হোম / আহতদের তালিকা / ফারুক আহমেদ নিলয়
 ফারুক আহমেদ নিলয়

ফারুক আহমেদ নিলয়

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : শিক্ষার্থী

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

চোখ হারানো নিলয়ের কথা

ফারুক আহমেদ নিলয়
পেশা: ছাত্র
ক্রমিক: ১৫৫
আইডি: ময়মনসিংহ বিভাগ ০৩২

জন্মপরিচয়
ফারুক আহমেদ ২ জানুয়ারি ২০০৪ সালে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার নন্দীগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি গৌরীপুর সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে অধ্যায়নরত। তাঁর পিতা নিজাম উদ্দিন একজন মুদি দোকানদার এবং তার মা জুলেখা খাতুন গৃহিণী। তাঁর ছোট বোন মিম আক্তার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা সারাদিন মুদি দোকান চালিয়ে যে আয় করতেন তাই দিয়ে তাদের সংসারের ভরণ-পোষণ করতেন। বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে পড়াশোনা করে একটি ভালো সরকারি চাকরি করে তাদের আর্থিক উন্নয়ন করবে। কিন্তু ফারুক আহমেদ ছাত্রদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে গিয়ে তিনি তার একটা চোখকে বিসর্জন দেন। তিনি নিজেকে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান-২০২৪ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা। স্বৈরাচারী সরকার দীর্ঘ ১৮ বছর ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন। বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরকে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং বৈষম্যহীন করে তুলেছিলেন। মানুষ কোথাও কোন ন্যায্য অধিকার পেত না। স্বৈরাচারী সরকার পুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থা কে তার নিজের মতো করে চালিয়েছিলেন। ছাত্রদের ক্ষেত্রেও সরকার বৈষম্য করতে পিছপা হয়নি। বিভিন্ন ধরনের কোটা ব্যবস্থার ঘোর প্যাচে মেধাবী ছাত্ররা চাকরি পেত না। তাই ছাত্ররা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন গড়ে তোলেন। স্বৈরাচারী সরকার তার পুলিশ বাহিনীকে আন্দোলনের ওপর সরাসরি গুলি করার নির্দেশ দেন। রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে সরাসরি গুলি করে হত্যা করা হয়। এরই প্রতিবাদে উত্তাল হয় সারা দেশের শিক্ষার্থীরা। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। তাদের উপরেও চলে সরকারের দমন-পীড়ন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। তারই ধারাবাহিকতায় গৌরীপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা ও তাদের আন্দোলন গড়ে তোলেন। শিক্ষার্থীদের পরিকল্পনায় ২০ জুলাই সকাল দশটায় কলতাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালযয়ে সবাই একত্রিত হন। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করতে ছিলে। ছাত্ররা ময়মনসিংহ হাইওয়ে রোডে মিছিল এগিয়ে নিয়ে যায়। একটু সামনে যেতেই দেখে পুলিশ সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আছে ছাত্র হত্যায় মেতে উঠার জন্য। স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ এবং তার গুন্ডাবাহিনী আগে থেকেই দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে সামনের দিকে আগাচ্ছিল। হঠাৎ করেই পুলিশ কোন সিগনাল ছাড়াই চতুর্দিক থেকে গুলি করতে শুরু করেন। ছাত্ররা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। প্রায় দুই ঘণ্টার মতো ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া চলতে থাকে। পুলিশ প্রথমে ছোরর গুলি এবং সাউন্ড গ্রেনেড ছাড়লেও পরবর্তীতে তারা তাদের রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। রাবার বুলেটের আঘাতে ঘটনা স্থলেই কয়েকজন শাহাদাত বরণ করেন। অনেকেই হতাহত হন। ফারুক আহমেদের শরীরে প্রায় ১০০ টার মতো ছররা গুলি লাগে। তার বাম চোখেও বেশ কিছু ছোরাগুলি লাগে। তার সারা শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়। সে তখন বুঝতে পারে যে তার একটা চোখে আলো নেই। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকেন।
চিকিৎসা সম্পর্কিত বর্ণনা
তিনি যখন আহত অবস্থায় পড়ে যান তখন তিনি তাঁর এক চোখে হাত দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ করতে ছিলেন। কিন্তু তাঁর সারা শরীরে ছোররাগুলি লাগার কারণে সারা শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়। তিনি ঝাপসা চোখে দেখতে ছিলেন যে প্রায় আহত অবস্থায় ৫ জনকে তার সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছাত্র জনতা তাকে সহ কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নিয়ে যান। তার সারা শরীরে গুলি লেগেছিল এবং একটা গুলি তাঁর চোখে লাগার সাথে সাথেই চোখের আলো হারিয়ে যায়। ময়মনসিংহ মেডিকেলে দুইদিন তার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরের দিন তাঁর অপারেশন করা হয়। এদিকে তাঁর এলাকার আওয়ামী গুন্ডারা তাকে খুঁজতেছিল। সে বিভিন্ন জায়গা থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিল। এতটাই ভয়াবহ অবস্থা ছিল যে বাড়িতে থেকেও চিকিৎসা করাতে পারেননি। প্রায় সময়ই তার বাবাকে হুমকি দেয়া হতো কেন আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল। চক্ষু বিজ্ঞান হসপিটালে তাঁর দু’টি অপারেশন করা হয়। এক চোখে তিনি সারা জীবনের জন্য আলো হারান।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
চোখ যেন উঠাতে না হয় সেজন্য তাঁর আরো উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। অন্য চোখে যেন কোন সমস্যা না হয় সেজন্য চিকিৎসা প্রয়োজন।

এক নজরে ফারুক আহমেদ
নাম : ফারুক আহমেদ
জন্ম তারিখ : ২ জানুয়ারি ২০০৪
জন্মস্থান : ময়মনসিংহ
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : গৌরীপুর সরকারি কলেজ
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : ময়মনসিংহ, গ্রাম: নন্দীগ্রাম, ইউনিয়ন: ডৌহাখলা, থানা: গৌরীপুর, জেলা: ময়মনসিংহ
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: নিজাম উদ্দিন
মায়ের নাম : জুলেখা খাতুন
পিতার পেশা ও বয়স : মুদী দোকানদার, ৪৫
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৩৭
মাসিক আয় : ২০ হাজার টাকা
আয়ের উৎস : মুদী দোকান
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
ভাই-বোনের বিবরণ
১. মোছা: মিম আক্তার, বয়স: ১৪ বছর, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ষষ্ঠ, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : কলতাপাড়া বাজার
আহত হওয়ার সময় : ২০ জুলাই, বেলা ১১ টা
আক্রমণকারী : পুলিশ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍