মো: ইমরান হোসেন
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
মো: ইমরান হোসেন ২০০০ সালের ২৫ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার লালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০ জুলাই ২০২৪ সহযোদ্ধাকে রক্ষা করতে গিয়ে যাত্রাবাড়ী টোলপ্লাজায় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে তার জীবন থেমে যায় যন্ত্রণার এক নতুন মোড়ে। হাসপাতালে পৌঁছানোর পরও অবহেলা ও অমানবিক আচরণ তার ক্ষতকে আরও গভীর করে। একের পর এক অস্ত্রোপচার, প্লেট ইনফেকশন ও দীর্ঘ চিকিৎসা তাঁকে সম্পূর্ণ কর্মহীন করে ফেলেছে। তবুও ইমরানের আকাঙ্ক্ষা একটিই ন্যায্য চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সহায়তা পেলে আবারও তিনি নিজের জীবনযুদ্ধ নতুন করে শুরু করতে চান।
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
চিকিৎসকের আওয়ামী আচরণ জাহেলিয়াতকে স্মরণ করায়
মো: ইমরান হোসেন
ক্রমিক: ০১৫
আইডি: ঢাকা সিটি ০১৫
জন্ম, পরিবার ও শৈশবের লড়াই
মো: ইমরান হোসেন ২০০০ সালের ২৫ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার লালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরিবারটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত হলেও জীবনের প্রতিটি দিন ছিল সংগ্রামের। পিতা জজ মিয়া পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান, যিনি সীমিত আয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবার চালান। মাতা মিনু বেগম গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন অন্যের বাড়িতে। ইমরানদের সংসার জুড়ে টানাপোড়েন, কিন্তু সন্তানদের মানুষ করার স্বপ্নে পিতা-মাতা কখনও হাল ছাড়েন না। ইমরান পড়ালেখা বেশিদূর করতে পারেননি, সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয় কিশোর বয়সেই।
প্রাইভেট গাড়ির ড্রাইভার থেকে কর্মহীনতা
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইমরান মালিকানাধীন একটি প্রাইভেট কার চালিয়ে জীবিকা শুরু করেন। গাড়িটিই ছিল তার আয়ের একমাত্র উৎস। এর মাধ্যমে তিনি স্বাবলম্বী হন এবং পিতা-মাতার পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পান। কিন্তু আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে সেই গাড়ি, সেই আয় সবই কেবল স্মৃতি। এখন তিনি কর্মহীন, নিজের দৈনন্দিন কাজও অন্যের সাহায্য ছাড়া করতে পারেন না।
আন্দোলনে যুক্ত হওয়া ও ২০ জুলাইয়ের প্রস্তুতি
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই, দেশজুড়ে চলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ইমরান সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। নয়ানগরের কাজলা এলাকায় বাস করা ইমরান প্রতিবেশী ছাত্রদের সঙ্গে একত্রে আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ২০ জুলাই দুপুরে যাত্রাবাড়ীর কাজলা টোলপ্লাজা এলাকায় জড়ো হন সহযোদ্ধাদের সঙ্গে। চারদিকে পুলিশ, ক্যাডার ছাত্রলীগ, ত্রাস যুবলীগ ও আওয়ামী সন্ত্রাসী কর্মীদের উপস্থিতি এবং সম্ভাব্য আক্রমণের আশঙ্কা। তবুও গর্জে উঠেছিলেন অধিকার আদায়ের প্রত্যয়ে।
সহযোদ্ধাকে বাঁচাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ
২০ জুলাই দুপুর ২টার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের ছোড়া গুলিতে এক সহযোদ্ধা রাস্তায় পড়ে যান। তাকে রক্ষা করতে ছুটে যান ইমরান। সে মুহূর্তেই যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ ইমরানকে লক্ষ করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি ডান পায়ের উরুতে লাগে, হাড় ভেঙে যায় এবং গুলির অংশ শরীরের ভেতরেই থেকে যায়। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে থাকা অবস্থায় তার সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে। চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে আসে দৃশ্যপট।
হাসপাতাল যাত্রা ও অবহেলার নির্মমতা
গুরুতর আহত অবস্থায় ইমরান এবং তার সহযোদ্ধাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তার তাৎক্ষণিক অপারেশনের পরামর্শ দেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো গুরুত্ব দেয় না। পরে যখন অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়, তখন একজন ডাক্তার ব্যঙ্গাত্মকভাবে তার আঘাতে আঙুল ঢুকিয়ে বলেন, "আর আন্দোলনে যাবি?" ইমরান ব্যথায় কাতরালে তাকে অপারেশন না করে ফের ব্যান্ডেজ করে পাঠানো হয়। এখানেই শুরু হয় অবহেলার এক নির্মম অধ্যায়।
বেদনার্ত দিন, ন্যূনতম চিকিৎসাও মেলে না
হাসপাতালে ইমরানকে একটি বেডে ফেলে রাখা হয়। রক্তে ভেজা ব্যান্ডেজ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে, কিন্তু শতবার বলেও নার্স কিংবা ডাক্তার কেউ তার খোঁজ নেয় না। কেবল হালকা ব্যথানাশক ওষুধ দিয়ে দায় সারতে চায় সবাই। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে পচে যাওয়া ক্ষতের যত্ন।। সবকিছু করতে হয় তার পরিবারকে। ৫ আগস্ট পর্যন্ত এই অবহেলার মধ্যেই ইমরান কাটিয়ে দেন প্রতিটি দিন ও রাত।
অবশেষে অপারেশন ও পুনরায় জটিলতা
৬ আগস্ট চিকিৎসা শুরু হলে কিছুটা আশার আলো দেখা যায়। ১২ আগস্ট তার ডান পায়ে একটি বড় অপারেশন করা হয়। সপ্তাহখানেক পর অবস্থা স্থিতিশীল হলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় এবং প্রতি মাসে দু'বার চেকআপের পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু ছয় মাস পার হতেই ইমরানের পায়ে লাগানো ধাতব প্লেটে ইনফেকশন দেখা দেয়। ব্যথা ও ফোলা ভাব বেড়ে যায়, হাঁটা-চলা বন্ধ হয়ে পড়ে। নতুন করে শুরু হয় চিকিৎসা-দৌড়ঝাঁপ।
দ্বিতীয় ধাপের চিকিৎসা
প্লেট ইনফেকশনের কারণে ইমরানকে নিতে হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজে। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসা চলার পর পুনরায় তাকে পাঠানো হয় সিএমএইচ-এ। দুই হাসপাতালে কয়েক মাস ধরে পরীক্ষা, অ্যান্টিবায়োটিক ও প্লেট রিমুভাল পরিকল্পনা করা হয়। এই চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবার আর্থিকভাবে ভেঙে পড়ে। ইমরানের শারীরিক অবস্থাও ক্রমশ অবনতির দিকে যায়।
কর্মক্ষমতা হারিয়ে জীবনের স্থবিরতা
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে ইমরান আর কাজ করতে পারেন না। এক সময় যে পায়ে গাড়ির ব্রেক টিপে রোজগার করতেন, সেই পা এখন শক্তভাবে মেঝেতে রাখতেও কষ্ট হয়। হাঁটতে গেলে ব্যথা, বসতে গেলে টান ধরে। জীবন যেন থেমে গেছে। নিজের ব্যর্থতা নয়, অন্যায়ের শিকার হয়েও তার সবকিছু হারিয়ে গেছে। আত্মত্মসম্মানবোধ ও স্বপ্ন আজ দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে আছে।
পুনর্বাসনের প্রয়োজন
বর্তমানে ইমরানের পরিবার বাবার অল্প আয়েই কোনোভাবে চলতে থাকে। চিকিৎসা, ওষুধ, খাবার। সব মিলিয়ে প্রতি মাসে যে খরচ হয়, তা বহন করা তাদের জন্য অসম্ভব। ইমরান নিজের জন্য কিছু চায় না, চায় শুধু ন্যায্য চিকিৎসা, একটু সহানুভূতি, এবং এমন এক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা, যাতে সে আবার জীবনযুদ্ধে ফিরে আসতে পারে।
এক নজরে মো: ইমরান হোসেন
নাম: মো: ইমরান হোসেন
জন্ম তারিখ: ২৫-০৭-২০০০
জন্মস্থান: নারায়ণগঞ্জ
পূর্বের পেশা: ড্রাইভার (মালিকানাধীন), বর্তমানে: কর্মহীন
নিজ জেলা:নারায়নগঞ্জ
স্থায়ী ঠিকানা:গ্রাম: লালপুর, ইউনিয়ন: সাতগ্রাম, থানা: আড়াইহাজার, জেলা: নারায়ণগঞ্জ
বর্তমান ঠিকানা:
এলাকা: নয়ানগর, কাজলা, থানা: যাত্রাবাড়ী, সিটি ঢাকা সিটি দক্ষিণ
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম: জজ মিয়া
মায়ের নাম মিনু বেগম
পিতার পেশা ইলেকট্রিশিয়ান, বয়স: ৫৭
মায়ের পেশা: গৃহকর্মী,
বয়স: ৫০
মাসিক আয় : ২০,০০০
আয়ের উৎস: পিতা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৫ জন
ভাই- বোনদের বিবরণ
১. নাম: রুবি আক্তার, বয়স: ২৪, পেশা: গৃহিণী, শিক্ষাগত যোগ্যতা: অনার্স ২য় বর্ষ
২. নাম: মো: ইমন হোসেন, বয়স: ১৫, শ্রেণিঃ ৮ম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম: কুতুবখালী উচ্চ বিদ্যালয়
আহত বিবরণ
আহত হওয়ার স্থান: কাজলা টোলপ্লাজা, যাত্রাবাড়ী
আহত হওয়ার সময়: ২০ জুলাই ২০২৪, দুপুর ২.০০টা
আক্রমণকারী: যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ
মো: ইমরান হোসেন
ক্রমিক: ০১৫
আইডি: ঢাকা সিটি ০১৫
জন্ম, পরিবার ও শৈশবের লড়াই
মো: ইমরান হোসেন ২০০০ সালের ২৫ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার লালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরিবারটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত হলেও জীবনের প্রতিটি দিন ছিল সংগ্রামের। পিতা জজ মিয়া পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান, যিনি সীমিত আয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবার চালান। মাতা মিনু বেগম গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন অন্যের বাড়িতে। ইমরানদের সংসার জুড়ে টানাপোড়েন, কিন্তু সন্তানদের মানুষ করার স্বপ্নে পিতা-মাতা কখনও হাল ছাড়েন না। ইমরান পড়ালেখা বেশিদূর করতে পারেননি, সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয় কিশোর বয়সেই।
প্রাইভেট গাড়ির ড্রাইভার থেকে কর্মহীনতা
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইমরান মালিকানাধীন একটি প্রাইভেট কার চালিয়ে জীবিকা শুরু করেন। গাড়িটিই ছিল তার আয়ের একমাত্র উৎস। এর মাধ্যমে তিনি স্বাবলম্বী হন এবং পিতা-মাতার পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পান। কিন্তু আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে সেই গাড়ি, সেই আয় সবই কেবল স্মৃতি। এখন তিনি কর্মহীন, নিজের দৈনন্দিন কাজও অন্যের সাহায্য ছাড়া করতে পারেন না।
আন্দোলনে যুক্ত হওয়া ও ২০ জুলাইয়ের প্রস্তুতি
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই, দেশজুড়ে চলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ইমরান সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। নয়ানগরের কাজলা এলাকায় বাস করা ইমরান প্রতিবেশী ছাত্রদের সঙ্গে একত্রে আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ২০ জুলাই দুপুরে যাত্রাবাড়ীর কাজলা টোলপ্লাজা এলাকায় জড়ো হন সহযোদ্ধাদের সঙ্গে। চারদিকে পুলিশ, ক্যাডার ছাত্রলীগ, ত্রাস যুবলীগ ও আওয়ামী সন্ত্রাসী কর্মীদের উপস্থিতি এবং সম্ভাব্য আক্রমণের আশঙ্কা। তবুও গর্জে উঠেছিলেন অধিকার আদায়ের প্রত্যয়ে।
সহযোদ্ধাকে বাঁচাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ
২০ জুলাই দুপুর ২টার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের ছোড়া গুলিতে এক সহযোদ্ধা রাস্তায় পড়ে যান। তাকে রক্ষা করতে ছুটে যান ইমরান। সে মুহূর্তেই যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ ইমরানকে লক্ষ করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি ডান পায়ের উরুতে লাগে, হাড় ভেঙে যায় এবং গুলির অংশ শরীরের ভেতরেই থেকে যায়। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে থাকা অবস্থায় তার সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে। চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে আসে দৃশ্যপট।
হাসপাতাল যাত্রা ও অবহেলার নির্মমতা
গুরুতর আহত অবস্থায় ইমরান এবং তার সহযোদ্ধাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তার তাৎক্ষণিক অপারেশনের পরামর্শ দেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো গুরুত্ব দেয় না। পরে যখন অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়, তখন একজন ডাক্তার ব্যঙ্গাত্মকভাবে তার আঘাতে আঙুল ঢুকিয়ে বলেন, "আর আন্দোলনে যাবি?" ইমরান ব্যথায় কাতরালে তাকে অপারেশন না করে ফের ব্যান্ডেজ করে পাঠানো হয়। এখানেই শুরু হয় অবহেলার এক নির্মম অধ্যায়।
বেদনার্ত দিন, ন্যূনতম চিকিৎসাও মেলে না
হাসপাতালে ইমরানকে একটি বেডে ফেলে রাখা হয়। রক্তে ভেজা ব্যান্ডেজ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে, কিন্তু শতবার বলেও নার্স কিংবা ডাক্তার কেউ তার খোঁজ নেয় না। কেবল হালকা ব্যথানাশক ওষুধ দিয়ে দায় সারতে চায় সবাই। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে পচে যাওয়া ক্ষতের যত্ন।। সবকিছু করতে হয় তার পরিবারকে। ৫ আগস্ট পর্যন্ত এই অবহেলার মধ্যেই ইমরান কাটিয়ে দেন প্রতিটি দিন ও রাত।
অবশেষে অপারেশন ও পুনরায় জটিলতা
৬ আগস্ট চিকিৎসা শুরু হলে কিছুটা আশার আলো দেখা যায়। ১২ আগস্ট তার ডান পায়ে একটি বড় অপারেশন করা হয়। সপ্তাহখানেক পর অবস্থা স্থিতিশীল হলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় এবং প্রতি মাসে দু'বার চেকআপের পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু ছয় মাস পার হতেই ইমরানের পায়ে লাগানো ধাতব প্লেটে ইনফেকশন দেখা দেয়। ব্যথা ও ফোলা ভাব বেড়ে যায়, হাঁটা-চলা বন্ধ হয়ে পড়ে। নতুন করে শুরু হয় চিকিৎসা-দৌড়ঝাঁপ।
দ্বিতীয় ধাপের চিকিৎসা
প্লেট ইনফেকশনের কারণে ইমরানকে নিতে হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজে। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসা চলার পর পুনরায় তাকে পাঠানো হয় সিএমএইচ-এ। দুই হাসপাতালে কয়েক মাস ধরে পরীক্ষা, অ্যান্টিবায়োটিক ও প্লেট রিমুভাল পরিকল্পনা করা হয়। এই চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবার আর্থিকভাবে ভেঙে পড়ে। ইমরানের শারীরিক অবস্থাও ক্রমশ অবনতির দিকে যায়।
কর্মক্ষমতা হারিয়ে জীবনের স্থবিরতা
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে ইমরান আর কাজ করতে পারেন না। এক সময় যে পায়ে গাড়ির ব্রেক টিপে রোজগার করতেন, সেই পা এখন শক্তভাবে মেঝেতে রাখতেও কষ্ট হয়। হাঁটতে গেলে ব্যথা, বসতে গেলে টান ধরে। জীবন যেন থেমে গেছে। নিজের ব্যর্থতা নয়, অন্যায়ের শিকার হয়েও তার সবকিছু হারিয়ে গেছে। আত্মত্মসম্মানবোধ ও স্বপ্ন আজ দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে আছে।
পুনর্বাসনের প্রয়োজন
বর্তমানে ইমরানের পরিবার বাবার অল্প আয়েই কোনোভাবে চলতে থাকে। চিকিৎসা, ওষুধ, খাবার। সব মিলিয়ে প্রতি মাসে যে খরচ হয়, তা বহন করা তাদের জন্য অসম্ভব। ইমরান নিজের জন্য কিছু চায় না, চায় শুধু ন্যায্য চিকিৎসা, একটু সহানুভূতি, এবং এমন এক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা, যাতে সে আবার জীবনযুদ্ধে ফিরে আসতে পারে।
এক নজরে মো: ইমরান হোসেন
নাম: মো: ইমরান হোসেন
জন্ম তারিখ: ২৫-০৭-২০০০
জন্মস্থান: নারায়ণগঞ্জ
পূর্বের পেশা: ড্রাইভার (মালিকানাধীন), বর্তমানে: কর্মহীন
নিজ জেলা:নারায়নগঞ্জ
স্থায়ী ঠিকানা:গ্রাম: লালপুর, ইউনিয়ন: সাতগ্রাম, থানা: আড়াইহাজার, জেলা: নারায়ণগঞ্জ
বর্তমান ঠিকানা:
এলাকা: নয়ানগর, কাজলা, থানা: যাত্রাবাড়ী, সিটি ঢাকা সিটি দক্ষিণ
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম: জজ মিয়া
মায়ের নাম মিনু বেগম
পিতার পেশা ইলেকট্রিশিয়ান, বয়স: ৫৭
মায়ের পেশা: গৃহকর্মী,
বয়স: ৫০
মাসিক আয় : ২০,০০০
আয়ের উৎস: পিতা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৫ জন
ভাই- বোনদের বিবরণ
১. নাম: রুবি আক্তার, বয়স: ২৪, পেশা: গৃহিণী, শিক্ষাগত যোগ্যতা: অনার্স ২য় বর্ষ
২. নাম: মো: ইমন হোসেন, বয়স: ১৫, শ্রেণিঃ ৮ম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম: কুতুবখালী উচ্চ বিদ্যালয়
আহত বিবরণ
আহত হওয়ার স্থান: কাজলা টোলপ্লাজা, যাত্রাবাড়ী
আহত হওয়ার সময়: ২০ জুলাই ২০২৪, দুপুর ২.০০টা
আক্রমণকারী: যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍