চারপাশের বৈষম্য, নিপীড়ন ও সমাজের অনাচার তাঁর অন্তরকে ক্ষুব্ধ করত এবং সেই ক্ষোভ ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছিল এক দুর্বার প্রতিবাদে। জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায় শুরু হয় যখন তিনি দেশের রাজপথে ফ্যাসিবাদ ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ান নির্ভীক কণ্ঠে। ভয়, নির্যাতন, কিংবা রক্তপাত; কোনো কিছুই তাঁর অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারেনি। তিনি জানতেন, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো মানে শুধু নিজের দায়িত্ব নয়,বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠা। সিফায়েত হোসেন শুধু একজন তরুণ নয়,তিনি এক আদর্শ; একটি সাহসী প্রজন্মের প্রতীক। তাঁর আত্মত্যাগ, সাহস এবং অবিচল মানসিকতা একদিন বাঙালির ইতিহাসে লেখা থাকবে গৌরবোজ্জ্বল অক্ষরে।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ আমি সিফায়েত হোসেন। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই থেকে আমি সক্রিয়ভাবে নেমে পড়ি রাজপথের ন্যায্য আন্দোলনে-একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে। প্রতিটি মুহূর্ত ছিল যেন অগ্নিপরীক্ষা, আর প্রতিটি শ্বাস ছিল প্রতিরোধের শপথ। ১৯ জুলাই ২০২৪; বাংলার ইতিহাসে আরেকটি রক্তাক্ত দিন। সেদিন রাজপথে চলছিল ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ। হঠাৎ শুরু হয় পুলিশ ও ছাত্রলীগের যৌথ হামলা; ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া, আর তারই এক ভয়ংকর মুহূর্তে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা লাঠিসোটা, ইট-পাথর নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে আমার উপর। দিগ্বিদিক জ্ঞান হারানোর আগ মুহূর্তে আমি বুঝতে পারি, তারা শুধু আমার শরীর নয়, ভেঙে দিতে চাইছে আমার প্রতিবাদী চেতনাকেও। এরপর আসে ভয়াবহতম পর্বটি; পুলিশ এসে আমাকে ধরে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসীদের আঘাতে রক্তাক্ত আমি তখনও দাঁড়িয়ে ছিলাম প্রতিরোধের দৃঢ়তায়, কিন্তু সেই দৃঢ়তাকেই চিরতরে থামিয়ে দিতে আমার হাঁটুতে সরাসরি গুলি করা হয়। গুলির আঘাতে আমার হাঁটুর হাড় খুলে বাইরে পড়ে যায়; শরীর নিস্তেজ হয়ে যায়,আর আমি অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। আমার সহযোদ্ধারা ছুটে আসে। রক্তাক্ত দেহটা কাঁধে তুলে নিয়ে তারা দ্রুত পৌঁছে দেয় আমাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানান,হাঁটুর হাড় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। একটুও দেরি হলে পুরো পা-ই নষ্ট হয়ে যেতে পারতো। এই হামলা ছিল শুধু একটি তরুণের ওপর নয়,এটি ছিল গোটা প্রজন্মের উপর আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বর্বর চড়াও। আমার শরীর আজো বয়ে বেড়াচ্ছে সেই পাশবিক নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন, কিন্তু আমার মনোবল আজও অটুট; কারণ আমি জানি, ইতিহাস কখনও নীরব থাকেনা। আমি শুধু একজন আহত যোদ্ধা নই; আমি জুলাই বিদ্রোহের এক জীবন্ত দলিল। আমার রক্ত, আমার হাড়, আমার কষ্ট; সবই একদিন সাক্ষ্য দেবে, কীভাবে একটি প্রজন্ম রুখে দাঁড়িয়েছিল একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে। চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা আহত হওয়ার পর আমার অচেতন দেহ সহযোদ্ধারা রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত নিয়ে যান ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে। সেখানে শুরু হয় এক দীর্ঘ ও বেদনাময় চিকিৎসা-যাত্রা। শারীরিক অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক; হাঁটুর হাড় ছিন্নভিন্ন, মাথায় প্রচণ্ড জখম,শরীর রক্তশূন্য। চিকিৎসকরা অবিলম্বে আমার শারীরিক পরীক্ষা করে জানান, অবস্থা অত্যন্ত জটিল। আমাকে বাঁচাতে এবং হাঁটু ও মাথার মারাত্মক জখম সামাল দিতে পরপর ৯ বার অপারেশন করতে হয়; কখনও হাঁটুতে, কখনও মাথায়। প্রতিটি অস্ত্রোপচার যেন ছিল একেকটি মৃত্যুকে ঠেলে ফেরানোর যুদ্ধ। দীর্ঘদিন হাসপাতালের বিছানায় কাটে অচল, অবশ এক শরীর নিয়ে। অপারেশনের পরও আজও আমি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারিনি। হাঁটু এখনো ভাঁজ হয় না, পায়ে লেগে আছে প্যারালাইসিসের ছাপ,যা আমাকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করেছে। চিকিৎসা চলেছে শুধু শরীরের জন্য নয়, মনেও গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। এই শারীরিক যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে প্রতিদিন। তবে আমার বিশ্বাস, এই যন্ত্রণা একদিন হয়ে উঠবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সত্যের সাক্ষ্য। অর্থনৈতিক বর্ণনা বাবা বেকার,বড় ভাই পুরা পরিবার চালায়, ধার দেনা আর আত্মীয়স্বজন এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে হেল্প পেয়েছি। চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা পূর্ণ চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তা,দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা, চিকিৎসা ব্যয়ের আর্থিক সহায়তা,নিয়মিত ফলোআপ ও মেডিকেল মনিটরিং। পূর্বে কি ধরণের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন ছাত্র, কানেডিয়ান ইউনিভার্সিটি অভ বাংলাদেশ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা স্থায়ী ও নিরাপদ চাকরির ব্যবস্থা, চাকরির মাধ্যমে চিকিৎসা ও জীবিকা নিশ্চিতকরণ, পারিবারিক দায়িত্ব বিবেচনায় মানবিক সহায়তা।
এক নজরে সিফায়েত হোসেন
নাম : সিফায়েত হোসেন
জন্ম তারিখ : ১৭-০৪-২০০১
জন্মস্থান : লক্ষীপুর
পেশা : ছাত্র
নিজ জেলা : লক্ষীপুর
পেশাগত পরিচয় : ছাত্র,কানেডিয়ান ইউনিভার্সিটি অভ বাংলাদেশ স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: হাসন্দী, ইউনিয়ন: উত্তর হামছাদী, থানা: সদর, জেলা: লক্ষীপুর
বর্তমান ঠিকানা : নিউটাউন, মাতুয়াইল, ডেমরা, ঢাকা
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : আহসান হাবীব
পিতার পেশা ও বয়স : ৬৪
মায়ের নাম : নুর জাহান
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৫
মাসিক আয় : ১০০০০
আয়ের উৎস : বড় ভাইয়ের ব্যবসা
বাড়ির বিবরণ : সেমিপাকা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৭ জন
ভাই বোনদের নাম
১. কেফায়েত হোসেন, বয়স: ৩৮ পেশা: ব্যবসা, সম্পর্ক: ভাই
২. ফৌজিয়া, বয়স: ৩৩ পেশা: ডাক্তার, সম্পর্ক: বোন
৩. রুহান খান, বয়স: ১০ পেশা: ছাত্র, শ্রেণি: ৫ম, সম্পর্ক: ছেলে আহতের চিত্র
আহত হওয়ার স্থান : ঢাকার কদমতলী থানার সামনে
তারিখ ও সময় : ১৯ জুলাই ২০২৪ রাত ৮:৪৫ টায়
আক্রমণকারী : ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ, পুলিশের যৌথ হামলা আঘাতের ধরণ : হাটুতে গুলি লেগে হাড়ের রগ ছিড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে চিকিৎসা : পঙ্গু হাসপাতাল, ঢাকা বর্তমান অবস্থা : পা এখন ভাজ করতে পারেন না। তিনি ভারি কোন কাজ করতে পারেন না সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে যেতে হলে নিয়মিত ওষুধ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত জরুরি
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍