হোম / আহতদের তালিকা / বিজয় বারই
বিজয় বারই

বিজয় বারই

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ভালুকা, ইউনিয়ন: গৌরীপুর, থানা: গৌরীপুর, জেলা: ময়মনসিংহ

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

বিজয় বারই ময়মনসিংহ সদরের অবস্থিত শহীদ জিয়া হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তবু তাঁর মনে আকাশ সমান স্বপ্ন লেখাপড়া শিখে একদিন বিখ্যাত হবে, দেশ সেবা করবে। বাবার অভাব অনটনের সংসারে তাঁর পড়ালেখা থেমে থাকেনি। পড়ালেখার পাশাপাশি বাবার সংসারে সহায়তা করার জন্য শহরের এক কম্পিউটারের দোকানে পার্টটাইম কাজ করেন। বাবা মা ও এক বোন নিয়ে তাদের ছোট সংসার। বাবা চন্দন বারই শহরের একজন অটোরিকশা চালক। মা আলো বারই গৃহিণী। এক বোন স্বপ্না রাণী বারই স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনা করেন।
বিজয় বারই জন্মগ্রহণ করেন

১০-০৪-২০০৫ সালে। ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানার গৌরীপুর ইউনিয়নের ভালুকা গ্রাম তাঁর জন্মভূমি। এ গ্রামের চন্দন বারইর ঘরেই তাঁর জন্ম।
বিজয় বারইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণ
বিজয় বারই ২০ জুলাই আন্দোলনে আহত হন। তার আগেও তিনি প্রতিদিনই অংশ নেন ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে’। আন্দোলনের শুরুর দিকের কথা তার শহর ময়মনসিংহে পৌছলেও বিজয় বারই খেয়াল করেননি। আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। খুব তাড়াতাড়িই জানতে পারেন ঢাকায় ছাত্ররা প্রতিবাদ করছে প্রচলিত কোটার। তারা মেধার মূল্যায়নে আন্দোলনে নেমেছেন। এই আন্দোলনে আওয়ামীলীগ খুব ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা চালায়। ঢাকা ভার্সিটির ছাত্রীদের নির্যাতিত চেহারা, একেকটি রক্তাক্ত মুখ দেখে আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগকে সারাদেশের বিবেকবান মানুষের সাথে বিজয় বারইও ধিক্কার জানান। ছাত্রদের প্রতি সরকারের নৃশংসতা মধ্য জুলাইয়ে আবু সাঈদসহ অনেকের নিহত হওয়ায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রতি ঘৃণা জানাতে থাকে। বিজয় বারই আন্দোলনে নামতে দৃঢ়ভাবে প্রস্ততি নেয়। হাসিনা সরকারের স্বৈরাচারী কায়দা, ফ্যাসিজমের শৃংখলে দেশ অবরুদ্ধ। দেশকে মুক্তির স্বপ্নে, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে, আর ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে, খুনিদের বিচারের দাবীতে বিজয় বারই আন্দোলনে নিয়মিত অংশ নেন।
২০ জুলাই ঘটনার দিন
প্রতিদিনের মতো বিজয় বারই ২০ জুলাই সকালবেলায় বাসা থেকে বের হয়ে ছাত্রদের সাথে আন্দোলনে যোগ দেন। এসময় আন্দোলনে যোগ দেওয়া খুব সহজ ছিল না। আওয়ামী হামলার আশঙ্কা মাথার উপর চক্কর দিত হরদম। কার্ফিউ জারি ছিল দেশে। কার্ফিউ জারি থাকলেও দেশের মানুষের মুক্তির উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে কলতাবাজার এসে সবার সাথে মিলিত হন। এদিন অবস্থা খুব খারাপ। আগের কয়েকদিন সরকার ছাত্র হত্যায় দেশকে রক্তাক্ত করে রেখেছেন। আওয়ামীলীগ ও প্রশাসন খুবই মারমুখী অবস্থায়।
কলতাবাজারে এসে তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দুই পাশ থেকে ঘিরে ধরেন। একপাশে নিরস্ত্র ছাত্র জনতা, অপরপাশে সশস্ত্র আওয়ামী ক্যাডার ও পুলিশ বাহিনী। চরম উত্তেজনাকর অবস্থায় পুলিশ গুলি ছোঁড়ে। গুলি লেগে তার সামনেই এক ভাই আহত হয়ে পড়ে যায়। বিজয় বারই তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বুঝতে পারেন তিনি স্পটডেট। আহত ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। তাকে উদ্ধার করতে গেলে বিজয় বারই এখানেই গুলিবিদ্ধ হন। তিনটি গুলি বিদ্ধ হয় তার দেহে। একটি গুলি তাঁর ডান হাতে লেগে হাতের রগ ছিঁড়ে যায়, হাড় ভেঙে যায়। আরও দুটি গুলি লাগে তার হাতেই। হাত ভেঙে প্রচুর রক্তপাত হয়। তিনি মাটিতে লুটিয় পড়েন। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়।
চিকিৎসা সংক্রান্ত সামগ্রিক বর্ণনা
বিজয় বারই আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর চিকিৎসা করা খুবই দুরূহ হয়ে পড়ে। দেশের অবস্থা তখন উত্তেজনাকর। প্রচণ্ডরকম উত্তপ্ত পরিস্থিতি। হামলা, মামলা, ধরপাকড়ে এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। আহতদের চিকিৎসা করাও আতঙ্কের বিষয়। গুরুতর আহত হওয়ার পরও তাকে হাসপাতালে নেওয়া ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয় ক্লিনিকের একজন ডাক্তার বাড়িতে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থা কিছুটা অনুকূলে আসলে, আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে সরকার ও তার বাহিনী কিছুটা পিছু হটতে বাধ্য হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁর চিকিৎসা চলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে। দুটো অপারেশন করা হয়। অপারেশন করে তার হাতে ধাতব প্লেট লাগানো হয়। দীর্ঘ দুই মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন। বর্তমানেও চিকিৎসাধীন আছেন। গুলিতে আহত হওয়ায় তিনি পরিশ্রমের কোন কাজ করতে পারেননি।
চিকিৎসা ব্যায়
আহত হওয়ার পরপরই তার অবস্থা গুরুতর অবনতি ঘটে।
দ্রুতই অপারেশনের ব্যবস্থা করতে হয়। দরিদ্র পরিবারে তখন চিকিৎসা করার মতো অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ছিল না। ঋণ ও ধার-দেনা করে চিকিৎসা করা হয়। প্রায় ৩ লক্ষ টাকা তার চিকিৎসা খরচ হয়েছে। তাদের কোন স্থাবর অস্থাবর সহায় সম্পত্তি নাই। সব টাকাই এনজিও থেকে ঋণ ও অন্যান্য ঋণের মাধ্যমে সংগ্রহ করে চিকিৎসা ব্যয় বহন করা হয়। এখন তারা ঋণগ্রস্ত। পরিশোধের কোন মাধ্যম বা আয়ের রাস্তা নাই।
চিকিৎসা প্রস্তাবনা
আহত হওয়ায় তার হাত ভেঙে যায়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়েছেন। এখনো চিকিৎসাধীন। হাতে প্লেট লাগানো। কোন কাজ কাম করতে পারেন না। শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন আছে।
কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রস্তাবনা
তিনি আহত হওয়ার পর দুটো অপারেশন করা হয়েছে। হাত ভেঙে গেলে হাতে প্লেট বা রড লাগানো। তার পক্ষ কাজ করা কষ্টকর। এখন তাকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
শিক্ষাজীবন সমাপ্তের জন্য শিক্ষাবৃত্তি
তিনি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করতেন। তাকে এ জাতীয় ব্যবসার ব্যবস্থা করলে সহজ হবে। এককালীন আর্থিক অনুদান দিয়ে তাকে স্বাবলম্বী করে তোলা। শারীরিক ও মানসিক চাপ মুক্তির জন্য কাউন্সিলিং সহ আনুষাঙ্গিক বিষয়ের ব্যবস্থা করা।

একনজরে বিজয় বারইবিজয়ের বিজয় অর্জন
নাম : বিজয় বারই
জন্ম তারিখ : ১০-০৪-২০০৫
জন্মস্থান : ভালুকা
নিজ জেলা : ময়মনসিংহ
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: ভালুকা, ইউনিয়ন: গৌরীপুর, থানা: গৌরীপুর, জেলা: ময়মনসিংহ
পিতার নাম : চন্দন বারই
পিতার পেশা : অটোচালক
মায়ের নাম : আলো বারই
মায়ের পেশা : গৃহিণী
পারিবারিক অবস্থা
আয়ের পরিমাণ : ১৫,০০০
আয়ের উৎস : অটোচালক
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
ভাই-বোনের তথ্যাদি
স্বর্ণা রাণী বারই, শিক্ষার্থী, শ্রেণি নবম, সম্পর্ক: বোন
আক্রমণের স্থান ও সময় : কলতাবাজার, ২০ জুলাই, দুপুর ১২টা
আঘাতের ধরণ : গুলি, ডান হাতে, হাড় ও রগ ছিঁড়ে গেছে
খরচ: ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা, ঋণ করেন, বর্তমানেও চিকিৎসাধীন
এ যেন দেশের তরে সবার আগে

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍