হোম / আহতদের তালিকা / : মো. সোহেল মিয়া
: মো. সোহেল মিয়া

: মো. সোহেল মিয়া

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : গার্মেন্টস কর্মী (বর্তমানে বেকার)

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

নাম : মো. সোহেল মিয়া
সোহেল মিয়া
ক্রমিক: ১৬১
আইডি: ময়মনসিংহ বিভাগ ০৩৮

৫ আগস্ট সকালের চিত্র ছিল খুবই ভয়াবহ। ছাত্র জনতা তাকে আশেপাশের বিভিন্ন মেডিকেলে নিয়ে গেলে কোথাও জায়গা না পেয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হন। সেদিন তার অবস্থা খুবই করুন ছিল, কারণ চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিতে চাচ্ছিল না। শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালায় তখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। কিন্তু হাসপাতাল গুলোয় আহত লোকের পরিমাণ এত বেশি ছিল যে তাদেরকে জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছিলো না। তারপরের দিন অর্থাৎ ৬ আগস্ট এ তাঁর হাতের অপারেশন করা হয়। বর্তমানে তার হাত অবশ অবস্থায় আছে। ডাক্তার জন্ম পরিচয়
সোহেল মিয়া ১২ নভেম্বর ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা থানাধীন মাইলোড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা জনাব আব্দুল হাই একজন মুদি ব্যবসায়ী এবং মাতা জোবেদা বেগম (৪৫) একজন গৃহিণী। সোহেল মিয়া তাঁর স্ত্রী এবং সন্তানসহ গাজিপুরের মাওনায় থাকতেন। তিনি গার্মেন্টস এ চাকরি করে তাঁর সংসারের ব্যয়ভার বহন করতেন।

গুলিবিদ্ধ সোহেল মিয়াঘটনার বিবরণ
সোহেল মিয়া (৩০) একজন গার্মেন্টস কর্মী। পারিবারিক দারিদ্রতা ঘোচাতে তিনি গাজিপুর একটা গার্মেন্টস এ চাকরি করতেন। স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে তাঁর দিনকাল ভালোই কাটছিলো। ইতোমধ্যে ছাত্রছাত্রীরা চাকরি ক্ষেত্রে কোটা ব্যবস্থার বৈষম্য তুলে ধরে আন্দোলন গড়ে তোলেন। যৌক্তিক সংস্কারের উদ্দেশ্য ছাত্ররা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যোগদান করেন। স্বৈরাচারী সরকার নায্য আন্দোলনে বাধা দিলে আন্দোলন এর গতি বাড়তে থাকে। জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে আন্দোলন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রুপ নেয়। স্বৈরাচারী সরকার পরিকল্পিত ভাবে ছাত্রজনতার উপর হামলা করে। যখন স্বৈরাচারী পুলিশ আবু সাঈদকে নির্মমভাবে হত্যা করে তখন ছাত্র-জনতা ক্ষুদ্ধ হয়। ছাত্রদের আন্দোলন রূপ নেয় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে। পেশাজীবী, কর্মজীবী, শিক্ষক শ্রেণি, কৃষক শ্রেণি থেকে শুরু করে সকল পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। সোহেল মিয়াও ঘরে বসে থাকতে পারেননি তিনিও আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি জুলাইয়ের ১৯ তারিখ থেকেই আন্দোলনে নিয়মিত যেতেন। ৫ আগস্ট সকাল থেকেই তিনি মাওনায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার সাথে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেদিন সকালে হেলিকপ্টার করে ১০০ জন বিজিবি মাওনায় নামিয়ে দেওয়া হয়। বিজিবি এবং ছাত্র জনতা মুখোমুখি হলে ১০ জন বিজিবিকে ছাত্র জনতা ঘেরাও করে। সোহেল মিয়া সহ ছাত্র জনতা বিজিবির সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। তিনি দেখলেন যে তারা হিন্দিতে কথা বলছেন। তাদের সাথে কথাবার্তার একপর্যায়ে একজন বিজিবি হাঁটু গেরে গুলি করা শুরু করলে ছাত্র-জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় সোহেল মিয়া একজন বিজিবির সাথে ধস্তাধস্তি করে। সোহেল মিয়া বিজিবির গুলির নলা ধরে ছিল। দস্তা দস্তির একপর্যায়ে বিজিবি ওই অবস্থায় তার হাতে গুলি করলে তাঁর একটি নখ উড়ে যায়। পরবর্তীতে সোহেল মিয়া তার জীবন বাঁচানোর জন্য বিজিবিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে পিছনের দিকে দৌড় দেয়। বিজিবি তাকে লক্ষ্য করে পেছন থেকে গুলি চললে তাঁর হাতে দুইটা গুলি লেগে হাতের একপাশ থেকে অন্যপাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। কিছুদূর যেতেই তিনি মাটিতে শুয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হসপিটালে নিয়ে যায়।
চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্ণনা
এক নজরে মো. সোহেল মিয়াজুলাই আন্দোলনের রক্তাক্ত দিন
জন্ম তারিখ : ১২-১১-১৯৯৫
জন্মস্থান : ময়মনসিংহ
পেশা : গার্মেন্টস কর্মী (বর্তমানে বেকার)
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: মাইলোড়া, ইউনিয়ন: বাট্টাপাড়া, থানা: তারাকান্দা, জেলা: ময়মনসিংহ
পারিবারিক তথ্য
পিতা : আব্দুল হাই
পিতার পেশা ও বয়স : মুদী ব্যবসায়ী, ৫০
মাতা : জোবেদা খাতুন
মাতার পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৫
পারিবারের সদস্য সংখ্যা : ৩ জন
ঘটনার স্থান : মাওনা
আক্রমনকারী : বিজিবি
আহত হওয়ার সময় : ৫ আগস্ট ২০২৪, বিকাল ৩টা
প্রস্তাবনা
উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
স্থায়ী কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া।
নিয়মিত চিকিৎসা মনিটরিং।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍