মো. শাহিন আলম
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : গার্মেন্টস কর্মী
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
মো. শাহিন আলম শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলার ছিটপাড়া গ্রামের এক সংগ্রামী তরুণ, যিনি গার্মেন্টস শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। জন্মগ্রহণ করেন ২০০২ সালের ৬ নভেম্বর। শাহিনের পরিবারের সদস্য সংখ্যা চারজন। তার পিতা মো. তারেক হোসেন, বয়স ৪৫, পেশায় একজন ক্ষুদ্র মুদি দোকানদার; মাতা মোছা. ছকিনা খাতুন, বয়স ৪০, একজন গৃহিণী। ছোট বোন তাবাসসুম আক্তার তাইবা, বয়স ৭, বর্তমানে সে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম শাহিন ঢাকার গাজীপুরা-২৭ এলাকার একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। মাসে যা আয় করতেন তা দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণের চেষ্টা করতেন। কিন্তু জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে পুলিশের দমন-পীড়নের শিকার হন তিনি। আন্দোলনে পুলিশের শর্টগানের বুলেটের শিকার হন তিনি। তার পায়ে রাবার বুলেট লাগে এবং গুরুতর জখম হন। এখন কাজ করতে পারেন না।
আওয়ামী দুঃশাসনের করাল গ্রাস
আওয়ামী লীগের দীর্ঘমেয়াদী ১৬ বছরের শাসনকাল ছিল এক ভয়াবহ দুঃশাসনের প্রতীক। যে দল একসময় গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার আর স্বাধীনতার নামে আন্দোলনের গল্প শোনাতো, আজ তারা নিজেরাই প্রমাণ করে দিয়েছে সেসব ছিল কেবল জনগণকে আকৃষ্ট করার মাধ্যম। তারা কখনোই জনগণকে ভালোবাসেনি। ২০০৯ সালে ক্ষমতার মসনদে বসে সমস্ত গণতান্ত্রিক চর্চাকে নিষ্পেষিত করে তুলেছে। একে একে বন্ধ করেছে মুক্ত গণমাধ্যম, বাকস্বাধীনতা আর ন্যায্য প্রতিবাদের পথ। প্রশাসনকে দলীয়করণ করে, পুলিশ ও সরকারি যন্ত্রকে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করে জনগণের ওপর চালিয়েছে দমন-পীড়ন। শান্তিপূর্ণ মিছিল-মিটিংয়ে গুলি, নির্যাতন, গুম, খুন এখন যেন নিত্যদিনের খবর।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাধারণ মানুষ কিংবা গার্মেন্টস কর্মী কেউই তাদের নিপীড়ন থেকে বাদ যায়নি। বাদ যায়নি বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা তাদের নিষ্ঠুর দমননীতির হাত থেকে। নির্বাচনকে কৌশলে নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষমতা ধরে রাখার অভিপ্রায়ে বারবার ভেঙে দেওয়া হয়েছে মানুষের আস্থার ভিত্তি। উন্নয়নের কথা বলে কোটি কোটি টাকা লোপাট, ব্যাংক খাত থেকে অব্যাহত লুটপাট, তরুণদের বেকারত্ব, সব মিলিয়ে দেশের মানুষ এক নিঃশ্বাসে হাসতে ভুলে গিয়েছিল। সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো কারও কোনো অভিযোগ বা বিচার চাওয়ার সুযোগ ছিল না আওয়ামী শাসনকালে। বিচারব্যবস্থা পর্যন্ত সরকারের করায়ত্ত। যার বিরুদ্ধে কথা বলবে, তার গায়েই জামায়াত-শিবির-রাজাকারের তকমা লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই ভয় আর অনিশ্চয়তার পরিবেশে বাংলাদেশ এক নীরব বন্দিশালায় পরিণত হয়েছিল। এই অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতে রাস্তায় নেমেছিল হাজারো জনতা।
অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যোগদানের ঘটনা
আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার পবিত্র আন্দোলনে কেবল শিক্ষার্থীরাই নয়, ঘরে বসে থাকেনি শ্রমজীবী মানুষেরাও। গার্মেন্টস কর্মী মো. শাহিন আলম ছিলেন তাদেরই একজন। শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলার ছিটপাড়ার সন্তান শাহিন কর্মসূত্রে থাকতেন গাজীপুরা-২৭ এলাকায়। প্রতিদিনের কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকেও তিনি হৃদয়ে ধারণ করতেন একটি স্বপ্ন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর, অধিকার আদায়ের। তাই জুলাইয়ের আন্দোলন শুরু হতেই তিনি আর চুপচাপ থাকতে পারেননি। বিশেষ করে যখন দেখলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট ছোট ভাই-বোনেরা রক্তে রাঙিয়ে দিচ্ছে রাজপথ, শহীদ হচ্ছে স্বপ্নেরা; তখনই সিদ্ধান্ত নেন, তিনিও রাজপথে নামবেন।
২০ জুলাই গাজীপুরের রাজপথে নামে হাজারো ছাত্র-জনতা। সংঘর্ষ শুরু হয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশের সাথে। গুলি, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস; সব মিলে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। শাহিনের বোনেরা তাকে বহুবার নিরুৎসাহিত করেছিল, বলেছিল “তুমি যাও না, কাজ করো, ঘরে ফিরো”। কিন্তু শাহিনের হৃদয় তা মানেনি। তিনি যে তখন শুধু একজন গার্মেন্টস শ্রমিক নন, হয়ে উঠেছেন একজন প্রতিবাদী কণ্ঠ, একজন মুক্তির যোদ্ধা।
বিকেল তিনটার দিকে হঠাৎ করেই শুরু হয় পুলিশ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের দিক থেকে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে গুলিবর্ষণ। এক ছুটন্ত মুহূর্তে একটি গুলি এসে সোজা শাহিনের পায়ে লাগে। পুলিশের শর্টগানের বুলেটের শিকার হন তিনি। তার পায়ে রাবার বুলেট লাগে এবং গুরুতর জখম হন।
ছাত্রলীগের ভয়ে চিকিৎসা নিতে পারেননি হাসপাতালগুলোতে
চোখে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর, মো. শাহিন আলম রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে ছাত্র-জনতা ছুটে আসে তার দিকে। সহযোদ্ধারা মিলেদ্রুত তাকে নিয়ে যায় শহরের বাইরের হাসপাতাল জয়দেবপুর তাজউদ্দীন আহমদ
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো. শাহিন আলম
জন্ম : ০৬/১১/২০০২
জন্মস্থান : ছিটপাড়া, নালিতাবাড়ি, শেরপুর
নিজ জেলা : শেরপুর
পেশা : গার্মেন্টস কর্মী
কর্মরত প্রতিষ্ঠান : গার্মেন্টস
স্থায়ী ঠিকানা : ছিটপাড়া, নালিতাবাড়ি, শেরপুর
বর্তমান ঠিকানা : মহাখালী (৭ম তলা)
পিতা : মো. তারেক হোসেন, বয়স: ৪৫
বাবার পেশা : মুদি দোকানদার
মাতা : মোছা. ছকিনা খাতুন, বয়স: ৪০
মায়ের পেশা : গৃহিণী
মাসিক আয় : ১৪ হাজার টাকা
পরিবারের সদস্য : ০৪ জন
ভাই-বোনের তথ্যাদি
১. তাবাসসুম আক্তার তাইবা, বয়স-০৭, সম্পর্ক-বোন, ১ম শ্রেণির শিক্ষার্থী
আক্রমণকারী : পুলিশ
পুনর্বাসনভিত্তিক প্রস্তাবনা
১. মাসিক হারে পুনর্বাসন ভাতা প্রদান।
২. বিশেষ চিকিৎসা সহয়তা ও চোখের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা।
আওয়ামী দুঃশাসনের করাল গ্রাস
আওয়ামী লীগের দীর্ঘমেয়াদী ১৬ বছরের শাসনকাল ছিল এক ভয়াবহ দুঃশাসনের প্রতীক। যে দল একসময় গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার আর স্বাধীনতার নামে আন্দোলনের গল্প শোনাতো, আজ তারা নিজেরাই প্রমাণ করে দিয়েছে সেসব ছিল কেবল জনগণকে আকৃষ্ট করার মাধ্যম। তারা কখনোই জনগণকে ভালোবাসেনি। ২০০৯ সালে ক্ষমতার মসনদে বসে সমস্ত গণতান্ত্রিক চর্চাকে নিষ্পেষিত করে তুলেছে। একে একে বন্ধ করেছে মুক্ত গণমাধ্যম, বাকস্বাধীনতা আর ন্যায্য প্রতিবাদের পথ। প্রশাসনকে দলীয়করণ করে, পুলিশ ও সরকারি যন্ত্রকে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করে জনগণের ওপর চালিয়েছে দমন-পীড়ন। শান্তিপূর্ণ মিছিল-মিটিংয়ে গুলি, নির্যাতন, গুম, খুন এখন যেন নিত্যদিনের খবর।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাধারণ মানুষ কিংবা গার্মেন্টস কর্মী কেউই তাদের নিপীড়ন থেকে বাদ যায়নি। বাদ যায়নি বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা তাদের নিষ্ঠুর দমননীতির হাত থেকে। নির্বাচনকে কৌশলে নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষমতা ধরে রাখার অভিপ্রায়ে বারবার ভেঙে দেওয়া হয়েছে মানুষের আস্থার ভিত্তি। উন্নয়নের কথা বলে কোটি কোটি টাকা লোপাট, ব্যাংক খাত থেকে অব্যাহত লুটপাট, তরুণদের বেকারত্ব, সব মিলিয়ে দেশের মানুষ এক নিঃশ্বাসে হাসতে ভুলে গিয়েছিল। সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো কারও কোনো অভিযোগ বা বিচার চাওয়ার সুযোগ ছিল না আওয়ামী শাসনকালে। বিচারব্যবস্থা পর্যন্ত সরকারের করায়ত্ত। যার বিরুদ্ধে কথা বলবে, তার গায়েই জামায়াত-শিবির-রাজাকারের তকমা লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই ভয় আর অনিশ্চয়তার পরিবেশে বাংলাদেশ এক নীরব বন্দিশালায় পরিণত হয়েছিল। এই অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতে রাস্তায় নেমেছিল হাজারো জনতা।
অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যোগদানের ঘটনা
আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার পবিত্র আন্দোলনে কেবল শিক্ষার্থীরাই নয়, ঘরে বসে থাকেনি শ্রমজীবী মানুষেরাও। গার্মেন্টস কর্মী মো. শাহিন আলম ছিলেন তাদেরই একজন। শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলার ছিটপাড়ার সন্তান শাহিন কর্মসূত্রে থাকতেন গাজীপুরা-২৭ এলাকায়। প্রতিদিনের কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকেও তিনি হৃদয়ে ধারণ করতেন একটি স্বপ্ন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর, অধিকার আদায়ের। তাই জুলাইয়ের আন্দোলন শুরু হতেই তিনি আর চুপচাপ থাকতে পারেননি। বিশেষ করে যখন দেখলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট ছোট ভাই-বোনেরা রক্তে রাঙিয়ে দিচ্ছে রাজপথ, শহীদ হচ্ছে স্বপ্নেরা; তখনই সিদ্ধান্ত নেন, তিনিও রাজপথে নামবেন।
২০ জুলাই গাজীপুরের রাজপথে নামে হাজারো ছাত্র-জনতা। সংঘর্ষ শুরু হয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশের সাথে। গুলি, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস; সব মিলে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। শাহিনের বোনেরা তাকে বহুবার নিরুৎসাহিত করেছিল, বলেছিল “তুমি যাও না, কাজ করো, ঘরে ফিরো”। কিন্তু শাহিনের হৃদয় তা মানেনি। তিনি যে তখন শুধু একজন গার্মেন্টস শ্রমিক নন, হয়ে উঠেছেন একজন প্রতিবাদী কণ্ঠ, একজন মুক্তির যোদ্ধা।
বিকেল তিনটার দিকে হঠাৎ করেই শুরু হয় পুলিশ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের দিক থেকে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে গুলিবর্ষণ। এক ছুটন্ত মুহূর্তে একটি গুলি এসে সোজা শাহিনের পায়ে লাগে। পুলিশের শর্টগানের বুলেটের শিকার হন তিনি। তার পায়ে রাবার বুলেট লাগে এবং গুরুতর জখম হন।
ছাত্রলীগের ভয়ে চিকিৎসা নিতে পারেননি হাসপাতালগুলোতে
চোখে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর, মো. শাহিন আলম রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে ছাত্র-জনতা ছুটে আসে তার দিকে। সহযোদ্ধারা মিলেদ্রুত তাকে নিয়ে যায় শহরের বাইরের হাসপাতাল জয়দেবপুর তাজউদ্দীন আহমদ
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো. শাহিন আলম
জন্ম : ০৬/১১/২০০২
জন্মস্থান : ছিটপাড়া, নালিতাবাড়ি, শেরপুর
নিজ জেলা : শেরপুর
পেশা : গার্মেন্টস কর্মী
কর্মরত প্রতিষ্ঠান : গার্মেন্টস
স্থায়ী ঠিকানা : ছিটপাড়া, নালিতাবাড়ি, শেরপুর
বর্তমান ঠিকানা : মহাখালী (৭ম তলা)
পিতা : মো. তারেক হোসেন, বয়স: ৪৫
বাবার পেশা : মুদি দোকানদার
মাতা : মোছা. ছকিনা খাতুন, বয়স: ৪০
মায়ের পেশা : গৃহিণী
মাসিক আয় : ১৪ হাজার টাকা
পরিবারের সদস্য : ০৪ জন
ভাই-বোনের তথ্যাদি
১. তাবাসসুম আক্তার তাইবা, বয়স-০৭, সম্পর্ক-বোন, ১ম শ্রেণির শিক্ষার্থী
আক্রমণকারী : পুলিশ
পুনর্বাসনভিত্তিক প্রস্তাবনা
১. মাসিক হারে পুনর্বাসন ভাতা প্রদান।
২. বিশেষ চিকিৎসা সহয়তা ও চোখের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍