মো. জয়নাল আবেদীন
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : গার্মেন্টস কর্মী (বর্তমানে বেকার)
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
মো. জয়নাল আবেদীন
ক্রমিক: ১৫৮
আইডি: ময়মনসিংহ বিভাগ ০৩৫
জন্ম পরিচয়
মো. জয়নাল আবেদীন ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৫ সালে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ওয়াইজ উদ্দিন মুন্সী মৃত এবং তার মাতা সুফিয়া বেগম মৃত। তিনি তাঁর স্ত্রী এবং দুই মেয়েসহ গাজীপুর ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। তিনি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। তাঁর বড় মেয়ে জাহিন জান্নাতুল আবেদীন তুসি অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ছোট মেয়ে জুহিন জান্নাতুল আবেদিন তিহা সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তিনি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ বাহিনীর দ্বারা মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। বর্তমানে তাঁর স্মৃতিশক্তি মাঝে মাঝেই লোপ পায়।
শ্রমিক থেকে সংগ্রামী
জয়নাল আবেদীনের রক্তে লেখা
প্রতিরোধের ইতিহাসপুরো ঘটনার বিবরণ
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ছিল এক রক্তাক্ত অধ্যায়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের দাবিতে দেশের হাজারো শিক্ষার্থী, তরুণ, চাকরি প্রত্যাশী এবং সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে। তাঁরা স্বপ্ন দেখেছিল একটি ন্যায্য, যোগ্যতাভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রের। সরকার আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ দাবি না শুনে আলোচনায় বসার বদলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে লেলিয়ে দেয়। দিনে দিনে বেড়ে যায় ধরপাকড়, গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলার সংখ্যা। রাস্তায় রাস্তায় ছাত্রদের মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয়, ছিন্নভিন্ন করা হয় শরীর, নারী শিক্ষার্থীদেরও রেহাই দেয়া হয়নি। অনেক আন্দোলনকারীকে বিনা কারণে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে পেটানো হয়।
কারো চোখ উপড়ে যায় রাবার বুলেটের আঘাতে, কারো হাত ভেঙে দেয়া হয় লাঠিচার্জে।
মোবাইল ট্র্যাক করে রাতে ঘর থেকে তুলে নেয়া হয় ছাত্রনেতাদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম কোনো যায়গাই ছিল না নিরাপদ। এই নির্মমতা শুধু একটি আন্দোলন নয়, পুরো জাতির বিবেককে নাড়িয়ে দেয়। মা তার সন্তানের রক্তে ভেজা জামা ধরে কাঁদে। ভাইয়ের লাশ খুঁজে ফেরে বোন। এমন একটি নিষ্ঠুর দমননীতি গণতন্ত্রের কোন সংজ্ঞায় পড়ে এই প্রশ্নই ঘুরপাক খায় দেশের আনাচে কানাচে। এমনই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল জয়নাল আবেদীনের মাথায়। কারণ তার দুই মেয়েও তো শিক্ষার্থী। তাই তিনি আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি। অফিসের কাজের ফাঁকে ফাঁকে তিনিও আন্দোলনে যেতেন। ৫ আগস্ট সকালে অফিসে যাওয়ার সময় গাজীপুরে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে। তিনিও ছাত্র-জনতার সাথে একাত্মতা পোষণ করে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার এক পর্যায়ে পুলিশ সরাসরি রাবার বুলেট, ছররা গুলি, টিয়ারসেল, সাউন্ড গ্রেনেড ইত্যাদি নিক্ষেপ করে। জয়নাল আবেদীনের চোখের সামনে অনেক মানুষ হতাহত হয়। রক্তাক্ত হয় রাজপথ। চারপাশে লাশ পড়ে থাকে অন্যদিকে আহতদের আহাজারি। ক্রমাগত পুলিশের অতর্কিত গুলি বর্ষণে তিনিও হঠাৎ অনুভব করতে পারলেন যে তার মাথা থেকে রক্ত ঝরছে। তিনি সাথে সাথে রাস্তায় লুটিয়ে পড়লেন। প্রচণ্ড আঘাতে তিনি স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। ছাত্র জনতা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হসপিটালে নিয়ে যায়।
চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্ণনা
তাকে যখন ছাত্র-জনতা উদ্ধার করে হসপিটালে নিয়ে যায়। তখন তাঁর মোবাইল থেকে তাঁর স্ত্রীকে ফোন দেয়া হয়। তাঁর স্ত্রী তখন ফুলবাড়িয়াতে ছিলেন। তিনি তার স্বামীকে দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে যান। রওয়ানা দেন গাজীপুরের উদ্দেশ্যে। রাস্তায় গাড়ি চলছিল খুবই সামান্য। যা ছিল তাও দূরপাল্লার নয়। একটু পর পরই চেক করা হচ্ছিল। কোনো উপায় না পেয়ে তাঁর স্ত্রী নিজে হার্টের রোগী সেজে একটা এম্বুলেন্স নিয়ে গাজীপুরে চলে আসেন। সেখান থেকে তার স্বামীকে নিয়ে সোজা ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে চলে যান। কিন্তু তাঁর অবস্থা বেগতিক দেখে ডাক্তার পরামর্শ দিলেন ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাঁর অপারেশন করাতে হবে। জয়নাল আবেদীনের অবস্থার ভয়াবহতা লক্ষ্য করে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কোনো উপায় না পেয়ে তাকে অ্যাম্বুলেন্স করে আগারগাঁও নিউরো সাইন্সে ভর্তি করান। সেখানে তাঁর অপারেশন করা হয়। অপারেশন করার পরে তাঁর জ্ঞান ফেরে। কিন্তু মাথায় প্রচণ্ড আঘাতের কারণে তিনি কোনো চাপ নিতে পারেন না। একটু চাপে পড়লে বা টেনশন করলে তিনি স্মৃতিদ্রষ্টা হয়ে যান।
পারিবারিক অবস্থা
আগে তিনি গার্মেন্টসে কাজ করে সংসার চালাতেন। বর্তমানে তাঁর মাথায় প্রচণ্ড আঘাতের ফলে তিনি আর চাকরি করতে পারছেন না। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারছেন না, কারণ তাঁর মাথায় একটু চাপ নিলেই সমস্যা দেখা দেয়। তিনি গার্মেন্টসে চাকরি করে যা আয় করতেন তা দিয়েই তাঁর সংসার এবং দুই মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতেন। তার দু’জন মেয়েই মেধাবী। বড় মেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস এবং এইচএসসি পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়েছিল। বর্তমানে জয়নাল আবেদিন বেকার অবস্থায় আছেন।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা: তাঁর দুই সন্তানের পড়ালেখার জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা। কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এক নজরে মো. জয়নাল আবেদিন
নাম : মো. জয়নাল আবেদিন
জন্ম তারিখ : ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৫
জন্মস্থান : ময়মনসিংহ
পেশা : গার্মেন্টস কর্মী (বর্তমানে বেকার)
নিজ জেলা : ময়মনসিংহ
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : ১৩৩ ফুলবাড়িয়া আল- হেরা একাডেমি রোড, ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ সদর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মোহাম্মদ ওয়ায়েজ উদ্দিন মুনশী (মৃত)
মায়ের নাম : মোসাম্মৎ সুফিয়া বেগম (মৃত)
মাসিক আয় : ৪ হাজার টাকা
আয়ের উৎস : রুম ভাড়া
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. জাহিন জান্নাতুল আবেদীন তুশি, বয়স: ১৮, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: অনার্স ১ম বর্ষ, সম্পর্ক: মেয়ে
২. জুহিন জান্নাতুল আবেদীন তিহা, বয়স: ১২, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ৭ম, সম্পর্ক: মেয়ে
ঘটনার স্থান : গাজীপুর
আহত হওয়ার সময় : ৫ আগস্ট, সকাল ৮:৩০ মিনিট
আক্রমণকারী : পুলিশ
ক্রমিক: ১৫৮
আইডি: ময়মনসিংহ বিভাগ ০৩৫
জন্ম পরিচয়
মো. জয়নাল আবেদীন ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৫ সালে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ওয়াইজ উদ্দিন মুন্সী মৃত এবং তার মাতা সুফিয়া বেগম মৃত। তিনি তাঁর স্ত্রী এবং দুই মেয়েসহ গাজীপুর ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। তিনি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। তাঁর বড় মেয়ে জাহিন জান্নাতুল আবেদীন তুসি অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ছোট মেয়ে জুহিন জান্নাতুল আবেদিন তিহা সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তিনি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ বাহিনীর দ্বারা মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। বর্তমানে তাঁর স্মৃতিশক্তি মাঝে মাঝেই লোপ পায়।
শ্রমিক থেকে সংগ্রামী
জয়নাল আবেদীনের রক্তে লেখা
প্রতিরোধের ইতিহাসপুরো ঘটনার বিবরণ
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ছিল এক রক্তাক্ত অধ্যায়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের দাবিতে দেশের হাজারো শিক্ষার্থী, তরুণ, চাকরি প্রত্যাশী এবং সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে। তাঁরা স্বপ্ন দেখেছিল একটি ন্যায্য, যোগ্যতাভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রের। সরকার আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ দাবি না শুনে আলোচনায় বসার বদলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে লেলিয়ে দেয়। দিনে দিনে বেড়ে যায় ধরপাকড়, গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলার সংখ্যা। রাস্তায় রাস্তায় ছাত্রদের মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয়, ছিন্নভিন্ন করা হয় শরীর, নারী শিক্ষার্থীদেরও রেহাই দেয়া হয়নি। অনেক আন্দোলনকারীকে বিনা কারণে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে পেটানো হয়।
কারো চোখ উপড়ে যায় রাবার বুলেটের আঘাতে, কারো হাত ভেঙে দেয়া হয় লাঠিচার্জে।
মোবাইল ট্র্যাক করে রাতে ঘর থেকে তুলে নেয়া হয় ছাত্রনেতাদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম কোনো যায়গাই ছিল না নিরাপদ। এই নির্মমতা শুধু একটি আন্দোলন নয়, পুরো জাতির বিবেককে নাড়িয়ে দেয়। মা তার সন্তানের রক্তে ভেজা জামা ধরে কাঁদে। ভাইয়ের লাশ খুঁজে ফেরে বোন। এমন একটি নিষ্ঠুর দমননীতি গণতন্ত্রের কোন সংজ্ঞায় পড়ে এই প্রশ্নই ঘুরপাক খায় দেশের আনাচে কানাচে। এমনই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল জয়নাল আবেদীনের মাথায়। কারণ তার দুই মেয়েও তো শিক্ষার্থী। তাই তিনি আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি। অফিসের কাজের ফাঁকে ফাঁকে তিনিও আন্দোলনে যেতেন। ৫ আগস্ট সকালে অফিসে যাওয়ার সময় গাজীপুরে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে। তিনিও ছাত্র-জনতার সাথে একাত্মতা পোষণ করে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার এক পর্যায়ে পুলিশ সরাসরি রাবার বুলেট, ছররা গুলি, টিয়ারসেল, সাউন্ড গ্রেনেড ইত্যাদি নিক্ষেপ করে। জয়নাল আবেদীনের চোখের সামনে অনেক মানুষ হতাহত হয়। রক্তাক্ত হয় রাজপথ। চারপাশে লাশ পড়ে থাকে অন্যদিকে আহতদের আহাজারি। ক্রমাগত পুলিশের অতর্কিত গুলি বর্ষণে তিনিও হঠাৎ অনুভব করতে পারলেন যে তার মাথা থেকে রক্ত ঝরছে। তিনি সাথে সাথে রাস্তায় লুটিয়ে পড়লেন। প্রচণ্ড আঘাতে তিনি স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। ছাত্র জনতা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হসপিটালে নিয়ে যায়।
চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্ণনা
তাকে যখন ছাত্র-জনতা উদ্ধার করে হসপিটালে নিয়ে যায়। তখন তাঁর মোবাইল থেকে তাঁর স্ত্রীকে ফোন দেয়া হয়। তাঁর স্ত্রী তখন ফুলবাড়িয়াতে ছিলেন। তিনি তার স্বামীকে দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে যান। রওয়ানা দেন গাজীপুরের উদ্দেশ্যে। রাস্তায় গাড়ি চলছিল খুবই সামান্য। যা ছিল তাও দূরপাল্লার নয়। একটু পর পরই চেক করা হচ্ছিল। কোনো উপায় না পেয়ে তাঁর স্ত্রী নিজে হার্টের রোগী সেজে একটা এম্বুলেন্স নিয়ে গাজীপুরে চলে আসেন। সেখান থেকে তার স্বামীকে নিয়ে সোজা ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে চলে যান। কিন্তু তাঁর অবস্থা বেগতিক দেখে ডাক্তার পরামর্শ দিলেন ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাঁর অপারেশন করাতে হবে। জয়নাল আবেদীনের অবস্থার ভয়াবহতা লক্ষ্য করে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কোনো উপায় না পেয়ে তাকে অ্যাম্বুলেন্স করে আগারগাঁও নিউরো সাইন্সে ভর্তি করান। সেখানে তাঁর অপারেশন করা হয়। অপারেশন করার পরে তাঁর জ্ঞান ফেরে। কিন্তু মাথায় প্রচণ্ড আঘাতের কারণে তিনি কোনো চাপ নিতে পারেন না। একটু চাপে পড়লে বা টেনশন করলে তিনি স্মৃতিদ্রষ্টা হয়ে যান।
পারিবারিক অবস্থা
আগে তিনি গার্মেন্টসে কাজ করে সংসার চালাতেন। বর্তমানে তাঁর মাথায় প্রচণ্ড আঘাতের ফলে তিনি আর চাকরি করতে পারছেন না। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারছেন না, কারণ তাঁর মাথায় একটু চাপ নিলেই সমস্যা দেখা দেয়। তিনি গার্মেন্টসে চাকরি করে যা আয় করতেন তা দিয়েই তাঁর সংসার এবং দুই মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতেন। তার দু’জন মেয়েই মেধাবী। বড় মেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস এবং এইচএসসি পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়েছিল। বর্তমানে জয়নাল আবেদিন বেকার অবস্থায় আছেন।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা: তাঁর দুই সন্তানের পড়ালেখার জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা। কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এক নজরে মো. জয়নাল আবেদিন
নাম : মো. জয়নাল আবেদিন
জন্ম তারিখ : ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৫
জন্মস্থান : ময়মনসিংহ
পেশা : গার্মেন্টস কর্মী (বর্তমানে বেকার)
নিজ জেলা : ময়মনসিংহ
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : ১৩৩ ফুলবাড়িয়া আল- হেরা একাডেমি রোড, ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ সদর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মোহাম্মদ ওয়ায়েজ উদ্দিন মুনশী (মৃত)
মায়ের নাম : মোসাম্মৎ সুফিয়া বেগম (মৃত)
মাসিক আয় : ৪ হাজার টাকা
আয়ের উৎস : রুম ভাড়া
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. জাহিন জান্নাতুল আবেদীন তুশি, বয়স: ১৮, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: অনার্স ১ম বর্ষ, সম্পর্ক: মেয়ে
২. জুহিন জান্নাতুল আবেদীন তিহা, বয়স: ১২, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ৭ম, সম্পর্ক: মেয়ে
ঘটনার স্থান : গাজীপুর
আহত হওয়ার সময় : ৫ আগস্ট, সকাল ৮:৩০ মিনিট
আক্রমণকারী : পুলিশ
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍