শিপন আহমেদ শ্রাবণ
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
ছাত্র
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের রাজপথে যা ঘটেছিল, তা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। এটি ছিল দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে গড়ে ওঠা এক ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার ফলাফল। একে একদিনে নির্মাণ করা হয়নি, এটি গড়ে উঠেছিল পরিকল্পিতভাবে, ধাপে ধাপে, জনগণের মৌলিক অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর ধ্বংসের মাধ্যমে।২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দিকের গণতান্ত্রিক ভাষ্য ধীরে ধীরে রূপ নেয় এককেন্দ্রিক দমননীতির দিকে। প্রথমে প্রশাসনের দলীয়করণ, এরপর বিচার ব্যবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ, তারপর নির্বাচন ব্যবস্থার অকার্যকর করে তোলা, এবং সর্বশেষে ভিন্নমতকে রাষ্ট্রদ্রোহের তকমা দিয়ে নিঃশেষ করার প্রচেষ্টা। এই সময়ের মধ্যে সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কোনোটিই রেহাই পায়নি রাষ্ট্রের দমনমূলক হাত থেকে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে হাতিয়ার করে সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, ছাত্রনেতা সবাইকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখা হয়েছে।
ব্যক্তিগত বিবরণ
এই পনেরো বছরের শাসনকালে ছাত্রসমাজ বিশেষভাবে নির্যাতিত হয়েছে। যারা সরকারের পক্ষে, তারা পেয়েছে সুযোগ, পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থ। আর যারা প্রশ্ন তুলেছে, তারা পেয়েছে লাঠি, রড, দা, মামলা ও কারাগার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের হাতে সহপাঠী খুন, নারী নিপীড়ন, ভর্তিতে চাঁদাবাজি এবং ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ এসব যেন অঘোষিত নিয়মে পরিণত হয়। পুলিশ ও প্রশাসন এসবের বিরুদ্ধে কথা বলেনি, বরং এই সন্ত্রাসকে রক্ষা করেছে।
এই দীর্ঘস্থায়ী নির্যাতন ও পচনের জবাব এসেছিল ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যখন একঝাঁক সাহসী কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী রাজপথে নামে। তারা প্রশ্ন তোলে, প্রতিবাদ জানায়, নিজেদের ভবিষ্যতের দাবি করে। কিন্তু রাষ্ট্র এই আওয়াজকে গণতন্ত্রের ভাষায় জবাব দেয়নি। তার বদলে ব্যবহার করেছে বারুদের ভাষা।
রাষ্ট্র, সরকার ও ছাত্রলীগ একত্রিত হয়ে এক নির্মম দমননীতি প্রয়োগ করে এই অভ্যুত্থান দমনে। দিনের পর দিন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালানো হয়, ছাত্রদের মাথায় রড মারা হয়, মেয়ে আন্দোলনকারীদের হেনস্তা করা হয়, এবং হাসপাতালে পর্যন্ত হামলা চালানো হয়। সরকারি ভাষ্যে বলা হয়, ‘শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে’ এসব করা হয়েছে। কিন্তু আসল চিত্র ছিল এটি একটি পরিকল্পিত ‘চোখ রাঙানি’, যেন ভবিষ্যতে কেউ আর প্রতিবাদ করার সাহস না পায়।
কিন্তু ইতিহাস বলে, দমন-পীড়ন যতই গভীর হয়, প্রতিরোধ ততই প্রবল হয়। সরকার ভেবেছিল, তারা ভয় দেখিয়ে, রক্ত ঝরিয়ে সব নিভিয়ে ফেলতে পারবে। কিন্তু উল্টো হয়েছে। রাজপথে গুলিবিদ্ধ তরুণদের রক্ত জাতীয় চেতনায় আগুন ধরিয়ে দেয়। হাসপাতালের সিঁড়িতে পড়ে থাকা ছাত্রীর কান্না গোটা জাতিকে কাঁদায়। এই দমন-পীড়ন ‘সুশাসনের মুখোশ’ ছিঁড়ে ফেলে দেখিয়ে দেয় বাংলাদেশে একটি নির্লজ্জ, অমানবিক, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা দাঁড়িয়ে গেছে। ফ্যাসিবাদ শুধু বন্দুক দিয়ে আসে না, আসে নিয়ন্ত্রণ আর ভয় দেখিয়ে। দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে এই রাষ্ট্র তাই শুধু বিরোধী দল নয় পুরো জনগণের মতপ্রকাশ, চিন্তা, প্রশ্ন ও প্রতিবাদকে এক ভয়ংকর নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছে। কিন্তু ইতিহাসে কোনো ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা চিরকাল টেকেনি, বাংলাদেশেও টিকবে না।
জুলাই ২০২৪ আমাদের দেখিয়ে দেয় এই প্রজন্ম ভয় পায় না। তারা জানে, রাষ্ট্র যতই রক্ত চায়, ন্যায় কখনো মাথা নিচু করে না। তাদের উপর চালানো প্রতিটি আঘাত ইতিহাসে থাকবে রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে। আর এই প্রজন্মের রক্ত লেখা থাকবে ভবিষ্যতের স্বাধীনতার মন্ত্রে।
জন্ম ও শৈশব
শিপন আহমেদ শ্রাবণ একজন সাহসী ও সংগ্রামী যোদ্ধা, যিনি ২০০৬ সালের ১লা জানুয়ারি ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানাধীন ডৌহাখলা ইউনিয়নে একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা কামাল হোসেন (৪২) পেশায় একজন কাঁচামালের ব্যবসা করেন। যিনি কঠোর পরিশ্রম করে পরিবার চালিয়েছেন এবং সন্তানদের মানুষ করতে নিরলস চেষ্টা করছেন। তার মা শিরিনা বেগম (৩৫) একজন গৃহিণী, যিনি অসীম মমতা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে সন্তানদের যত্ন সহকারে লালন-পালন করেছেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
একটি শরীর, একটুখানি সকাল আর অনেকখানি রক্ত
সকালটা খুব একটা আলাদা ছিল না। বাতাসে ছিল প্রতিবাদের ঘ্রাণ, যেন কোনো অদৃশ্য পূর্বাভাস জানিয়ে দিচ্ছিল আজ কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। শিপন আহমেদ শ্রাবণ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় শেষবারের মতো মাকে জড়িয়ে ধরেননি, কিংবা বাবাকে বলেননি “আমি ফিরে আসব।” কে বলে দিতে পারে, কোন সকাল কোন জীবনের শেষ সাদা পৃষ্ঠা?
সেদিন ২০ জুলাই ২০২৪, কলতা বাজার
গরম ভ্যাপসা বাতাসের ভিতরও ছিল সাহসের টান। সহপাঠীদের সঙ্গে শিপন দাঁড়িয়েছিলেন মিছিলের সামনের সারিতে। চোখে-মুখে তীব্র দৃঢ়তা, কণ্ঠে “জবাব চাই” ধ্বনি, পায়ে ছিল দেশের মাটি ছুঁয়ে চলার অদম্য স্পর্ধা। তখনো তিনি ভাবেননি, রাষ্ট্রের গুলি তার দেহ ছিন্নভিন্ন করে দেবে, কোনো রণক্ষেত্র নয় এই শহরের রাস্তাই হয়ে উঠবে তার শুয়ে পড়ার শেষ চৌকাঠ।
দুপুর এগারোটার কিছু পর
মিছিল শান্ত ছিল, শ্লোগানে গমগম করছিল চারপাশ। হঠাৎ করেই যেন বাতাস বদলে গেল। পুলিশের ব্যারিকেড সরিয়ে সামনে এল কালো মুখোশধারীরা, ছুঁড়ে মারল প্রথম টিয়ার শেল। ধোঁয়ায় আকাশ অন্ধকার, চোখে জল, শ্বাসে ব্যথা। মানুষ দৌড়াচ্ছে, চিৎকার করছে, কেউ কাউকে খুঁজছে। তারপর গর্জে উঠল আগ্নেয়াস্ত্র।
একটি গুলি সামনের দিক থেকে ছুটে এসে পেটের ডান পাশে লেগে শরীর ছিড়ে পিছনে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ঠিক তার কয়েক সেকেন্ড পর দ্বিতীয় গুলিটি ঢুকে গেল কোমরের পাশে, অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল রক্তের ধারা টেনে। শিপন থমকে দাঁড়ালেন না, দৌড়াতে চাইলেন। কয়েক কদম আগাতে গিয়ে হঠাৎ হোঁচট খেলেন, আর তারপর পড়ে গেলেন সড়কের গরম পিচে। তার বুকের নিচে রক্ত জমা হচ্ছে, শরীর থেকে একটানা রক্ত বের হচ্ছে অথচ চারপাশে কেউ বলছে না, "ওই গুলি কেন ছোড়া হলো?"
এক বন্ধু ছুটে এলো, হাহাকার করে উঠল, “শিপন ভাই, চোখ বন্ধ কইরেন না! হাসপাতালে নিয়ে যাই!”
শিপনের ঠোঁট কাঁপছিল। হয়তো বলতে চাইছিলেন আমার মা, আমার বাবাকে বলো আমি ভুল কিছু করিনি। পিচঢালা রাস্তায় রক্তের গায়ে ছড়িয়ে যাচ্ছিল তার ভবিষ্যৎ। পুলিশ তখনো গুলি চালাচ্ছে, সাংবাদিকদের তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, আর একটি তরুণ জীবন যার স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হবে, কৃষকের ছেলে বলে গর্ব করে সে শুয়ে আছে রক্তে ভেজা রাস্তায়, নীরব, অথচ পৃথিবীর সবচেয়ে জোরালো ভাষায় কিছু বলে যাচ্ছে। এটা শুধু একটি গুলির ঘটনা নয় এটা ছিল একটি রাষ্ট্রের নিষ্ঠুরতম স্বীকারোক্তি: তারা ভয় পায় সত্যভাষণ, তারা ভয় পায় ছাত্রদের সাহস, তারা ভয় পায় শিপনদের মতো তরুণদের যারা বুক পেতে দাঁড়ায় ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে’।
শিপন জানতেন না, তাঁর রক্ত এই মাটিকে এমন করে জাগিয়ে তুলবে। সে রক্ত আজও শুকায়নি।
কলতাবাজারের সেই মোড়ে প্রতিদিন সন্ধ্যায় রক্তের স্মৃতি মিশে যায় বাতাসে যেখানে একদিন এক তরুণ পড়েছিল পড়ে, কোনো বিদ্রোহ থামিয়ে দেওয়ার নয়, বরং ইতিহাসকে জাগিয়ে তোলার জন্য।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
শিপন আহমেদ শ্রাবণের চিকিৎসা ও বর্তমান অবস্থা-
২০ জুলাই ২০২৪, কলতাবাজারের রাজপথে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শিপন আহমেদ শ্রাবণের জীবন একেবারে থমকে যায়। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণে ক্লান্ত ও অচেতন অবস্থায় তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পরপরই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তার শরীর তখন আর কথা বলছিল না শুধু নিঃশব্দে বুঝিয়ে দিচ্ছিল কতটা ভয়াবহ ছিল সেই মুহূর্তের আঘাত। জরুরি অস্ত্রোপচারে তাকে বাঁচিয়ে রাখার যুদ্ধ শুরু হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা রক্তের অভাব দেখে তৎক্ষণাৎ রক্ত সংগ্রহে নেমে পড়েন। শিপনের শরীর থেকে প্রবাহিত হওয়া রক্ত থামানোর লড়াই চলে কয়েক ঘণ্টা। এরপর তাকে নেয়া হয় আইসিইউ-তে, যেখানে তিনি কাটান টানা দু’দিন অচেতন অবস্থায়। মোট ১৭ দিন তাকে হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়। তার পেটে গুলির ক্ষত এত গভীর ছিল যে, পেটের নিচের অংশের পেশি ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোতে জটিলতা দেখা দেয়।
চিকিৎসার সে দিনগুলো ছিল শুধু হাসপাতালের বিছানায় ছিল এক পরিবারে বেঁচে থাকার প্রতিদিনের যুদ্ধ।
রক্ত, ওষুধ, অস্ত্রোপচার, পথ্য, সেবিকা, যাতায়াত সব মিলিয়ে শিপনের পরিবারকে খরচ করতে হয় প্রায় এক লক্ষ টাকা। কিন্তু শিপনের বাবা একজন ছোট পুঁজির ব্যবসায়ী। চিকিৎসার প্রথম ধাপ শেষ করে শিপনকে বাসায় আনা হয়। কিন্তু শরীর তখনো পুরোপুরি সাড়া দিচ্ছিল না। গুলির ক্ষত শুকালেও, শরীরের ভেতরে রেখে গেছে এক স্থায়ী অস্বস্তি। এখনও তার পেটে ভার লাগে, খাবার খেলেই অস্বস্তি হয়, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না। হাঁটা-চলায় কষ্ট হয় এবং মাঝে মাঝে ব্যথা তীব্র হয়ে উঠে। রাতে ঘুম ভেঙে যায়। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, এই মুহূর্তে তার চিকিৎসা প্রায় বন্ধ।
কারণ, পরিবার আর পারছে না খরচ চালাতে। ডাক্তার দেখানো দূরের কথা, ওষুধ কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে। গুলির ক্ষত থেকে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ সমস্যা যদি ঠিকমতো চিকিৎসা না পায়, তাহলে তা ভবিষ্যতে বড় শারীরিক বিপদের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
একজন তরুণ, যে হয়তো আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে বসে কোনো স্বপ্ন লিখে রাখত খাতার পাতায় সে এখন জীবন বাঁচিয়ে রাখার জন্য অপেক্ষা করছে কেউ এসে আবার ডাক্তার দেখানোর সুযোগ করে দেবে কি না, এই আশায়।
এটি কেবল একজন শিপনের গল্প নয় এটি হলো এই দেশের সেই সমস্ত তরুণদের গল্প, যারা সত্য বলার দায়ে রক্ত দেয়, আর তারপর রাষ্ট্র তাদের ভুলে যায়। রাষ্ট্র যেখানে গুলি চালাতে পারে, কিন্তু চিকিৎসার খরচ দিতে পারে না; যেখানে একজন প্রতিবাদী তরুণের দেহ শুধু প্রতিরোধের প্রতীক নয় একটি খরচের হিসাব হয়ে যায়। শিপনের আজ প্রয়োজন সহানুভূতি নয় প্রয়োজন সমর্থন। প্রয়োজন এমন একটি সমাজ ও রাষ্ট্র যেখানে কোনো আন্দোলনকারী, কোনো গুলিবিদ্ধ তরুণ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়। যেখানে প্রতিরোধ মানেই মৃত্যু নয় বরং প্রতিরোধ মানেই ন্যায়ের স্বীকৃতি।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
নিয়মিত চেকআপ ও আরো উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা
পূনর্বাসন সংক্রান্ত তথ্য
পুর্বে কি ধরনের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন
ছাত্র ও একটি কম্পিউটারের দোকানে সময় দিতেন
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
একটি কম্পিউটারের দোকানের ব্যবস্থা করা
নাম : শিপন আহমেদ শ্রাবণ
জন্ম তারিখ : ০১-০১-২০০৬
জন্মস্থান : ডৌহাখলা
পেশা : ছাত্র
নিজ জেলা : ময়মনসিংহ
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: চরশ্রীরামপুর, ইউনিয়ন: ডৌহাখলা, থানা: গৌরীপুর, জেলা: ময়মনসিংহ
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : কামাল হোসেন
পিতার পেশা ও বয়স : কাঁচামালের ব্যবসা (৪২)
মায়ের নাম : শিরিনা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী (৩০)
পারিবারিক অবস্থা : নিম্ন মধ্যবিত্ত
মাসিক আয় : ১৫০০০ টাকা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
আয়ের উৎস : ব্যবসা
ভাই-বোনের নাম
১. শিহাব, বয়স: ১৩, পেশা: ছাত্র, শ্রেণি: ৭ম, সম্পর্ক: ভাই
ঘটনার স্থান : কলতাপাড়া বাজার, গৌরীপুর, ময়মনসিংহ
আক্রমণকারী : আওয়ামী মদদপুষ্ট পুলিশ বাহিনী
আহত হওয়ার সময় : ২০ জুলাই, দুপুর ১১টা ২০ মিনিটে
ব্যক্তিগত বিবরণ
এই পনেরো বছরের শাসনকালে ছাত্রসমাজ বিশেষভাবে নির্যাতিত হয়েছে। যারা সরকারের পক্ষে, তারা পেয়েছে সুযোগ, পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থ। আর যারা প্রশ্ন তুলেছে, তারা পেয়েছে লাঠি, রড, দা, মামলা ও কারাগার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের হাতে সহপাঠী খুন, নারী নিপীড়ন, ভর্তিতে চাঁদাবাজি এবং ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ এসব যেন অঘোষিত নিয়মে পরিণত হয়। পুলিশ ও প্রশাসন এসবের বিরুদ্ধে কথা বলেনি, বরং এই সন্ত্রাসকে রক্ষা করেছে।
এই দীর্ঘস্থায়ী নির্যাতন ও পচনের জবাব এসেছিল ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যখন একঝাঁক সাহসী কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী রাজপথে নামে। তারা প্রশ্ন তোলে, প্রতিবাদ জানায়, নিজেদের ভবিষ্যতের দাবি করে। কিন্তু রাষ্ট্র এই আওয়াজকে গণতন্ত্রের ভাষায় জবাব দেয়নি। তার বদলে ব্যবহার করেছে বারুদের ভাষা।
রাষ্ট্র, সরকার ও ছাত্রলীগ একত্রিত হয়ে এক নির্মম দমননীতি প্রয়োগ করে এই অভ্যুত্থান দমনে। দিনের পর দিন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালানো হয়, ছাত্রদের মাথায় রড মারা হয়, মেয়ে আন্দোলনকারীদের হেনস্তা করা হয়, এবং হাসপাতালে পর্যন্ত হামলা চালানো হয়। সরকারি ভাষ্যে বলা হয়, ‘শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে’ এসব করা হয়েছে। কিন্তু আসল চিত্র ছিল এটি একটি পরিকল্পিত ‘চোখ রাঙানি’, যেন ভবিষ্যতে কেউ আর প্রতিবাদ করার সাহস না পায়।
কিন্তু ইতিহাস বলে, দমন-পীড়ন যতই গভীর হয়, প্রতিরোধ ততই প্রবল হয়। সরকার ভেবেছিল, তারা ভয় দেখিয়ে, রক্ত ঝরিয়ে সব নিভিয়ে ফেলতে পারবে। কিন্তু উল্টো হয়েছে। রাজপথে গুলিবিদ্ধ তরুণদের রক্ত জাতীয় চেতনায় আগুন ধরিয়ে দেয়। হাসপাতালের সিঁড়িতে পড়ে থাকা ছাত্রীর কান্না গোটা জাতিকে কাঁদায়। এই দমন-পীড়ন ‘সুশাসনের মুখোশ’ ছিঁড়ে ফেলে দেখিয়ে দেয় বাংলাদেশে একটি নির্লজ্জ, অমানবিক, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা দাঁড়িয়ে গেছে। ফ্যাসিবাদ শুধু বন্দুক দিয়ে আসে না, আসে নিয়ন্ত্রণ আর ভয় দেখিয়ে। দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে এই রাষ্ট্র তাই শুধু বিরোধী দল নয় পুরো জনগণের মতপ্রকাশ, চিন্তা, প্রশ্ন ও প্রতিবাদকে এক ভয়ংকর নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছে। কিন্তু ইতিহাসে কোনো ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা চিরকাল টেকেনি, বাংলাদেশেও টিকবে না।
জুলাই ২০২৪ আমাদের দেখিয়ে দেয় এই প্রজন্ম ভয় পায় না। তারা জানে, রাষ্ট্র যতই রক্ত চায়, ন্যায় কখনো মাথা নিচু করে না। তাদের উপর চালানো প্রতিটি আঘাত ইতিহাসে থাকবে রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে। আর এই প্রজন্মের রক্ত লেখা থাকবে ভবিষ্যতের স্বাধীনতার মন্ত্রে।
জন্ম ও শৈশব
শিপন আহমেদ শ্রাবণ একজন সাহসী ও সংগ্রামী যোদ্ধা, যিনি ২০০৬ সালের ১লা জানুয়ারি ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানাধীন ডৌহাখলা ইউনিয়নে একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা কামাল হোসেন (৪২) পেশায় একজন কাঁচামালের ব্যবসা করেন। যিনি কঠোর পরিশ্রম করে পরিবার চালিয়েছেন এবং সন্তানদের মানুষ করতে নিরলস চেষ্টা করছেন। তার মা শিরিনা বেগম (৩৫) একজন গৃহিণী, যিনি অসীম মমতা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে সন্তানদের যত্ন সহকারে লালন-পালন করেছেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
একটি শরীর, একটুখানি সকাল আর অনেকখানি রক্ত
সকালটা খুব একটা আলাদা ছিল না। বাতাসে ছিল প্রতিবাদের ঘ্রাণ, যেন কোনো অদৃশ্য পূর্বাভাস জানিয়ে দিচ্ছিল আজ কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। শিপন আহমেদ শ্রাবণ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় শেষবারের মতো মাকে জড়িয়ে ধরেননি, কিংবা বাবাকে বলেননি “আমি ফিরে আসব।” কে বলে দিতে পারে, কোন সকাল কোন জীবনের শেষ সাদা পৃষ্ঠা?
সেদিন ২০ জুলাই ২০২৪, কলতা বাজার
গরম ভ্যাপসা বাতাসের ভিতরও ছিল সাহসের টান। সহপাঠীদের সঙ্গে শিপন দাঁড়িয়েছিলেন মিছিলের সামনের সারিতে। চোখে-মুখে তীব্র দৃঢ়তা, কণ্ঠে “জবাব চাই” ধ্বনি, পায়ে ছিল দেশের মাটি ছুঁয়ে চলার অদম্য স্পর্ধা। তখনো তিনি ভাবেননি, রাষ্ট্রের গুলি তার দেহ ছিন্নভিন্ন করে দেবে, কোনো রণক্ষেত্র নয় এই শহরের রাস্তাই হয়ে উঠবে তার শুয়ে পড়ার শেষ চৌকাঠ।
দুপুর এগারোটার কিছু পর
মিছিল শান্ত ছিল, শ্লোগানে গমগম করছিল চারপাশ। হঠাৎ করেই যেন বাতাস বদলে গেল। পুলিশের ব্যারিকেড সরিয়ে সামনে এল কালো মুখোশধারীরা, ছুঁড়ে মারল প্রথম টিয়ার শেল। ধোঁয়ায় আকাশ অন্ধকার, চোখে জল, শ্বাসে ব্যথা। মানুষ দৌড়াচ্ছে, চিৎকার করছে, কেউ কাউকে খুঁজছে। তারপর গর্জে উঠল আগ্নেয়াস্ত্র।
একটি গুলি সামনের দিক থেকে ছুটে এসে পেটের ডান পাশে লেগে শরীর ছিড়ে পিছনে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ঠিক তার কয়েক সেকেন্ড পর দ্বিতীয় গুলিটি ঢুকে গেল কোমরের পাশে, অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল রক্তের ধারা টেনে। শিপন থমকে দাঁড়ালেন না, দৌড়াতে চাইলেন। কয়েক কদম আগাতে গিয়ে হঠাৎ হোঁচট খেলেন, আর তারপর পড়ে গেলেন সড়কের গরম পিচে। তার বুকের নিচে রক্ত জমা হচ্ছে, শরীর থেকে একটানা রক্ত বের হচ্ছে অথচ চারপাশে কেউ বলছে না, "ওই গুলি কেন ছোড়া হলো?"
এক বন্ধু ছুটে এলো, হাহাকার করে উঠল, “শিপন ভাই, চোখ বন্ধ কইরেন না! হাসপাতালে নিয়ে যাই!”
শিপনের ঠোঁট কাঁপছিল। হয়তো বলতে চাইছিলেন আমার মা, আমার বাবাকে বলো আমি ভুল কিছু করিনি। পিচঢালা রাস্তায় রক্তের গায়ে ছড়িয়ে যাচ্ছিল তার ভবিষ্যৎ। পুলিশ তখনো গুলি চালাচ্ছে, সাংবাদিকদের তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, আর একটি তরুণ জীবন যার স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হবে, কৃষকের ছেলে বলে গর্ব করে সে শুয়ে আছে রক্তে ভেজা রাস্তায়, নীরব, অথচ পৃথিবীর সবচেয়ে জোরালো ভাষায় কিছু বলে যাচ্ছে। এটা শুধু একটি গুলির ঘটনা নয় এটা ছিল একটি রাষ্ট্রের নিষ্ঠুরতম স্বীকারোক্তি: তারা ভয় পায় সত্যভাষণ, তারা ভয় পায় ছাত্রদের সাহস, তারা ভয় পায় শিপনদের মতো তরুণদের যারা বুক পেতে দাঁড়ায় ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে’।
শিপন জানতেন না, তাঁর রক্ত এই মাটিকে এমন করে জাগিয়ে তুলবে। সে রক্ত আজও শুকায়নি।
কলতাবাজারের সেই মোড়ে প্রতিদিন সন্ধ্যায় রক্তের স্মৃতি মিশে যায় বাতাসে যেখানে একদিন এক তরুণ পড়েছিল পড়ে, কোনো বিদ্রোহ থামিয়ে দেওয়ার নয়, বরং ইতিহাসকে জাগিয়ে তোলার জন্য।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
শিপন আহমেদ শ্রাবণের চিকিৎসা ও বর্তমান অবস্থা-
২০ জুলাই ২০২৪, কলতাবাজারের রাজপথে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শিপন আহমেদ শ্রাবণের জীবন একেবারে থমকে যায়। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণে ক্লান্ত ও অচেতন অবস্থায় তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পরপরই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তার শরীর তখন আর কথা বলছিল না শুধু নিঃশব্দে বুঝিয়ে দিচ্ছিল কতটা ভয়াবহ ছিল সেই মুহূর্তের আঘাত। জরুরি অস্ত্রোপচারে তাকে বাঁচিয়ে রাখার যুদ্ধ শুরু হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা রক্তের অভাব দেখে তৎক্ষণাৎ রক্ত সংগ্রহে নেমে পড়েন। শিপনের শরীর থেকে প্রবাহিত হওয়া রক্ত থামানোর লড়াই চলে কয়েক ঘণ্টা। এরপর তাকে নেয়া হয় আইসিইউ-তে, যেখানে তিনি কাটান টানা দু’দিন অচেতন অবস্থায়। মোট ১৭ দিন তাকে হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়। তার পেটে গুলির ক্ষত এত গভীর ছিল যে, পেটের নিচের অংশের পেশি ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোতে জটিলতা দেখা দেয়।
চিকিৎসার সে দিনগুলো ছিল শুধু হাসপাতালের বিছানায় ছিল এক পরিবারে বেঁচে থাকার প্রতিদিনের যুদ্ধ।
রক্ত, ওষুধ, অস্ত্রোপচার, পথ্য, সেবিকা, যাতায়াত সব মিলিয়ে শিপনের পরিবারকে খরচ করতে হয় প্রায় এক লক্ষ টাকা। কিন্তু শিপনের বাবা একজন ছোট পুঁজির ব্যবসায়ী। চিকিৎসার প্রথম ধাপ শেষ করে শিপনকে বাসায় আনা হয়। কিন্তু শরীর তখনো পুরোপুরি সাড়া দিচ্ছিল না। গুলির ক্ষত শুকালেও, শরীরের ভেতরে রেখে গেছে এক স্থায়ী অস্বস্তি। এখনও তার পেটে ভার লাগে, খাবার খেলেই অস্বস্তি হয়, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না। হাঁটা-চলায় কষ্ট হয় এবং মাঝে মাঝে ব্যথা তীব্র হয়ে উঠে। রাতে ঘুম ভেঙে যায়। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, এই মুহূর্তে তার চিকিৎসা প্রায় বন্ধ।
কারণ, পরিবার আর পারছে না খরচ চালাতে। ডাক্তার দেখানো দূরের কথা, ওষুধ কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে। গুলির ক্ষত থেকে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ সমস্যা যদি ঠিকমতো চিকিৎসা না পায়, তাহলে তা ভবিষ্যতে বড় শারীরিক বিপদের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
একজন তরুণ, যে হয়তো আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে বসে কোনো স্বপ্ন লিখে রাখত খাতার পাতায় সে এখন জীবন বাঁচিয়ে রাখার জন্য অপেক্ষা করছে কেউ এসে আবার ডাক্তার দেখানোর সুযোগ করে দেবে কি না, এই আশায়।
এটি কেবল একজন শিপনের গল্প নয় এটি হলো এই দেশের সেই সমস্ত তরুণদের গল্প, যারা সত্য বলার দায়ে রক্ত দেয়, আর তারপর রাষ্ট্র তাদের ভুলে যায়। রাষ্ট্র যেখানে গুলি চালাতে পারে, কিন্তু চিকিৎসার খরচ দিতে পারে না; যেখানে একজন প্রতিবাদী তরুণের দেহ শুধু প্রতিরোধের প্রতীক নয় একটি খরচের হিসাব হয়ে যায়। শিপনের আজ প্রয়োজন সহানুভূতি নয় প্রয়োজন সমর্থন। প্রয়োজন এমন একটি সমাজ ও রাষ্ট্র যেখানে কোনো আন্দোলনকারী, কোনো গুলিবিদ্ধ তরুণ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়। যেখানে প্রতিরোধ মানেই মৃত্যু নয় বরং প্রতিরোধ মানেই ন্যায়ের স্বীকৃতি।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
নিয়মিত চেকআপ ও আরো উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা
পূনর্বাসন সংক্রান্ত তথ্য
পুর্বে কি ধরনের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন
ছাত্র ও একটি কম্পিউটারের দোকানে সময় দিতেন
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
একটি কম্পিউটারের দোকানের ব্যবস্থা করা
নাম : শিপন আহমেদ শ্রাবণ
জন্ম তারিখ : ০১-০১-২০০৬
জন্মস্থান : ডৌহাখলা
পেশা : ছাত্র
নিজ জেলা : ময়মনসিংহ
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: চরশ্রীরামপুর, ইউনিয়ন: ডৌহাখলা, থানা: গৌরীপুর, জেলা: ময়মনসিংহ
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : কামাল হোসেন
পিতার পেশা ও বয়স : কাঁচামালের ব্যবসা (৪২)
মায়ের নাম : শিরিনা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী (৩০)
পারিবারিক অবস্থা : নিম্ন মধ্যবিত্ত
মাসিক আয় : ১৫০০০ টাকা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
আয়ের উৎস : ব্যবসা
ভাই-বোনের নাম
১. শিহাব, বয়স: ১৩, পেশা: ছাত্র, শ্রেণি: ৭ম, সম্পর্ক: ভাই
ঘটনার স্থান : কলতাপাড়া বাজার, গৌরীপুর, ময়মনসিংহ
আক্রমণকারী : আওয়ামী মদদপুষ্ট পুলিশ বাহিনী
আহত হওয়ার সময় : ২০ জুলাই, দুপুর ১১টা ২০ মিনিটে
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍