মো. শাহরিয়ার আজিজ জয়
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
ছাত্র
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
মো. শাহরিয়ার আজিজ জয় জন্মগ্রহণ করেছেন ২৬ ডিসেম্বর ২০০৭ সালে। তার বাবা মো. আজিজুল হক। মা মোছা. শিউলি আক্তার গৃহিণী। তিনি দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন দশম শ্রেণির ছাত্র।
ঘটনার বিবরণ
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে এসে যে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বাস্তবে তা পরিণত হয় একদলীয় শাসন বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায়। তারা সুপরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তর তথা প্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ ও নির্বাচন ব্যবস্থাকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গণতন্ত্রকে নির্মমভাবে হত্যা করে। জনগণের মত প্রকাশ, সাংবাদিকতা এবং ভিন্নমতের স্বাধীনতা দমন করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা কালো আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয়। ২০১৪, ২০১৮ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচন ছিল একের পর এক ভোটারবিহীন প্রহসন, যা জনগণের অধিকার হরণ করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে একটি গোষ্ঠীর দমনযন্ত্রে পরিণত করেছে। এই দমন নীতির বাস্তব উদাহরণ পাওয়া যায় মো. শাহরিয়ারের ঘটনায়। শাহরিয়ার একজন মেধাবী এসএসসি পরীক্ষার্থী, যিনি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নিয়মিত অংশ নিতেন এবং তাঁর বাবা সবসময় পাশে থাকতেন। ৪ আগস্ট ২০২৪, নেত্রকোনা সদরে একটি বিক্ষোভ চলাকালে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ সমর্থকরা উত্তেজনা ছড়ায়। পরদিন, ৫ আগস্ট, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সহায়তায় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী সমর্থকরা শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর হামলা চালায়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে শাহরিয়ার আহত হন তাঁর পায়ের রগ কেটে যায় এবং তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। অথচ এই শাহরিয়ারই ছিলেন পিএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া এক উদীয়মান প্রতিভা, যিনি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী হিসেবে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুকে ধারণ করতেন। তার রক্তাক্ত শরীর আজ প্রমাণ করে, এই রাষ্ট্রে মেধা নয়, প্রশ্নহীন আনুগত্যই টিকে থাকার একমাত্র শর্ত।
যেভাবে আন্দোলন শুরু
যে আগুন এতদিন ছাই চাপা ছিল, তা আবারও জ্বলে উঠেছিল ২০২৪ সালের জুলাই মাসে। সে আগুন ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে, নিপীড়নের বিরুদ্ধে, একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের গর্জে ওঠা। আর সেই আগুনের পথে পা রাখে একজন সাহসী কিশোর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। তিনি শুধু একজন এসএসসি পরীক্ষার্থীই নন, ছিলেন এক প্রতিশ্রুতিশীল শিক্ষার্থী, যিনি পিএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে বৃত্তি অর্জন করেছিলেন। মেধা ও নৈতিকতা নিয়ে বেড়ে ওঠা এই কিশোর দেশ ও সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান গ্রহণ করতে পিছপা হননি। নিয়মিতভাবে তিনি শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতেন, যেখানে তার বাবাও সবসময় পাশে ছিলেন। কিন্তু ৪ আগস্ট নেত্রকোনা সদরে এক ভয়াবহ ঘটনার সূচনা হয় যেখানে শান্তিপূর্ণ ছাত্রদের ওপর চড়াও হয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা। পরদিন, ৫ আগস্ট, এই সহিংসতা চূড়ান্ত রূপ নেয়। ছাত্রলীগ, আওয়ামী সমর্থক এবং পুলিশ বাহিনী একত্র হয়ে ছাত্রদের ওপর চালায় পরিকল্পিত হামলা। তখন পাল্টা প্রতিরোধের মধ্যে শাহরিয়ার আক্রান্ত হন। কাঁচের আঘাতে তার পায়ের রগ গুরুতরভাবে কেটে যায়, আর তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেই মুহূর্তেই এক সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ থমকে যায়। একটা স্বপ্ন রক্তাক্ত হয়ে পড়ে নেত্রকোনার রাজপথে। শাহরিয়ারের এই আহত দেহ একটি রাষ্ট্রীয় দমননীতির স্পষ্ট প্রমাণ যেখানে মেধা নয়, আনুগত্যই রাষ্ট্রের চোখে মূল্যবান। তার রক্ত, তার যন্ত্রণাদগ্ধ পা, তার থেমে যাওয়া ক্লাসরুম, সবই বলে দেয়, কিশোররা এখন আর শুধুই পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় তারা ইতিহাসের পাতায়ও স্থান করে নিচ্ছে ক্ষত বুকে নিয়েও বলছে না, অন্যায়ের পক্ষে। শাহরিয়ার আজ একজন কিশোর ছাত্র হয়েও হয়ে উঠেছে এক প্রতিবাদী প্রতীকে, এক মেধার অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এবং এক চেতনার, যা ভয় পায় না গুলি, লাঠি কিংবা নির্যাতনের হুমকি।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
মোহাম্মদ শাহরিয়ার, একজন মেধাবী এসএসসি পরীক্ষার্থী, বর্তমানে এক কঠিন শারীরিক ও মানসিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নেত্রকোনায় শান্তিপূর্ণ ছাত্র- আন্দোলনে অংশগ্রহণকালে ছাত্রলীগ ও সরকারি দলের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। কাচ ছুঁড়ে মারার ফলে তার পায়ের রগ কেটে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় ছাত্র-জনতার সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা পায়ের রগ কেটে
যায় শাহরিয়ারের
এক নজরে মো. শাহরিয়ার আজিজ জয়
নাম : মো. শাহরিয়ার আজিজ জয়
জন্ম তারিখ : ২৬-১২-২০০৭
জন্মস্থান : নেত্রকোনা সদর
পেশা : ছাত্র
নিজ জেলা : নেত্রকোনা
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: বলাইনগুয়া, ইউনিয়ন: নেত্রকোনা পৌরসভা, থানা: নেত্রকোনা সদর, জেলা: নেত্রকোনা
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : মো. আজিজুল হক
মায়ের নাম : মোছা. শিউলি আক্তার
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী ও ৪০ বছর
পারিবারিক অবস্থা : মাসিক আয়: ৩০ হাজার টাকা
আয়ের উৎস : বাসা ভাড়া
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৭ জন
ভাই বোনের তথ্যাদি
১. মেহনাজ আজিজ মেম, বয়স: ১৮, পড়াশুনা: অনার্স ১ম বর্ষ, সম্পর্ক: বোন
২. আনজুম আজিজ রায়সা, বয়স: ৮ বছর, কেজি ওয়ান, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার বিবরণ
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে এসে যে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বাস্তবে তা পরিণত হয় একদলীয় শাসন বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায়। তারা সুপরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তর তথা প্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ ও নির্বাচন ব্যবস্থাকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গণতন্ত্রকে নির্মমভাবে হত্যা করে। জনগণের মত প্রকাশ, সাংবাদিকতা এবং ভিন্নমতের স্বাধীনতা দমন করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা কালো আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয়। ২০১৪, ২০১৮ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচন ছিল একের পর এক ভোটারবিহীন প্রহসন, যা জনগণের অধিকার হরণ করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে একটি গোষ্ঠীর দমনযন্ত্রে পরিণত করেছে। এই দমন নীতির বাস্তব উদাহরণ পাওয়া যায় মো. শাহরিয়ারের ঘটনায়। শাহরিয়ার একজন মেধাবী এসএসসি পরীক্ষার্থী, যিনি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নিয়মিত অংশ নিতেন এবং তাঁর বাবা সবসময় পাশে থাকতেন। ৪ আগস্ট ২০২৪, নেত্রকোনা সদরে একটি বিক্ষোভ চলাকালে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ সমর্থকরা উত্তেজনা ছড়ায়। পরদিন, ৫ আগস্ট, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সহায়তায় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী সমর্থকরা শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর হামলা চালায়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে শাহরিয়ার আহত হন তাঁর পায়ের রগ কেটে যায় এবং তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। অথচ এই শাহরিয়ারই ছিলেন পিএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া এক উদীয়মান প্রতিভা, যিনি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী হিসেবে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুকে ধারণ করতেন। তার রক্তাক্ত শরীর আজ প্রমাণ করে, এই রাষ্ট্রে মেধা নয়, প্রশ্নহীন আনুগত্যই টিকে থাকার একমাত্র শর্ত।
যেভাবে আন্দোলন শুরু
যে আগুন এতদিন ছাই চাপা ছিল, তা আবারও জ্বলে উঠেছিল ২০২৪ সালের জুলাই মাসে। সে আগুন ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে, নিপীড়নের বিরুদ্ধে, একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের গর্জে ওঠা। আর সেই আগুনের পথে পা রাখে একজন সাহসী কিশোর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। তিনি শুধু একজন এসএসসি পরীক্ষার্থীই নন, ছিলেন এক প্রতিশ্রুতিশীল শিক্ষার্থী, যিনি পিএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে বৃত্তি অর্জন করেছিলেন। মেধা ও নৈতিকতা নিয়ে বেড়ে ওঠা এই কিশোর দেশ ও সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান গ্রহণ করতে পিছপা হননি। নিয়মিতভাবে তিনি শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতেন, যেখানে তার বাবাও সবসময় পাশে ছিলেন। কিন্তু ৪ আগস্ট নেত্রকোনা সদরে এক ভয়াবহ ঘটনার সূচনা হয় যেখানে শান্তিপূর্ণ ছাত্রদের ওপর চড়াও হয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা। পরদিন, ৫ আগস্ট, এই সহিংসতা চূড়ান্ত রূপ নেয়। ছাত্রলীগ, আওয়ামী সমর্থক এবং পুলিশ বাহিনী একত্র হয়ে ছাত্রদের ওপর চালায় পরিকল্পিত হামলা। তখন পাল্টা প্রতিরোধের মধ্যে শাহরিয়ার আক্রান্ত হন। কাঁচের আঘাতে তার পায়ের রগ গুরুতরভাবে কেটে যায়, আর তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেই মুহূর্তেই এক সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ থমকে যায়। একটা স্বপ্ন রক্তাক্ত হয়ে পড়ে নেত্রকোনার রাজপথে। শাহরিয়ারের এই আহত দেহ একটি রাষ্ট্রীয় দমননীতির স্পষ্ট প্রমাণ যেখানে মেধা নয়, আনুগত্যই রাষ্ট্রের চোখে মূল্যবান। তার রক্ত, তার যন্ত্রণাদগ্ধ পা, তার থেমে যাওয়া ক্লাসরুম, সবই বলে দেয়, কিশোররা এখন আর শুধুই পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় তারা ইতিহাসের পাতায়ও স্থান করে নিচ্ছে ক্ষত বুকে নিয়েও বলছে না, অন্যায়ের পক্ষে। শাহরিয়ার আজ একজন কিশোর ছাত্র হয়েও হয়ে উঠেছে এক প্রতিবাদী প্রতীকে, এক মেধার অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এবং এক চেতনার, যা ভয় পায় না গুলি, লাঠি কিংবা নির্যাতনের হুমকি।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
মোহাম্মদ শাহরিয়ার, একজন মেধাবী এসএসসি পরীক্ষার্থী, বর্তমানে এক কঠিন শারীরিক ও মানসিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নেত্রকোনায় শান্তিপূর্ণ ছাত্র- আন্দোলনে অংশগ্রহণকালে ছাত্রলীগ ও সরকারি দলের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। কাচ ছুঁড়ে মারার ফলে তার পায়ের রগ কেটে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় ছাত্র-জনতার সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা পায়ের রগ কেটে
যায় শাহরিয়ারের
এক নজরে মো. শাহরিয়ার আজিজ জয়
নাম : মো. শাহরিয়ার আজিজ জয়
জন্ম তারিখ : ২৬-১২-২০০৭
জন্মস্থান : নেত্রকোনা সদর
পেশা : ছাত্র
নিজ জেলা : নেত্রকোনা
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: বলাইনগুয়া, ইউনিয়ন: নেত্রকোনা পৌরসভা, থানা: নেত্রকোনা সদর, জেলা: নেত্রকোনা
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : মো. আজিজুল হক
মায়ের নাম : মোছা. শিউলি আক্তার
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী ও ৪০ বছর
পারিবারিক অবস্থা : মাসিক আয়: ৩০ হাজার টাকা
আয়ের উৎস : বাসা ভাড়া
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৭ জন
ভাই বোনের তথ্যাদি
১. মেহনাজ আজিজ মেম, বয়স: ১৮, পড়াশুনা: অনার্স ১ম বর্ষ, সম্পর্ক: বোন
২. আনজুম আজিজ রায়সা, বয়স: ৮ বছর, কেজি ওয়ান, সম্পর্ক: বোন
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍