আসাদুজ্জামান
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : চাকরি
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
তার পিতা মো. আলাল (৫২), একজন সৎ ও সংগ্রামী ব্যবসায়ী, জীবনের কঠিন বাস্তবতা অতিক্রম করে নিজের ঘরকে ভালোবাসা আর আদর্শের এক নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত করেন। আসাদুজ্জামান তাঁর বাবার কাছে পেয়েছেন কঠোর পরিশ্রমের শিক্ষা, আত্মমর্যাদার বোধ এবং ন্যায়কে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার দৃঢ়তা। অপরদিকে, তাঁর মা মোছা. সাবিনা (৪৫), ছিলেন নিঃস্বার্থ স্নেহের অবিচল প্রতীক। সন্তানদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল যেন নদীর মতো অবিরাম, শীতল আর গভীর। তিনি সন্তানদের হৃদয়ে বপন করেছিলেন মূল্যবোধ, মানবিকতা ও সহমর্মিতার বীজ।
দুই ভাই-বোনের ছোট পরিবারে আসাদুজ্জামান বড় হয়েছেন এক বোনের ছায়ায়। তাঁর বোন আপনা আক্তার, বিবাহিত, নিজের সংসারে প্রতিষ্ঠিত হলেও ভাইয়ের সংগ্রামী যাত্রার প্রতি ছিল তাঁর অগাধ ভালোবাসা ও গর্ব।
ছাত্র-জীবনের সাদামাটা অথচ সংহত নির্মাণ
ছাত্রজীবনে আসাদুজ্জামান ছিলেন একদম সাধারণ, কিন্তু তাঁর চিন্তা-ভাবনা ছিল অসাধারণ। তিনি অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে। প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে নিজের জায়গা করে নেয়ার প্রত্যয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, কিন্তু তাঁর জীবনের গন্তব্য শুধু একটি চাকরি ছিল না। তিনি বুঝতেন, জীবনের মানে কেবল নিজের জন্য নয়, সমাজ ও জাতির জন্য ও কিছু করার মধ্যেই নিহিত।
শিক্ষা জীবনে তিনি ছিলেন মিশুক, নম্র এবং দায়িত্বশীল। ক্লাসের সহপাঠীরা তাঁকে শুধু একজন ভালো বন্ধু হিসেবেই জানত না, একজন নির্ভরতার প্রতীক হিসেবেও মানত। তাঁকে যারা একবার চিনেছেন, ভুলতে পারেননি। কারণ তাঁর অন্তরের সাহস ছিল অসাধারণ।
বিপ্লবী জীবনের সূর্যোদয়
জীবনের গভীর থেকে উঠে আসা দায়বদ্ধতা তাঁকে নিয়ে আসে ইতিহাসের পাতায় লেখা এক সাহসী আন্দোলনের মুখপাত্র। ২০২৪ সালের জুলাই হিসেবে যখন ছাত্র-জনতা রুখে দাঁড়িয়েছিল ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে, তখন আসাদুজ্জামান ছিলেন সেই প্রথম সারির তরুণদের একজন, যারা বুক পেতে দিয়েছিলেন পুলিশের গুলি, লাঠি আর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের সামনে। তিনি বুঝতেন, এই দেশ, এই স্বাধীনতা, এই গণতন্ত্র কোনো একক নেতার সম্পত্তি নয়। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে, শোষণের শৃঙ্খল ভাঙতে হলে কাউকে না কাউকে ঝাঁপিয়ে পড়তেই হয়। সে দায়িত্ব তিনি কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন নির্ভয়ে ও নিঃসংকোচে।
আসাদুজ্জামান কখনো সস্তা প্রচারের জন্য রাজনীতি করতেন না, বরং আত্মত্যাগের সাহসে বিশ্বাস করতেন। তাঁর ভাষায়-“আমি মাঠে নেমেছি যেন আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা না যায়, যেন আগামী প্রজন্ম আবারো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে এক আলোকবর্তিকা, এক উত্তরাধিকার। আসাদুজ্জামান যিনি আমাদের শিখিয়ে যান, কীভাবে এক সাধারণ ঘরের সন্তান অসাধারণ আদর্শে জ্বলতে পারে দীপ্তমশাল হয়ে। তাঁর জীবন যেন আমাদের জানিয়ে দেয়— যে হৃদয়ে সাহস থাকে, যে চোখে থাকে স্বপ্ন, আর যে কণ্ঠে থাকে প্রতিবাদের গান, সেই মানুষটিই হয়ে ওঠে ইতিহাসের সাক্ষ্য। তিনি শুধু একজন নাম নন, তিনি একটি আন্দোলনের প্রতীক, একটি প্রজন্মের প্রতিজ্ঞা, একটি জাতির আত্মমর্যাদার প্রতিচ্ছবি।
আসাদুজ্জামানের জীবন ইতিহাসের এক দীপ্ত অধ্যায় হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতের সংগ্রামীদের কাছে তিনি হয়ে উঠবেন সাহস, আত্মত্যাগ আর দায়িত্ববোধের এক আদর্শ মূর্তি। তাঁর পদচিহ্ন অনুসরণ করেই বয়ে যাবে আগামী প্রজন্মের মুক্তির অগ্নিস্রোত।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
বিপ্লবী আসাদুজ্জামান বলেন, আমি তখনও জানতাম না, ১৭ জুলাই থেকে যে আন্দোলনে আমরা নামছি, তা এক সময় রক্তের ইতিহাস হয়ে উঠবে। আমি ছিলাম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী— স্বপ্ন দেখতাম একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের, যেখানে প্রশ্ন করা যাবে, কথা বলা যাবে, মাথা উঁচু করে বাঁচা যাবে। ১৮ জুলাই, ২০২৪ সেই সকালটা ছিল প্রতিশ্রুতিময়। আমরা শেরপুর সরকারি কলেজের সামনে জড়ো হচ্ছিলাম। চারপাশে মুখরিত ছিল ছাত্রদের স্লোগান, ন্যায়ের দাবিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হাজারো কণ্ঠ। হঠাৎই আকাশ যেন থমকে গেল— আমাদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে নামল ভয়, নামল রক্তের বিভীষিকা।
শেরপুর কলেজ মোড় ঘিরে ফেলে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। আওয়ামী লীগ ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের লোকজন দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমি স্পষ্ট মনে করতে পারি, ছাত্রলীগের পরিচিত সন্ত্রাসী আব্দুল্লাহ আল-আমিন, যার হাতে ছিল একটি দেশীয় রাইফেল, সে ঠাণ্ডা মাথায় আমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। গুলির শব্দে যেন সব থেমে যায়। আমার শরীর যেন পাথরের মতো ভারি হয়ে পড়ে, চোখের সামনে অন্ধকার। এক, দুই, তিন নয়— আমার বুকে ৩৭ থেকে ৪০টি গুলি বিদ্ধ হয়। তারপর... আমি কিছুই মনে করতে পারি না। আমি অজ্ঞান হয়ে যাই, পড়ে যাই জমিনে। স্থানীয় মানুষজন জীবনপণ সাহস করে আমাকে তুলে নিয়ে যায় শেরপুর সদর হাসপাতালে। তখনও আমার বুক থেকে রক্ত ঝরছিল। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা, ভাইদের সাহস, আর আল্লাহর কৃপায় আমি বেঁচে ফিরি।
আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের রাস্তাঘাট, কলেজ ক্যাম্পাস, এমনকি হাসপাতাল পর্যন্ত পরিণত করেছিল রণক্ষেত্রে। তারা গুলি করেছে নিরস্ত্র ছাত্রদের উপর, নির্মমভাবে পিটিয়েছে প্রতিবাদরত তরুণদের, ভেঙে দিয়েছে স্বপ্ন, নিভিয়ে দিয়েছে সম্ভাবনার প্রদীপ। ছাত্রলীগের মতো একটি ছাত্র সংগঠন, যা একসময় ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, সেই সংগঠন আজ আওয়ামী ফ্যাসিবাদের রক্ষীবাহিনীতে পরিণত হয়েছে। ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় গঠন করেছে এক ভয়ংকর বেসামাল বাহিনী— যারা মানুষ নয়, বরং ক্ষমতার পেছনে পশুর মতো আচরণ করে।
তাদের হাতে দেশীয় রাইফেল, পিস্তল, চাপাতি, লাঠি-সবই বৈধ, কারণ তাদের অপরাধের বিচার নেই, জবাবদিহিতা নেই। তারা চায় ভয় দেখাতে, তারা চায় আন্দোলন থামাতে। কিন্তু তারা জানে না— এক আসাদুজ্জামানকে থামিয়ে হাজার আসাদুজ্জামান জন্ম নেয়।
একটি প্রশ্ন রয়ে যায়...
আজও আমার শরীরে সেই গুলির দাগ বহন করি। প্রতিটি ক্ষত সাক্ষ্য দেয়— এই দেশকে ভালোবেসে আমি লড়েছিলাম। প্রশ্ন করি— এই কি সেই বাংলাদেশ, যার জন্য লাখো প্রাণ দিয়েছিল? ছাত্রদের রক্তে রঞ্জিত যে মাটি, সে মাটিতে আজ কীভাবে ফ্যাসিবাদ এভাবে নাচে? আমার জীবন হয়তো থেমে যেতে পারত। কিন্তু আমি জানি, আমার গুলিবিদ্ধ বুক আজ প্রজন্মের কণ্ঠে রূপ নেবে—সেই কণ্ঠ যা আর কোনোদিন থামবে না।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
গুলির ঝাঁঝালো শব্দ থেমে গেলেও, শরীরের ভেতরে যে আগুন জ্বলে, তা নিভে না এত সহজে। আমি, আসাদুজ্জামান, এখনও প্রতিটি নি:শ্বাসে সেই মুহূর্তের যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছি। এক সাহসী প্রতিবাদী কণ্ঠকে চিরতরে স্তব্ধ করতে যেভাবে গুলি চালানো হয়েছিল, তা শুধু রাজনৈতিক দমন নয়, ছিল এক নির্মম হত্যাচেষ্টার নামান্তর। ১৮ জুলাই, ২০২৪ শেরপুর সরকারি কলেজের মোড়ে যখন আমার বুকে গুলি চালানো হয়, তখন স্থানীয়রা আমাকে জীবন-মরণের মাঝখান থেকে তুলে নিয়ে যান শেরপুর সদর হাসপাতালে। সেখানে আমাকে দেওয়া হয় কিছুটা প্রাথমিক চিকিৎসা, কিন্তু চিকিৎসার পরিকাঠামো বা প্রস্তুতি তেমন কিছুই ছিল না এত বড় হামলার জন্য। বিকেল তিনটার দিকে আমাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শরীরের প্রতিটি রক্তকণিকা যেন চিৎকার করছিল। রাত পার করেই পরদিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আমাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়-যেন একজন গুলিবিদ্ধ যুবক কোনো দায় নয়, কোনো দায়িত্ব নয়।
এরপর নেয়া হয় আবেদিন হাসপাতালে, যেখানে কয়েকটি গুলি বের করা হয়। কিন্তু সবগুলো নয়। মাথার ও কোমরের ভেতরে এখনও কিছু গুলি রয়ে গেছে, হাড়ের সঙ্গে মিশে আছে গভীরভাবে। ডাক্তাররা বলেছে, অপারেশন করে তা বের করা সম্ভব কিনা, তা নিশ্চিত নয়। এসব গুলি শুধু শরীরেই নয়, যেন রাষ্ট্রীয় নিষ্ঠুরতার এক জীবন্ত সাক্ষ্য হয়ে রয়ে গেছে। ডাক্তারের নির্দেশে সাত দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার কথা বলা হলেও, সে অনুযায়ী কোনো পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা হয়নি। শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আমাকে যেন মৃত্যুর মুখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রাতে আমার আঙুলে ব্যথা শুরু হয়, সারা শরীরে যন্ত্রণা ছড়িয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে কোমর ও হাতে অসহনীয় ব্যথা হয়, যা আমাকে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয়— আমি গুলি খেয়েছি শুধু প্রতিবাদ করার জন্য, শুধু “ভুল” সময়ে “সত্য” বলার জন্য। চিকিৎসা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় নিস্ক্রিয়তার এক দগদগে দলিল।
একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে, যেখানে একজন নাগরিক গুলিবিদ্ধ হয় সেখানে তার চিকিৎসা হওয়া উচিত সুষ্ঠু, নিরাপদ এবং জরুরি। কিন্তু এখানে চিকিৎসার নামে আমাকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে এক অনিশ্চিত দুঃস্বপ্নের ভেতর। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের আদলে গড়ে ওঠা স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট শাসনের রক্তাক্ত প্রতিচ্ছবি এটাই— যেখানে গুলি করে মারার পরও সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়। আওয়ামী লীগ ও তাদের সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ শুধু গুলি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, তারা চেয়েছে আমার জীবন থেকে সব আশার আলো নিভিয়ে দিতে। চিকিৎসা না হওয়া, হাসপাতালের গাফিলতি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতা সবই যেন পরিকল্পিতভাবে আমাদের শেষ করে দেয়ার চক্রান্ত।
একটি প্রশ্ন রেখে যাই...
আমার শরীরে এখনও গুলি, মাথার ভেতরে, কোমরের হাড়ে। আমি জানি না, এগুলো কখন বের হবে, আদৌ হবে কি না। কিন্তু যতদিন এই শরীর সচল, ততদিন আমি বলে যাব— এই রক্ত ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, এই ক্ষত এক একটি পতাকা, যা বলে-আমরা দমে যাইনি, দমব না ইনশাআল্লাহ।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
পূর্ণ চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তা, অবশিষ্ট গুলিগুলো অপসারণের ব্যবস্থা, দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা, চিকিৎসা ব্যয়ের আর্থিক সহায়তা, নিয়মিত ফলোআপ ও মেডিকেল মনিটরিং।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
স্থায়ী ও নিরাপদ চাকরির ব্যবস্থা, চাকরির মাধ্যমে চিকিৎসা ও জীবিকা নিশ্চিতকরণ, পারিবারিক দায়িত্ব বিবেচনায় মানবিক সহায়তা।
জন্ম কখনো শুধুই একটি তারিখ নয়, কোনো কোনো জন্ম হয়ে ওঠে ইতিহাসের স্রোতে এক জ্বলন্ত প্রদীপের শিখা। তেমনি এক প্রজ্বলিত নাম আসাদুজ্জামান। তিনি জন্মেছিলেন ১৯৯৭ সালের ২ অক্টোবর, শেরপুর জেলার সদর উপজেলার শেরপুর পৌরসভা অন্তর্গত দিঘারপাড় গ্রামে একটি শান্ত, নিরিবিলি জনপদ, যেখানে ভোর আসে পাখির কাকলিতে আর জীবন প্রতিদিনের সংগ্রামে।
এক নজরে আসাদুজ্জামান
নাম : আসাদুজ্জামান
জন্ম তারিখ : ০২-১০-১৯৯৭
জন্মস্থান : শেরপুর
পেশা : চাকরি প্রত্যাশী
নিজ জেলা : শেরপুর
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: দিঘারপাড়া, পৌরসভা: শেরপুর, থানা: শেরপুর, জেলা: শেরপুর
বর্তমান ঠিকানা : ঐ
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : মো. আলাল
পিতার পেশা ও বয়স : ব্যবসায়ী, ৫২
মায়ের নাম : মোছা. সাবিনা
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৫
পারিবারিক অবস্থা : মধ্যবিত্ত
মাসিক আয় : ১৫০০০
আয়ের উৎস : ব্যবসা
বাড়ি : সেমি পাকা
সম্পদ : ৫ শতক পরিমাণ জায়গা আছে
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৭ জন
আহত হওয়ার স্থান ও সময় : শেরপুর সরকারি কলেজের মোড়ে, ১৮ জুলাই ২০২৪, বিকাল ৩.৩০ টা
আক্রমণকারী ও আঘাতকারী : ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী আব্দুল্লাহ আল-আমিন ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মদদপুষ্ট পুলিশ ও যুবলীগ।
দুই ভাই-বোনের ছোট পরিবারে আসাদুজ্জামান বড় হয়েছেন এক বোনের ছায়ায়। তাঁর বোন আপনা আক্তার, বিবাহিত, নিজের সংসারে প্রতিষ্ঠিত হলেও ভাইয়ের সংগ্রামী যাত্রার প্রতি ছিল তাঁর অগাধ ভালোবাসা ও গর্ব।
ছাত্র-জীবনের সাদামাটা অথচ সংহত নির্মাণ
ছাত্রজীবনে আসাদুজ্জামান ছিলেন একদম সাধারণ, কিন্তু তাঁর চিন্তা-ভাবনা ছিল অসাধারণ। তিনি অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে। প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে নিজের জায়গা করে নেয়ার প্রত্যয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, কিন্তু তাঁর জীবনের গন্তব্য শুধু একটি চাকরি ছিল না। তিনি বুঝতেন, জীবনের মানে কেবল নিজের জন্য নয়, সমাজ ও জাতির জন্য ও কিছু করার মধ্যেই নিহিত।
শিক্ষা জীবনে তিনি ছিলেন মিশুক, নম্র এবং দায়িত্বশীল। ক্লাসের সহপাঠীরা তাঁকে শুধু একজন ভালো বন্ধু হিসেবেই জানত না, একজন নির্ভরতার প্রতীক হিসেবেও মানত। তাঁকে যারা একবার চিনেছেন, ভুলতে পারেননি। কারণ তাঁর অন্তরের সাহস ছিল অসাধারণ।
বিপ্লবী জীবনের সূর্যোদয়
জীবনের গভীর থেকে উঠে আসা দায়বদ্ধতা তাঁকে নিয়ে আসে ইতিহাসের পাতায় লেখা এক সাহসী আন্দোলনের মুখপাত্র। ২০২৪ সালের জুলাই হিসেবে যখন ছাত্র-জনতা রুখে দাঁড়িয়েছিল ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে, তখন আসাদুজ্জামান ছিলেন সেই প্রথম সারির তরুণদের একজন, যারা বুক পেতে দিয়েছিলেন পুলিশের গুলি, লাঠি আর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের সামনে। তিনি বুঝতেন, এই দেশ, এই স্বাধীনতা, এই গণতন্ত্র কোনো একক নেতার সম্পত্তি নয়। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে, শোষণের শৃঙ্খল ভাঙতে হলে কাউকে না কাউকে ঝাঁপিয়ে পড়তেই হয়। সে দায়িত্ব তিনি কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন নির্ভয়ে ও নিঃসংকোচে।
আসাদুজ্জামান কখনো সস্তা প্রচারের জন্য রাজনীতি করতেন না, বরং আত্মত্যাগের সাহসে বিশ্বাস করতেন। তাঁর ভাষায়-“আমি মাঠে নেমেছি যেন আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা না যায়, যেন আগামী প্রজন্ম আবারো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে এক আলোকবর্তিকা, এক উত্তরাধিকার। আসাদুজ্জামান যিনি আমাদের শিখিয়ে যান, কীভাবে এক সাধারণ ঘরের সন্তান অসাধারণ আদর্শে জ্বলতে পারে দীপ্তমশাল হয়ে। তাঁর জীবন যেন আমাদের জানিয়ে দেয়— যে হৃদয়ে সাহস থাকে, যে চোখে থাকে স্বপ্ন, আর যে কণ্ঠে থাকে প্রতিবাদের গান, সেই মানুষটিই হয়ে ওঠে ইতিহাসের সাক্ষ্য। তিনি শুধু একজন নাম নন, তিনি একটি আন্দোলনের প্রতীক, একটি প্রজন্মের প্রতিজ্ঞা, একটি জাতির আত্মমর্যাদার প্রতিচ্ছবি।
আসাদুজ্জামানের জীবন ইতিহাসের এক দীপ্ত অধ্যায় হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতের সংগ্রামীদের কাছে তিনি হয়ে উঠবেন সাহস, আত্মত্যাগ আর দায়িত্ববোধের এক আদর্শ মূর্তি। তাঁর পদচিহ্ন অনুসরণ করেই বয়ে যাবে আগামী প্রজন্মের মুক্তির অগ্নিস্রোত।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
বিপ্লবী আসাদুজ্জামান বলেন, আমি তখনও জানতাম না, ১৭ জুলাই থেকে যে আন্দোলনে আমরা নামছি, তা এক সময় রক্তের ইতিহাস হয়ে উঠবে। আমি ছিলাম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী— স্বপ্ন দেখতাম একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের, যেখানে প্রশ্ন করা যাবে, কথা বলা যাবে, মাথা উঁচু করে বাঁচা যাবে। ১৮ জুলাই, ২০২৪ সেই সকালটা ছিল প্রতিশ্রুতিময়। আমরা শেরপুর সরকারি কলেজের সামনে জড়ো হচ্ছিলাম। চারপাশে মুখরিত ছিল ছাত্রদের স্লোগান, ন্যায়ের দাবিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হাজারো কণ্ঠ। হঠাৎই আকাশ যেন থমকে গেল— আমাদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে নামল ভয়, নামল রক্তের বিভীষিকা।
শেরপুর কলেজ মোড় ঘিরে ফেলে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। আওয়ামী লীগ ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের লোকজন দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমি স্পষ্ট মনে করতে পারি, ছাত্রলীগের পরিচিত সন্ত্রাসী আব্দুল্লাহ আল-আমিন, যার হাতে ছিল একটি দেশীয় রাইফেল, সে ঠাণ্ডা মাথায় আমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। গুলির শব্দে যেন সব থেমে যায়। আমার শরীর যেন পাথরের মতো ভারি হয়ে পড়ে, চোখের সামনে অন্ধকার। এক, দুই, তিন নয়— আমার বুকে ৩৭ থেকে ৪০টি গুলি বিদ্ধ হয়। তারপর... আমি কিছুই মনে করতে পারি না। আমি অজ্ঞান হয়ে যাই, পড়ে যাই জমিনে। স্থানীয় মানুষজন জীবনপণ সাহস করে আমাকে তুলে নিয়ে যায় শেরপুর সদর হাসপাতালে। তখনও আমার বুক থেকে রক্ত ঝরছিল। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা, ভাইদের সাহস, আর আল্লাহর কৃপায় আমি বেঁচে ফিরি।
আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের রাস্তাঘাট, কলেজ ক্যাম্পাস, এমনকি হাসপাতাল পর্যন্ত পরিণত করেছিল রণক্ষেত্রে। তারা গুলি করেছে নিরস্ত্র ছাত্রদের উপর, নির্মমভাবে পিটিয়েছে প্রতিবাদরত তরুণদের, ভেঙে দিয়েছে স্বপ্ন, নিভিয়ে দিয়েছে সম্ভাবনার প্রদীপ। ছাত্রলীগের মতো একটি ছাত্র সংগঠন, যা একসময় ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, সেই সংগঠন আজ আওয়ামী ফ্যাসিবাদের রক্ষীবাহিনীতে পরিণত হয়েছে। ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় গঠন করেছে এক ভয়ংকর বেসামাল বাহিনী— যারা মানুষ নয়, বরং ক্ষমতার পেছনে পশুর মতো আচরণ করে।
তাদের হাতে দেশীয় রাইফেল, পিস্তল, চাপাতি, লাঠি-সবই বৈধ, কারণ তাদের অপরাধের বিচার নেই, জবাবদিহিতা নেই। তারা চায় ভয় দেখাতে, তারা চায় আন্দোলন থামাতে। কিন্তু তারা জানে না— এক আসাদুজ্জামানকে থামিয়ে হাজার আসাদুজ্জামান জন্ম নেয়।
একটি প্রশ্ন রয়ে যায়...
আজও আমার শরীরে সেই গুলির দাগ বহন করি। প্রতিটি ক্ষত সাক্ষ্য দেয়— এই দেশকে ভালোবেসে আমি লড়েছিলাম। প্রশ্ন করি— এই কি সেই বাংলাদেশ, যার জন্য লাখো প্রাণ দিয়েছিল? ছাত্রদের রক্তে রঞ্জিত যে মাটি, সে মাটিতে আজ কীভাবে ফ্যাসিবাদ এভাবে নাচে? আমার জীবন হয়তো থেমে যেতে পারত। কিন্তু আমি জানি, আমার গুলিবিদ্ধ বুক আজ প্রজন্মের কণ্ঠে রূপ নেবে—সেই কণ্ঠ যা আর কোনোদিন থামবে না।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
গুলির ঝাঁঝালো শব্দ থেমে গেলেও, শরীরের ভেতরে যে আগুন জ্বলে, তা নিভে না এত সহজে। আমি, আসাদুজ্জামান, এখনও প্রতিটি নি:শ্বাসে সেই মুহূর্তের যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছি। এক সাহসী প্রতিবাদী কণ্ঠকে চিরতরে স্তব্ধ করতে যেভাবে গুলি চালানো হয়েছিল, তা শুধু রাজনৈতিক দমন নয়, ছিল এক নির্মম হত্যাচেষ্টার নামান্তর। ১৮ জুলাই, ২০২৪ শেরপুর সরকারি কলেজের মোড়ে যখন আমার বুকে গুলি চালানো হয়, তখন স্থানীয়রা আমাকে জীবন-মরণের মাঝখান থেকে তুলে নিয়ে যান শেরপুর সদর হাসপাতালে। সেখানে আমাকে দেওয়া হয় কিছুটা প্রাথমিক চিকিৎসা, কিন্তু চিকিৎসার পরিকাঠামো বা প্রস্তুতি তেমন কিছুই ছিল না এত বড় হামলার জন্য। বিকেল তিনটার দিকে আমাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শরীরের প্রতিটি রক্তকণিকা যেন চিৎকার করছিল। রাত পার করেই পরদিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আমাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়-যেন একজন গুলিবিদ্ধ যুবক কোনো দায় নয়, কোনো দায়িত্ব নয়।
এরপর নেয়া হয় আবেদিন হাসপাতালে, যেখানে কয়েকটি গুলি বের করা হয়। কিন্তু সবগুলো নয়। মাথার ও কোমরের ভেতরে এখনও কিছু গুলি রয়ে গেছে, হাড়ের সঙ্গে মিশে আছে গভীরভাবে। ডাক্তাররা বলেছে, অপারেশন করে তা বের করা সম্ভব কিনা, তা নিশ্চিত নয়। এসব গুলি শুধু শরীরেই নয়, যেন রাষ্ট্রীয় নিষ্ঠুরতার এক জীবন্ত সাক্ষ্য হয়ে রয়ে গেছে। ডাক্তারের নির্দেশে সাত দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার কথা বলা হলেও, সে অনুযায়ী কোনো পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা হয়নি। শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আমাকে যেন মৃত্যুর মুখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রাতে আমার আঙুলে ব্যথা শুরু হয়, সারা শরীরে যন্ত্রণা ছড়িয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে কোমর ও হাতে অসহনীয় ব্যথা হয়, যা আমাকে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয়— আমি গুলি খেয়েছি শুধু প্রতিবাদ করার জন্য, শুধু “ভুল” সময়ে “সত্য” বলার জন্য। চিকিৎসা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় নিস্ক্রিয়তার এক দগদগে দলিল।
একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে, যেখানে একজন নাগরিক গুলিবিদ্ধ হয় সেখানে তার চিকিৎসা হওয়া উচিত সুষ্ঠু, নিরাপদ এবং জরুরি। কিন্তু এখানে চিকিৎসার নামে আমাকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে এক অনিশ্চিত দুঃস্বপ্নের ভেতর। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের আদলে গড়ে ওঠা স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট শাসনের রক্তাক্ত প্রতিচ্ছবি এটাই— যেখানে গুলি করে মারার পরও সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়। আওয়ামী লীগ ও তাদের সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ শুধু গুলি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, তারা চেয়েছে আমার জীবন থেকে সব আশার আলো নিভিয়ে দিতে। চিকিৎসা না হওয়া, হাসপাতালের গাফিলতি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতা সবই যেন পরিকল্পিতভাবে আমাদের শেষ করে দেয়ার চক্রান্ত।
একটি প্রশ্ন রেখে যাই...
আমার শরীরে এখনও গুলি, মাথার ভেতরে, কোমরের হাড়ে। আমি জানি না, এগুলো কখন বের হবে, আদৌ হবে কি না। কিন্তু যতদিন এই শরীর সচল, ততদিন আমি বলে যাব— এই রক্ত ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, এই ক্ষত এক একটি পতাকা, যা বলে-আমরা দমে যাইনি, দমব না ইনশাআল্লাহ।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
পূর্ণ চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তা, অবশিষ্ট গুলিগুলো অপসারণের ব্যবস্থা, দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা, চিকিৎসা ব্যয়ের আর্থিক সহায়তা, নিয়মিত ফলোআপ ও মেডিকেল মনিটরিং।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
স্থায়ী ও নিরাপদ চাকরির ব্যবস্থা, চাকরির মাধ্যমে চিকিৎসা ও জীবিকা নিশ্চিতকরণ, পারিবারিক দায়িত্ব বিবেচনায় মানবিক সহায়তা।
জন্ম কখনো শুধুই একটি তারিখ নয়, কোনো কোনো জন্ম হয়ে ওঠে ইতিহাসের স্রোতে এক জ্বলন্ত প্রদীপের শিখা। তেমনি এক প্রজ্বলিত নাম আসাদুজ্জামান। তিনি জন্মেছিলেন ১৯৯৭ সালের ২ অক্টোবর, শেরপুর জেলার সদর উপজেলার শেরপুর পৌরসভা অন্তর্গত দিঘারপাড় গ্রামে একটি শান্ত, নিরিবিলি জনপদ, যেখানে ভোর আসে পাখির কাকলিতে আর জীবন প্রতিদিনের সংগ্রামে।
এক নজরে আসাদুজ্জামান
নাম : আসাদুজ্জামান
জন্ম তারিখ : ০২-১০-১৯৯৭
জন্মস্থান : শেরপুর
পেশা : চাকরি প্রত্যাশী
নিজ জেলা : শেরপুর
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: দিঘারপাড়া, পৌরসভা: শেরপুর, থানা: শেরপুর, জেলা: শেরপুর
বর্তমান ঠিকানা : ঐ
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : মো. আলাল
পিতার পেশা ও বয়স : ব্যবসায়ী, ৫২
মায়ের নাম : মোছা. সাবিনা
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৫
পারিবারিক অবস্থা : মধ্যবিত্ত
মাসিক আয় : ১৫০০০
আয়ের উৎস : ব্যবসা
বাড়ি : সেমি পাকা
সম্পদ : ৫ শতক পরিমাণ জায়গা আছে
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৭ জন
আহত হওয়ার স্থান ও সময় : শেরপুর সরকারি কলেজের মোড়ে, ১৮ জুলাই ২০২৪, বিকাল ৩.৩০ টা
আক্রমণকারী ও আঘাতকারী : ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী আব্দুল্লাহ আল-আমিন ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মদদপুষ্ট পুলিশ ও যুবলীগ।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍