হোম / আহতদের তালিকা / আবুল বাশার আকন্দ:
আবুল বাশার আকন্দ:

আবুল বাশার আকন্দ:

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

রাজমিস্ত্রী

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্ম ও পরিচয়
আবুল বাশার আকন্দ নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের কোনাকালিহর গ্রামের একজন শ্রমজীবী মানুষ। তার জন্ম ১৯৯৭ সালের ১৮ জুলাই, একই এলাকায়। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রী ছিলেন। ঢাকার বাড্ডা নতুন বাজার এলাকায় কাজ করতেন। তবে পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে তিনি বর্তমানে কর্মহীন অবস্থায় আছেন। তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা- গ্রাম: কোনাকালিহর, ইউনিয়ন: কালিহর, থানা: পূর্বধলা, জেলা: নেত্রকোনা।

তার পিতা মোসলেম উদ্দিন, বয়স ৬২ বছর, পেশায় একজন কৃষক। মা সাহেরা আক্তার, বয়স ৪৮ বছর, একজন গৃহিণী। পরিবারটি মূলত কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল এবং মাসিক আয় প্রায় ১০ হাজার টাকা। যা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে একটি পরিবারের জন্য খুবই অপ্রতুল। আবুল বাশার আকন্দের পরিবারে মোট সদস্য সংখ্যা ৪ জন। তার রয়েছে দুই সন্তান। মেয়ে উম্মে হাবিবা (বয়স ৮ বছর) এবং ছেলে আব্দুল্লাহ (বয়স ৫ বছর)। তারা উভয়েই শিক্ষার্থী। অল্প আয়ের এই পরিবারটি প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে বেঁচে আছে। গুলিতে আহত হয়ে রাজমিস্ত্রির কাজ হারানোর পর আবুল বাশার এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। তার সন্তানদের শিক্ষাজীবন এবং পরিবারের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই পরিবারটি জুলাইয়ে আহত হওয়া দেশের হাজারো খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিচ্ছবি, যারা শ্রম, সংকল্প ও সহনশীলতার মধ্য দিয়ে জীবনের ভার বহন করে চলেছেন।
গণতন্ত্র ও মানবাধিকার হরণ করে গুলি ছোড়ে পুলিশ, নির্দেশ দেয় আওয়ামী লীগ
শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতা শহীদ হয়েছে। এই হামলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ মহলের নির্দেশে ঘটেছে। আন্দোলনকারীরা শিক্ষা ও চাকরিতে সমতার ন্যায্য দাবি নিয়ে রাস্তায় নামলে, পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে অনেকেই শহীদ হন ও গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ পেশাজীবী মানুষেরাও কেউ কেউ এখনও মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
এই ঘটনা শুধু সহিংসতার একটি নজির নয়, বরং এটি দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চিরাচরিত হস্তক্ষেপ। জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত, অথচ তা বিগত ১৫ বছরের আন্দোলনগুলোর মতো বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দমন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের এই ভূমিকা বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের নিকৃষ্ট উদাহরণ।
বাংলাদেশের ভিতরে ও বাইরে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার নিশ্চিতের জন্য দাবি জানিয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো, রাজনৈতিক নির্দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অপব্যবহার কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। জনগণ এখন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার বিচার চায়। তার আদেশেই গুলি চালানো হয়। জনগণে এখনো উদ্বিগ্ন যে এই অমানবিক ঘটনার বিচার আদৌ হবে কি না।
আন্দোলনকারী একজনকে বাঁচাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ শ্রমিক: আবুল বাশার আকন্দের গল্প
আবুল বাশার আকন্দ ঢাকার বাড্ডা এলাকার নতুন বাজারে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিন সকালে কাজের জন্য বের হওয়া এই মানুষটি ১৯ জুলাই ২০২৪ সালে ঢাকার বাড্ডার নতুন বাজার এলাকায় পৌঁছান ভিন্ন এক উদ্দেশ্যে। শিক্ষার্থী ও জনতার গণ-আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে তিনি আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯শে জুলাই দুপুরে নামাজ আদায় করে তিনি বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে মিলে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার সঙ্গে যুক্ত হন। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান ধরেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলন তীব্রতর হতে থাকে। ঠিক দুপুর ২টার দিকে হঠাৎ করেই পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ছাত্র-জনতার উপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। আন্দোলনস্থলে শুরু হয় গুলিবর্ষণ, লাঠিপেটা ও ব্যাপক নির্যাতন। এই হিংসাত্মক পরিস্থিতির মাঝেও আবুল বাশার সাহস হারাননি।
তিনি দেখতে পান, তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে গেছে। বন্ধুকে বাঁচাতে দৌড়ে এগিয়ে যান তিনি। তবে মানবিক এই চেষ্টাই তাকে ভয়াবহ পরিণতির মুখে ফেলে দেয়। পুলিশ ঠিক তখনই তার দিকেও গুলি চালায়। গুলিটি তার কব্জির ওপর দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। চারপাশে তখন গুলির শব্দ, ধোঁয়া আর আতঙ্ক। তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় পড়ে থাকেন। একসময় আন্দোলনকারীরা তাকে ধরাধরি করে তুলে নেয়। আবুল বাশারের এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত গল্প নয়। এটি হাসিনা রেজিমের দমন-পীড়নের জীবন্ত প্রমাণ। তার শরীরের ক্ষত, তার সাহস এবং সহমর্মিতা আমাদের বলে দেয়, এই আন্দোলন কেবল ছাত্রদের নয়, শ্রমজীবী মানুষেরও। তার রক্ত এই আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাসের একটি অমূল্য অংশ।
গুলি কব্জিকে এফোড়-ওফোড় করে দেয়
১৯ জুলাই আবুল বাশার গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ছাত্র-জনতা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানেও ছাত্রলীগের হামলার ভয়। কোনোমতে সেখানে তার জরুরি চিকিৎসা শুরু হয় এবং পরের দিন অস্ত্রোপচার করা হয়। গুলির আঘাতে তার ডান হাতে প্রচণ্ড ক্ষতি হয়। গুলিটি কব্জির একপাশ দিয়ে ঢুকে অন্যপাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। যার ফলে বর্তমানে তার হাত নড়চড়া করা অসম্ভব হয়ে গেছে। চিকিৎসকেরা জানান, অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে তার হাতে পূর্ণ শক্তি ফিরে আসতে সময় লাগবে। সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তাকে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। চিকিৎসা শেষ হওয়ার পরও নিয়মিত থেরাপি এবং বিশ্রামের প্রয়োজন হবে।
আবুল বাশারের পরিবার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন আবুল বাসার। এই রকম হাজার হাজার মর্মান্তিক ঘটনার মধ্য দিয়ে জুলাই অভ্যুত্থান এগিয়ে যায়। আবুল বাশারের সাহসিকতা, পরোপকার ও ধৈর্য সবার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।



একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : আবুল বাশার আকন্দ
জন্ম : ১৮/০৭/১৯৯৭
জন্মস্থান : নেত্রকোনা
পেশা : রাজমিস্ত্রি (বর্তমানে কর্মহীন)
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : কোনাকালিহর, কালিহর, হোগলা, পূর্বধলা, নেত্রকোনা
পিতা : মোসলেম উদ্দিন, বয়স-৬২, পেশা-কৃষক
মাতা : সাহেরা আক্তার, বয়স-৪৮, পেশা-গৃহিণী
মাসিক আয় : ১০ হাজার টাকা
আয়ের উৎস : কৃষিকাজ
পরিবারের সদস্য : ০৪ জন
সন্তানের তথ্যাদি
১. উম্মে হাবিবা, বয়স: ০৮, পেশা: শিক্ষার্থী, সম্পর্ক: মেয়ে
২. আব্দুল্লাহ, বয়স: ০৫, পেশা: শিক্ষার্থী, সম্পর্ক: ছেলে
আক্রমণকারী
পুলিশ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ
পুনর্বাসনভিত্তিক প্রস্তাবনা
১. মাসিক হারে পুনর্বাসন ভাতা প্রদান
২. স্থানীয় পর্যায়ে একটি মুদি দোকানের ব্যবস্থা
৩. বিশেষ চিকিৎসা সহায়তা কার্ড চালু
৪. রেশন কার্ড ও খাদ্য নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় অন্তক্তকরণ
৫. ঘর নির্মাণ ও সংস্কারে সহায়তা

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍