হোম / আহতদের তালিকা / মো. নাজমুল হক
মো. নাজমুল হক

মো. নাজমুল হক

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ছাত্র
ঝনকা বাজার, কাশিমপুর,ময়মনসিংহ

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

মো. নাজমুল হক জন্ম গ্রহণ করেছেন ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ সালে। তিনি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার সন্তান । তার বাবা আব্দুস সালাম। মা নাসিমা খাতুন গৃহিণী। তিনি শিক্ষার্থী।

ঘটনার বিবরণ
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাষ্ট্রব্যবস্থাকে একটি দলীয় শাসনব্যবস্থায় রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং গণতন্ত্রের বদলে প্রতিষ্ঠিত হয় ভয়ভীতি, দমন এবং একনায়কতন্ত্রের এক কঠোর সংস্করণ। দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে সাজানো হয়, যেখানে মেধা, দক্ষতা কিংবা সততা নয়, বরং রাজনৈতিক আনুগত্যই হয়ে দাঁড়ায় পদোন্নতির মাপকাঠি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়; নাগরিক অধিকারকে নিরাপত্তাহীনতার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনে ব্যবহার করা হয় যেন তারা জনগণের নয়, বরং সরকারের ব্যক্তিগত বাহিনী। সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য অর্থনৈতিক চাপ, বিজ্ঞাপন বয়কট, লাইসেন্স বাতিল ও মামলার আশঙ্কায় বহু স্বাধীন কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে পড়ে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ একাধিক কঠোর আইন তৈরি করে ভিন্নমতের বিপরীতে এক ভয়াবহ দমননীতির সূচনা ঘটে। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের তথাকথিত নির্বাচনগুলো ছিল এই একদলীয় দুঃশাসনের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। যেখানে জনগণের ভোটাধিকার পরিণত হয় কেবল এক আনুষ্ঠানিকতায়, আর নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা হয়ে ওঠে ক্ষমতাসীনদের বৈধতা প্রদানের হাতিয়ার। ভোটকেন্দ্রগুলোতে ছিল না ভোটার, ছিল না প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবুও ফলাফল পূর্বনির্ধারিত! শাসকগোষ্ঠীর এই ক্ষমতালিপ্সা শুধু রাজনৈতিক শত্রু দমনে থেমে থাকেনি, বরং তা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের রূপধারণ করে। বিচার বহির্ভূত হত্যা, গুম, অপহরণ, মিথ্যা মামলা এসব যেন সাধারণ চিত্রে পরিণত হয়। পিলখানায় দেশের বীর সেনানিদের নৃশংস হত্যাকাণ্ড কিংবা শাপলা চত্বরে রক্তাক্ত রাত সবই ইতিহাসের কলঙ্কময় অধ্যায় হয়ে দাঁড়ায়। এ এক ভয়াবহ দমনচক্র, যেখানে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জনগণের মনের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয় নীরবতার শিকল। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আওয়ামী লীগ তার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ছাত্র-জনতার উপর হামলা শুরু করে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে মো. নাজমুল হক ৪ আগস্ট ২০২৪ সালে আন্দোলনে যোগদান করে। নাজমুল হক তাঁর ভাই এবং বোন খাদিজাসহ একসাথে পাইলট স্কুলে একত্রিত হয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশগ্রহণ শুরু করেন। আন্দোলন শুরু হতেই পুলিশ পরিস্থিতি দমন করতে গুলি ছোঁড়ে। পুলিশের ছোড়া ছররা গুলিতে নাজমুল হক আহত হন। ছররার কিছু অংশ তার শরীরে বিদ্ধ হয়, ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং রাস্তায় পড়ে যান। পড়ে যাওয়ার সময় তাঁর হাঁটু, হাতের কব্জি ও পায়ে মারাত্মক ক্ষত হয়। এই ঘটনাটি ঘটে বিকাল ৪টায় ফুলবাড়িয়া থানার সামনে।

যেভাবে আন্দোলন শুরু
যে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল ২০২৪ সালের জুলাই মাসে, তা থেমে থাকেনি ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামে। সেই দাবানল ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও। আন্দোলনের সেই উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার সামনেও। সেখানে এক দৃঢ়চেতা যোদ্ধার নাম মো. নাজমুল হক। তিনি ছিলেন এলাকার তরুণদের মধ্যে প্রখরবোধসম্পন্ন, ন্যায়-অভিমুখী এবং দৃঢ় নেতৃত্বের প্রতীক। যখন রাষ্ট্র তাঁর নাগরিকদের প্রতি দায়িত্ব ভুলে, দলীয় দাসত্বে লিপ্ত, তখন নাজমুল নিজের অবস্থান থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। ফুলবাড়িয়া থানার সামনে শত শত ছাত্র-জনতার সঙ্গে তিনিও জড়ো হন। মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন, ন্যায্য চাকরি প্রক্রিয়া ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থার দাবিতে গর্জে ওঠে পুরো জনপদ। কিন্তু প্রশাসন, বরাবরের মতো, আন্দোলনের জবাবে দেয় দমন। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে যখন পুলিশ অতর্কিত হামলা চালায়, তখন আকাশ-বাতাস কেঁপে ওঠে। নাজমুল হক ছিলেন সম্মুখ সারিতে। একের পর এক ছররা গুলি ছোড়ে পুলিশ তা এসে বিদ্ধ হয় তাঁর শরীরে। হাঁটু, কব্জি এবং পায়ের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহভাবে আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। চারপাশে ধোঁয়া, চিৎকার আর রক্ত এ যেন আরেকটি ইতিহাস, যা লেখা হচ্ছে বুকের রক্ত দিয়ে।

চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
পুলিশের ছোঁড়া ছররা গুলিতে গুরুতরভাবে আহত হয়ে নাজমুল হক সরাসরি রক্তাক্ত হয়ে পড়েন। আন্দোলনের সময় তিনি মিছিল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান এবং একা পড়ে যান। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি কোনো সহায়তা না পেয়ে একাই প্রায় ৪ কিলোমিটার পথ হেঁটে চলে যান। তাকে ঘরের ভেতরে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাইরে থেকে একজন ডাক্তার এসে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। পরবর্তীতে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় এবং সেখানে তাঁর ক্ষতস্থানে চিকিৎসা চালানো হয়। বর্তমানে নাজমুল হক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।


ব্যক্তিগত বিবরণ
নাম : মো. নাজমুল হক
জন্ম তারিখ : ১৫-০২-২০০৫
জন্মস্থান : মুক্তাগাছা
পেশা : ছাত্র
নিজ জেলা : ময়মনসিংহ
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: ঝনকা বাজার, ইউনিয়ন: কাশিমপুর, থানা: মুক্তাগাছা, জেলা: ময়মনসিংহ
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : আব্দুস সালাম
মায়ের নাম : নাসিমা খাতুন
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী ও ৩৫
পারিবারিক অবস্থা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
ভাই-বোনের তথ্যাদি
১. নাহিদুল হাসান, বয়স: ১৭ বছর, পেশা: ছাত্র, সম্পর্ক: ভাই
২. ওসমান গনি, বয়স: ৪ বছর, পেশা: ছাত্র, সম্পর্ক: ভাই

প্রস্তাবনা
১। সম্পূর্ণ চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ
২। স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা করা, ব্যবসার জন্য অনুদান প্রদান করা
৩। শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍