হোম / আহতদের তালিকা / মো. মোফাজ্জল হোসেন
  মো. মোফাজ্জল হোসেন

মো. মোফাজ্জল হোসেন

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : ময়মনসিংহ, গ্রাম: সতরপাড়া, ইউনিয়ন: চকপাড়া, থানা: ত্রিশাল, জেলা: ময়মনসিংহ

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

মো. মোফাজ্জল হোসেন
ক্রমিক: ১৬০
আইডি: ময়মনসিংহ বিভাগ ০৩৭
জন্ম ও বেড়ে ওঠা
মো. মোফাজ্জল হোসেন ২১ নভেম্বর ১৯৮২ সালে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানার সতেরপাড়া গ্রামে এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আব্দুল হাই এবং মা জামেনা খাতুন দু’জনেই মৃত। তাঁর একমাত্র মেয়ে রাবেয়া তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তিনি স্ত্রী এবং একমাত্র সন্তান নিয়ে গাজীপুরের মাওনায় থাকতেন। তিনি ভ্যান চালাতেন এবং তাঁর স্ত্রী গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। তিনি জুলাই-আগস্ট আন্দোলনেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তাঁর পায়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় তিনি পঙ্গু অবস্থায় আছেন।

গুলির ক্ষত বয়ে বেড়ানো মোফাজ্জল
৫ আগস্ট ২০২৪, তিনি তাঁর মেয়েকে মাদ্রাসায় নিয়ে যান। মাদ্রাসা থেকে বাসায় এসে দেখেন যে, বাসা তালাবদ্ধ। কারণ তাঁর স্ত্রীও গার্মেন্টস কর্মীদের সাথে মাওনায় মিছিলে অংশগ্রহণ করছিলেন। তিনিও ছুটে গেলেন মাওনায় মিছিলে অংশগ্রহণ করার জন্য। গাজীপুরের মাওনায় তখন উত্তপ্ত পরিবেশ। ছাত্র-জনতার কোটা সংস্কার আন্দোলন তখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সারা দেশের মতো মাওনার গার্মেন্টস অঞ্চলও উত্তাল। শ্রমিক, ছাত্র আর সাধারণ মানুষ নেমে এসেছে রাস্তায়। মোফাজ্জল হোসেন একজন সাধারণ ভ্যানচালক প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে আন্দোলনের মিছিলে যোগ দেন।
মোফাজ্জল কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না। তবে তিনি বিশ্বাস করতেন, ন্যায্য দাবির পক্ষে দাঁড়ানোই সত্যিকারের দেশপ্রেম। সে বিশ্বাসেই তিনি সেদিন মিছিলের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। বিকাল ৩টায় স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ বাহিনী মিছিলে আক্রমণ চালায়। টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট, লাঠিচার্জ যেন যুদ্ধক্ষেত্র। মোফাজ্জল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু একটি শক্তিশালী বুলেট তাঁর পায়ে লাগে।
চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। তিনিসহ প্রায় আট জন গুলিবিদ্ধ হন। চারপাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী, রক্তাক্ত মানুষের আর্তনাদ। মোফাজ্জলের পা থেকে অনবরত রক্ত ঝরছিল। ছাত্র- জনতা তাঁর পা শক্ত করে বেঁধে ফেলে। তবুও যেন রক্ত বাধা উপেক্ষা করে বেরিয়ে পড়ছিল। ছাত্র-জনতা তাকে ভালুকা হাসপাতালে নেয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নেয়া হয়। বিকেল থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত তাঁর পা থেকে রক্ত পড়ছিল। কোথাও ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছিল না। সব হাসপাতালে আহতদের ভিড় ছিলো।
চিকিৎসা

ময়মনসিংহ মেডিকেলে নেয়া হলে প্রাথমিকভাবে তাকে তিন দিনের ওষুধ দেয়া হয়। ডাক্তার বলে যে, তিন দিন ওষুধ খাওয়ার পরে তার গুলি বের করবে। অথচ তাঁর অবস্থা ছিল খুবই ভয়াবহ। রক্তঝরা বন্ধ হচ্ছিল না। তখন ছাত্রদের রিকোয়েস্টে ঐদিনই ইমারজেন্সি তাঁর গুলি বের করা হয়। সাথে সাথে তাঁর পা প্লাস্টার করা হয়। ডাক্তার বলেছে যে, পা জোড়া লাগবে, তবে সেটা দীর্ঘদিনের ব্যাপার। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেলে প্রায় তিন মাসের মতো ছিলেন। তিন মাস পর তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হয়। বাড়িতে আসার পর তাঁর অবস্থা আবারও খারাপ হওয়ার কারণে তিনি দীর্ঘদিন হাসপাতালে অবস্থান করেন। বর্তমানে তিনি পঙ্গু অবস্থায় আছেন। কোনো কাজকর্ম করতে পারেন না।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। পা অবশ থাকে। কোনো কাজ করতে পারেন না।
কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা
একটা অটোরিক্সার ব্যবস্থা করে দেয়া। তার মেয়ের পড়ালেখার জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা।
পারিবারিক অবস্থা
তিনি এবং তাঁর স্ত্রীসহ আগে গাজীপুরের মাওনায় থাকতেন। তিনি ভ্যান চালাতেন এবং তাঁর স্ত্রী গার্মেন্টসে চাকরি করে সংসার চালাতেন। বর্তমানে তিনি গুলিবিদ্ধ হওয়ায় হাঁটাচলা করতে পারেন না। তাঁর স্ত্রী তাকে হাঁটা-চলায় সাহায্য করেন। বর্তমানে দু’জনেই বেকার অবস্থায় আছেন। তাঁর বাড়িতে নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় তিনি তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে দুই শতাংশ জমি বন্ধক নিয়ে একটা টিনের ঘর করে অবস্থান করছেন। তার যে ভ্যান ছিল সেটাও বিক্রি করতে হয়েছে তাঁর চিকিৎসার জন্য। বর্তমানে তিনি প্রায় তিন লাখ টাকার মতো ঋণী আছেন। মানসিকভাবে তিনি ভেঙে পড়েছেন। তাঁর স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে চলার মতো কোনো ইনকাম নেই তাঁর। ঘরের আসবাবপত্রও বিক্রি করে সে টাকা দিয়ে চিকিৎসা ও পরিবারের খরচ চালাচ্ছেন।

এক নজরে মো. মোফাজ্জল হোসেন
নাম : মো. মোফাজ্জল হোসেন
জন্ম তারিখ : ২১ নভেম্বর ১৯৮২
জন্মস্থান : ময়মনসিংহ
নিজ জেলা : ময়মনসিংহ
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : ময়মনসিংহ, গ্রাম: সতরপাড়া, ইউনিয়ন: চকপাড়া, থানা: ত্রিশাল, জেলা: ময়মনসিংহ
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : আব্দুল হাই, মৃত
মায়ের নাম : জামেনা খাতুন, মৃত
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৩ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. রাবেয়া, বয়স: ১০ বছর, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ৩য়, সম্পর্ক: মেয়ে
ঘটনার স্থান : মাওনা
আহত হওয়ার সময় : ৫ আগস্ট, বিকাল ৩টা
আক্রমণকারী : পুলিশ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍