মো. তারা মিয়া
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
ব্যবসায়ী
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
২০২৪ সালের জুলাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর ও বেদনার্ত অধ্যায়। এটি কোনো সাধারণ আন্দোলনের সময় নয়; বরং ছিল একটি আত্মসচেতন, সাহসী এবং আদর্শনিষ্ঠ প্রজন্মের এক ঐতিহাসিক জাগরণ। এই অভ্যুত্থান কেবল রাস্তার প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি সত্য, ন্যায় এবং মানবিক মর্যাদার পক্ষে দাঁড়ানোর এক অগ্নিপরীক্ষা হয়ে উঠেছিল। এই সময়ের প্রতিটি দিন ছিল একেকটি রক্তাক্ত অধ্যায়।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাজারো তরুণ-তরুণী যখন বৈষম্য, নিপীড়ন ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলে, তখন তাদের কণ্ঠরোধ করতে শুরু হয় রাষ্ট্রের বর্বর দমন-পীড়ন। শান্তিপূর্ণ মিছিলগুলো রূপ নেয় সংঘর্ষে, কারণ তাদের ওপর চালানো হয় রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস, এমনকি প্রাণঘাতী গুলি। বহু তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন; কারও দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যায় চিরতরে, কেউ চিরদিনের মতো পঙ্গু হয়ে যান।
হাসপাতালগুলো হয়ে ওঠে যন্ত্রণা আর কান্নার প্রতিচ্ছবি। আহতদের আর্তনাদ, আহত পরিবারের বিলাপ এবং চিকিৎসকের অসহায়তা সব মিলে যেন গোটা জাতি অনুভব করছিল এক নিঃশব্দ যুদ্ধের তীব্রতা। ক্যাম্পাসগুলো, যা এক সময় জ্ঞান ও স্বপ্নের কেন্দ্র ছিল, সেগুলো রূপ নেয় রক্তাক্ত যুদ্ধক্ষেত্রে। পোড়া টায়ারের ধোঁয়া, ছিরা ফাটা ব্যানার আর ছড়িয়ে থাকা ব্যাগ-জুতো সবই ছিল নৃশংসতার নীরব সাক্ষ্য। কিন্তু এই ভয়াবহতার মাঝেও হারিয়ে যায়নি আশা। ছাত্র-জনতার কণ্ঠে উঠে এসেছিল প্রতিরোধের গান, চোখে ছিল দৃঢ়প্রত্যয় আর হৃদয়ে ছিল ন্যায়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসা। তারা প্রমাণ করে দিয়েছিল গণতন্ত্রের দাবিতে, মানবিক অধিকারের লড়াইয়ে তারা কোনোভাবেই পিছু হটবে না। এই অভ্যুত্থান এক নির্মম বাস্তবতাকে উন্মোচন করে দিয়েছিল যে সংগ্রাম সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে, তা কখনোই সহজ কিংবা রক্তহীন হয় না। বৈষম্য, নিপীড়ন ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা এই অভ্যুত্থান গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল, আর তার কেন্দ্রস্থলগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল গাজীপুর ও ময়মনসিংহ দুই গুরুত্বপূর্ণ শহর, যারা নিজেদের রক্ত দিয়ে এ আন্দোলনের ইতিহাসে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে।
গাজীপুর: পোড়া শহরের প্রতিরোধ
শিল্প-শ্রমিক অধ্যুষিত গাজীপুর, যেখানে একদিকে রয়েছে হাজারো পোশাক শ্রমিকের ঘামে গড়া স্বপ্ন, অন্যদিকে প্রতিদিনের বেঁচে থাকার সংগ্রাম এই শহরই হয়ে ওঠে আন্দোলনের অন্যতম উত্তপ্ত মঞ্চ। ৫ আগস্ট মাওনায় ছাত্র-জনতার বিশাল সমাবেশে যখন শান্তিপূর্ণভাবে দাবি তোলা হচ্ছিল, তখন পুলিশ বাহিনী হঠাৎ করেই চড়াও হয়। লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও সরাসরি গুলি বর্ষণে অনেক তরুণ-তরুণী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এক যোদ্ধা চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন, যাকে প্রথমে গফরগাঁও পপুলার হাসপাতালে এবং পরে সংকটজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়।
ময়মনসিংহ : কান্নার শহর, আশার প্রদীপ
ময়মনসিংহ তখন শুধু চিকিৎসার কেন্দ্র ছিল না, ছিল সারা দেশের দৃষ্টিতে এক প্রতীকী কেন্দ্রবিন্দু। এই শহরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দিনের পর দিন আহত ছাত্রদের যন্ত্রণা, রক্ত, আর্তনাদ ভেসে বেড়াত। অনেকে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, কারও হাত-পা চিরতরে অকেজো হয়ে গেছে, কেউ কোমায়। হাসপাতালের করিডোরগুলোতে শুধু ডাক্তার-নার্সদের ব্যস্ততা নয়, ছিল অসহায় মা-বাবার কাঁধে মাথা রেখে কান্না, ভাইয়ের গুলিবিদ্ধ বোনের হাত চেপে ধরা কিংবা বন্ধুর মুখে জল ঢালার শেষ চেষ্টা।
২০২৪ সালের জুলাই আমাদের কেবল শোক বা ক্ষোভই শেখায় না; এটি আমাদের দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের মূল্যও স্মরণ করিয়ে দেয়।
আমাদের তারা মিয়া-
জন্ম ও শৈশব
মো. তারা মিয়া একজন সাহসী ও সংগ্রামী মানুষ, যিনি ১৯৮২ সালের ১৭ই নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মো. আব্দুল হক (৭২) পেশায় একজন কৃষক ছিলেন, যিনি কঠোর পরিশ্রম করে পরিবার চালিয়েছেন এবং সন্তানদের মানুষ করতে নিরলস চেষ্টা করেছেন। আজ সে অসুস্থ জীবন-যাপন করছেন। তার মা মমতাজ বেগম (৬০) একজন গৃহিণী, যিনি অসীম মমতা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে সন্তানদের যত্ন-সহকারে লালন-পালন করেছেন।
পারিবারিক জীবন
তারা মিয়ার একটি সুখী সংসার আছে। চারজন অত্যন্ত মেধাবী, বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমতী মেয়ে রয়েছে তার। তারা মিয়া তার সন্তানগুলো মেয়ে হওয়ায় কখনো পিছিয়ে রাখেনি। তার মেয়েদের কে তিনি সকল ক্ষেত্রে ঢাল হিসেবে হিম্মত যুগিয়েছেন। তাদের পরিবার ছিল স্বপ্ন, সংগ্রাম আর সহানুভূতির এক বাস্তব উদাহরণ।
কর্মজীবন
তারা মিয়া একজন পরিচিত ও বিশ্বস্ত নাম তাঁর এলাকার কৃষক ও সাধারণ মানুষের কাছে। পেশায় তিনি একজন সার ও মাটির ব্যবসায়ী, তবে তাঁর পরিচিতি কেবল ব্যবসায়িক সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং তিনি একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও মানবিক মানুষ হিসেবেও সর্বজনবিদিত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার, জৈব উপাদান ও উন্নত মানের চাষের মাটি সরবরাহ করে আসছেন। তাঁর ব্যবসায়ের মূলমন্ত্রই হলো নায্য মুনাফায় গুণগতমান নিশ্চিত করা। তিনি কখনোই ভেজাল সার বা অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির পথে হাঁটেননি। বরং প্রয়োজন হলে তিনি নিজে লোকসান গুনে হলেও গরিব কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তারা মিয়ার দোকানে গেলে দেখা যায় তাঁর দোকানটি শুধু কেনাবেচার কেন্দ্র নয়, বরং কৃষি বিষয়ে পরামর্শ কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করে। নতুন প্রজন্মের কৃষকদের তিনি বিনা পারিশ্রমিকে চাষাবাদ পদ্ধতি, সার ব্যবস্থাপনা ও মাটির মানোন্নয়ন সম্পর্কে পরামর্শ দেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত সরল, নম্র ও পরোপকারী। ধর্মভীরু এ মানুষটি কখনোই হারাম পথে রুজি অর্জনে বিশ্বাসী নন। তাঁর সততা ও নিষ্ঠা শুধু ব্যবসায় নয়, ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনেও প্রতিফলিত হয়।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
"আমার চোখটা ওই বিকেলেই রেখে এসেছি" — তারা মিয়ার জবানিতে
সে এক উত্তাল সকাল ছিল ৫ আগস্ট, ২০২৪। দিনের শুরু থেকেই শহরের প্রতিটি মোড়, অলিগলি আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে হাজারো ছাত্র, শ্রমজীবী মানুষ আর সাধারণ নাগরিক ধীরে ধীরে জড়ো হতে শুরু করে। তাদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড, মুখে ছিল শ্লোগান, আর হৃদয়ে ছিল দীর্ঘদিনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে জবাবদিহি আদায়ের অঙ্গীকার। আমি নিজেও বাড়ি থেকে বের হয়েছিলাম খুব ভোরে, মাথায় বাঁধা ছিল গামছা, মনে ছিল একটা অদ্ভুত শিহরণ। শুধু আমি একা নাই, মাওনার দিকে হাঁটতে হাঁটতে দেখলাম অসংখ্য মানুষ আমাদের মতোই এগিয়ে আসছে। কোনো রাজনৈতিক দলের পতাকা ছিল না, ছিল না কোনো ক্ষমতার লোভ, ছিল শুধুই একটাই পরিচয় আমরা মানুষ, আমরা ছাত্র, আমরা এই দেশের সন্তান, যারা গলা তুলে বলতে চাই— আর না, আমরা এই দুঃশাসনের কাছে মাথা নত করবো না। বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা চাকরি-বাণিজ্য, দুর্নীতি, বিচারহীনতা, প্রশ্নফাঁস, আর দলীয় দখলের বিপরীতে এই আন্দোলন যেন ছিল জমে থাকা আগুনের বিস্ফোরণ। ন্যায্য অধিকার আদায়ে আমরা রাজপথে নামি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, রাষ্ট্রের দমন-পীড়নের ছায়া মাথায় নিয়েই। মাওনার খোলা রাস্তা, দূর থেকে ভেসে আসা শ্লোগান, আর সাথীদের চোখে জ্বলে ওঠা আলো দেখে আমি উপলব্ধি করি, এটা শুধু একটি বিক্ষোভ নয়, এটা এক নির্মম সময়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা মানবিক প্রতিবাদ।
বিকাল ৩টার দিকে আমি ছিলাম মিছিলের একেবারে সামনে। পেছনে তখন অসংখ্য সাধারণ মানুষ, ছাত্র, নারী-পুরুষ, সবাই একসাথে হাঁটছিলাম। হঠাৎ দেখি সামনে পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করছে। মুহূর্তেই পরিস্থিতি পাল্টে গেল। বিনা উস্কানিতে শুরু হলো লাঠিচার্জ। আমি প্রথম সারিতে ছিলাম বলেই, প্রথম আঘাতটা আমাকেই সহ্য করতে হলো। একটা মোটা লাঠি এসে আছড়ে পড়লো আমার মুখে। মুহূর্তেই চোখ ঝাপসা হয়ে গেল। বুঝতে পারলাম, ডান চোখে কিছু একটা হয়েছে। তারপর আরেকটা আঘাত এবার এমন এক জায়গায় লেগেছিল, মনে হলো চোখটা ফেটে গেছে। সারা শরীর কাঁপছিল, কিন্তু আমি পড়ে যাইনি। পেছন থেকে সাথীরা আমাকে ধরে ফেলেছিল। একটু পরেই আমি আর কিছু বুঝিনি, অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে যাই। পরের দৃশ্যটা মনে আছে অস্পষ্টভাবে রক্তে ভেজা চোখ, দৌড়ে আসা কিছু মানুষ, আমাকে ধরে কেউ একজন চিৎকার করে বলছে, “ওকে হাসপাতালে নিতে হবে” কেউ একজন আমার মাথার নিচে হাত রেখেছিল। কেউ পানি দিচ্ছিল মুখে। তখনো জানতাম না, আমার চোখটা আমি হারিয়ে ফেলেছি। আমাকে মাওনার কাছাকাছি এক হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। ডাক্তার এসে বলল, চোখটা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়েছে, রেটিনা ছিঁড়ে গেছে। আমি আর কখনো ওই চোখ দিয়ে কিছু দেখতে পারবো না।
সেদিন বিকেল ৪টার দিকে আরও দু’জন সাথী আমাদের মাঝ থেকে চিরতরে চলে যান। আমার চোখ গেছে, কিন্তু তাদের প্রাণটাই গেছে। আজ আমি এক চোখে দেখি, কিন্তু আমার প্রতিবাদ থেমে যায়নি। আমার দৃষ্টিশক্তি হয়তো অর্ধেক কমে গেছে, কিন্তু অন্য চোখে আমি এখন আরও স্পষ্টভাবে দেখি কে আমাদের শত্রু, কে আমাদের দেশটাকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। আমার চোখটা আমি রেখে এসেছি মাওনার লাল রক্তমাখা রাজপথে।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
৫ আগস্ট, ২০২৪। গাজীপুরের মাওনা যেন সেদিন রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল। রাজপথে দাঁড়িয়ে কেবল একজন প্রতিবাদী নয়, ছিলাম হাজারো স্বপ্নের ধারক, বৈষম্যহীন এক সমাজের জন্য যিনি বুক পেতে দিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই স্বপ্নে নেমে আসে রক্তের অন্ধকার। পুলিশের এক জোরালো লাঠির আঘাত আমার চোখে এসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ ঝাপসা হয়ে যায় একদিকে রক্ত, আরেকদিকে ব্যথা, যন্ত্রণায় আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম না। দিগবিদিক ছুটে বেড়ানো মানুষের ভিড়ে মাটিতে পড়ে যাই।
এরপরের ঘটনা সহযোদ্ধা ও পরিবারের সদস্যদের মুখে-
সহযোদ্ধারাই তাকে তুলে নিয়ে যায় গফরগাঁও পপুলার হাসপাতালে। কিন্তু শরীরের অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকায়, চিকিৎসকরা আর দেরি করেননি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। তার চোখের অবস্থা এতটাই সংকটজনক ছিলো যে, শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত জানান জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান হাসপাতালে রেফার করতে হবে। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তারা মিয়াকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। যেখানে তার চোখের অপারেশন করা হয়। কিন্তু অপারেশনের পর জানা যায়, তার একটি চোখ সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে এবং বর্তমানে তিনি দেখতে পান না। এই মর্মান্তিক অবস্থার কারণে তিনি চরম শারীরিক ও মানসিক সংকটে ভুগছেন এবং তার স্বাভাবিক জীবনযাপন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
চোখের ব্যথার জন্য চিকিৎসা চলমান আছে। চোখের চিকিৎসা চলমান রাখার ব্যবস্থা করা
পূনর্বাসন সংক্রান্ত তথ্য
পুর্বে কী ধরনের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন
সার ও মাটির ব্যবসা
প্রস্তাবিত বাজেট
সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করা
এক নজরে তারা মিয়া
নাম : তারা মিয়া
জন্ম তারিখ : ১৭-১১-১৯৮২
জন্মস্থান : গফরগাঁও
পেশা : ব্যবসায়ী
নিজ জেলা : ময়মনসিংহ
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: মশাখালী, ইউনিয়ন: মশাখালী: গফরগাঁও, জেলা: ময়মনসিংহ
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : মো. আব্দুল হক, অসুস্থ
মায়ের নাম : মমতাজ বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী (৬০)
পারিবারিক অবস্থা : নিম্ন মধ্যবিত্ত
মাসিক আয় : ২০,০০০ টাকা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৭ জন
আয়ের উৎস : ব্যবসা
সন্তানদের নাম
১. তানজিরিন, বসয়: ১৫, পেশা: ছাত্রী, শ্রেণি: ৮ম, সম্পর্ক: মেয়ে
২. তাসনিয়া, বয়স: ১৩, পেশা: ছাত্রী, শ্রেণি: ৬ষ্ঠ, সম্পর্ক: মেয়ে
৩. তানহা, বয়স: ১০, পেশা: ছাত্র, শ্রেণি: ৪র্থ, সম্পর্ক: মেয়ে
৪. তাইবা, বয়স: ০৬, পেশা: ছাত্রী, হাফেজী মাদ্রাসা, সম্পর্ক: মেয়ে
ঘটনার স্থান : মাওনা, গাজীপুর
আক্রমণকারী : আওয়ামী মদদপুষ্ট পুলিশ কর্তৃক
আহত হওয়ার সময় : ৫ আগস্ট, ২০২৪, বিকাল ৪টার দিকে একটি
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাজারো তরুণ-তরুণী যখন বৈষম্য, নিপীড়ন ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলে, তখন তাদের কণ্ঠরোধ করতে শুরু হয় রাষ্ট্রের বর্বর দমন-পীড়ন। শান্তিপূর্ণ মিছিলগুলো রূপ নেয় সংঘর্ষে, কারণ তাদের ওপর চালানো হয় রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস, এমনকি প্রাণঘাতী গুলি। বহু তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন; কারও দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যায় চিরতরে, কেউ চিরদিনের মতো পঙ্গু হয়ে যান।
হাসপাতালগুলো হয়ে ওঠে যন্ত্রণা আর কান্নার প্রতিচ্ছবি। আহতদের আর্তনাদ, আহত পরিবারের বিলাপ এবং চিকিৎসকের অসহায়তা সব মিলে যেন গোটা জাতি অনুভব করছিল এক নিঃশব্দ যুদ্ধের তীব্রতা। ক্যাম্পাসগুলো, যা এক সময় জ্ঞান ও স্বপ্নের কেন্দ্র ছিল, সেগুলো রূপ নেয় রক্তাক্ত যুদ্ধক্ষেত্রে। পোড়া টায়ারের ধোঁয়া, ছিরা ফাটা ব্যানার আর ছড়িয়ে থাকা ব্যাগ-জুতো সবই ছিল নৃশংসতার নীরব সাক্ষ্য। কিন্তু এই ভয়াবহতার মাঝেও হারিয়ে যায়নি আশা। ছাত্র-জনতার কণ্ঠে উঠে এসেছিল প্রতিরোধের গান, চোখে ছিল দৃঢ়প্রত্যয় আর হৃদয়ে ছিল ন্যায়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসা। তারা প্রমাণ করে দিয়েছিল গণতন্ত্রের দাবিতে, মানবিক অধিকারের লড়াইয়ে তারা কোনোভাবেই পিছু হটবে না। এই অভ্যুত্থান এক নির্মম বাস্তবতাকে উন্মোচন করে দিয়েছিল যে সংগ্রাম সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে, তা কখনোই সহজ কিংবা রক্তহীন হয় না। বৈষম্য, নিপীড়ন ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা এই অভ্যুত্থান গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল, আর তার কেন্দ্রস্থলগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল গাজীপুর ও ময়মনসিংহ দুই গুরুত্বপূর্ণ শহর, যারা নিজেদের রক্ত দিয়ে এ আন্দোলনের ইতিহাসে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে।
গাজীপুর: পোড়া শহরের প্রতিরোধ
শিল্প-শ্রমিক অধ্যুষিত গাজীপুর, যেখানে একদিকে রয়েছে হাজারো পোশাক শ্রমিকের ঘামে গড়া স্বপ্ন, অন্যদিকে প্রতিদিনের বেঁচে থাকার সংগ্রাম এই শহরই হয়ে ওঠে আন্দোলনের অন্যতম উত্তপ্ত মঞ্চ। ৫ আগস্ট মাওনায় ছাত্র-জনতার বিশাল সমাবেশে যখন শান্তিপূর্ণভাবে দাবি তোলা হচ্ছিল, তখন পুলিশ বাহিনী হঠাৎ করেই চড়াও হয়। লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও সরাসরি গুলি বর্ষণে অনেক তরুণ-তরুণী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এক যোদ্ধা চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন, যাকে প্রথমে গফরগাঁও পপুলার হাসপাতালে এবং পরে সংকটজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়।
ময়মনসিংহ : কান্নার শহর, আশার প্রদীপ
ময়মনসিংহ তখন শুধু চিকিৎসার কেন্দ্র ছিল না, ছিল সারা দেশের দৃষ্টিতে এক প্রতীকী কেন্দ্রবিন্দু। এই শহরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দিনের পর দিন আহত ছাত্রদের যন্ত্রণা, রক্ত, আর্তনাদ ভেসে বেড়াত। অনেকে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, কারও হাত-পা চিরতরে অকেজো হয়ে গেছে, কেউ কোমায়। হাসপাতালের করিডোরগুলোতে শুধু ডাক্তার-নার্সদের ব্যস্ততা নয়, ছিল অসহায় মা-বাবার কাঁধে মাথা রেখে কান্না, ভাইয়ের গুলিবিদ্ধ বোনের হাত চেপে ধরা কিংবা বন্ধুর মুখে জল ঢালার শেষ চেষ্টা।
২০২৪ সালের জুলাই আমাদের কেবল শোক বা ক্ষোভই শেখায় না; এটি আমাদের দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের মূল্যও স্মরণ করিয়ে দেয়।
আমাদের তারা মিয়া-
জন্ম ও শৈশব
মো. তারা মিয়া একজন সাহসী ও সংগ্রামী মানুষ, যিনি ১৯৮২ সালের ১৭ই নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মো. আব্দুল হক (৭২) পেশায় একজন কৃষক ছিলেন, যিনি কঠোর পরিশ্রম করে পরিবার চালিয়েছেন এবং সন্তানদের মানুষ করতে নিরলস চেষ্টা করেছেন। আজ সে অসুস্থ জীবন-যাপন করছেন। তার মা মমতাজ বেগম (৬০) একজন গৃহিণী, যিনি অসীম মমতা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে সন্তানদের যত্ন-সহকারে লালন-পালন করেছেন।
পারিবারিক জীবন
তারা মিয়ার একটি সুখী সংসার আছে। চারজন অত্যন্ত মেধাবী, বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমতী মেয়ে রয়েছে তার। তারা মিয়া তার সন্তানগুলো মেয়ে হওয়ায় কখনো পিছিয়ে রাখেনি। তার মেয়েদের কে তিনি সকল ক্ষেত্রে ঢাল হিসেবে হিম্মত যুগিয়েছেন। তাদের পরিবার ছিল স্বপ্ন, সংগ্রাম আর সহানুভূতির এক বাস্তব উদাহরণ।
কর্মজীবন
তারা মিয়া একজন পরিচিত ও বিশ্বস্ত নাম তাঁর এলাকার কৃষক ও সাধারণ মানুষের কাছে। পেশায় তিনি একজন সার ও মাটির ব্যবসায়ী, তবে তাঁর পরিচিতি কেবল ব্যবসায়িক সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং তিনি একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও মানবিক মানুষ হিসেবেও সর্বজনবিদিত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার, জৈব উপাদান ও উন্নত মানের চাষের মাটি সরবরাহ করে আসছেন। তাঁর ব্যবসায়ের মূলমন্ত্রই হলো নায্য মুনাফায় গুণগতমান নিশ্চিত করা। তিনি কখনোই ভেজাল সার বা অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির পথে হাঁটেননি। বরং প্রয়োজন হলে তিনি নিজে লোকসান গুনে হলেও গরিব কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তারা মিয়ার দোকানে গেলে দেখা যায় তাঁর দোকানটি শুধু কেনাবেচার কেন্দ্র নয়, বরং কৃষি বিষয়ে পরামর্শ কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করে। নতুন প্রজন্মের কৃষকদের তিনি বিনা পারিশ্রমিকে চাষাবাদ পদ্ধতি, সার ব্যবস্থাপনা ও মাটির মানোন্নয়ন সম্পর্কে পরামর্শ দেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত সরল, নম্র ও পরোপকারী। ধর্মভীরু এ মানুষটি কখনোই হারাম পথে রুজি অর্জনে বিশ্বাসী নন। তাঁর সততা ও নিষ্ঠা শুধু ব্যবসায় নয়, ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনেও প্রতিফলিত হয়।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
"আমার চোখটা ওই বিকেলেই রেখে এসেছি" — তারা মিয়ার জবানিতে
সে এক উত্তাল সকাল ছিল ৫ আগস্ট, ২০২৪। দিনের শুরু থেকেই শহরের প্রতিটি মোড়, অলিগলি আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে হাজারো ছাত্র, শ্রমজীবী মানুষ আর সাধারণ নাগরিক ধীরে ধীরে জড়ো হতে শুরু করে। তাদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড, মুখে ছিল শ্লোগান, আর হৃদয়ে ছিল দীর্ঘদিনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে জবাবদিহি আদায়ের অঙ্গীকার। আমি নিজেও বাড়ি থেকে বের হয়েছিলাম খুব ভোরে, মাথায় বাঁধা ছিল গামছা, মনে ছিল একটা অদ্ভুত শিহরণ। শুধু আমি একা নাই, মাওনার দিকে হাঁটতে হাঁটতে দেখলাম অসংখ্য মানুষ আমাদের মতোই এগিয়ে আসছে। কোনো রাজনৈতিক দলের পতাকা ছিল না, ছিল না কোনো ক্ষমতার লোভ, ছিল শুধুই একটাই পরিচয় আমরা মানুষ, আমরা ছাত্র, আমরা এই দেশের সন্তান, যারা গলা তুলে বলতে চাই— আর না, আমরা এই দুঃশাসনের কাছে মাথা নত করবো না। বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা চাকরি-বাণিজ্য, দুর্নীতি, বিচারহীনতা, প্রশ্নফাঁস, আর দলীয় দখলের বিপরীতে এই আন্দোলন যেন ছিল জমে থাকা আগুনের বিস্ফোরণ। ন্যায্য অধিকার আদায়ে আমরা রাজপথে নামি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, রাষ্ট্রের দমন-পীড়নের ছায়া মাথায় নিয়েই। মাওনার খোলা রাস্তা, দূর থেকে ভেসে আসা শ্লোগান, আর সাথীদের চোখে জ্বলে ওঠা আলো দেখে আমি উপলব্ধি করি, এটা শুধু একটি বিক্ষোভ নয়, এটা এক নির্মম সময়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা মানবিক প্রতিবাদ।
বিকাল ৩টার দিকে আমি ছিলাম মিছিলের একেবারে সামনে। পেছনে তখন অসংখ্য সাধারণ মানুষ, ছাত্র, নারী-পুরুষ, সবাই একসাথে হাঁটছিলাম। হঠাৎ দেখি সামনে পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করছে। মুহূর্তেই পরিস্থিতি পাল্টে গেল। বিনা উস্কানিতে শুরু হলো লাঠিচার্জ। আমি প্রথম সারিতে ছিলাম বলেই, প্রথম আঘাতটা আমাকেই সহ্য করতে হলো। একটা মোটা লাঠি এসে আছড়ে পড়লো আমার মুখে। মুহূর্তেই চোখ ঝাপসা হয়ে গেল। বুঝতে পারলাম, ডান চোখে কিছু একটা হয়েছে। তারপর আরেকটা আঘাত এবার এমন এক জায়গায় লেগেছিল, মনে হলো চোখটা ফেটে গেছে। সারা শরীর কাঁপছিল, কিন্তু আমি পড়ে যাইনি। পেছন থেকে সাথীরা আমাকে ধরে ফেলেছিল। একটু পরেই আমি আর কিছু বুঝিনি, অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে যাই। পরের দৃশ্যটা মনে আছে অস্পষ্টভাবে রক্তে ভেজা চোখ, দৌড়ে আসা কিছু মানুষ, আমাকে ধরে কেউ একজন চিৎকার করে বলছে, “ওকে হাসপাতালে নিতে হবে” কেউ একজন আমার মাথার নিচে হাত রেখেছিল। কেউ পানি দিচ্ছিল মুখে। তখনো জানতাম না, আমার চোখটা আমি হারিয়ে ফেলেছি। আমাকে মাওনার কাছাকাছি এক হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। ডাক্তার এসে বলল, চোখটা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়েছে, রেটিনা ছিঁড়ে গেছে। আমি আর কখনো ওই চোখ দিয়ে কিছু দেখতে পারবো না।
সেদিন বিকেল ৪টার দিকে আরও দু’জন সাথী আমাদের মাঝ থেকে চিরতরে চলে যান। আমার চোখ গেছে, কিন্তু তাদের প্রাণটাই গেছে। আজ আমি এক চোখে দেখি, কিন্তু আমার প্রতিবাদ থেমে যায়নি। আমার দৃষ্টিশক্তি হয়তো অর্ধেক কমে গেছে, কিন্তু অন্য চোখে আমি এখন আরও স্পষ্টভাবে দেখি কে আমাদের শত্রু, কে আমাদের দেশটাকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। আমার চোখটা আমি রেখে এসেছি মাওনার লাল রক্তমাখা রাজপথে।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
৫ আগস্ট, ২০২৪। গাজীপুরের মাওনা যেন সেদিন রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল। রাজপথে দাঁড়িয়ে কেবল একজন প্রতিবাদী নয়, ছিলাম হাজারো স্বপ্নের ধারক, বৈষম্যহীন এক সমাজের জন্য যিনি বুক পেতে দিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই স্বপ্নে নেমে আসে রক্তের অন্ধকার। পুলিশের এক জোরালো লাঠির আঘাত আমার চোখে এসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ ঝাপসা হয়ে যায় একদিকে রক্ত, আরেকদিকে ব্যথা, যন্ত্রণায় আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম না। দিগবিদিক ছুটে বেড়ানো মানুষের ভিড়ে মাটিতে পড়ে যাই।
এরপরের ঘটনা সহযোদ্ধা ও পরিবারের সদস্যদের মুখে-
সহযোদ্ধারাই তাকে তুলে নিয়ে যায় গফরগাঁও পপুলার হাসপাতালে। কিন্তু শরীরের অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকায়, চিকিৎসকরা আর দেরি করেননি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। তার চোখের অবস্থা এতটাই সংকটজনক ছিলো যে, শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত জানান জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান হাসপাতালে রেফার করতে হবে। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তারা মিয়াকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। যেখানে তার চোখের অপারেশন করা হয়। কিন্তু অপারেশনের পর জানা যায়, তার একটি চোখ সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে এবং বর্তমানে তিনি দেখতে পান না। এই মর্মান্তিক অবস্থার কারণে তিনি চরম শারীরিক ও মানসিক সংকটে ভুগছেন এবং তার স্বাভাবিক জীবনযাপন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
চোখের ব্যথার জন্য চিকিৎসা চলমান আছে। চোখের চিকিৎসা চলমান রাখার ব্যবস্থা করা
পূনর্বাসন সংক্রান্ত তথ্য
পুর্বে কী ধরনের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন
সার ও মাটির ব্যবসা
প্রস্তাবিত বাজেট
সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করা
এক নজরে তারা মিয়া
নাম : তারা মিয়া
জন্ম তারিখ : ১৭-১১-১৯৮২
জন্মস্থান : গফরগাঁও
পেশা : ব্যবসায়ী
নিজ জেলা : ময়মনসিংহ
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: মশাখালী, ইউনিয়ন: মশাখালী: গফরগাঁও, জেলা: ময়মনসিংহ
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : মো. আব্দুল হক, অসুস্থ
মায়ের নাম : মমতাজ বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী (৬০)
পারিবারিক অবস্থা : নিম্ন মধ্যবিত্ত
মাসিক আয় : ২০,০০০ টাকা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৭ জন
আয়ের উৎস : ব্যবসা
সন্তানদের নাম
১. তানজিরিন, বসয়: ১৫, পেশা: ছাত্রী, শ্রেণি: ৮ম, সম্পর্ক: মেয়ে
২. তাসনিয়া, বয়স: ১৩, পেশা: ছাত্রী, শ্রেণি: ৬ষ্ঠ, সম্পর্ক: মেয়ে
৩. তানহা, বয়স: ১০, পেশা: ছাত্র, শ্রেণি: ৪র্থ, সম্পর্ক: মেয়ে
৪. তাইবা, বয়স: ০৬, পেশা: ছাত্রী, হাফেজী মাদ্রাসা, সম্পর্ক: মেয়ে
ঘটনার স্থান : মাওনা, গাজীপুর
আক্রমণকারী : আওয়ামী মদদপুষ্ট পুলিশ কর্তৃক
আহত হওয়ার সময় : ৫ আগস্ট, ২০২৪, বিকাল ৪টার দিকে একটি
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍