শহিদ আলীর
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : কাঠমিস্ত্রি
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-তরুণেরা কোটাবিরোধী আন্দোলনে জেগে ওঠে। শিক্ষাগত বৈষম্য, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা রাস্তায় নামে। বিক্ষোভ চলতে থাকে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। কিন্তু হাসিনা সরকার ছাত্রদের যৌক্তিক এই আন্দোলন দমনে নিযুক্ত করে তাদের পেটোয়া বাহিনী ছাত্রলীগ-যুবলীগকে। সেই সাথে পুলিশও নির্বিচারে হামলা চালাতে থাকে ছাত্রদের উপর। জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসে আন্দোলন আরও বেগবান হয়। আন্দোলন দমনে ব্যর্থ হয়ে তৎকালীন সরকার পাখির মতো গুলি চালাতে থাকে ছাত্রদের উপর। সরকারি পুলিশ বাহিনী এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা মিলে তৈরি করে এক বিভীষিকাময় পরিবেশের। শত শত তরুণ হয় আহত, কেউ কেউ চিরতরে নিঃস্ব। হাজারও জনতা তাদের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেয় রাজপথে।
পরিচিতি
মো. শহিদ আলী, জন্ম: ০৫ সেপ্টেম্বর ১৯৮৩, শেরপুর সদরের পশ্চিমশেরি গ্রামে। ছোট থেকেই তার বেড়ে ওঠা সেখানেই। পিতা-মাতা উভয়েই মারা গিয়েছেন বেশ কয়েকবছর আগেই।
শহিদ আলী ছিলেন একজন পরিশ্রমী দিনমজুর, যিনি কাঠমিস্ত্রির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন না, কিন্তু দেশ ও মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল নিঃস্বার্থ ও গভীর। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময়, অন্যায়, দমননীতি আর রাষ্ট্রীয় জুলুম দেখে তিনি চুপ থাকতে পারেননি। তিনিও রাস্তায় নেমেছিলেন, হাজারো ছাত্র-জনতার সঙ্গে একাত্ম হয়ে।
ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন শেরপুর থানা মোড়
৪ আগস্ট ২০২৪। শেরপুর থানা এলাকা। সময়টা বিকেল ৫:৩০ মিনিট।
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, বিকাল ৫.৩০টাব্যক্তিগত বিবরণজুলাইয়ের শেষদিকে আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে। তবে স্বৈরাচারী সরকার যৌথবাহিনী দিয়ে পাড়ায়-মহল্লায় চালাতে থাকে গণ-গ্রেফতার। সরকারের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আগস্টের শুরতে আবার দেশজুড়ে রাজপথ উত্তাল হয়। হাজারো ছাত্র-তরুণ প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে বলে ওঠে: “স্বৈরাচারের পতন চাই”। কিন্তু যারা ন্যায়ের কথা বলে, প্রশ্ন করে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, স্বৈরাচার সরকার তাদের বিরুদ্ধেই লেলিয়ে দেয় নিজস্ব পেটোয়া বাহিনী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে। তবে এবার আর পিছপা হয়নি ছাত্র-জনতা। স্বৈরাচার হাসিনার পতন ঘটিয়ে তবেই ঘরে ফেরে তারা।
সেদিন সকাল থেকেই শহরের থানা মোড় এলাকায় চলছিল ছাত্র-জনতার অবস্থান। স্লোগানে মুখরিত চারদিক। সকলের মুখেই এক কথা— “ভাই হত্যার বিচার চাই”। বিকেলের দিকে হঠাৎ করে পুলিশ অত্যন্ত কাছ থেকে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের উপর। আহত হয় শত শত জনতা। শহিদ আলীর খুব কাছেই এসে পড়ে একটি গ্যাস গ্রেনেড। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তিনি শ্বাস নিতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান রাস্তায়। ধোঁয়ার ভেতরেই অসার হয়ে পড়ে থাকে তাঁর শরীর।
জীবন-মৃত্যুর যুদ্ধ
প্রতিবাদকারী ছাত্র-জনতা দেরি না করে শহিদ আলীকে দ্রুত উদ্ধার করে নিয়ে যায় পাশ্ববর্তী হাসপাতালে। সেখানে তাকে দেয়া হয় প্রাথমিক চিকিৎসা। তবে অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি। এক সপ্তাহ হাসপাতালের বেডে কাটানোর পর বাড়ি ফেরেন তিনি, কিন্তু শারীরিক কষ্ট দিন দিনই বাড়তে থাকে।
পরবর্তীতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ময়মনসিংহ সদর হাসপাতালে, যেখানে চিকিৎসা চলতে থাকে। কিন্তু সেই গ্যাসের প্রভাব এখনো তাঁর শরীর থেকে পুরোপুরি যায়নি। এখনও রৌদ্রে গেলে তীব্র ব্যথা হয়। রগের মধ্যে জ্বালাপোড়া হয়, রাতে ঘুমাতে সমস্যা হয়। এমনকি শ্বাস নিতেও কষ্ট হয় মাঝে মাঝে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
বর্তমানে তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। অতি শীঘ্রই তার শ্বাসযন্ত্রে কোনো জটিল সমস্যা হয়েছে কি না তা নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসাসেবা দেয়া প্রয়োজন।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
তিনি একজন কাঠমিস্ত্রী। তার কর্মসংস্থানের জন্য এককালীন আর্থিক অনুদান দেয়া যেতে পারে। এছাড়াও তার সন্তানের জন্য শিক্ষাবৃত্তি প্রয়োজন।
প্রস্তাবিত বাজেট
মাসিক শিক্ষাবৃত্তি ১০ হাজার টাকা করে হলে সন্তানের শিক্ষা ও নিজের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে। এছাড়াও স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
নাম : মো. শহিদ আলী
জন্ম তারিখ : ০৫/০৯/১৯৮৩
জন্মস্থান : পশ্চিমশেরি, শেরপুর
পেশা : কাঠমিস্ত্রি
নিজ জেলা : শেরপুর
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: পশ্চিমশেরি, ৪ নং ওয়ার্ড, থানা: শেরপুর সদর, জেলা: শেরপুর
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : মো. ইয়াকুব আলী
পিতার পেশা ও বয়স : মৃত
মায়ের নাম : রোকেয়া বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : মৃত
পারিবারিক অবস্থা
মাসিক আয় : ১৫ হাজার
আয়ের উৎস : কাঠমিস্ত্রীর কাজ
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
সন্তানের তথ্যাদি
১. ইমাম মাহদী, পেশা: শিক্ষার্থী, বয়স: ১৪, সম্পর্ক: ছেলে
২. আবদুল্লাহ, পেশা: শিক্ষার্থী, সম্পর্ক: ছেলে
ঘটনার স্থান : শেরপুর থানার সামনে
আক্রমণকারী : পুলিশ
পরিচিতি
মো. শহিদ আলী, জন্ম: ০৫ সেপ্টেম্বর ১৯৮৩, শেরপুর সদরের পশ্চিমশেরি গ্রামে। ছোট থেকেই তার বেড়ে ওঠা সেখানেই। পিতা-মাতা উভয়েই মারা গিয়েছেন বেশ কয়েকবছর আগেই।
শহিদ আলী ছিলেন একজন পরিশ্রমী দিনমজুর, যিনি কাঠমিস্ত্রির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন না, কিন্তু দেশ ও মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল নিঃস্বার্থ ও গভীর। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময়, অন্যায়, দমননীতি আর রাষ্ট্রীয় জুলুম দেখে তিনি চুপ থাকতে পারেননি। তিনিও রাস্তায় নেমেছিলেন, হাজারো ছাত্র-জনতার সঙ্গে একাত্ম হয়ে।
ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন শেরপুর থানা মোড়
৪ আগস্ট ২০২৪। শেরপুর থানা এলাকা। সময়টা বিকেল ৫:৩০ মিনিট।
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, বিকাল ৫.৩০টাব্যক্তিগত বিবরণজুলাইয়ের শেষদিকে আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে। তবে স্বৈরাচারী সরকার যৌথবাহিনী দিয়ে পাড়ায়-মহল্লায় চালাতে থাকে গণ-গ্রেফতার। সরকারের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আগস্টের শুরতে আবার দেশজুড়ে রাজপথ উত্তাল হয়। হাজারো ছাত্র-তরুণ প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে বলে ওঠে: “স্বৈরাচারের পতন চাই”। কিন্তু যারা ন্যায়ের কথা বলে, প্রশ্ন করে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, স্বৈরাচার সরকার তাদের বিরুদ্ধেই লেলিয়ে দেয় নিজস্ব পেটোয়া বাহিনী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে। তবে এবার আর পিছপা হয়নি ছাত্র-জনতা। স্বৈরাচার হাসিনার পতন ঘটিয়ে তবেই ঘরে ফেরে তারা।
সেদিন সকাল থেকেই শহরের থানা মোড় এলাকায় চলছিল ছাত্র-জনতার অবস্থান। স্লোগানে মুখরিত চারদিক। সকলের মুখেই এক কথা— “ভাই হত্যার বিচার চাই”। বিকেলের দিকে হঠাৎ করে পুলিশ অত্যন্ত কাছ থেকে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের উপর। আহত হয় শত শত জনতা। শহিদ আলীর খুব কাছেই এসে পড়ে একটি গ্যাস গ্রেনেড। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তিনি শ্বাস নিতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান রাস্তায়। ধোঁয়ার ভেতরেই অসার হয়ে পড়ে থাকে তাঁর শরীর।
জীবন-মৃত্যুর যুদ্ধ
প্রতিবাদকারী ছাত্র-জনতা দেরি না করে শহিদ আলীকে দ্রুত উদ্ধার করে নিয়ে যায় পাশ্ববর্তী হাসপাতালে। সেখানে তাকে দেয়া হয় প্রাথমিক চিকিৎসা। তবে অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি। এক সপ্তাহ হাসপাতালের বেডে কাটানোর পর বাড়ি ফেরেন তিনি, কিন্তু শারীরিক কষ্ট দিন দিনই বাড়তে থাকে।
পরবর্তীতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ময়মনসিংহ সদর হাসপাতালে, যেখানে চিকিৎসা চলতে থাকে। কিন্তু সেই গ্যাসের প্রভাব এখনো তাঁর শরীর থেকে পুরোপুরি যায়নি। এখনও রৌদ্রে গেলে তীব্র ব্যথা হয়। রগের মধ্যে জ্বালাপোড়া হয়, রাতে ঘুমাতে সমস্যা হয়। এমনকি শ্বাস নিতেও কষ্ট হয় মাঝে মাঝে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
বর্তমানে তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। অতি শীঘ্রই তার শ্বাসযন্ত্রে কোনো জটিল সমস্যা হয়েছে কি না তা নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসাসেবা দেয়া প্রয়োজন।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
তিনি একজন কাঠমিস্ত্রী। তার কর্মসংস্থানের জন্য এককালীন আর্থিক অনুদান দেয়া যেতে পারে। এছাড়াও তার সন্তানের জন্য শিক্ষাবৃত্তি প্রয়োজন।
প্রস্তাবিত বাজেট
মাসিক শিক্ষাবৃত্তি ১০ হাজার টাকা করে হলে সন্তানের শিক্ষা ও নিজের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে। এছাড়াও স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
নাম : মো. শহিদ আলী
জন্ম তারিখ : ০৫/০৯/১৯৮৩
জন্মস্থান : পশ্চিমশেরি, শেরপুর
পেশা : কাঠমিস্ত্রি
নিজ জেলা : শেরপুর
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: পশ্চিমশেরি, ৪ নং ওয়ার্ড, থানা: শেরপুর সদর, জেলা: শেরপুর
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : মো. ইয়াকুব আলী
পিতার পেশা ও বয়স : মৃত
মায়ের নাম : রোকেয়া বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : মৃত
পারিবারিক অবস্থা
মাসিক আয় : ১৫ হাজার
আয়ের উৎস : কাঠমিস্ত্রীর কাজ
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
সন্তানের তথ্যাদি
১. ইমাম মাহদী, পেশা: শিক্ষার্থী, বয়স: ১৪, সম্পর্ক: ছেলে
২. আবদুল্লাহ, পেশা: শিক্ষার্থী, সম্পর্ক: ছেলে
ঘটনার স্থান : শেরপুর থানার সামনে
আক্রমণকারী : পুলিশ
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍