মো: বাবলু হোসেন বাপ্পি
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
ধোপাগুছিনা, ইউনিয়ন: নাগলা বাজার, থানা: হালুয়াঘাট, জেলা: ময়মনসিংহ
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
মো. বাবলু হোসেন বাপ্পি ময়মনসিংহ জেলার সন্তান। তার বাবা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। গ্রামের বাজারে মুরগীর দোকান দিয়ে সংসার চালান। তাঁর আরও তারা পাঁচ ভাইবোন। মা মারা গেছেন। বাবলু জন্ম গ্রহণ করেন ২ এপ্রিল ২০০৯ সালে। তাঁর বাবার নাম মো. মজিবুর রহমান, মা ফাতেমা খাতুন। তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট থানার ধোপাগুছিনা গ্রামে। ধোপাগুছিনা গ্রামটি নাগলা বাজার ইউনিয়নের একটি গ্রাম। এই গ্রামেই তাঁর বেড়ে ওঠা। অল্প আয়ের সংসারে বাবলু হোসেন বাপ্পী পড়ালেখা বেশি পড়তে পারেননি। তাঁর বাবার মুরগীর দোকানে মাঝে মাঝে সময় দেন। ঢাকায় ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে এসে আন্দোলনে যোগ দেন। ৫ আগস্ট রাত ৮ টায় ঢাকার মেরুল বাড্ডায় তিনি পুলিশের গুলিতে মারাত্মক আহত হন।
হাসিনার পলায়ন
৫ আগস্ট তীব্র আন্দোলনের মুখে শতাব্দীর কুখ্যাত ফ্যাসিস্ট, গণহত্যাকারী, স্বৈরাচার হাসিনা ভারতে পালিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করেন। এর আগে আন্দোলন দমনের নামে ইতিহাসের ভয়ংকর গণহত্যা পরিচালনা করেন। নিরীহ জনগণকে হত্যা করেন নির্মমভাবে। শিশু, বৃদ্ধ, ছাত্র, জনতা কেউ বাদ যায়নি এই হত্যাকাণ্ড থেকে। তবু আন্দোলন দমন হয়নি। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল সারা বাংলাদেশে।
আন্দোলনের শুরু হাসিনার স্বৈরাচারী সময় থেকেই। হাসিনার স্বৈর আচরণের বিরোধীতা করলেই ট্যাগ দিয়ে দমন করতো আন্দোলনকারীদের। ভোটের নামে করেছে প্রহসন। দেশের সকল রাজনৈতিক দলকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে বছরের পর বছর। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করেছে মিথ্যা মামলা, গায়েবী মামলা। বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা পালিয়ে বেড়িয়েছে পনের বছর। ঘরে পরিবারের সাথে থাকতে পারেনি গ্রেফতার আতঙ্কে আর দলীয় গুণ্ডাদের হামলার ভয়ে।
জুলাইয়ে এই আন্দোলন দানা বাঁধে। শুরু হয় ছাত্রদের দ্বারা কোটা আন্দোলন। এই আন্দোলনটি সমাধানের পথে যেতে পারতো হাসিনা আন্তরিক হলে। ততদিনে হাসিনা ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা হয়ে গেছে দাম্ভিক। তারা শক্তি প্রয়োগে ছাত্রদের দমিয়ে দিতে চায়। এর আগে ২০১৮ তে কোমলমতি ছাত্রদের ‘নিরাপদ সড়ক’ আন্দোলনটি দমন করেছিল শক্তি ও অস্ত্রের ভাষায়। তখন ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের গায়ে পুলিশের বুট ও লাঠি চালিয়ে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করেছিল
অভিভাবকদের জিম্মি করে দমন করেছিল আন্দোলন। এবারও হাঁটছিল একই পথে। এবার ছাত্ররা নিজেদের দাবীর প্রতি ছিল অটল।
কোটা বিরোধী আন্দোলন রূপ নিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে। আন্দোলন মধ্য জুলাই থেকে ভার্সিটি হতে ছড়িয়ে পড়ল রাজপথে। কর্মসূচিতে যোগ হল অভিনব পন্থা। ব্লক, শাটডাউন, কমপ্লিট শাটডাউনে অচল করে দেওয়া হল দেশ। হাসিনা লেলিয়ে দিল তার দলীয় গুণ্ডাবাহিনী। পুলিশ, বিজিবি নামিয়ে দিল ছাত্রদের বিরুদ্ধে। ছাত্র হত্যায় মেতে ওঠে হাসিনা। শত শত মেধাবী ছাত্রদের বুলেট ছুঁড়ে হত্যা করে। আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অমান্য করে মিছিল ছত্রভঙ্গের নামে সরাসরি গুলি করে হত্যা করতে থাকে ছাত্র জনতাকে। হেলিকপ্টারে গুলি করেও হত্যা করে, নিরাপদ ছিল না দেশের কোন অংশ। রাজধানী থেকে জেলা শহর, ইউনিয়নেও দলীয় গুণ্ডাবাহিনীর দাপট ছিল। তারপর হাসিনার অত্যাচারে ঐক্যবদ্ধ হল পুরো দেশ। আন্দোলন শেষ পর্যন্ত এক দফায় পরিণত হয়। হাসিনার পদত্যাগ। ৬ তারিখে ছিল ‘লং মার্চ টু ঢাকা: গণভবন ঘেরাও’ কর্মসূচি। ৪ তারিখে নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ড চালায়। একদিন এগিয়ে আসে ঘোষিত কর্মসূচি। সরকার সমস্ত পরিবহন বন্ধ রাখে। জারি রাখে কার্ফিউ। আদেশ জারি দেখা মাত্র গুলির। সব কিছু উপেক্ষা করে প্রাণ বাজি রেখে লক্ষ লক্ষ লোক ঢাকায় প্রবেশ করে। সবকিছু হাসিনার আয়ত্বের বাইরে চলে যায়। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যায়। দলীয় গুণ্ডারা লাপাত্তা। উপায়ান্তর না দেখে হাসিনা লক্ষ্মণ সেনের মতো গণভবনের খিড়কি দিয়ে পালিয়ে বাঁচে ভারত গিয়ে।
ঘটনার বর্ণনা
পালিয়ে গেছে হাসিনা। জনতার দখলে গণভবন। আওয়ামী লীগের কোন প্রাণীই আর সামনে নাই। সারাদেশ জনতার দখলে। ৫ আগস্ট জনতার দখলে দেশ। দুপুর ১২ টার পর থেকেই হাসিনা পলায়নের কাহিনী প্রচার হতে থাকে। ১ টার পর শুরু হয় আনন্দোৎসব। দুইটার পর সারাদেশে শুরু হয় বিজয়োল্লাস। তখনো রাজধানীর কোন কোন এলাকায় হাসিনার পলাতক খুনিরা মরণকামড়ে ব্যস্ত। মেরুল বাড্ডা এলাকা সেসব এলাকার একটি। সারাদিন পুলিশ এসব এলাকায় চালায় হামলা। জনতাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে থাকে। অবরুদ্ধ করে রাখে।
বাবলু হোসেন বাপ্পি ঢাকায় তার ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। তার ভাইয়ের বাসা ঢাকার মেরুল বাড্ডা এলাকায়। বাপ্পি জেনে গেছেন হাসিনার পলায়নের কথা। রাস্তায় বেরিয়ে দেখেন জনতা পুলিশের সংঘর্ষ।
৫ আগস্ট মেরুল বাড্ডায় পুলিশের সাথে জনতার তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে। ভাইয়ের বাসা থেকে বের হয়ে জনতার সাথে যোগ দেন। ধাওয়া, পাল্টা-ধাওয়া চলতে থাকে। খুনি পুলিশ বেপরোয়া গুলি বর্ষণ করে। বহুলোক গুলিবিদ্ধ হন। বিকাল ৩ টায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। জনতাও ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামনে অগ্রসর হতে থাকে। পুলিশের গুলি থামে না। ৫ আগস্ট বিজয়ের দিনও রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত পর্যাপ্ত গুলি করে পুলিশ। বাপ্পির সামনে আহতরা কাতরাতে থাকে। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। এ সময় বাপ্পিও মারত্মকভাবে আহত হন। তার ডান পা, পেট, বুক, কোমরে বুলেট লাগে। তিনি রক্তাক্ত হয়ে অচেতন পড়ে থাকে রাস্তায়। তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সিএমএইসে ভর্তি করে চিকিৎসা করা হয়।
চিকিৎসার সামগ্রিক বর্ণনা
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। টানা ১৯ দিন হাসপাতালে ছিলেন। তাঁর শরীরে বুলেট রয়ে গেছে। যন্ত্রণা কাতর জীবন যাপন করছেন। তাঁর আহত হওয়ার দিনই দেশ ফ্যাসিস্ট মুক্ত হয়। কাজেই চিকিৎসা করা যায় ভয়হীনভাবে। আন্দোলন চলাকালে আহতরা উপযুক্ত চিকিৎসাও পায়নি। হাসপাতালে হাসপাতালে ছিল হামলার আতঙ্ক। আবার ছিল গ্রেফতারের ভয়। আহতদের চিকিৎসা দিতে নিষেধাজ্ঞাও জারি ছিল সরকারী বেসরকারী হাসপাতালে। বাপ্পী চিকিৎসা পেয়েছেন। কিন্তু তার শরীরে অসংখ্য বুলেট রয়ে গেছে। এগুলো তাঁর জন্য যন্ত্রণাদায়ক।
চিকিৎসার প্রস্তাবনা
তাঁর সারা শরীরের বুলেট রয়ে গেছে। অল্প কয়েকটি বুলেট অপসারণ করা হয়েছে। তাঁর বুকে, পেটে, ডান পায়ে, কোমরে গুলি লেগেছে। এসব গুলি তার জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলেছে। এখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তার জন্য উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। দেশে সম্ভব না হলে দেশের বাইরে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব রাখছি। চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক তার অবশিষ্ট গুলিগুলো বের করার ব্যবস্থাও করতে হবে।
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা
তাঁর বাবা একজন নিম্ন আয়ের মানুষ। সংসারের উপার্জনের চেয়ে খরচ বেশি। আহত হওয়ার পর চিকিৎসা বাবদ খরচ হয়েছে প্রচুর। আছে ঋণগ্রস্ত।
* তাঁর ঋণ পরিশোধের মতো এককালীন অর্থ অনুদান করা।
* একটি ব্যবসার ব্যবস্থা করা।
* মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা, এতে চিকিৎসা ও ঔষধপত্রবাবদ খরচ করতে সহজ হবে।
একনজরে মো. বাবলু হোসেন বাপ্পি
নাম : মো. বাবলু হোসেন বাপ্পি
জন্ম তারিখ : ০২-০৪-২০০৯
জন্মস্থান : হালুয়াঘাট
পেশা : বেকার
নিজ জেলা : ময়মনসিংহ
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: ধোপাগুছিনা, ইউনিয়ন: নাগলা বাজার, থানা: হালুয়াঘাট, জেলা: ময়মনসিংহ
বর্তমান ঠিকানা : ঐ
পিতার নাম : মো: মজিবুর রহমান
পিতার পেশা : মুরগীর দোকান
মায়ের নাম : ফাতেমা খাতুন, মৃত
পারিবারিক অবস্থা
আয়ের পরিমাণ : ৪,০০০ টাকা
আয়ের উৎস : মুরগীর দোকান
সম্পদ : নাই
ভাই-বোনের তথ্যাদি
দু’ভাই আলমগীর হোসেন ও হাবিল। দুই বোন নাজমি আক্তার, হ্যাপী আক্তার। হ্যাপি আক্তার বিবাহিত, বাবার বাড়িতেই থাকেন।
আহত হওয়ার স্থান ও সময়: মেরুল বাড্ডা, ঢাকা, ৫ আগস্ট ২০২৪, রাত ৮ টা
আক্রমণকারী : বাড্ডা থানা পুলিশ
আহতের ধরণ : মারাত্মক, ডান পা, বুক, পেট, কোমরে গুলিবিদ্ধ
বর্তমানে : কিছুগুলি বের করা গেলেও এখনও অনেকগুলো গুলি রয়ে গেছে। এগুলো বের করতে হবে
আর্থিক অবস্থা : দরিদ্র,ঋণ করে চিকিৎসা চালিয়েছে
হাসিনার পলায়ন
৫ আগস্ট তীব্র আন্দোলনের মুখে শতাব্দীর কুখ্যাত ফ্যাসিস্ট, গণহত্যাকারী, স্বৈরাচার হাসিনা ভারতে পালিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করেন। এর আগে আন্দোলন দমনের নামে ইতিহাসের ভয়ংকর গণহত্যা পরিচালনা করেন। নিরীহ জনগণকে হত্যা করেন নির্মমভাবে। শিশু, বৃদ্ধ, ছাত্র, জনতা কেউ বাদ যায়নি এই হত্যাকাণ্ড থেকে। তবু আন্দোলন দমন হয়নি। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল সারা বাংলাদেশে।
আন্দোলনের শুরু হাসিনার স্বৈরাচারী সময় থেকেই। হাসিনার স্বৈর আচরণের বিরোধীতা করলেই ট্যাগ দিয়ে দমন করতো আন্দোলনকারীদের। ভোটের নামে করেছে প্রহসন। দেশের সকল রাজনৈতিক দলকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে বছরের পর বছর। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করেছে মিথ্যা মামলা, গায়েবী মামলা। বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা পালিয়ে বেড়িয়েছে পনের বছর। ঘরে পরিবারের সাথে থাকতে পারেনি গ্রেফতার আতঙ্কে আর দলীয় গুণ্ডাদের হামলার ভয়ে।
জুলাইয়ে এই আন্দোলন দানা বাঁধে। শুরু হয় ছাত্রদের দ্বারা কোটা আন্দোলন। এই আন্দোলনটি সমাধানের পথে যেতে পারতো হাসিনা আন্তরিক হলে। ততদিনে হাসিনা ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা হয়ে গেছে দাম্ভিক। তারা শক্তি প্রয়োগে ছাত্রদের দমিয়ে দিতে চায়। এর আগে ২০১৮ তে কোমলমতি ছাত্রদের ‘নিরাপদ সড়ক’ আন্দোলনটি দমন করেছিল শক্তি ও অস্ত্রের ভাষায়। তখন ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের গায়ে পুলিশের বুট ও লাঠি চালিয়ে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করেছিল
অভিভাবকদের জিম্মি করে দমন করেছিল আন্দোলন। এবারও হাঁটছিল একই পথে। এবার ছাত্ররা নিজেদের দাবীর প্রতি ছিল অটল।
কোটা বিরোধী আন্দোলন রূপ নিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে। আন্দোলন মধ্য জুলাই থেকে ভার্সিটি হতে ছড়িয়ে পড়ল রাজপথে। কর্মসূচিতে যোগ হল অভিনব পন্থা। ব্লক, শাটডাউন, কমপ্লিট শাটডাউনে অচল করে দেওয়া হল দেশ। হাসিনা লেলিয়ে দিল তার দলীয় গুণ্ডাবাহিনী। পুলিশ, বিজিবি নামিয়ে দিল ছাত্রদের বিরুদ্ধে। ছাত্র হত্যায় মেতে ওঠে হাসিনা। শত শত মেধাবী ছাত্রদের বুলেট ছুঁড়ে হত্যা করে। আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অমান্য করে মিছিল ছত্রভঙ্গের নামে সরাসরি গুলি করে হত্যা করতে থাকে ছাত্র জনতাকে। হেলিকপ্টারে গুলি করেও হত্যা করে, নিরাপদ ছিল না দেশের কোন অংশ। রাজধানী থেকে জেলা শহর, ইউনিয়নেও দলীয় গুণ্ডাবাহিনীর দাপট ছিল। তারপর হাসিনার অত্যাচারে ঐক্যবদ্ধ হল পুরো দেশ। আন্দোলন শেষ পর্যন্ত এক দফায় পরিণত হয়। হাসিনার পদত্যাগ। ৬ তারিখে ছিল ‘লং মার্চ টু ঢাকা: গণভবন ঘেরাও’ কর্মসূচি। ৪ তারিখে নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ড চালায়। একদিন এগিয়ে আসে ঘোষিত কর্মসূচি। সরকার সমস্ত পরিবহন বন্ধ রাখে। জারি রাখে কার্ফিউ। আদেশ জারি দেখা মাত্র গুলির। সব কিছু উপেক্ষা করে প্রাণ বাজি রেখে লক্ষ লক্ষ লোক ঢাকায় প্রবেশ করে। সবকিছু হাসিনার আয়ত্বের বাইরে চলে যায়। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যায়। দলীয় গুণ্ডারা লাপাত্তা। উপায়ান্তর না দেখে হাসিনা লক্ষ্মণ সেনের মতো গণভবনের খিড়কি দিয়ে পালিয়ে বাঁচে ভারত গিয়ে।
ঘটনার বর্ণনা
পালিয়ে গেছে হাসিনা। জনতার দখলে গণভবন। আওয়ামী লীগের কোন প্রাণীই আর সামনে নাই। সারাদেশ জনতার দখলে। ৫ আগস্ট জনতার দখলে দেশ। দুপুর ১২ টার পর থেকেই হাসিনা পলায়নের কাহিনী প্রচার হতে থাকে। ১ টার পর শুরু হয় আনন্দোৎসব। দুইটার পর সারাদেশে শুরু হয় বিজয়োল্লাস। তখনো রাজধানীর কোন কোন এলাকায় হাসিনার পলাতক খুনিরা মরণকামড়ে ব্যস্ত। মেরুল বাড্ডা এলাকা সেসব এলাকার একটি। সারাদিন পুলিশ এসব এলাকায় চালায় হামলা। জনতাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে থাকে। অবরুদ্ধ করে রাখে।
বাবলু হোসেন বাপ্পি ঢাকায় তার ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। তার ভাইয়ের বাসা ঢাকার মেরুল বাড্ডা এলাকায়। বাপ্পি জেনে গেছেন হাসিনার পলায়নের কথা। রাস্তায় বেরিয়ে দেখেন জনতা পুলিশের সংঘর্ষ।
৫ আগস্ট মেরুল বাড্ডায় পুলিশের সাথে জনতার তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে। ভাইয়ের বাসা থেকে বের হয়ে জনতার সাথে যোগ দেন। ধাওয়া, পাল্টা-ধাওয়া চলতে থাকে। খুনি পুলিশ বেপরোয়া গুলি বর্ষণ করে। বহুলোক গুলিবিদ্ধ হন। বিকাল ৩ টায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। জনতাও ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামনে অগ্রসর হতে থাকে। পুলিশের গুলি থামে না। ৫ আগস্ট বিজয়ের দিনও রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত পর্যাপ্ত গুলি করে পুলিশ। বাপ্পির সামনে আহতরা কাতরাতে থাকে। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। এ সময় বাপ্পিও মারত্মকভাবে আহত হন। তার ডান পা, পেট, বুক, কোমরে বুলেট লাগে। তিনি রক্তাক্ত হয়ে অচেতন পড়ে থাকে রাস্তায়। তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সিএমএইসে ভর্তি করে চিকিৎসা করা হয়।
চিকিৎসার সামগ্রিক বর্ণনা
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। টানা ১৯ দিন হাসপাতালে ছিলেন। তাঁর শরীরে বুলেট রয়ে গেছে। যন্ত্রণা কাতর জীবন যাপন করছেন। তাঁর আহত হওয়ার দিনই দেশ ফ্যাসিস্ট মুক্ত হয়। কাজেই চিকিৎসা করা যায় ভয়হীনভাবে। আন্দোলন চলাকালে আহতরা উপযুক্ত চিকিৎসাও পায়নি। হাসপাতালে হাসপাতালে ছিল হামলার আতঙ্ক। আবার ছিল গ্রেফতারের ভয়। আহতদের চিকিৎসা দিতে নিষেধাজ্ঞাও জারি ছিল সরকারী বেসরকারী হাসপাতালে। বাপ্পী চিকিৎসা পেয়েছেন। কিন্তু তার শরীরে অসংখ্য বুলেট রয়ে গেছে। এগুলো তাঁর জন্য যন্ত্রণাদায়ক।
চিকিৎসার প্রস্তাবনা
তাঁর সারা শরীরের বুলেট রয়ে গেছে। অল্প কয়েকটি বুলেট অপসারণ করা হয়েছে। তাঁর বুকে, পেটে, ডান পায়ে, কোমরে গুলি লেগেছে। এসব গুলি তার জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলেছে। এখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তার জন্য উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। দেশে সম্ভব না হলে দেশের বাইরে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব রাখছি। চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক তার অবশিষ্ট গুলিগুলো বের করার ব্যবস্থাও করতে হবে।
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা
তাঁর বাবা একজন নিম্ন আয়ের মানুষ। সংসারের উপার্জনের চেয়ে খরচ বেশি। আহত হওয়ার পর চিকিৎসা বাবদ খরচ হয়েছে প্রচুর। আছে ঋণগ্রস্ত।
* তাঁর ঋণ পরিশোধের মতো এককালীন অর্থ অনুদান করা।
* একটি ব্যবসার ব্যবস্থা করা।
* মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা, এতে চিকিৎসা ও ঔষধপত্রবাবদ খরচ করতে সহজ হবে।
একনজরে মো. বাবলু হোসেন বাপ্পি
নাম : মো. বাবলু হোসেন বাপ্পি
জন্ম তারিখ : ০২-০৪-২০০৯
জন্মস্থান : হালুয়াঘাট
পেশা : বেকার
নিজ জেলা : ময়মনসিংহ
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: ধোপাগুছিনা, ইউনিয়ন: নাগলা বাজার, থানা: হালুয়াঘাট, জেলা: ময়মনসিংহ
বর্তমান ঠিকানা : ঐ
পিতার নাম : মো: মজিবুর রহমান
পিতার পেশা : মুরগীর দোকান
মায়ের নাম : ফাতেমা খাতুন, মৃত
পারিবারিক অবস্থা
আয়ের পরিমাণ : ৪,০০০ টাকা
আয়ের উৎস : মুরগীর দোকান
সম্পদ : নাই
ভাই-বোনের তথ্যাদি
দু’ভাই আলমগীর হোসেন ও হাবিল। দুই বোন নাজমি আক্তার, হ্যাপী আক্তার। হ্যাপি আক্তার বিবাহিত, বাবার বাড়িতেই থাকেন।
আহত হওয়ার স্থান ও সময়: মেরুল বাড্ডা, ঢাকা, ৫ আগস্ট ২০২৪, রাত ৮ টা
আক্রমণকারী : বাড্ডা থানা পুলিশ
আহতের ধরণ : মারাত্মক, ডান পা, বুক, পেট, কোমরে গুলিবিদ্ধ
বর্তমানে : কিছুগুলি বের করা গেলেও এখনও অনেকগুলো গুলি রয়ে গেছে। এগুলো বের করতে হবে
আর্থিক অবস্থা : দরিদ্র,ঋণ করে চিকিৎসা চালিয়েছে
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍