হোম / আহতদের তালিকা / আজিজুর রহমান
আজিজুর রহমান

আজিজুর রহমান

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

মো. আজিজুর রহমান ১৯৮৪ সালের ৩০ আগস্ট ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা এম এ জলিল পেশায় একজন ডাক্তার এবং মাতা সুজিলা খাতুন একজন গৃহিণী। আজিজুর রহমানের জন্ম ময়মনসিংহে হলেও তাঁর শৈশব কেটেছে নেত্রকোনা জেলায়। পিতার চাকুরির সুবাদে সেখানে সরকারি কোয়ার্টারে থাকতেন তারা। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। তিনি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন নেত্রকোনার একটি প্রাইমারি স্কুলে। পরবর্তী বছরে সপরিবারে তিনি ফুলবাড়িয়ায় ফিরে আসেন এবং তাঁর বাকি পড়াশোনা এখানেই শেষ করেন।

পারিবারিক ও কর্মজীবন
আজিজুর রহমান বর্তমানে ২ পুত্র ও এক কন্যার জনক। তাঁর পিতামাতা, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তিনি ফুলবাড়িয়ায় পৈতৃক ভিটায় বসবাস করছেন। তিনি তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আহত হওয়ার পর তিনি চাকুরিচ্যুত হন এবং বর্তমানে বেকার অবস্থায় আছেন। ফলে তাঁর পরিবার ভীষণ আর্থিক অনটনে আছেন। আজিজুর রহমান পড়াশোনা শেষ করে নির্বাচন কমিশন অফিসে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে যোগদান করেছিলেন এবং পাশাপাশি তিনি নেটওয়ার্ক এর ব্যবসা করতেন। যেহেতু তিনি আগে থেকেই রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন তাই ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি বেশিদিন চাকুরিতে অবস্থান করতে পারেননি। আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাকে চাকরিচ্যুত করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ ব্যবসায়িক সব পণ্য লুট করে এবং তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করে। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি বেশ কয়েকবছর নিজ গ্রামে থাকতে পারেননি। সে সময়টা তিনি গাজীপুরে বসবাস করছিলেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তিনি পুনরায় গ্রামে ফিরে যান এবং একটি কম্পিউটার দোকানে চাকরি নেন। এভাবেই চলছিলো তার সংসার।
জুলাই আন্দোলনে বিপ্লবী ভূমিকা
দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তার শিকার হয়ে আসছিলেন আজিজুর রহমান। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি যুক্ত হোন। নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন। কারণ এদেশের মানুষ স্বৈরাচার হাসিনা ও তার আওয়ামী গুন্ডাবাহিনীর শোষণ ও নিপীড়নে জর্জরিত হয়ে পড়েছিলো। শুরু থেকেই তিনি আন্দোলনের সামনের সারিতে থেকেছেন। সেসময় ও তাকে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। ফুলবাড়িয়ায় জুলাই কেন্দ্রিক সব ধরনের মিছিল মিটিংয়ে তিনি অংশ নিয়েছেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচি ঠিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আন্দোলন চলাকালীন তার নামে প্রায় ৮টি মামলা দায়ের করা হয়। ৪ আগস্ট সকাল থেকেই ফুলবাড়িয়া সিনেমা হলের সামনে বিক্ষোভকারী ছাত্র জনতা অবস্থান নেয়। সেদিন ছিলো অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিন। কেন্দ্রীয় নির্দেশনার সাথে সমন্বয় করে তারা সারাক্ষণই মাঠে তৎপর ছিলো। বিকেলের দিকে আন্দোলনটি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। একদিকে ছাত্রজনতা ও অপরদিকে পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কিছু কর্মীও সেখানে অবস্থান নেয়। হঠাৎ করেই পুলিশ মারমুখো হয়ে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুড়তে শুরু করে। একই সাথে ছাত্রলীগ ও হামলা চালায়। এতে কয়েকজন ছাত্র ও সাধারণ জনগণ আহত হয়। যেহেতু আজিজুর রহমান একেবারে সামনের দিকে ছিলেন তাই ২৬ টি রাবার বুলেট তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয়। তাছাড়া ছাত্রলীগের এক সন্ত্রাসী তার দিকে ইট ছুড়ে মারে। এতে তার ডান চোখের উপরের অংশে কপাল ফেটে যায় এবং রক্ত ঝরতে থাকে।
কপাল ও চোখের অসহ্য যন্ত্রণয় তিনি ঠিকভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলেন না। উপস্থিত লোকেরা আহত আজিজুর রহমানকে পার্শ্ববর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয় এবং মাথায় ব্যান্ডেজ করে দেয়া হয়। চিকিৎসার পর তিনি কিছুটা সুস্থ অনুভব করেন। পরবর্তীকালে ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাঁর শরীর থেকে ২১ টি রাবার বুলেট অপসারণ করা হয়। বর্তমানে তিনি মোটামুটি সুস্থ আছেন। জুলাই আন্দোলনে কেউ জীবন দিয়ে শহীদ হয়েছেন, কেউ আহত হয়েছেন, কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কিংবা চিরতরে হারিয়েছেন দৃষ্টিশক্তি।দেশের জন্য তাদের প্রত্যেকের অবদান অনস্বীকার্য।


একনজরে মো. আজিজুর রহমান
নাম : মো. আজিজুর রহমান
জন্ম : ৩০ আগস্ট ১৯৮৪
জন্মস্থান : ফুলবাড়িয়া
নিজ জেলা : ময়মনসিংহ
পেশা : কম্পিউটার অপারেটর
স্থায়ী ঠিকানা : ডাকঘর: ফুলবাড়িয়া, থানা: ফুলবাড়িয়া, জেলা: ময়মনসিংহ
পিতা : এম এ জলিল
মাতা : মোছা: সুজিলা খাতুন
মাসিক আয় : ১৫,০০০
আয়ের উৎস : কম্পিউটার দোকানে কাজ (বর্তমানে বেকার)
সন্তানদের পরিচয়
১. আমান ইসলাম অরন্য, বয়স: ১৬, পেশা: ছাত্র শ্রেণি: ৮ম, সম্পর্ক: ছেলে
২. আজাহাহ ইসলাম, বয়স: ১১, পেশা: মাদ্রাসা ছাত্র, সম্পর্ক: ছেলে
৩. আহনাফ ইসলাম আরশ, বয়স: ১ বছর, সম্পর্ক: ছেলে
ঘটনার স্থান : সিনেমা হল রোড, ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ
আক্রমণকারী : পুলিশ বাহিনী
আহত হওয়ার তারিখ ও সময়
৪ আগস্ট ২০২৪ বিকেল ৫:৩০
পুনর্বাসনভিত্তিক প্রস্তাবনা
১. ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করে দেওয়া
২. সরকারি বা বেসরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍