হোম / আহতদের তালিকা / আরিশ আহমেদ নাউম
 আরিশ আহমেদ নাউম

আরিশ আহমেদ নাউম

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : ছাত্র, দশম শ্রেণি

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

পাইলট হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে গেল
গুলিতে এক চোখ হারালো নাঈম

আরিশ আহমেদ নাউম
ক্রমিক: ১৫৪
আইডি: ময়মনসিংহ বিভাগ ০৩১

জন্ম পরিচয়
আরিশ আহমেদ নাউম শহীদ স্মৃতি স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া থানার ঢেকিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আরিফুল ইসলাম পেশায় একজন কৃষক এবং মাথা নাছিমা আক্তার গৃহিণী। এক ভাই, এক বোনের মধ্যে আরিশ আহমেদ সবার ছোট। তার বড় বোন সুমাইয়া আক্তার এইচএসসি পরীক্ষার্থী। মা-বাবার অত্যন্ত আদরের সন্তান আরিশ আহমেদ নাউম। ছোটবেলা থেকে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পেয়েছিলেন। বরাবর কৃতিত্বের সাথে ভালো রেজাল্ট করেছে। তার ছোট থেকেই স্বপ্ন ছিল পাইলট হবে কিন্তু জুলাই আন্দোলনে এক চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তার স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল। অনেক আবেগ-আপ্লুত হয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে আমাদেরকে সে তার স্বপ্নের কথা বলেছিলেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
২০২৪ এর জুলাইতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন ক্রমাগত জোরদার হতে থাকে। ধীরে ধীরে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, হকার, ব্যবসায়ীসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেতে থাকে। পাশাপাশি বাড়তে থাকে পুলিশ- বিজিবি-র্যাব ও স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী নেতা-কর্মীদের হামলা ও আক্রমণ। ছাত্র-জনতা সকল খুন-গুমের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে থাকে। এমতাবস্থায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতারা ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেন। উনিশ জুলাই শুক্রবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি নজরুলের শিক্ষার্থীসহ ঢাকার আশেপাশের কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একত্রিত হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিল। দুপুর গড়াতেই স্বৈরাচারী সরকারের ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে থেকে সন্ত্রাসী এবং টোকাই বাহিনী নিয়ে দেশি ও বিদেশী অস্ত্র দিয়ে ছাত্র এবং ছাত্রীদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। সেদিন ছাত্রীদের ওপর যে ন্যাক্কারজনক হামলা করেছিল তা বিশ্ববাসী দেখেছে। ২১ জুলাই থেকে স্বৈরাচারী সরকারের গুণ্ডাবাহিনী এবং পুলিশ বাহিনী সরাসরি ছাত্রদের উপর গুলি করে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। হলগুলোতে অভিযান চালানো হয়। ছাত্রদের হেস্টেলগুলোতে অভিযান চালিয়ে ছাত্রদেরকে গণহারে গ্রেফতার করা হয়। তখন রাস্তায় বের হয়ে ছাত্র পরিচয় দেওয়াই যেন কাল হয়ে দাঁড়ায়। আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। আরিশ আহমেদ নাউম দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী হলেও সে নিয়মিত ছাত্রদের সাথে আন্দোলনে যেত। ১৯ জুলাই থেকে সে আন্দোলনে সক্রিয় ছিল। ছাত্র-জনতা ৪ আগস্ট ফুলবাড়িয়া থানার সামনে আন্দোলনের পরিকল্পনা করছিল। পরিকল্পনা মোতাবেক ছাত্র- জনতা ৪ আগস্ট সকালেই ফুলবাড়িয়া থানার সামনে হাজির হতে থাকে। আরিশ আহমেদ দুপুরে নামাজ পড়ে খাওয়া-দাওয়া করে আন্দোলনের উদ্দেশ্যে বের হন। ছাত্ররা মিছিল নিয়ে যখন থানার সামনে যায় তখন পুলিশ এবং আওয়ামী গুন্ডা বাহিনী টিয়ারসেল, সাউন্ডগ্রেনেড, রাবার বুলেট এবং ছররাগুলি নিক্ষেপ করে। একটি টিয়ারগ্যাস আরিশ আহমেদের পায়ের উপর পড়ে। সেখান থেকে কোনোভাবে বের হয়ে সামনে এগোতে থাকলে পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে গুলি করতে থাকে। গুলি লেগে তার শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়। তবুও সে আন্দোলন করেছিল কিন্তু যখন দু’টি গুলি তার চোখে লাগে সাথে সাথেই সে অজ্ঞান হয়ে রাস্তায় পড়ে যায়। ছাত্র-জনতা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্ণনা
আরিশ আহমেদকে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখানে তাকে ভর্তি নেয় না বরং খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। বলে যে সে এখনো অনেক ছোট সে আন্দোলনে কেন গিয়েছে। সেই মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে নেয়া হয়। সেখানেও তাকে ভর্তি নেয়নি বরং তাকে উল্টো বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করতে থাকে। পরবর্তীতে ছাত্রদের সহযোগিতায় তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ভর্তি করানো হয় এবং ডাক্তাররা তার অপারেশন শুরু করে। এত দীর্ঘ হয়রানির পর তার চোখ আর রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তার এক চোখে আর আলো নেই। অন্য চোখে দেখতে পান, কিন্তু সব সময় চোখ থেকে পানি পড়ে এবং চোখ ব্যথা করে। ডাক্তাররা তাকে ওষুধ দিয়েছে এবং বলেছে যে, চোখে পানি পড়া বন্ধ হলে আরেকটা অপারেশন করতে হবে। সে সবেমাত্র ক্লাস টেনে পড়ে। পড়ালেখা করতে পারে না চোখ নিচের দিকে তাকালেই ব্যথা করে। আলোর সামনে তাকানো যায় না।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
সে নিচ দিকে তাকিয়ে পড়াশুনা করতে পারে না। সারাক্ষণ চোখ ব্যথা করে এবং চোখ থেকে পানি আসে। দ্রুত তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
তার এবং তার বড় বোনের স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা।

নাম : আরিশ আহমেদ নাউম
জন্ম তারিখ : ১৬ ডিসেম্বর ২০০৮
জন্মস্থান : ময়মনসিংহ
পেশা : ছাত্র, দশম শ্রেণি
প্রতিষ্ঠান : ফুলবাড়িয়া শহীদ স্মৃতি স্কুল এন্ড কলেজ
নিজ জেলা : ময়মনসিংহ
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: টেকিপাড়া, থানা: ফুলবাড়িয়া, জেলা: ময়মনসিংহ
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : আশরাফুল ইসলাম
মায়ের নাম : নাছিমা আক্তার
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৫৫
মায়ের নাম ও পেশা : গৃহিণী, ৪৫
মাসিক আয় : ১০ হাজার
আয়ের উৎস : কৃষি জমি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪
বোনের বিবরণ
১. সুমাইয়া আক্তার, বয়স: ১৯, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: এইচএসসি, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : হাজী সাবেত প্লাজা, ফুলবাড়িয়া
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট, বিকাল ৫টা
আক্রমণকারী : পুলিশএক নজরে আরিশ আহমেদ নাউম ইসলামপুরা

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍