হোম / আহতদের তালিকা / মো: মিজান সরকার
মো:  মিজান সরকার

মো: মিজান সরকার

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

রাজমিস্ত্রী, বর্তমানে অসুস্থ,ময়মনসিংহ

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানার রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের এক অজপাড়াগাঁয়ের নাম দেবোত্তর সেরুয়া। সে গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান মো. মিজান সরকার। জন্মগ্রহণ করেন ২১-০৫-১৯৮৩ সালে। পিতা মৃত মান্নান সরকার, মা ফাতেমা খাতুন। মা বয়সের ভারে চলাচলে অক্ষম। বৃদ্ধ মা সন্তান, স্ত্রী নিয়ে তাঁর সংসার। দারিদ্র্যর সাথে তাঁর নিত্য সংগ্রাম। নিজে রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। স্ত্রী একটি গার্মেন্টেসে ছোট চাকরি করে সংসারের অভাব পূরণে প্রাণপণ চেষ্টা করেন। সংসারে অভাব থাকলেও মনে তারা রোপন করে রেখেছেন স্বপ্ন। স্বপ্ন তাঁর সন্তানকে নিয়ে। দারিদ্র্য তাদের স্বপ্নকে বাঁধাগ্রস্ত করলেও হার মানেননি। সন্তানকে ভর্তি করেন যাত্রাবাড়িতে একটি মাদ্রাসায়। ছেলে সাব্বির হোসেনের বয়স ১৫ বছর। তিনি হেফজ বিভাগে অধ্যয়নরত।


আহত হওয়ার প্রেক্ষাপট
জুলাইয়ে বাংলাদেশে শুরু হয় ফ্যাসিবাদবিরোধী তীব্র আন্দোলন। স্বৈরাচার, ফ্যাসিস্ট হাসিনা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে নানাভাবে। রাতে ভোটবাক্স ভরে কেড়ে নিয়েছিল মানুষের ভোটাধিকার। বাকস্বাধীনতা হরণ করেছিল হাসিনা। দেশকে পৈতৃক সম্পত্তি বানিয়ে শাসন ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিল। নির্বাচনের নামে প্রহসন, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যা, গুম, হামলা মামলায় দেশকে করে রেখেছিল ত্রাসের রাজত্ব করে। পনেরো বছরই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলন চালিয়েছে হাসিনা পতনে। হাসিনা রাজনৈতিক পথ ছেড়ে বরাবরই অনুসরণ করেছে সশস্ত্র পথ। রাজনীতিকে দমন করেছে অস্ত্র দিয়ে। আয়নাঘর তার আমলের ভয়ংকর রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন পন্থা। জুলাই-২৪ এ শুরু হয় কোটা বিরোধী আন্দোলন। স্বভাবগতভাবে দাবি আদায়কারীদের সাথে কথা বলে অস্ত্রের ভাষায়, ফ্যাসিস্ট কায়দায় চায় দমন করতে। আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। দেশ উত্তপ্ত হয়। কোটা আন্দোলন রূপ নেয় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে। আন্দোলন দমন করতে মাঠে নামে খুনি হাসিনার আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। মাঠে নামায় রাষ্ট্রীয় সকল বাহিনীকে। তারা নির্বিচারে হত্যা করে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে। সরকারের এমন আচরণে স্তম্ভিত হয় সচেতন নাগরিক সমাজ। অভিভাবক, জনতা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী সবাই পাশে দাঁড়ায় ছাত্রদের। লাশের মিছিলে দেশের জনগণ শোকাভিভূত হয়। হাসিনার দিন ফুরিয়ে আসে। ঢাকাসহ সারাদেশ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

মিজান সরকার ছেলেকে আনতে যান
চিন্তিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। তাঁর পুত্র যাত্রাবাড়ির একটি মাদ্রাসায় হেফজ পড়ে। যাত্রাবাড়ির মাদ্রাসাসমুহে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ও পুলিশ ছাত্র শিক্ষকদের ধরপাকড় শুরু করে। মাদ্রাসায় মাদ্রাসায় গিয়ে নির্যাতন করতে থাকে। ৩ আগস্ট দেশের অবস্থা থমথমে। কার্ফিউ জারি। তবু তিনি সাহসে ভর করে রওয়ানা দেন সন্তানকে আনতে। যাত্রাবাড়ি কাজলা ব্রিজে আন্দোলনকারী ও পুলিশ মুখোমুখি। পুলিশের সাথে আছে আওয়ামী লীগের দলীয় সন্ত্রাসীরা। ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া দফায় দফায় চলতে থাকে। সন্ধ্যা ৬ টায় পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরাসরি গুলি করতে থাকে। বহু হতাহত হয়। আকস্মিক একটি বুলেট মিজানের চোখে এসে লাগে। ডান চোখের মনি গলে যায়। তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। কোনো রকম উস্কানি ছাড়াই পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। মিজান জ্ঞান হারিয়ে রক্তাক্ত দেহে রাজপথে পড়ে থাকেন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়।

আহত হওয়ার পর
পুলিশের গুলি এসে লাগে তাঁর ডান চোখে। ছাত্র-জনতা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে একদিন ছিলেন, কিন্তু তারা উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে পারেননি। তাঁর চোখ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুলিতে চোখের মণি নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। তাঁর চোখ চিরতরে আলোহীন হয়ে যায়। দুটো সেলাই দিতে হয় চোখে। তিনি আর চোখে দেখেন না। দীর্ঘদিন হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এখনো পূর্ণ চিকিৎসা তার হয়নি। তাঁর চিকিৎসা চলমান।

বর্তমান অবস্থা
আগে তিনি রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন। আহত হওয়ার পর চোখে দেখেন না। কোনো কাজও করতে পারেন না। বর্তমানে বউয়ের অল্প বেতনের উপরই নির্ভরশীল। খেয়ে না খেয়ে দিন যাচ্ছে। এখন তিনি স্ত্রীর কাঁধে ভর করে চলতে বাধ্য।

চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা
চোখ তার আলোহীন, ঝাপসা দেখেন। এছাড়াও শারীরিক বহু জটিলতায় ভুগছেন। তাঁর জন্য দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা করা দরকার। প্রয়োজনীয় ঔষধ ও আবশ্যিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলা যায়।
কর্মসংস্থানের প্রস্তাব
১. তাকে ক্ষুদ্র একটি ব্যবসা ধরিয়ে দেওয়া যায়।
২. চিকিৎসা ভাতা
৩. মাসিক ভাতা
৪. আর্থিক অনুদান দরকার।

এক নজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো. মিজান সরকার
জন্ম তারিখ : ২১-০৫-১৯৮৩
জন্মস্থান : ফুলপুর
পেশা : রাজমিস্ত্রী। বর্তমানে অসুস্থ
নিজ জেলা : ময়মনসিংহ
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: দেবোত্তর সেরুয়া ইউনিয়ন: রহিমগঞ্জ, থানা: ফুলপুর, জেলা: ময়মনসিংহ
পিতার নাম : মান্নান সরকার, মৃত
মায়ের নাম : ফাতেমা খাতুন
মায়ের পেশা : বৃদ্ধা
পারিবারিক অবস্থা
আয়ের পরিমাণ : ৮,০০০ টাকা
আয়ের উৎস : স্ত্রীর চাকরি (গার্মেন্টস)
বাড়ি : ভাঙাচোরা ঘর
সন্তান
১. সাব্বির হোসেন, বয়স ১৫, পেশা: হেফজ বিভাগে অধ্যায়নরত, সম্পর্ক: ছেলে
আহত হওয়ার সময় : ০৩ আগস্ট ২০২৪
আহত হওয়ার স্থান : যাত্রাবাড়ি, কাজলা ব্রীজ
আক্রমণকারী : পুলিশ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍