হোম / আহতদের তালিকা / মো: নুরুল ইসলাম
মো:  নুরুল ইসলাম

মো: নুরুল ইসলাম

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

সরাতিয়া, ধামর, ফুলবাড়িয়া,ময়মনসিংহ

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

মো. নুরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন ৩ মে ১৯৮৯ সালে। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া থানার ধামর ইউনিয়নে সরাতিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মো. ওয়াহেদ আলী মণ্ডল, মাতা মোছা. খাদিজা খাতুন। তাঁর পিতা একজন কৃষক, মাতা গৃহিণী। তিনি টেলিকম কোম্পানিতে চাকরি করতেন। বর্তমানে বেকার জীবন যাপন করছেন।


পারিবারিক অবস্থা
তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। ছেলে আলী হামজা নার্সারিতে পড়ে, মেয়ে ছোট। স্ত্রী, বাবা, মা, ছেলেমেয়ে নিয়ে তাঁর যৌথ সংসার। তিনি এক নিম্নবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান। নির্ধারিত পেশা না থাকায় বেকার জীবন যাপন করেন। তবে সংসার চালানোর জন্য অনির্ধারিত কাজকর্ম করে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করেন।

আন্দোলনে অংশগ্রহণ
২০২৪ সালের মধ্যভাগে বাংলাদেশে শুরু হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ও জনতার আন্দোলন, যা এক ঐতিহাসিক জাগরণের প্রতীক হয়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়োগে বৈষম্য, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় ছাত্রলীগের সন্ত্রাস, বিচারহীনতা এবং ছাত্রদের উপর দমনপীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে। সারা দেশের মতো ময়মনসিংহ বিভাগেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ময়মনসিংহ সদর ফুলপুরসহ বিভাগের সব জায়গায় ছাত্ররা একত্র হয়ে ন্যায়ের দাবি তোলে। “গণতন্ত্র চাই না, ন্যায়ের শাসন চাই”। এই শ্লোগানে গর্জে ওঠে পথঘাট। মো. নুরুল ইসলাম একজন রাজনীতি সচেতন ব্যক্তি। তিনি ছাত্র না হয়েও এই আন্দোলনের মিছিলে শামিল হন। তাঁর চোখে আন্দোলন ছিল বাঁচার লড়াই, নিজের ভবিষ্যৎ রক্ষার সংগ্রাম। ময়মনসিংহ, ফুলবাড়িয়ার স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি মিছিলে অংশ নেন। এই আন্দোলনের পেছনে তার নিজস্ব বোধ, অন্যায়ের প্রতি ঘৃণা এবং সাহসিকতা কাজ করে। এই নিপীড়িত মানুষের হাতে ছিল না অস্ত্র, ছিল না দল, ছিল শুধুই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার ইচ্ছা।

আন্দোলনে যোগদান
আন্দোলনের প্রথম থেকেই মো. নুরুল ইসলাম সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ৫ আগস্টের আগে থেকেই তিনি নিয়মিত মিছিলে অংশ নেন। প্রচার করেন এবং বন্ধুদের সঙ্গে আন্দোলনের পরিকল্পনা করেন। ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই বিকাল ৪টার দিকে ফুলবাড়িয়া এলাকার জননী সিনেমা হল সংলগ্ন রাস্তার পাশে ছাত্র-জনতার একটি মিছিল যাত্রা শুরু করে। এ সময় তিনি সেই মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি সামনে আগাতে থাকে। তিনি এর আগেও ১৬ থেকে ২২ জুলাইয়ের আন্দোলনের প্রতিটি দিন সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ২৩ জুলাইয়ে মিছিল নিয়ে সামনে অগ্রসর হতেই পূর্ব থেকে ওঁত পেতে থাকা পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা অচমকা আক্রমণ করে। তাদের আওয়ামী বাহিনীর সাথে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরাও ছিল। আন্দোলনকারীদের সাথে তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে। ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া চলে। শিক্ষার্থীরা চারপাশে ছুটতে থাকে, জীবন বাঁচাতে যে যেদিকে পারে পালাতে থাকে। দৌড়ে সামনে আগাতে গিয়ে নূরুল ইসলাম মাটিতে উপুড় হয়ে পড়ে যান। এতে তাঁর হাতে মারাত্মক আঘাত পান।

চিকিৎসা
আহত হওয়ার পর তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ডাক্তারদের পরামর্শ থাকে হাত অপারেশন করার। কিন্ত তিনি অপারেশন করতে পারেননি। দীর্ঘদিন প্লাস্টার করে রেখে ঔষধপত্র খেয়ে তিনি সুস্থ হন। তবে এখনো হাত ঠিক মতো নাড়াচাড়া করতে পারেন না। নাড়াচাড়া করলে ব্যথা অনুভব করেন।

চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রস্তাব
বর্তমানে তিনি সুস্থ হলেও হাতে ব্যথা অনুভব করেন। ফিজিওথেরাপি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন আছে।

কর্মসংস্থানের প্রস্তাব
তিনি টেলিকম কোম্পানিতে চাকরি করতেন। আহত হওয়ার পর তাঁর চাকরি নাই। বর্তমানে বেকার। তার জন্য টেলিকম সংশ্লিষ্ট ব্যবসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যার বাজেট ২-৩ লাখ টাকা। নুরুল ইসলাম
একজন জুলাই যোদ্ধা

এক নজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো. নুরুল ইসলাম
জন্ম তারিখ : ০৩-০৫-১৯৮৯
জন্মস্থান : ফুলবাড়িয়া
পেশা : বেকার
নিজ জেলা : ময়মনসিংহ
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: সরাতিয়া, ইউনিয়ন: ধামর, থানা: ফুলবাড়িয়া, জেলা: ময়মনসিংহ
পিতার নাম : ওয়াহেদ আলী মণ্ডল
পিতার পেশা : কৃষক
মায়ের নাম : মোছা. খোদেজা খাতুন
মায়ের পেশা : গৃহিনী
পারিবারিক অবস্থা : নাজুক
সন্তানদের বিবরণ
আলী হামজা, নার্সারিতে অধ্যয়নরত, সম্পর্ক: ছেলে
ফারজানা আফরিন, সম্পর্ক: মেয়ে
আহত হওয়ার স্থান ও সময়: ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ, ২৩ জুলাই ২০২৪, বিকাল ৪টা
আক্রমণকারী : পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍