সুজন মিয়া
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
সুজন মিয়া ১ জানুয়ারি ১৯৯৬ সালে ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার জাগীরগোহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বৃদ্ধ পিতা জরিপ খা এবং মা রেখা খাতুন একজন গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই তাঁর নিজ গ্রামে বেড়ে ওঠা। সুজন মিয়া একজন সাধারণ দিনমজুর। গ্রামের মাটির ঘরে জীবন কাটত কষ্টে আর স্বপ্নে। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই মাস তাঁর জীবন পাল্টে দেয়। সেই মাসে স্বৈরাচারী সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ রাস্তায় নামে। সুজনও তখন শুধু একজন প্রতিবাদী নয়, একজন জুলাই যোদ্ধা হয়ে ওঠেন।
ঘটনার বিবরণ
কোটা আন্দোলন বাংলাদেশের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের একটি ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন, যা মূলত সরকারি চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের দাবিতে গড়ে ওঠে। এই সকল কারণে ২০১৮ সালে প্রথম বড় পরিসরে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়। যদিও তখন সরকার কিছু পদক্ষেপ নিলেও আপিলের প্রেক্ষিতে তা আবার অকার্যকর হয়ে পড়ে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে আবারও জোরালো হয়ে ওঠে কোটা সংস্কার আন্দোলন। মূলত সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা ব্যবস্থাকে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক মনে করে দেশজুড়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশী রাজপথে নামে। সুজন মিয়াও ঘরে বসে থাকতে পারেনি। তিনিও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত আন্দোলনে যেতেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২৩ জুলাই সকালে আমুয়াকান্দা মোড়ে ছাত্র-জনতা একত্রিত হয়। অপরদিকে পুলিশ, বিজিবি, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আগে থেকেই ওত পেতে ছিল। মানুষ জড়ো হয়েছিল ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে, গলায় “শ্লোগান আমরা আর সহ্য করবো না!” সুজন ছিল সবার সামনে। তার চোখে ছিল আগুন, বুকভরা সাহস। ছাত্র-জনতা সামনে এগুতে থাকলে পুলিশ রাইফেল নিয়ে প্রস্তুত হয়। শুরু হয় ব্যাপক সংঘর্ষ। কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ, তারপর গুলি। এক সময় বৃষ্টির মতো গুলি ছুটে আসে। আর সবার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সুজনের শরীর ঝাঁঝরা হয়ে যায়। প্রায় ১৫০টির মতো ছররাগুলি বিদ্ধ হয় তাঁর শরীরে। তিনি রাস্তায় পড়ে থাকলে ছাত্র-জনতা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হসপিটালে নিয়ে যায়।
চিকিৎসা সম্পর্কিত বর্ণনা
তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা বলেছিলেন, “এইভাবে কেউ বাঁচে না।” কিন্তু সুজন বেঁচেছিল। গুলির ক্ষত নিয়ে, ব্যথা নিয়ে, সে এখনো বেঁচে আছে যেন বাঁচার এক জীবন্ত প্রতীক হয়ে। আজও গ্রামের শিশুরা তাকে দেখে বলে, “এই লোকটা গুলিতে ভরপুর, কিন্তু বুকটা এখনো আগুন।” সুজন জানে, তার শরীরের গুলিগুলো শুধু আঘাত নয়, ওগুলো প্রতিবাদের পদক। সুজন মিয়া গুলিবিদ্ধ হলেও হারেনি; সে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের পৃষ্ঠায়, একজন নিঃস্ব কিন্তু গর্বিত জুলাই যোদ্ধা হিসেবে। গুলিবিদ্ধ দিনমজুর সুজন মিয়ার আর্তনাদ সুজন মিয়া
এক নজরে মো. সুজন মিয়া
নাম : মো. সুজন মিয়া
জন্ম তারিখ : ১ জানুয়ারি ১৯৯৬
জন্মস্থান : ময়মনসিংহ
পেশা : দিনমজুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: জাগির গোহা, ইউনিয়ন: কাজির কান্দা, থানা: ফুলপুর, জেলা: ময়মনসিংহ
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো. জরিপ খা
মায়ের নাম : মোছা. রেখা খাতুন
পিতার পেশা ও বয়স : বৃদ্ধ, ৭৫
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫৫
মাসিক আয় : ৪ হাজার টাকা
আয়ের উৎস : দিনমজুর
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. মোছা: সুমাইয়া আক্তার, বয়স: ৯ বছর, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ২য়, সম্পর্ক: মেয়ে
২. মোছা: মাইশা আক্তার, বয়স: ২ বছর, সম্পর্ক: মেয়ে
ঘটনার স্থান : আময়াকান্দা মোড়
আহত হওয়ার সময় : ২৩ জুলাই ২০২৪
আক্রমণকারী : পুলিশ
প্রস্তাবনা
উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
নিয়মিত স্বাস্থ্য চেক-আপ।
কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা।
ঘটনার বিবরণ
কোটা আন্দোলন বাংলাদেশের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের একটি ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন, যা মূলত সরকারি চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের দাবিতে গড়ে ওঠে। এই সকল কারণে ২০১৮ সালে প্রথম বড় পরিসরে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়। যদিও তখন সরকার কিছু পদক্ষেপ নিলেও আপিলের প্রেক্ষিতে তা আবার অকার্যকর হয়ে পড়ে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে আবারও জোরালো হয়ে ওঠে কোটা সংস্কার আন্দোলন। মূলত সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা ব্যবস্থাকে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক মনে করে দেশজুড়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশী রাজপথে নামে। সুজন মিয়াও ঘরে বসে থাকতে পারেনি। তিনিও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত আন্দোলনে যেতেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২৩ জুলাই সকালে আমুয়াকান্দা মোড়ে ছাত্র-জনতা একত্রিত হয়। অপরদিকে পুলিশ, বিজিবি, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আগে থেকেই ওত পেতে ছিল। মানুষ জড়ো হয়েছিল ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে, গলায় “শ্লোগান আমরা আর সহ্য করবো না!” সুজন ছিল সবার সামনে। তার চোখে ছিল আগুন, বুকভরা সাহস। ছাত্র-জনতা সামনে এগুতে থাকলে পুলিশ রাইফেল নিয়ে প্রস্তুত হয়। শুরু হয় ব্যাপক সংঘর্ষ। কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ, তারপর গুলি। এক সময় বৃষ্টির মতো গুলি ছুটে আসে। আর সবার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সুজনের শরীর ঝাঁঝরা হয়ে যায়। প্রায় ১৫০টির মতো ছররাগুলি বিদ্ধ হয় তাঁর শরীরে। তিনি রাস্তায় পড়ে থাকলে ছাত্র-জনতা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হসপিটালে নিয়ে যায়।
চিকিৎসা সম্পর্কিত বর্ণনা
তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা বলেছিলেন, “এইভাবে কেউ বাঁচে না।” কিন্তু সুজন বেঁচেছিল। গুলির ক্ষত নিয়ে, ব্যথা নিয়ে, সে এখনো বেঁচে আছে যেন বাঁচার এক জীবন্ত প্রতীক হয়ে। আজও গ্রামের শিশুরা তাকে দেখে বলে, “এই লোকটা গুলিতে ভরপুর, কিন্তু বুকটা এখনো আগুন।” সুজন জানে, তার শরীরের গুলিগুলো শুধু আঘাত নয়, ওগুলো প্রতিবাদের পদক। সুজন মিয়া গুলিবিদ্ধ হলেও হারেনি; সে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের পৃষ্ঠায়, একজন নিঃস্ব কিন্তু গর্বিত জুলাই যোদ্ধা হিসেবে। গুলিবিদ্ধ দিনমজুর সুজন মিয়ার আর্তনাদ সুজন মিয়া
এক নজরে মো. সুজন মিয়া
নাম : মো. সুজন মিয়া
জন্ম তারিখ : ১ জানুয়ারি ১৯৯৬
জন্মস্থান : ময়মনসিংহ
পেশা : দিনমজুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: জাগির গোহা, ইউনিয়ন: কাজির কান্দা, থানা: ফুলপুর, জেলা: ময়মনসিংহ
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো. জরিপ খা
মায়ের নাম : মোছা. রেখা খাতুন
পিতার পেশা ও বয়স : বৃদ্ধ, ৭৫
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫৫
মাসিক আয় : ৪ হাজার টাকা
আয়ের উৎস : দিনমজুর
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. মোছা: সুমাইয়া আক্তার, বয়স: ৯ বছর, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ২য়, সম্পর্ক: মেয়ে
২. মোছা: মাইশা আক্তার, বয়স: ২ বছর, সম্পর্ক: মেয়ে
ঘটনার স্থান : আময়াকান্দা মোড়
আহত হওয়ার সময় : ২৩ জুলাই ২০২৪
আক্রমণকারী : পুলিশ
প্রস্তাবনা
উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
নিয়মিত স্বাস্থ্য চেক-আপ।
কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍