হোম / আহতদের তালিকা / মো. শাকিল মিয়া
 মো. শাকিল মিয়া

মো. শাকিল মিয়া

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : কারখানা শ্রমিক

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

মো. শাকিল মিয়া
পেশা: কর্মহীন
ক্রমিক: ১৪৭
আইডি: ময়মনসিংহ বিভাগ ০২৪

কিন্তু যারা ন্যায়ের কথা বলে, প্রশ্ন করে, এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, স্বৈরাচারী সরকার তাদের বিরুদ্ধেই লেলিয়ে দেয় নিজস্ব পেটোয়া বাহিনী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে। সারাদেশের সচেতন ছাত্র-ছাত্রীরা কোটার বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে, দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। তারা নিরস্ত্র হয়েও সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন জীবনবাজি রেখে। আন্দোলন দমনে ব্যর্থ হয়ে তৎকালীন সরকার পাখির মতো গুলি চালাতে থাকে ছাত্রদের উপর। সরকারি পুলিশ বাহিনী এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা মিলে তৈরি করে এক বিভীষিকাময় পরিবেশের। শত শত তরুণ হয় আহত, কেউ কেউ চিরতরে নিঃস্ব। হাজারও জনতা তাদের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেয় রাজপথে।
নির্ভীক শাকিল মিয়া
মো. শাকিল মিয়া, শেরপুর জেলার বেপারিপাড়ায় জন্ম নেওয়া একজন প্রাইভেট কোম্পানির চাকরিজীবী। বাবা মো. দুলাল মিয়া, মা মোছা. রাবেয়া খাতুনসহ পরিবারের ৫ সদস্যের ভরণপোষণে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। জীবনের চাকা ঘুরছিল ধীরভাবে, কিন্তু সম্মানের সঙ্গে।
কিন্তু যখন তিনি দেখলেন, তার ভাইয়ের মতো ছাত্ররা স্বৈরাচারের গুলিতে লুটিয়ে পড়ছে মাটিতে, তখন আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি। হাজারো জনতার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তিনিও বেরিয়ে পড়েন রাজপথে। কারণ তিনি মনে করতেন, এই আন্দোলন শুধু ছাত্রদের নয়, এ সমাজের প্রতিটি মানুষের।
নির্বিচারে গুলিবর্ষণ
১৮ জুলাই ২০২৪। উত্তরার আজমপুরে সকাল থেকেই রাজপথে অবস্থান নেয় ছাত্র-জনতা। একটানা সকাল থেকেই প্রতিবাদে যুক্ত ছিলেন শাকিল মিয়া। বিকেল তিনটার দিকে হঠাৎ পুলিশ দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে। শুরু হয় গুলিবর্ষণ। চারপাশে আতঙ্ক আর রক্ত। চিৎকার, আর্তনাদ, ধোঁয়া, রক্ত, প্রতিরোধ— সব একসাথে মিলেমিশে হয় একাকার। অনেকেই মৃত্যুমুখে পতিত হন গুলির আঘাতে। আহত হয় শত শত জনতা। বিকেল ৪.৩০ মিনিটে হঠাৎ গুলিবিদ্ধ হন শাকিল মিয়া। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে, এবং মুহূর্তের মধ্যেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ছাত্ররা তাঁকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে যায় পাশ্ববর্তী ক্রিসেন্ট হাসপাতালে।
চিকিৎসা
ক্রিসেন্ট হাসপাতালে তাকে দেয়া হয় প্রাথমিক চিকিৎসা। এক সপ্তাহ পরও যখন কোনো উন্নতি হয় না, তখন তাকে ময়মনসিংহ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা তাঁর শরীর থেকে প্রায় ১০০টির মতো গুলি বের করেন। কিন্তু এখনো তাঁর শরীরে ২০০টির মতো গুলি রয়ে গেছে। এসব গুলি হাড়ের ভেতর, রগে মাংসপেশিতে ঢুকে আছে। যার যন্ত্রণা তিনি অনুভব করেন প্রতিনিয়ত। রোদে গেলে তীব্র ব্যথা হয়, রগের মধ্যে গুলি থাকায় ঘুমাতে পারেন না। ফিরতে পারেননি স্বাভাবিক জীবনে। মানসিক ও শারীরিক ক্ষত আজও বহন করে চলেছেন।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
বর্তমানে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। অতি শীঘ্রই পুনরায় অপারেশনের মাধ্যমে তার দেহে থাকা গুলি বের করা প্রয়োজন।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
বর্তমানে তিনি একজন কর্মহীন। তার কর্মসংস্থানের জন্য এককালীন আর্থিক অনুদান প্রয়োজন। এছাড়াও তার সন্তানের জন্য শিক্ষাবৃত্তি প্রয়োজন।
প্রস্তাবিত বাজেট
মাসিক শিক্ষাবৃত্তি ১০ হাজার টাকা করে হলে সন্তানের শিক্ষা ও নিজের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে। এছাড়াও স্থায়ী কর্মসংস্থানের জন্য ২ লক্ষ টাকা দেয়া যেতে পারে।

ব্যক্তিগত বিবরণজীবন্ত শহীদ
নাম : মো. শাকিল মিয়া
জন্ম তারিখ : ০৮/০৭/১৯৯৮
জন্মস্থান : বেপারিপাড়া, শেরপুর
পেশা : কারখানা শ্রমিক
নিজ জেলা : শেরপুর
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: বেপারিপাড়া, ইউনিয়ন: রউহা, থানা: শেরপুর সদর, জেলা: শেরপুর
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : মো. দুলাল মিয়া
মায়ের নাম : মোছা. রাবেয়া খাতুন
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী ৪০
পারিবারিক অবস্থা
মাসিক আয় : ১৫ থেকে ২০ হাজার
আয়ের উৎস : মুদি দোকান
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
মো: আবুল মিয়া, পেশায় মুদি দোকানদার, বয়স: ৩৫, সম্পর্ক: ভাই
সাদিয়া জান্নাত ডলি, শিক্ষার্থী, বয়স: ১৭, সম্পর্ক: বোন
আহত হওয়ার স্থান : আজমপুর, উত্তরা
তারিখ ও সময় : ১৮ জুলাই ২০২৪, বিকেল: ৪.৩০
আক্রমণকারী : পুলিশ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍